📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ

📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ


আমাদের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে আমরা ইসলামের বিধি নিষেধগুলো মেনে চলব। আল্লাহ্ আমাদেরকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে সেই সাথে আমাদের দৈহিক ও মানসিক বিফলের অবসান ঘটাতে প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যৌনমিলনের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আর সেসব মন্দ বিষয়াদির ক্ষেত্রে মারাত্মক কুপ্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

• পায়ুপথে সংগম
এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে, এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়ায়। যোনিপথে যেমন প্রাকৃতিকভাবে পিচ্ছিল পদার্থ উৎপন্ন হয় পায়ুপথের তেমনটা হয় না। এ ছাড়া পায়ুপথের চামড়ার আস্তরণটি যোনিপথের চেয়েও পাতলা। ফলে পায়ুপথে মিলনের সময় ত্বক ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু মলদ্বার দিয়েই শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে আসে তাই খুব সহজেই সেসব ক্ষতস্থানে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ব্যাপক। আবার এই একই কারণে যৌনবাহিত রোগ ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস, এইচআইভি, হার্পস ইত্যাদির মতো জঘন্য রোগগুলো হতে পারে। এই রোগগুলোর অধিকাংশরই কোনো চিকিৎসা নেই।

◆ ওরাল সেক্স
অনেক আলিমের মতে এটা মাকরুহ। এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে তাই এটাকে অনুৎসাহিত করা হয়। এইডস, গনোরিয়া, হার্পস ইত্যাদি এসটিডির পাশাপাশি ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গলায় ক্যান্সার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইট এর চিফ মেডিকেল অফিসার ওটিস ব্রাওলে। [১]

◆ হায়েয অবস্থায় যৌনমিলন
হায়েযের সময়টা নারীদের জন্য কষ্টদায়ক। পুরুষদের উচিত স্ত্রীর হায়েযের সময়ে সবর করা। এই সময়টাতে নারীদের মেজাজ খিটখিটে থাকে তাই স্বাভাবিক কথাতেও রেগে যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে হায়েযের সময় যৌনমিলন তার দৈহিক কিংবা মানসিক কোনো অবস্থার জন্যই উত্তম নয়। এদিকে হায়েযের মাধ্যমে নারীদের শরীর থেকে অশুচি রক্ত বের হয়ে আসে। আর সেই রক্তের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণও ঘটতে পারে।

টিকাঃ
[১] https://www.webmd.com/sex-relationships/features/4-things-you-didnt-know-about-oral-sex#1

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 যৌনমিলনের উপকারিতা

📄 যৌনমিলনের উপকারিতা


হরমোনাল সেক্রুয়েশনের কারণে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, রক্ত চলাচল ভালো থাকে, হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।

খিটখিটে মেজাজ কমে; শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক চাপ, হতাশা এবং উদ্বেগ দূর হয়।

ক্যালরি বার্ন করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে।

নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার ইচ্ছা বাড়ে।

নিয়মিত সহবাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বীর্যপাতের সময়কাল বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ব্যথা উপশম হয়।

ভাল ঘুম হয়।

স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সাংসারিক জীবনে সুখ আসে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

📄 বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া


জীবনের প্রথম হায়েয হওয়ার পর থেকেই একজন নারী মা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। অর্ধশতাব্দী পূর্বেও দশের কোটায় থাকতেই নারীরা মা হয়েছে, সেই সাথে তারা অনেক সন্তানের অধিকারীও হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্যের রীতি অনুসরণ করতে গিয়ে নারীরা কম বয়সে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতে সামান্য ইতস্ততবোধ করে। তাই নিজের ক্যারিয়ার বিল্ডাপ করতে করতে ত্রিশের চৌকাঠে পা রেখে শেষে সন্তান গ্রহণের ফিকির করে। অনেক নারী বিয়ের জন্য পাত্রই খুঁজতে শুরু করে ত্রিশের পর। কিন্তু প্রতিটি বিষয়ের একটি স্বর্ণমুহূর্ত রয়েছে। সেই মুহূর্তটা অতিবাহিত হয়ে গেলে মাঝে মাঝেই সম্মুখীন হতে হয় ব্যর্থতার। একজন নারীর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মা হওয়ার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, অপরপক্ষে গর্ভপাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। ৩০+ বছর বয়সী নারীদের গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২০% বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও অপরিপক্ক সন্তান জন্ম নেওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝুঁকিমুক্ত থেকে যত জলদি সম্ভব সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা রাখা উচিত। পূর্বের আলোচনায় আমরা বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির শরঈ বিধান সম্পর্কে জেনেছি। তন্মধ্যে কিছু পদ্ধতি জায়েয, কিছু পদ্ধতি নাজায়েয। নাজায়েয পদ্ধতিগুলো পরিত্যাজ্য হওয়ার অন্যতম বিশেষ একটি কারণ এই যে, সেসব পদ্ধতি স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর বলেই প্রমাণিত।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি (Contraceptive Pill) এর প্রচলন বর্তমান সময়ে ব্যাপক। কিন্তু এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই ওষুধগুলোতে এমন কিছু হরমনজনিত উপাদান রয়েছে, যেমন: এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন; যা শরীরের কার্যক্ষমতা পরিবর্তন করে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখে। মূলত ডিম্বাশয় ও জরায়ুকে এসব ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব ওষুধ ডিম্বাণু নিঃসরণকে বাধাপ্রাপ্ত করে সেই সাথে সারভিক্স-এর মাংসপেশিকে মোটা করে তোলে যাতে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ করে কোনো ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে না পারে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত সাধারণ নিয়মকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অস্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে যা নিসঃন্দেহে অনুচিত।

