📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিধান

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিধান


মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে-
◇স্থায়ী পদ্ধতি

যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-

وهو محرم بالاتفاق
স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। [২৮]

• অস্থায়ী পদ্ধতি
যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউই স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না। যেমন: আযল করা (সহবাসের চরম পুলকের মুহূর্তে স্ত্রীর যোনির বাহিরে বীর্যপাত ঘটানো), Condom, Jelly, Cream, Foam, Douche ইত্যাদি ব্যবহার করা, পিল (Pill) খাওয়া, জরায়ুর মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া ইত্যাদি। অস্থায়ী পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে-

• দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া, যাতে প্রথম সন্তানের লালন- পালন, পরিচর্যা ঠিকমতো হয়;

• কোনো কারণে নারী সন্তান লালন-পালনের সামর্থ্য না হলে;
• নারী অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপজ্জনক হলে;
• গর্ভধারণের কারণে দুধ শুকানোর দরুন পূর্বের বাচ্চার স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা হলে এবং দুধের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও না থাকলে;
• স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল হওয়ার কারণে পৃথক হওয়ার ইচ্ছা থাকলে;
• মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তারের মতানুযায়ী বাচ্চা নিলে মায়ের জীবননাশের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে;
• স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাসস্থান থেকে অনেক দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলে;
• দারুল হারবে (যেখানে কাফিরদের সাথে ইসলামী সশস্ত্র জিহাদ ফরয হয়ে গেছে) বসবাসের কারণে নবাগত সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা হলে। অথবা এধরনের অন্য কোনো শরী'আহ সিদ্ধ সমস্যা বা ওযরের কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয রয়েছে।

عن جابر قال كنا نعزل على عهد النبي فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم ينهنا

হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে আযল (যা জন্মনিয়ন্ত্রণের পুরনো ও অস্থায়ী পদ্ধতি) করতাম। এবং তার কানে এই সংবাদ গেলেও তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। [২৯]

কিন্তু কনডম (Condom) ব্যবহার করা, Jelly, Cream, Foam ইত্যাদির ব্যবহার (এগুলো শুক্রাণুকে নিষিক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে), ডাউচ (Douche) ব্যবহার করা (অর্থাৎ পানির পিচকারী দিয়ে জরায়ু ধুয়ে ফেলা); জরায়ুর মুখ বন্ধ করে দেওয়া, পিল (Pill) খাওয়া, ইনজেকশন নেওয়া ইত্যাদি পদ্ধতিগুলো বিনা ওযরে অবলম্বন করা মাকরুহ। কেননা এগুলোও আযলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে পিল এবং ইঞ্জেকশনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো আলাদাভাবে মাকরুহে তানযীহী। পিল ও ইনজেকশন এক্ষেত্রে ব্যবহার শরী'আহর দৃষ্টিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। এ নিয়ে মেডিকেল বিষয়ক দারসে আলোচনা হবে, ইন শা আল্লাহ।

◆ গর্ভপাত ঘটানো (Abortion)
এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বহু পুরাতন একটি পদ্ধতি। জন্মনিয়ন্ত্রণের (Contraceptives) উপায়-উপাদানের অনেক উন্নতি সত্ত্বেও আজ অবধি দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয় তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবে না। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,

উম্মতে মুসলিমার সকল ফুক্বাহা এ ব্যাপারে একমত, (রূহ আসার পর) গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কারণ এটা الوأد (সূক্ষ্মভাবে সমাধিত)- এর অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُبِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ)

যখন (কিয়ামতের দিন) জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে... [৩০]

টিকাঃ
[২৮] উমদাতুল ক্বারী- ২/৭২
[২৯] সহীহ বুখারী- ২৫০; সহীহ মুসলিম- ১৬০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 যেসকল কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়েয নেই

📄 যেসকল কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়েয নেই


নিম্নবর্ণিত কারণগুলো অস্থায়ীভাবেও জন্মনিয়ন্ত্রণ বৈধ হওয়ার ওজর হিসেবে ধর্তব্য হবে না।

