📄 পাত্রীর কোন কোন অঙ্গ কতবার দেখা যাবে
পাত্রের জন্য পাত্রীকে দেখার ক্ষেত্রে কেবল পাত্রীর চেহারা, চোখ, হাতের কবজি অবধি ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত দেখার সুযোগ রয়েছে এ ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ দেখা জায়েয নেই এমনকি মাথার চুলও দেখা জায়েয নেই। অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী খুব ভালো করে দেখতে এবং বারবার তাকাতেও কোনো অসুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে উত্তম ও সহজ পন্থা হলো- পাত্রপক্ষের নির্ভরযোগ্য কোনো মহিলা পাত্রীর খুঁটিনাটি সবকিছু দেখে এসে পাত্রকে অবহিত করবে। এরপর বিবাহের ইচ্ছা হলে তখন পাত্র সরাসরি পাত্রীকে দেখবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে, পাত্রীর সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করা যাবে না। পাত্র ও পাত্রী নির্জনে আলাদা স্থানে একত্রিত হয়ে কথা বলতে পারবে না, যা বলার মাহরামদের সামনেই বলবে। [১]
টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ- ২/৩১৫ হাদীস- ২০৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/৭২৮ হাদীস- ১৮৬৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৬/১৬৩ হাদীস- ১০৩৩৫; হেদায়া- ৪/৪৪৩, রদ্দুর মুহতার- ১/৪০৭; ফাতাওয়া শামী- ৬/৩৭০; বিদায়াতুল মুজতাহিদ- ৩/৩১; ফতহুল বারী- ১/১৮২; নাইলুল আওত্বার- ৬/১১১; রওদুত্ব ত্বলেবীন- ৭/১৯
📄 বিয়েকে ঘিরে যত কুসংস্কার
মুসলিমদের জীবনে তিনটি ক্ষেত্রে দ্বীনের রীতি-রসমকে মোটামুটি প্রাধান্য দেওয়া হয়। সন্তান জন্ম নেওয়ার সময়, বিয়ে পড়ানোর সময় ও মৃত্যুর মুহূর্তে। যদিও এর সাথে মিশে আছে হাজারও কুসংস্কার। সন্তান জন্ম নিলে কানে আযান দিয়ে সুন্নাহটুকু পালন করা হয় ঠিকই কিন্তু এর আগে বা পরে রয়েছে কুসংস্কার ও কাফিরদের কৃষ্টি অনুসরণ করে বিভিন্ন রীতি-রেওয়াজ যেমন: শাদ, বেবি শাওয়ার, মুখে ভাত (অন্নপ্রাশন), জন্মদিন, কপালে কালো টিপ, বাচ্চার বালিশের পাশে লোহা, ম্যাচ, রসুন রেখে দেওয়া ইত্যাদি। কারও মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একইভাবে জানাযা, কাফন, দাফন সব ইসলামী রীতি মেনে সম্পন্ন করা হলেও একে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে আয়োজন করা হয় কুলখানী, চল্লিশার মতো অনুষ্ঠান।
বিয়ের ক্ষেত্রেও অভিন্ন। আল্লাহর রাসূল বিয়েকে সহজ করতে আদেশ দিয়েছেন। আর এটাও বলা হয়েছে যে, সেই বিয়েতেই অধিক বারাকাহ যেই বিয়েতে খরচ কম। আমাদের বর্তমান সমাজে দাম্পত্য কলহ অনেক বড় একটা ইস্যু। এর পিছনের কারণটা কী টের পাওয়া যায়? যেই বিয়েতে ৭০-৮০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা ছিলো না, সেখানে একটা বিয়ের পিছনে খরচ হয়ে যায় ১০-১২ লাখ। কি নেই সেই সব বিয়ের অনুষ্ঠানে! পাত্রী দেখতে যাওয়ার সময় হাজার হাজার টাকার ফলমূল আর মিষ্টি, পাত্রী পছন্দ হলে মোটা অংকের সালামী, এঙ্গেজমেন্টে স্বর্ণ-হীরা-প্লাটিনামের আংটি আদান-প্রদান, বিয়ের জন্য লাখের ওপর কেনাকাটা, সবার ম্যাচিং করে পাঞ্জাবী,
