📄 সতীচ্ছেদ
কুমারী নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর সতীচ্ছেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সতীচ্ছেদ কী, কীভাবে সহজ হয় ইত্যাদি বিষয়গুলোর মেডিকেল দৃষ্টিভঙ্গিটাও আমাদের জেনে নিতে হবে।
সমাজে ধারণা রয়েছে যে, প্রথম যৌনমিলনে যোনিপথ থেকে রক্তপাত হওয়াকেই সতীচ্ছেদ বলে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। হাইমেন (Hymen) নামক একটি পর্দা যোনিপথ ঢেকে রাখে। এটিতে ছেদ হয়ে যাওয়াই হচ্ছে সতীচ্ছেদ। এর গঠন বিভিন্ন রকমের হতে পারে। অনেকের পাতলা হয়, অনেকের পুরু হয়, অনেকের এটি থাকে আবার অনেকের থাকে না।
এটা ভুল ধারণা যে, প্রথম যৌনমিলনে রক্ত বের হবেই। আর এটাও ভুল যে, রক্ত বের না হলে সেই নারী কুমারী নয়। যাদের হাইমেন অক্ষত থাকবে তাদের রক্তপাত হবে কিন্তু যাদের বিভিন্ন কারণে হাইমেন ছিঁড়ে যায় তাদের রক্তপাত হবে না। খেলাধুলা, নাচ, সাইকেল চালানো, হস্তমৈথুন, টেম্পন ব্যবহার এরকম আরো অনেক কারণে হাইমেন নামক পর্দাটি ছিঁড়ে যেতে পারে।
📄 প্রথম যৌনমিলনে করণীয়
পুরুষেরা যৌনমিলনে এতো আগ্রহ কেন দেখায় অনেকেরই এমন একটা প্রশ্ন থাকে। পুরুষ ও নারীদের ফিতরাত ভিন্ন। তারা নারীদের প্রতি খুব সহজেই আকর্ষিত হবে এটাই স্বাভাবিক। দ্বীনদার পুরুষেরা তাদের চোখ সংযত রাখে, একজন অন্তর প্রশান্তকারীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষদের জন্য চরিত্র হেফাজত করে দ্বীনের উপর অটল থাকা অধিক কঠিন। পুরুষ এবং নারীদের ফ্যান্টাসিও ভিন্ন। সাধারণত দ্বীন মেনে চলা নারীরা বিয়ে করতে আগ্রহী হয় পর্দা করা বা নিজের দ্বীন পালনের সহজতার জন্য। অপরদিকে পুরুষেরা বিয়ে করে নিজের দৃষ্টি ও চরিত্র হেফাযতের জন্য। তাই একজন পুরুষ চাইবেই তার স্ত্রী প্রেমময়ী হোক। এজন্য মেয়েদের মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। যেহেতু সেই পুরুষ এতোদিন নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে এসেছে তাই প্রথম রাতে স্বামী মিলনের জন্য অধিক আগ্রহ দেখাতেই পারে। এমতাবস্থায় প্রথম রাতে যৌনসঙ্গমকে নেতিবাচক ভাবে নিলে এতে পরবর্তীতে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে, যৌনতা সম্পর্কে মন্দ ধারণা অন্তরে জন্ম নিতে পারে। এ ছাড়া এভাবে জায়েয ব্যাপারে কুধারণা রাখা অনুচিত যদিও পুরুষদেরকে প্রথম রাতেই যৌনসঙ্গম করার বিষয়ে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে স্বামী আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখার মাধ্যম ও জান্নাতে যাওয়ার সোপান। প্রথমবার যৌনমিলনের ক্ষেত্রে একজন কুমারী নারীর সর্বাধিক ঝামেলায় পড়তে হয় সতীচ্ছেদের ভয় নিয়ে। ব্যাপারটাকে সহজ করা যেতে পারে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে-
• নারী ও পুরুষে যৌন চাহিদা এক নয় বরং পুরুষদের চাহিদা কিছুটা বেশি। তাই স্ত্রীর উচিত স্বামীকে সুকুন দেওয়া ও তার প্রতি সহযোগী মনোভাব রাখা। প্রাথমিক সময়গুলোতে যৌনমিলনের মুহূর্তে স্ত্রীর উচিত নিজেকে মেলে ধরে স্বামীর শান্তির কারণ হওয়া। মানসিক প্রস্তুতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের জন্য প্রেমময়ী হলে ব্যাপার্টা সহজ হয়ে যায়। হাদীসে বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদেরকে প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানের জন্মদাত্রী নারীদেরকে নির্বাচন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
• দাম্পত্য জীবনের প্রথম সময়গুলো নি'আমাত। তাই সময়টাকে উপভোগ্য করে তোলা উচিত। মন্দ ধারণা ও অতিরিক্ত ইতস্ততবোধ বিষয়টা বিরক্তিকর করে তোলে। অতএব ভয় বা যৌনমিলনকালে ব্যথা লাগবে সেই কথা আগে-ভাগেই না ভেবে স্বামীর দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিলেই সব সহজ হয়ে যাবে। প্রথম মিলনে সামান্য রক্তপাত হতে পারে, এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার এতে ভয়ের কিছু নেই।