• পুরুষ বা নারী নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার জন্য;
• কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার ভয়ে। যাতে পরবর্তীতে এদের বিয়ে-শাদির ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়;
• গর্ভধারণ কষ্ট, প্রসব বেদনা, নিফাস, দুধ পান করানো এবং বাচ্চার সেবা-যত্ন ইত্যাদি কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য;

◆ গর্ভধারণ থেকে শুরু করে বাচ্চা বড় হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এর সেবা-যত্নের পিছনে কল্পনাতীত শ্রম দেওয়ার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য খিটখিটে মেজাজ থেকে বাঁচার জন্য;

• অধিক সন্তান নেওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করা;

• অধিক সন্তান জন্ম নিলে তাদের ভরণ-পোষণে আর্থিক অভাব অনটন, খাদ্য ও ভূমি-সম্পদ সংকট দেখা দেবে এই ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা।

উল্লিখিত কারণসমূহ সামনে রেখে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে নাজায়েয এবং হারাম। বিশেষ করে শেষের কারণটি ইসলামী আকীদা বিশ্বাস ও আদর্শের সাথে প্রকাশ্য এবং সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে এর ভয়াবহতা অনেক মারাত্মক। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, বর্তমানে এই কারণটিকে সামনে রেখেই অধিকাংশ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। অথচ আর্থিক দুর্বলতা ও সচ্ছলতা এবং রিযিকের ব্যবস্থা একমাত্র আল্লাহর হাতে নিয়ন্ত্রিত। আল্লাহ কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন,

( وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا ) আর পৃথিবীতে বিচরণকারী সকলের রিযিক বা জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন [৩১]

( وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ ) তোমরা স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা করো না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দিই এবং তাদেরকেও। [৩২]

( وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْأً كَبِيرًا ) দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও আমিই রিযিক দান করে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। [৩৩]

উল্লিখিত আয়াতসমূহের দ্বারা যখন একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেকটি প্রাণীর জীবিকার ব্যবস্থা আল্লাহ নিজ দায়িত্বে নিয়ে রেখেছেন, তখন এই জীবিকার ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করা আল্লাহকে অযোগ্য ঘোষণা করার শামিল এবং এই আয়াতসমূহ অস্বীকার করার নামান্তর। তাই এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানকে ভেবে-চিন্তে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, দুনিয়ার সামান্য ভোগবিলাস, কষ্ট বা লোকলজ্জার ভয়ে আমরা যেন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান ও আখিরাতকে বরবাদ করে না দিই। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ সমঝ ও তাঁর দ্বীনের উপর অটল অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন এবং দ্বীনের প্রত্যেকটি বিষয়কে সহজভাবে গ্রহণ করা ও মেনে চলার জন্য আমাদের অন্তরকে উন্মুক্ত করে দিন। আমীন।

• আলোচনার সারসংক্ষেপ

• স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করা নাজায়েয এবং হারাম। তবে যদি জরায়ুতে এমন কোনো রোগ হয়, যার থেকে জরায়ু কেটে ফেলা ছাড়া আরোগ্য লাভ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাহলে তা কেটে ফেলা জায়েয আছে;

■ অস্থায়ী পদ্ধতিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ মাকরুহ। তবে শরঈ ওজরবশত জায়েয;

■ দরিদ্রতা ও লজ্জার ভয়ে অস্থায়ী বা সাময়িক জন্ম বিরতি মাকরুহে তাহরীমী এবং হারাম;

■ জরায়ুতে বীর্য প্রবেশ করার পরে তাতে যদি প্রাণ সঞ্চার হয়ে থাকে তাহলে গর্ভপাত করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয। তবে গর্ভে সন্তানের ছয় মাসের কম এবং চার মাসের বেশির সুরতে মায়ের জীবন নাশের আশঙ্কা থাকলে জায়েয আছে। অন্যথায় জায়েয নয়। আর চার মাসের কমের সুরতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রকাশ পেয়ে গেলে বিনা ওজরে গর্ভপাত করা মাকরুহে তাহরীমী, আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রকাশ না পেলে মাকরুহে তানযীহী। অবশ্য শরঈ ওজরের কারণে হলে মাকরুহ হবে না।[৩৪]