ম্যাচিং করে ল্যাহেঙ্গা, প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের নামে বিয়ের আগেই এক পরপুরুষের সাথে ঘেষে দাড়িয়ে আরেক পরপুরুষকে দিয়ে ছবি তোলানোর বেহায়াপনা, ব্রাইডাল শাওয়ার, মেহেন্দী পার্টি, গায়ে হলুদ, ব্যয়বহুল কনভেনশন হলে বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে পাত্রী পক্ষের ওপর বিশাল এক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, ছোট করে বরপক্ষ থেকে একটা রিসিপশন (ওয়ালিমা), সবশেষে হানিমুন। আর অনুষ্ঠানগুলোতে গান বাজনা, নারী- পুরুষের অবাধ মেলামেশা, মদ্যপানের মতো জঘন্য কাজ তো আছেই।
বিয়ে তো ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কিন্তু উপরের যেই কার্যকলাপগুলো উল্লেখ করা হলো সেখানে ইসলামটা গেল কোথায়? কেবল কাজী সাহেবকে ডেকে এনে বিয়ে পড়ানো আর হাত তুলে একটা লম্বা মোনাজাত, এতটুকুই কি ইসলাম? দাম্পত্য জীবনে বারাকাহ তো এ কারণেই আসে না। যেই দম্পতির বিয়েতে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল-এর অবাধ্যতা করা হয় সেই স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হবে আর সেই স্বামী তার স্ত্রীর হক্কের বিষয়ে বেখবর হবে এটাই তো স্বাভাবিক।
জীবনের অনেক সুন্দর একটি ক্ষণ হচ্ছে বিয়ে। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আমরা যাতে জাহিলদের কার্যকলাপে জড়িয়ে না পড়ি সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি।
• মোহরানা কম নির্ধারণ
মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে আত্মীয় আর পাড়া-প্রতিবেশি কি বলবে সেই লোকলজ্জা থেকে পাত্রীপক্ষের অধিক মোহরানা নির্ধারণের একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা সমাজে প্রচলিত রয়েছে! অনেকের মাঝে আবার এ ধারণা রয়েছে যে, মোহরানা নির্ধারণ পর্যন্তই শেষ। পরিশোধ কেবল তখনই করতে হবে যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। তাই অনেকে মোহরানা অধিক নির্ধারণ করে থাকে এই কারণে যাতে সেই পুরুষ তালাক দেওয়ার সাহসও না পায়। এতে মোহরানার অর্থ অধিক হওয়ায় তা কোনোকালেই আদায় হয়না, যদিও সেটা স্ত্রীর হক। বিয়ের পর স্ত্রীর হাত-পা ধরে মাফ চেয়ে নেওয়া হয়। অপরদিকে যদি দম্পতিদের মাঝে কোনো কারণে মতের অমিলও হয়ে থাকে স্বামী চাইলেও মোহরানা পরিশোধের ভয়ে স্ত্রী থেকে আলাদা হতে পারে না। ফলে দম্পতির মাঝে তৈরি হয় মানসিক অশান্তি, এমনকি শারিরীক নির্যাতনও। তাই অসুস্থ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। মোহরানা কম হোক তবুও অনাদায়ী না থাকুক।
• যৌতুক
একসময় যৌতুক প্রথা ছিল সামাজিক ব্যাধি যা হিন্দু সমাজ থেকে আমাদের মাঝে এসেছিল। তবে জনসচেতনতার কারণে এখন সরাসরি যৌতুক দাবি অনেকটাই কমেছে। কিন্তু বর্তমানে বরপক্ষ থেকে "আপনাদের যা খুশি তা দিয়েন" রকমের উক্তিও আসলে যৌতুকেরেই নামান্তর। যদিও গ্রাম-গঞ্জে এখনো সরাসরি যৌতুক দাবির প্রথাও কিছুটা বহাল রয়েছে। যৌতুক ইনিয়ে বিনিয়েই চাওয়া হোক আর সরাসরি দাবিই করা হোক, এসব বিষয়ে সকলকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।
• উপঢৌকন নিয়ে বাড়াবাড়ি
বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মাঝে উপঢৌকন বিনিময়ের রীতি সমাজে প্রচলিত রয়েছে। উপঢৌকন একে অপরকে পাঠাতেই পারে তবে এ নিয়ে যখন বাড়াবাড়ি হয়ে যায় তখন হয় সমস্যার কারণ। অপর পক্ষ থেকে কি পাঠালো, কি পাঠালো না, সেগুলোর মান ভালো না মন্দ, পরিমাণে কম না বেশি এসব নিয়ে ঘরের নারীদের মহল থেকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়ে পুরুষদের মহল পর্যন্ত ছড়ায়। এমনকি এসব ঠুনকো বিষয় নিয়ে বহুদিন অন্তরে একটা ক্ষোভও পুষে রাখা হয় যা পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনেও প্রভাব ফেলে।
• বিয়ের অনুষ্ঠান
ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠান কেবল একটি আর সেটি হলো ওয়ালিমা, যা বরপক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়। অথচ আমাদের সমাজে মূল অনুষ্ঠানের দায়িত্ব থাকে কনেপক্ষের কাঁধে। সেখানে বরপক্ষ দলবেঁধে বেহায়ার মতো এসে খেয়ে যায়। এসব রীতি-রেওয়াজ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ইসলাম বিয়ের ক্ষেত্রে কনের পরিবারের জন্য সহজ করেছে। কেননা একটা পরিবার তার সবচেয়ে বড় সম্পদ, কন্যাকেই পাত্রের হাতে তুলে দিচ্ছে যা নিশ্চয় কষ্টের। সেখানে তাদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম কোনোমতে সমর্থন করে না। তবে বোঝা না হয়ে গেলে কনেপক্ষ থেকে মেহমানদারী করানো যেতে পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়।
• ওয়ালিমা
ওয়ালিমার অনুষ্ঠানে যে বিষয়টি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তা হচ্ছে খাবার। খাবারের স্বাদ কেমন হলো, আইটেম কয়টা পরিবেশন করা হলো, খাতিরদারিতে কী কী কমতি ছিল, পোলাওটা কেমন হলো, রোস্টটা কেমন হলো- এসব নিয়ে গীবত করেই অনেকদিন কাটিয়ে দেয় মেহমানেরা। এসবও বর্জনীয় এবং এমন নিচু মানসিকতার মানুষদেরকে এরকম অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া বর্জন করাই শ্রেয়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব, ওয়ালিমাতে কেবলমাত্র দ্বীনের বুঝসম্পন্ন মানুষদেরকে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে। যদি এমনটা করা হয় তাহলে আশা করা যায় এসব সমালোচনার শিকার হতে হবে না।
পর্দা লঙ্ঘন ও শরী'আহ বহির্ভূত আচার বর্জন
পর্দার যাতে লঙ্ঘন না হয় তাই ওয়ালিমাতে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা বসার ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া শরী'আহ বহির্ভূত যেসব কর্মকাণ্ড রয়েছে তা থেকে বিরত থাকা তো আবশ্যক। যেমন: নাচ-গান-বাজনা, বাজি ফোটানো, মদ্যপান বা মাদক সেবন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া বরের জুতা লুকানো, গেট আটকে ধরে বা খাওয়ার পর বরের হাত ধুইয়ে দিয়ে টাকা দাবি করা ইত্যাদি রীতিও দোষণীয়। যদিও ওয়ালিমার অনুষ্ঠানে এসব করার কোনো রাস্তা নেই যেহেতু এসব কর্মকাণ্ড সাধারণত হয়ে থাকে কনেপক্ষের তথাকথিত অনুষ্ঠানে কিন্তু ওয়ালিমার অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে বরপক্ষ থেকেই।
টিকাঃ
[১৪] হাশিয়াতু রওদ্বিল মুরবি- ৬/২৫৪
📄 নারীর ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার বিধান
ইসলামী শরী'আতে স্বামীর খেদমত করা ও তার আনুগত্য করা ওয়াজিব। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত ও তার আনুগত্য করা ওয়াজিব নয়। তবে এরূপ করলে এটা অত্যন্ত ভালো ও প্রশংসিত কাজ বলে বিবেচিত হবে। এবং এটি ইহসান হিসেবে গণ্য হবে। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার এ রীতি সাহাবায়ে কেরামদের জীবনেও দেখা যায়।