• কুমারী নারীর যোনিপথ কিছুটা সংকীর্ণ হয় ফলে প্রথম প্রথম হালকা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাপারটা যাতে সহজেই সম্পন্ন হয়ে যায় তাই লুব্রিকেন্ট হিসেবে স্বাস্থ্যসম্মত পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: ভেষজ তেল, পেট্রোলিয়াম জেলী বা ভ্যাজাইনাল লুব্রিকেন্ট ইত্যাদি।
📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ
আমাদের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে আমরা ইসলামের বিধি নিষেধগুলো মেনে চলব। আল্লাহ্ আমাদেরকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে সেই সাথে আমাদের দৈহিক ও মানসিক বিফলের অবসান ঘটাতে প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যৌনমিলনের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আর সেসব মন্দ বিষয়াদির ক্ষেত্রে মারাত্মক কুপ্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
• পায়ুপথে সংগম
এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে, এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়ায়। যোনিপথে যেমন প্রাকৃতিকভাবে পিচ্ছিল পদার্থ উৎপন্ন হয় পায়ুপথের তেমনটা হয় না। এ ছাড়া পায়ুপথের চামড়ার আস্তরণটি যোনিপথের চেয়েও পাতলা। ফলে পায়ুপথে মিলনের সময় ত্বক ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু মলদ্বার দিয়েই শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে আসে তাই খুব সহজেই সেসব ক্ষতস্থানে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ব্যাপক। আবার এই একই কারণে যৌনবাহিত রোগ ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস, এইচআইভি, হার্পস ইত্যাদির মতো জঘন্য রোগগুলো হতে পারে। এই রোগগুলোর অধিকাংশরই কোনো চিকিৎসা নেই।
◆ ওরাল সেক্স
অনেক আলিমের মতে এটা মাকরুহ। এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে তাই এটাকে অনুৎসাহিত করা হয়। এইডস, গনোরিয়া, হার্পস ইত্যাদি এসটিডির পাশাপাশি ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গলায় ক্যান্সার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইট এর চিফ মেডিকেল অফিসার ওটিস ব্রাওলে। [১]
◆ হায়েয অবস্থায় যৌনমিলন
হায়েযের সময়টা নারীদের জন্য কষ্টদায়ক। পুরুষদের উচিত স্ত্রীর হায়েযের সময়ে সবর করা। এই সময়টাতে নারীদের মেজাজ খিটখিটে থাকে তাই স্বাভাবিক কথাতেও রেগে যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে হায়েযের সময় যৌনমিলন তার দৈহিক কিংবা মানসিক কোনো অবস্থার জন্যই উত্তম নয়। এদিকে হায়েযের মাধ্যমে নারীদের শরীর থেকে অশুচি রক্ত বের হয়ে আসে। আর সেই রক্তের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণও ঘটতে পারে।
টিকাঃ
[১] https://www.webmd.com/sex-relationships/features/4-things-you-didnt-know-about-oral-sex#1
📄 যৌনমিলনের উপকারিতা
হরমোনাল সেক্রুয়েশনের কারণে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, রক্ত চলাচল ভালো থাকে, হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।
খিটখিটে মেজাজ কমে; শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক চাপ, হতাশা এবং উদ্বেগ দূর হয়।
ক্যালরি বার্ন করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে।
নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার ইচ্ছা বাড়ে।
নিয়মিত সহবাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বীর্যপাতের সময়কাল বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ব্যথা উপশম হয়।
ভাল ঘুম হয়।
স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সাংসারিক জীবনে সুখ আসে।