টিকাঃ
[৩০] তাকউইর ৮-৯; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া- ৪/২১৭
[৩১] সূরা হুদ-৬
[৩২] সূরা আন'আম- ১৫১
[৩৩] সূরা বনী ইসরাঈল- ৩১
[৩৪] বিস্তারিত দেখুন: সুনানে আবু দাউদ- ১/২৮০, ১/২৯৫; মুসলিম শরীফ- ১/৪৬৫; বুখারী শরীফ- ২/৫৮৯, পৃষ্ঠা- ৭৮৪; আল মিনহাজ শরহে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ- ১/৪৬৮; ফাতাওয়া শামী- ৯/৬২২, পৃষ্ঠা- ১০/২৬২; জাদীদ ফিকহী মাসায়েল- ১/১৯৭-২০৩; জাওয়াহিরুল ফিকহ- ৭/৭৭-১৫৬; ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা, পৃষ্ঠা- ২২৪ থেকে ২৪৪ (সা'দ প্রকাশনী); ফতোয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ, জাওয়াব নং- ৪৭৯৫১

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ভ্রুণ নষ্ট করার বিষয়ে শরী‘আহ বিধান

📄 ভ্রুণ নষ্ট করার বিষয়ে শরী‘আহ বিধান


গর্ভে সন্তান চলে আসার পর অকারণে ভ্রুণ নষ্ট করা জায়েয নেই। তবে নিম্নোক্ত শরঈ ওজরগুলো পাওয়া গেলে গর্ভস্থ সন্তানের ৪ মাসের আগে এবরশন বা ভ্রুণ নষ্ট করা যাবে। আর সেগুলো হলো-

• মহিলা অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপজ্জনক হলে;
• গর্ভধারণের কারণে দুধ শুকানোর দরুন পূর্বের বাচ্চার স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা হলে এবং দুধের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও না থাকলে;
• স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অমিল হওয়ার কারণে পৃথক হওয়ার ইচ্ছা থাকলে;
• মুসলিম বিজ্ঞ ডাক্তারের মতানুযায়ী বাচ্চা নিলে মায়ের জীবননাশের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে;
• দারুল হারবে (যেখানে কাফিরদের সাথে ইসলামী সশস্ত্র জিহাদ ফরয হয়ে গেছে) বসবাসের কারণে নবাগত সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা হলে;
• কোন কাফির জোরপূর্বক মুসলিম মেয়ের সাথে জিনা করেছে ফলে পেটে বাচ্চা চলে আসলে।

তবে যদি বাচ্চার শরীরে রুহ চলে আসে, তাহলে তা নষ্ট করা জায়েয হবে না। পেটের বাচ্চার শরীরে রূহ আসে চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন পর। ভ্রুণের বয়স ১২০ দিন পার হয়ে গেলে তা নষ্ট করা সর্বসম্মত মতানুসারে হারাম।

আবদুল্লাহ বলেন, মহা সত্যবাদী আল্লাহর রাসূল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, "নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যরূপে অবস্থান করে, অতঃপর তা জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়। ওইভাবে চল্লিশ দিন অবস্থান করে। অতঃপর তা গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়ে (আগের মতো চল্লিশ দিন) থাকে। অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। আর তাঁকে চারটি বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়। তাঁকে 'আমল, রিযিক, আয়ু এবং সে কি পাপী হবে নাকি নেককার হবে তা লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়। অতঃপর তার মধ্যে আত্মা ফুঁকে দেওয়া হয়।”[৩৫]

টিকাঃ
[৩৫] সহীহ বুখারী- ৩২০৮

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পায়ুপথে সঙ্গম করার বিধান

📄 পায়ুপথে সঙ্গম করার বিধান


স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস মারাত্মক কবীরা গুনাহ। কেননা, এটা হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল রয়েছে। এমনকি ইমাম ত্বহাবী বলেন- "এর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির (অর্থাৎ বর্ণনা-পরম্পরার প্রতিটি স্তরেই রয়েছে বৃহৎ সংখ্যা)।[৩৬]

