📄 স্ত্রীর স্তন চোষা বা চুমু খাওয়া
স্বামী-স্ত্রী মিলনের পূর্বে একে অপরকে বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীকে উত্তেজিত করে সহবাস করা ফুক্বাহাগণ মুস্তাহাব বলেছেন। যেমন: চুমু খেয়ে, স্তন মর্দন কিংবা তাতে চুমু খেয়ে অথবা চোষণের মাধ্যমে উত্তেজিত করা ইত্যাদি। এতে ৪ মাযহাবের সকল ইমাম একমত।
তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, স্ত্রীর স্তনে যদি দুগ্ধ থেকে থাকে তাহলে স্বামীকে সর্তকতার সাথে চোষণ করতে হবে, যেন দুগ্ধ মুখে চলে না যায়। নতুবা চোষণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা, স্ত্রীর স্তনের দুগ্ধ পান করা একটি মারাত্মক গুনাহের কাজ। কিন্তু যদি অধিক উত্তেজনাবশত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কেউ স্ত্রীর দুধ পান করেও ফেলে তবে স্ত্রী তার জন্যে হারাম হবে না, যেমনটা প্রচলিত রয়েছে। তবে এ কাজের জন্যে তাওবাহ করতে হবে। [২৫]
টিকাঃ
[২৫] সূরা বাক্কারাহ- ২২৩; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (পুরাতন নুসখা)- ১২/৩১০; ফতোয়ায়ে শামী- ১/৩১, ৪/৩৯৭; তাফসীরে মাযহারী- ১/৩৫৬; কেফায়াতুল মুফতী- ৫/১৬২; আযীযুল ফাতাওয়া- ৭৭০; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (নতুন নুসখা)- ৬/৩৪৬
📄 মিলনের সময় যোনিপথে আঙ্গুল প্রবেশ করানোর বিধান
উলামায়ে কেরামদের একদল একে জায়েয বলেছেন এই শর্তে যে, যেন পায়ুপথে এমন করা না হয় এবং হায়েয ও নিফাসের সময়েও এমন করা যাবে না। তবে এটি মাকারিমে আখলাক পরিপন্থী একটি কাজ। [২৬]
টিকাঃ
[২৬] আল্লামা দিমইয়াত্বির হাশিয়াতু ইয়ানাতিত ত্বলিবীন- ৩/৩৮৮
📄 যোনি বা লিঙ্গ মুখ দিয়ে স্পর্শ করার বিধান
এই কাজটিকে অধিকাংশ উলামাগণই মাকরুহ বলেছেন যদিও কতিপয় আলিম একে জায়েয বলে থাকেন। এ ছাড়াও এটি কুরআন সুন্নাহ কিংবা সাহাবি ও তাবেয়ীদের আসার (বর্ণনা) থেকে প্রমাণিত সুষ্ঠ যৌনাচার নয়। তবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে সহবাসের পূর্বে পরস্পরের গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া বা নেড়ে দেওয়াতে সমস্যা নেই বরং এতে সাওয়াব হবে বলে ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণিত। কিন্তু সহবাসের পর যদি নাপাকি লেগে থাকে তবে সে মুহূর্তে একে অপরের গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া জায়েয নেই। এর উপরেই হানাফী, হাম্বলী, শাফেয়ীদের একদল ও মালেকীদের একদল ফতোয়া দিয়েছেন। [২৭]
টিকাঃ
[২৭] বাহরুর রায়েক- ৮/৩৫৪; মুহীতুল বুরহানী- ৮/১৩৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া- ৫/৩৭২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৮/৪৫; নাজমুল ফাতাওয়া- ৩/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬৭; যাখীরাতুল ফাতাওয়া- ৭/৩২৯; আল ইনসাফ, মারদাউই- ৮/৩৩; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; আল খিরাশি আলা মুখতাসারিল খালিল- ৩/১৬০; ইআনাতুত ত্বালিবীন- ৩/৩৪০
📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিধান
মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে-
◇স্থায়ী পদ্ধতি
যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
وهو محرم بالاتفاق
স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। [২৮]
• অস্থায়ী পদ্ধতি
যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউই স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না। যেমন: আযল করা (সহবাসের চরম পুলকের মুহূর্তে স্ত্রীর যোনির বাহিরে বীর্যপাত ঘটানো), Condom, Jelly, Cream, Foam, Douche ইত্যাদি ব্যবহার করা, পিল (Pill) খাওয়া, জরায়ুর মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া ইত্যাদি। অস্থায়ী পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে-
• দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া, যাতে প্রথম সন্তানের লালন- পালন, পরিচর্যা ঠিকমতো হয়;
• কোনো কারণে নারী সন্তান লালন-পালনের সামর্থ্য না হলে;
• নারী অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপজ্জনক হলে;
• গর্ভধারণের কারণে দুধ শুকানোর দরুন পূর্বের বাচ্চার স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা হলে এবং দুধের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও না থাকলে;
• স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল হওয়ার কারণে পৃথক হওয়ার ইচ্ছা থাকলে;
• মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তারের মতানুযায়ী বাচ্চা নিলে মায়ের জীবননাশের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে;
• স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাসস্থান থেকে অনেক দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলে;
• দারুল হারবে (যেখানে কাফিরদের সাথে ইসলামী সশস্ত্র জিহাদ ফরয হয়ে গেছে) বসবাসের কারণে নবাগত সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা হলে। অথবা এধরনের অন্য কোনো শরী'আহ সিদ্ধ সমস্যা বা ওযরের কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয রয়েছে।
عن جابر قال كنا نعزل على عهد النبي فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم ينهنا
হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে আযল (যা জন্মনিয়ন্ত্রণের পুরনো ও অস্থায়ী পদ্ধতি) করতাম। এবং তার কানে এই সংবাদ গেলেও তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। [২৯]
কিন্তু কনডম (Condom) ব্যবহার করা, Jelly, Cream, Foam ইত্যাদির ব্যবহার (এগুলো শুক্রাণুকে নিষিক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে), ডাউচ (Douche) ব্যবহার করা (অর্থাৎ পানির পিচকারী দিয়ে জরায়ু ধুয়ে ফেলা); জরায়ুর মুখ বন্ধ করে দেওয়া, পিল (Pill) খাওয়া, ইনজেকশন নেওয়া ইত্যাদি পদ্ধতিগুলো বিনা ওযরে অবলম্বন করা মাকরুহ। কেননা এগুলোও আযলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে পিল এবং ইঞ্জেকশনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো আলাদাভাবে মাকরুহে তানযীহী। পিল ও ইনজেকশন এক্ষেত্রে ব্যবহার শরী'আহর দৃষ্টিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। এ নিয়ে মেডিকেল বিষয়ক দারসে আলোচনা হবে, ইন শা আল্লাহ।
◆ গর্ভপাত ঘটানো (Abortion)
এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বহু পুরাতন একটি পদ্ধতি। জন্মনিয়ন্ত্রণের (Contraceptives) উপায়-উপাদানের অনেক উন্নতি সত্ত্বেও আজ অবধি দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয় তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবে না। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,
উম্মতে মুসলিমার সকল ফুক্বাহা এ ব্যাপারে একমত, (রূহ আসার পর) গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কারণ এটা الوأد (সূক্ষ্মভাবে সমাধিত)- এর অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُبِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ)
যখন (কিয়ামতের দিন) জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে... [৩০]
টিকাঃ
[২৮] উমদাতুল ক্বারী- ২/৭২
[২৯] সহীহ বুখারী- ২৫০; সহীহ মুসলিম- ১৬০