📄 পায়ুপথে সঙ্গম করার বিধান
স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস মারাত্মক কবীরা গুনাহ। কেননা, এটা হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল রয়েছে। এমনকি ইমাম ত্বহাবী বলেন- "এর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির (অর্থাৎ বর্ণনা-পরম্পরার প্রতিটি স্তরেই রয়েছে বৃহৎ সংখ্যা)।[৩৬]
ইমাম নববী বলেন,
واتفق العلماء الذين يعتد بهم على تحريم وطء المرأة في دبرها حائضا كانت أو طاهرا، لأحاديث كثيرة مشهورة
হায়েয কিংবা পবিত্র উভয় অবস্থাতেই স্ত্রীর পায়ুগমন নিষেধ হওয়া মর্মে বহু প্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণিত হওয়ায় সকল নির্ভরযোগ্য আলিমগণ এই পায়ুগমন হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে একমত।[৩৭]
ইমাম ইবনুল আরাবী ইমাম ক্বাযী ইয়ায থেকে বর্ণনা,
حرم الله تعالى الفرج حال الحيض لأجل النجاسة العارضة، فأولى أن يُحرم الدبر لأجل النجاسة اللازمة
যেখানে আল্লাহ অস্থায়ী নাপাকির কারণেই হায়েয অবস্থায় যোনিপথে গমন করা হারাম করেছেন সেখানে স্থায়ী নাপাকির কারণে পায়ুপথে গমন করা হারাম হওয়া অধিক অগ্রগণ্য।[৩৮]
স্ত্রীর পায়ুগমণ হারাম হওয়ার বিষয়ে ইমাম যাহাবী আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।[৩৯]
এবং এটি হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১২ জনের অধিক সাহাবি থেকে পৃথকভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই সহীহ ও হাসান পর্যায়ের। যেমনটি ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে বলেছেন।[৪০]
এ সংক্রান্ত কতিপয় সহীহ হাদীস-
• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ
যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে; সে যেন আল্লাহ কর্তৃক মুহাম্মাদ এর উপর নাযিলকৃত দ্বীন হতে মুক্ত হয়ে গেল। [৪১]
• ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى امْرَأَةً فِي الدُّبُرِ
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে স্ত্রীর পায়ুপথে যৌনমিলন করে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। [৪২]
• খুযাইমা ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ
হে মানবমণ্ডলী, আল্লাহ সত্য কথা (প্রকাশের) ব্যাপারে লজ্জা করেন না। তোমরা স্ত্রীলোকদের পায়ুপথে সঙ্গম করো না। [৪৩]
• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَلْعُونُ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করে সে লা'নতপ্রাপ্ত। [৪৪]
৪ মাযহাবসহ যাহেরী মাযহাবেও একে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দেহ থেকে সকল উপায়ে সুখ নেওয়ার অনুমতি ইসলামে রয়েছে। কেননা আল্লাহ বলেন,
نِسَاؤُكُمْ حَرْثُ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর। [৪৫]
তবে যেসব উপায়ে সুখ নেওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল আছে, সেগুলো পরিহারযোগ্য। যেমন:
* মলদ্বারে সহবাস;
* ঋতুবর্তী অবস্থায় সহবাস;
* প্রসব পরবর্তী সময়ে নির্গত রক্তস্রাব অর্থাৎ নিফাসরত অবস্থায় সহবাস।
টিকাঃ
[৩৬] শরহু মাআনিল আসার- ৩/৪৩
[৩৭] শরহে সহীহ মুসলিম- ৭/১০
[৩৮] আহকামুল কুরআন- ১/১৭৪; তাফসীরে কুরতুবী- ৩/৯৪
[৩৯] সিয়ারু আলামিন নুবালা- ১৪/১২৮
[৪০] তাফসীরে কুরতুবী- ৩/৯৫
[৪১] আবু দাউদ- ৩৯০৪
[৪২] সুনানে তিরমিযী- ১১৬৫
[৪৩] সুনানে নাসাঈ- ৮৯৩৩; সুনানে ইবনু মাজাহ- ১৯২৪; মুসনাদে আহমাদ- ২১৮৫৮; মুসনাদে শাফেয়ী- ৯০; মুসনাদে হুমাইদী- ৪৪০; আল মুনতাক্কা, ইবনু জারুদ- ৭২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান- ৪২০০; মু'জামুল কাবীর- ৩৭১৬, হাদীসটি সহীহ
[৪৪] বুখারী- ৫৮৬৫; আবু দাউদ- ২১৬২; মুসনাদে আহমাদ- ২/৪৭৯
[৪৫] সূরা বাকারা- ২২৩
📄 বিভিন্ন আসনে (Position) সহবাস করার বিষয়ে শরঈ দৃষ্টিকোণ
ইমাম মুজাহিদ সহ মুফাসসিরগণ তাফসীরে বলেন,
قَائِمَةً وَقَاعِدَةً وَمُقْبِلَةٌ وَمُدْبِرَةً فِي الْفَرْحِ
দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যোনিপথে। [৪৬]
মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,
إِنْ شَاءَ مُجَبِّيَةً، وَإِنْ شَاءَ غَيْرَ مُجَبِّيَةٍ غَيْرَ أَنَّ ذَلِكَ فِي صِمَامٍ وَاحِدٍ
ইচ্ছে হলে উপুড় হয়ে, ইচ্ছা করলে উপুড় না করে (সহবাস করতে পারবে) তবে তা একই দ্বারে (যোনিপথে) হতে হবে। [৪৭]
হায়েয/নিফাস অবস্থা ব্যতীত ও পায়ুপথ ছাড়া সামনে কিংবা পিছন দিক থেকে যোনিপথে গমন করার বিধানে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী, আহমাদ, ত্বহাবী ও ইবনু হিব্বান উমার-এর ঘটনা সংবলিত একটি হাদীস নিয়ে এসেছেন। [৪৮]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ এই আয়াত তথা সূরা বাক্বারাহর দ্বারা যুক্তি সহকারে স্ত্রীর পায়ুপথ গমন হারাম সাব্যস্ত করেছেন। কেননা আল্লাহ নারীর যোনিপথকে শস্যক্ষেত্র বলেছেন, যা মূলত সন্তান জন্মের স্থান। সেক্ষেত্রে এ আয়াতে স্ত্রীর যোনিপথে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে (যেকোনো আসনে) গমন করার কথা বলেছেন। [৪৯]
টিকাঃ
[৪৬] তাফসীর তাবারী- ২/৩৮৭-৩৮৮; তাফসীরে ইবনু কাসীর- ২/৩০৫; দুররে মানছুর- ১/২৬৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা- ৪/২৩২
[৪৭] সহীহ মুসলিম- ১৪৩৫
[৪৮] তিরমিযী- ৪/২৫৮ (তুহফাতুল আহওয়াযী সহ); মুসনাদে আহমাদ- ১/২৯৭; মুশকিলিল আসার- ৫৩৫৪; সহীহ ইবনু হিব্বান- ১/৬১৬, হাদীসটির মান সহীহ
[৪৯] যাদুল মা'আদ ফী হাদয়ি খইরিল ইবাদ- ৪/২৪০