ইমাম নববী বলেন,
واتفق العلماء الذين يعتد بهم على تحريم وطء المرأة في دبرها حائضا كانت أو طاهرا، لأحاديث كثيرة مشهورة
হায়েয কিংবা পবিত্র উভয় অবস্থাতেই স্ত্রীর পায়ুগমন নিষেধ হওয়া মর্মে বহু প্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণিত হওয়ায় সকল নির্ভরযোগ্য আলিমগণ এই পায়ুগমন হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে একমত।[৩৭]

ইমাম ইবনুল আরাবী ইমাম ক্বাযী ইয়ায থেকে বর্ণনা,
حرم الله تعالى الفرج حال الحيض لأجل النجاسة العارضة، فأولى أن يُحرم الدبر لأجل النجاسة اللازمة
যেখানে আল্লাহ অস্থায়ী নাপাকির কারণেই হায়েয অবস্থায় যোনিপথে গমন করা হারাম করেছেন সেখানে স্থায়ী নাপাকির কারণে পায়ুপথে গমন করা হারাম হওয়া অধিক অগ্রগণ্য।[৩৮]

স্ত্রীর পায়ুগমণ হারাম হওয়ার বিষয়ে ইমাম যাহাবী আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।[৩৯]

এবং এটি হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১২ জনের অধিক সাহাবি থেকে পৃথকভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই সহীহ ও হাসান পর্যায়ের। যেমনটি ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে বলেছেন।[৪০]

এ সংক্রান্ত কতিপয় সহীহ হাদীস-
• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ

যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে; সে যেন আল্লাহ কর্তৃক মুহাম্মাদ এর উপর নাযিলকৃত দ্বীন হতে মুক্ত হয়ে গেল। [৪১]

• ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى امْرَأَةً فِي الدُّبُرِ
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে স্ত্রীর পায়ুপথে যৌনমিলন করে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। [৪২]

• খুযাইমা ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ
হে মানবমণ্ডলী, আল্লাহ সত্য কথা (প্রকাশের) ব্যাপারে লজ্জা করেন না। তোমরা স্ত্রীলোকদের পায়ুপথে সঙ্গম করো না। [৪৩]

• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَلْعُونُ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করে সে লা'নতপ্রাপ্ত। [৪৪]

৪ মাযহাবসহ যাহেরী মাযহাবেও একে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দেহ থেকে সকল উপায়ে সুখ নেওয়ার অনুমতি ইসলামে রয়েছে। কেননা আল্লাহ বলেন,
نِسَاؤُكُمْ حَرْثُ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর। [৪৫]

তবে যেসব উপায়ে সুখ নেওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল আছে, সেগুলো পরিহারযোগ্য। যেমন:

* মলদ্বারে সহবাস;
* ঋতুবর্তী অবস্থায় সহবাস;
* প্রসব পরবর্তী সময়ে নির্গত রক্তস্রাব অর্থাৎ নিফাসরত অবস্থায় সহবাস।

টিকাঃ
[৩৬] শরহু মাআনিল আসার- ৩/৪৩
[৩৭] শরহে সহীহ মুসলিম- ৭/১০
[৩৮] আহকামুল কুরআন- ১/১৭৪; তাফসীরে কুরতুবী- ৩/৯৪
[৩৯] সিয়ারু আলামিন নুবালা- ১৪/১২৮
[৪০] তাফসীরে কুরতুবী- ৩/৯৫
[৪১] আবু দাউদ- ৩৯০৪
[৪২] সুনানে তিরমিযী- ১১৬৫
[৪৩] সুনানে নাসাঈ- ৮৯৩৩; সুনানে ইবনু মাজাহ- ১৯২৪; মুসনাদে আহমাদ- ২১৮৫৮; মুসনাদে শাফেয়ী- ৯০; মুসনাদে হুমাইদী- ৪৪০; আল মুনতাক্কা, ইবনু জারুদ- ৭২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান- ৪২০০; মু'জামুল কাবীর- ৩৭১৬, হাদীসটি সহীহ
[৪৪] বুখারী- ৫৮৬৫; আবু দাউদ- ২১৬২; মুসনাদে আহমাদ- ২/৪৭৯
[৪৫] সূরা বাকারা- ২২৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00