📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি


জন্মনিয়ন্ত্রণের কার্যকরী ও স্বাস্থ্যকর একটি পদ্ধতি হচ্ছে কনডম ব্যবহার। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে যাদের লেটেক্স এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য এটা চুলকানি বা জ্বলনের কারণ হতে পারে। এ ছাড়াও coitus interruptus বা আযল করাও একটি কার্যকরী উপায়। যৌনমিলন শেষে যোনির বাইরে বীর্যপাত করাকে আযল বলা হয়। একে উইথ ড্র মেথডও বলা হয়। এর বৈধতা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে যা আমরা পূর্বেও জেনেছি। কিন্তু এই পদ্ধতিতে উত্তেজনাবশত সঠিক সময়ে যোনির বাইরে বীর্যপাত করা বহু পুরুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে আরও একটি পদ্ধতি হতে পারে ক্যালেন্ডার পদ্ধতি (Calender Method)। তবে এটি কিছুটা জটিল। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর মাসিক চক্রের দিকে লক্ষ রাখতে হয়। এই পদ্ধতি ১০০% কার্যকরী এমনটা বলা সম্ভব না। বিশেষ করে যাদের অনিয়মিত মাসিক তাদের জন্য এই পদ্ধতি অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক। যাদের মাসিক চক্র নিয়মিত হয় (২৮±২ পরপর) তাদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের ৩ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০-৬০%, এরপরের ৬ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৮০% এবং এর পরের ৩ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা আবার ৪০-৬০% এ ফিরে আসে। এরপর থেকে মাসিক শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ৭-১৩ দিন যোনিপথের ভেতরে বীর্যপাত করলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে ৫% এরও কম। গর্ভধারণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ উভয় ক্ষেত্রেই মাসিক চক্রের এই হিসাব জেনে রাখা জরুরি।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ভ্রুণহত্যা

📄 ভ্রুণহত্যা


অনিচ্ছাসত্ত্বে গর্ভে সন্তান এসে পড়লেও এ থেকে রেহাই (!) পাওয়ার পদ্ধতি রয়েছে যাকে বলা হয় Abortion। সোজা কথায় গর্ভের অপরিপক্ক কিংবা পরিপক্ক সন্তানকে নিজ সম্মতিক্রমে হত্যা করাকেই অ্যাবরশন বলা হয়। অবশ্য অনেক সময় প্রয়োজনের খাতিরে বাধ্য হয়ে অ্যাবরশন করাতে হয় বিভিন্ন জটিলতার কারণে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যখন কেবল অনিচ্ছা, রিযিক নিয়ে ভয়ের মতো ঠুনকো কারণে ভ্রূণহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। এ ছাড়া গর্ভধারণের সময়কালের ওপর নির্ভর করে এর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

গর্ভধারণের পর তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে গর্ভপাত ঘটানো কিছুটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। অধিকাংশ সময় ভেতর থেকে 'কিউরেট' করে ভ্রূণ বের করে আনতে হয়। 'কিউরেটেজ' (curettage) মানে হলো নারিকেলের মতো করে কোরানো। কত মানুষের সন্তান হয় না, আর কিছু মানুষকে আল্লাহ সন্তান দান করেন আর তারা নারিকেলের মতো করে কুরিয়ে সন্তান ফেলে দেয়। অনেক সময় বাচ্চা বেশি বড় হয়ে গেলে বিভিন্ন অঙ্গ কেটে কেটে ভেতর থেকে নিয়ে আসতে হয়। খুলিতে ছিদ্র করে মস্তিষ্ক তরল করে গলিয়ে ফেলা হয়, বাকি হাত-পা আলাদা টুকরো করে বের করে আনতে হয়। এই বীভৎস দৃশ্য কোনো মা-বাবা কীভাবে সহ্য করতে পারে! অথচ এ রকম হাজার হাজার ভ্রূণহত্যা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ভ্রূণহত্যার অগণিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও শারীরিক কুপ্রভাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• জ্বর, ডাইরিয়া;
• ইনফেকশন;
• ৩ সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে, অধিক পরিমাণে রক্তপাত;
• ঠোঁট বা চেহারা ফুলে যাওয়া;
• পেট, পিঠ, কোমরব্যথা;
• বমি বমি ভাব, ক্লান্তি;
• জরায়ু, মূত্রাশয়, অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিসাধন;
• অসম্পূর্ণ অ্যাবরশন যা সার্জারি পর্যন্ত গড়াতে পারে;
• পরবর্তী সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা;
• পরিপাকতন্ত্রে অস্বস্তি;
• অপটু হাতে ডি. এন্ড সি. (ভ্রূণ অপসারণ) এর সময় কিউরেট করতে গিয়ে জরায়ু ফুটো হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পেট কেটে অর্থাৎ, অ্যাবডমিনাল অপারেশন করে জরায়ু সারাতে হয়;
• ডি. এন্ড সি. এর সময় ও এর পূর্বে কিছু ওষুধ দেয়া হয় যা পরবর্তীকালে সমস্যার কারণ হতে পারে;

• অনেক সময় ভ্রূণের কিছু অংশ ভেতরে থেকে যায়, যার কারণে ইনফেকশন হতে পারে। এ থেকে মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়। এ কারণে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়, এমনকি রোগী মারাও যায় অনেক সময়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00