হজরত কাবশা বিনতে কা'ব বিন মালিক ছিলেন হজরত আবু কাতাদা-এর পুত্রবধূ। কাবশা বর্ণনা করেন, একবার আবু কাতাদা (কাবশা-এর শ্বশুর) ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করে তিনি ওযুর পানি খোঁজ করেন। তখন কাবশা শ্বশুরকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দেন....।[১৫]
জাবের বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা মেয়েকে বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, "কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে, তাহলে তুমি তার সাথে খেলতে পারতে আর সে তোমার সাথে খেলাধুলা ও আমোদ- প্রমোদ করতে পারত।" জবাবে জাবের বললেন- "হে আল্লাহর রাসূল, আমার বাবা উহুদের যুদ্ধে নিহত (শহিদ) হয়েছেন, এবং ৯টি মেয়ে রেখে গিয়েছেন। আমি এটা অপছন্দ করি যে, তাদের মাঝে আমি এমন এক মেয়ে বিয়ে করে আনি যে তাদের মতোই (শিশুসুলভ হওয়ায়) অগোছালো হবে। বরং আমি চেয়েছিলাম তাদের কাছে আমার স্ত্রী (তাদের ভাবী) এমন হোক যে তাদের অগোছালো চুল আঁচড়ে দেবে এবং তাদের পরিচর্যা করবে।" এটা শুনে রাসূলুল্লাহ বললেন- "আল্লাহ তোমার জন্য বরকতের ফায়সালা করুন।" কোনো বর্ণনায় আছে- 'উত্তম করেছ'। [১৬]
ইমাম ইরাক্বী এই হাদীসের আলোকে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের পরিচর্যা করার দলিল দিয়েছেন। ইমাম নববী এবং ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী-ও একই মত দিয়েছেন।
সুতরাং এই হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্ত্রী তার স্বামীর পরিবারের খেদমত করতে পারবে এটি শরী'আতসম্মত। আর এই উদ্দেশ্যে পুরুষের বিয়ে করাতেও দোষ নেই যদিও স্ত্রীর ওপর এটি ওয়াজিব নয়।
ইমাম ইবনুল কইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ বলেন, "আদরের কন্যা হজরত ফাতেমা -কে স্বামীগৃহে পাঠানোর পর প্রিয় নবী স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এভাবে কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন যে, ঘরের ভেতরের কাজ স্ত্রী করবে আর বাইরের কাজ করবে স্বামী। "[১৭] বোঝা যাচ্ছে, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর বাসার অন্যান্যদের সেবাও স্ত্রীর একটি অতিরিক্ত কাজ। এটা তার দায়িত্ব নয়। কিন্তু বর্তমান সমাজ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে? মনে করা হয়, এটা তার অপরিহার্য দায়িত্ব বরং এটিই যেন তার প্রধান দায়িত্ব। এ সবই পরিমিতিবোধের চরম লঙ্ঘন। মা-বাবার সেবা করা সন্তানের একান্ত দায়িত্ব, পুত্রবধূর নয়। তবে পুত্রবধূ মানবিকতা ও সামাজিকতার খাতিরে অন্তত ইহসানস্বরূপ শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যান্যদের খেদমত করা উচিত। আর শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যান্যদের খেয়াল রাখতে হবে যে, ঘরের বধূ বেতনভুক্ত চাকরানী কিংবা দাসী নয়, সে যা করছে তা তাদের প্রতি ইহসান করছে। [১৮]