বর্তমান বিশ্বে আরও একটি জনপ্রিয় জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি হচ্ছে আই.ইউ.ডি (IUD- Intrauterine Device)। এই প্রক্রিয়ায় জরায়ুতে ইংরেজি অক্ষর I আকৃতির একটি যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিতে ৩-১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এরকম আরও বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো সত্যিকার অর্থেই বর্জনীয়। এসব পদ্ধতির বেশ কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো-
• অনিয়মিত মাসিক;
• মাসিকের সময় তুলনামূলক অধিক রক্তপ্রবাহ এবং মাসিকের স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধি;
• বমি বমি ভাব হওয়া, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরানো এবং স্তন প্রদাহ;
• হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তন;
• IUD পদ্ধতি অবলম্বনে মাত্রাতিরিক্ত ব্রন হওয়ার আশঙ্কা থাকে;
• IUD পদ্ধতি অবলম্বনে তলপেট ও কোমড়ে ব্যথা হয়ে থাকে।

ইমপ্ল্যান্টেশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো:
• কার্ডিওভাস্কুলার ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।
• পেটে মেদ জমতে পারে。
• হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মাসিক চক্র পরিবর্তন হয়ে অনিয়মিত মাসিক ও খুব বেশি রক্তপাত হতে পারে।

• ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় (যেহেতু এইসব হরমোন বারবার exposure হয়)।

• মাইগ্রেন তথা প্রচুর মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি


জন্মনিয়ন্ত্রণের কার্যকরী ও স্বাস্থ্যকর একটি পদ্ধতি হচ্ছে কনডম ব্যবহার। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে যাদের লেটেক্স এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য এটা চুলকানি বা জ্বলনের কারণ হতে পারে। এ ছাড়াও coitus interruptus বা আযল করাও একটি কার্যকরী উপায়। যৌনমিলন শেষে যোনির বাইরে বীর্যপাত করাকে আযল বলা হয়। একে উইথ ড্র মেথডও বলা হয়। এর বৈধতা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে যা আমরা পূর্বেও জেনেছি। কিন্তু এই পদ্ধতিতে উত্তেজনাবশত সঠিক সময়ে যোনির বাইরে বীর্যপাত করা বহু পুরুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে আরও একটি পদ্ধতি হতে পারে ক্যালেন্ডার পদ্ধতি (Calender Method)। তবে এটি কিছুটা জটিল। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর মাসিক চক্রের দিকে লক্ষ রাখতে হয়। এই পদ্ধতি ১০০% কার্যকরী এমনটা বলা সম্ভব না। বিশেষ করে যাদের অনিয়মিত মাসিক তাদের জন্য এই পদ্ধতি অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক। যাদের মাসিক চক্র নিয়মিত হয় (২৮±২ পরপর) তাদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের ৩ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০-৬০%, এরপরের ৬ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৮০% এবং এর পরের ৩ দিন গর্ভধারণের সম্ভাবনা আবার ৪০-৬০% এ ফিরে আসে। এরপর থেকে মাসিক শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ৭-১৩ দিন যোনিপথের ভেতরে বীর্যপাত করলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে ৫% এরও কম। গর্ভধারণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ উভয় ক্ষেত্রেই মাসিক চক্রের এই হিসাব জেনে রাখা জরুরি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00