অপরপক্ষে শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা বউয়ের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এটা জানামাত্র কিছু বোন শ্বশুর-শাশুড়ির বিন্দুমাত্র সেবা বা আনুগত্য করতে চায় না। এরূপ চিন্তাধারা ইসলাম পরিপন্থি। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রতি ইহসান করতে ইসলাম জোর তাগাদা দিয়েছে সেখানে স্বামীর পিতা-মাতা সেই ইহসানের আরও অধিক হক্কদার।
টিকাঃ
[১৫] আবু দাউদ, হাদীস- ৭৫
[১৬] সহীহ বুখারী- ১৯৯১, ৩৮৫৬; সহীহ মুসলিম- ৭১৫
[১৭] যাদুল মা'আদ ৫/১৬৯
[১৮] আল বাহরুর রায়েক ৪/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতি ৫/২৩০
📄 প্রথম রাতে করণীয়
বিয়ের পর প্রথম রাতটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য অনেক খাস। এই রাতটিই তাদের জীবনে অমলিন হয়ে থাকবে আজীবন। তাই এ রাতটি যাতে বিশেষ হয়ে থাকে সেই নিমিত্তে সেভাবেই রাতটিকে সাজানোর পরিকল্পনা তো থাকবেই, পাশাপাশি বাসর রাতকে ঘিরে যেসকল সুন্নাহ ও আদবসমূহ রয়েছে সেগুলোও পালন করা বাঞ্ছনীয়।
• একত্রিত হয়ে কুশলাদী বিনিময় করা এবং একদম চুপচাপ না থেকে একে অপরের সাথে মিষ্টিমিষ্টি কথা বলা উচিত। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে, এটি মুস্তাহাব। সেক্ষেত্রে সলাতের সময় স্ত্রী স্বামীর পিছনে দাঁড়াবে। সাহাবাদের থেকে এই আমলটির প্রমাণ পাওয়া যায়। [১৯]
◆ এক পেয়ালা দুধ থেকে প্রথমে স্বামী চুমুক দিয়ে পান করা এবং পরবর্তীতে স্ত্রীও সেখান থেকেই পান করা একটি সুন্নাহ, যা রাসূল থেকে প্রমাণিত। [২০]
• স্বামীর জন্য একটি দু'আ রয়েছে যা সে স্ত্রীর কপালে হাত রেখে বা মাথার সামনের দিকের চুলের গোছায় হাত দিয়ে বলবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
স্ত্রীও এই দু'আটিই পড়বে এভাবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
হে আল্লাহ তার যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে নিহিত রেখেছেন তা আমি আপনার কাছে চাই, এবং তার যত অকল্যাণ রয়েছে এবং যত অকল্যাণ তার স্বভাবে নিহিত রেখেছেন তা থেকে আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই। [২১]
• পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রথম রাতে স্ত্রীর সাথে কুশলাদী বিনিময় করেই কাটিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে নবদম্পতির মাঝে বোঝাপড়া ভালো হয়। তবে স্ত্রীর উচিত প্রস্তুত থাকা। যদি এমন হয় যে স্বামী তাকে সহবাসের জন্য ইঙ্গিত দেয় বা আহ্বান করে তাহলে এতে সাড়া দেওয়াই স্ত্রীর কর্তব্য। বারণ করা উচিত নয়, কেননা এতে স্বামীর মনে প্রথম দিনই মন্দ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। সহবাসের পূর্বে অবশ্যই সহবাসের দু'আটি পাঠ করতে হবে-
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যে সন্তান দান করবেন তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন ।২২
• বাকিরাহ বা কুমারী নারী হলে স্বামীর সাথে টানা ৭ দিন ৭ রাত কাটানো ও সাইয়্যেবা বা অকুমারী নারী হলে স্বামীর সাথে টানা ৩ দিন ৩ রাত কাটানোর বিষয়ে হাদীসে এসেছে।[২৩]
টিকাঃ
[১৯] মুসান্নাফ আবু শাইবাহ- ৩/৪০২, আত তাবরানী- ১/২০৪, আব্দুর রাযযাক- ৬/১৯১ (সহীহ)
[২০] মুসনাদে আহমাদ
[২১] আবু দাউদ ২/২৪৮, নং ২১৬০, ইবনে মাজাহ ১/৬১৭, হাদীস- ১৯১৮
[২২] বুখারী- ৬/১৪১, হাদীস- ১৪১; মুসলিম- ২/১০২৮, হাদীস- ১৪৩
[২৩] মুসলিম- ৩৪৪৭, ৩৪৪৮