📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 সাক্ষীর শর্ত

📄 সাক্ষীর শর্ত


◆ দুজন সাক্ষী থাকতে হবে; ◆ আকল বা বুদ্ধিসম্পন্ন, বালেগ, স্বাধীন, আদেল বা ন্যায়বান ও মুসলমান হওয়া। সুতরাং পাগলের ও যিম্মির উপস্থিতি বা সাক্ষ্যে বিয়ে সংঘটিত হবেনা। তবে যিম্মি মহিলার বিবাহে যিম্মি পুরুষ সাক্ষ্য হতে পারবে। আবার কেউ কেউ এই শর্তও দিয়েছেন যে, সাক্ষ্যরা দৃষ্টিমাণ, শ্রবণশীল ও বিবাহের প্রস্তাবিত ও কবুলকৃত ভাষার বুঝমান হতে হবে। তবে কারো কারো মতে আবার ভাষা বোঝা বিবাহের সাক্ষ্যদের জন্যে শর্ত হিসেবে আরোপিত নয়। [৬]

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইসলামে পাত্র-পাত্রী দেখার বিধান

📄 ইসলামে পাত্র-পাত্রী দেখার বিধান


বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্র ও পাত্রী একে অপরকে দেখা ৪ মাযহাব সহ অধিকাংশ আলিমদের মতে একটি মুস্তাহাব আমল। [৭] আল্লাহ বলেন,

(فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء ) তোমরা বিবাহ করো সেই স্ত্রীলোক, যাদেরকে তোমাদের ভালো লাগে। [৮]

টিকাঃ
[৭] শরহে মুসলিম লিন নাওয়াউই- ১/৫৫২ হাদীস- ১৪২৪
[৮] সূরা নিসা- ৩

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পাত্রীকে যারা দেখতে পারবে

📄 পাত্রীকে যারা দেখতে পারবে


পাত্রীকে পাত্রের মা, বোন ও পরিবারের মহিলা শ্রেণির সবাই দেখতে পারবে কিন্তু পাত্র ছাড়া পাত্রের আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে আর কোনো পুরুষই পাত্রীকে দেখতে পারবে না। যেমন: পাত্রের বাবা, চাচা, দাদা, ফুফা, খালু, মামা, ভাই, দুলাভাই, বন্ধু ইত্যাদি। আজকের সমাজে এরূপটাও প্রচলিত রয়েছে যে পাত্রীকে পাত্রের বাবা, চাচা, মামা, ভাই, দুলাভাই সবাই মিলেই দেখে আসে। সেক্ষেত্রে চুল দেখতে চাওয়া হয়, হাত, পা, দাঁত দেখানো, হেঁটে দেখানো, বসে দেখানো, গান শোনানো, তিলাওয়াত শোনানো আরো অগণিত উপায়ে পরপুরুষদের সামনে পর্দার লঙ্ঘন হয়। এসব কৃষ্টি-কালচার থেকে মুসলিম নর-নারীদের বের হয়ে আসা উচিত।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পাত্রীর কোন কোন অঙ্গ কতবার দেখা যাবে

📄 পাত্রীর কোন কোন অঙ্গ কতবার দেখা যাবে


পাত্রের জন্য পাত্রীকে দেখার ক্ষেত্রে কেবল পাত্রীর চেহারা, চোখ, হাতের কবজি অবধি ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত দেখার সুযোগ রয়েছে এ ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ দেখা জায়েয নেই এমনকি মাথার চুলও দেখা জায়েয নেই। অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী খুব ভালো করে দেখতে এবং বারবার তাকাতেও কোনো অসুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে উত্তম ও সহজ পন্থা হলো- পাত্রপক্ষের নির্ভরযোগ্য কোনো মহিলা পাত্রীর খুঁটিনাটি সবকিছু দেখে এসে পাত্রকে অবহিত করবে। এরপর বিবাহের ইচ্ছা হলে তখন পাত্র সরাসরি পাত্রীকে দেখবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে, পাত্রীর সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করা যাবে না। পাত্র ও পাত্রী নির্জনে আলাদা স্থানে একত্রিত হয়ে কথা বলতে পারবে না, যা বলার মাহরামদের সামনেই বলবে। [১]

টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ- ২/৩১৫ হাদীস- ২০৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/৭২৮ হাদীস- ১৮৬৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৬/১৬৩ হাদীস- ১০৩৩৫; হেদায়া- ৪/৪৪৩, রদ্দুর মুহতার- ১/৪০৭; ফাতাওয়া শামী- ৬/৩৭০; বিদায়াতুল মুজতাহিদ- ৩/৩১; ফতহুল বারী- ১/১৮২; নাইলুল আওত্বার- ৬/১১১; রওদুত্ব ত্বলেবীন- ৭/১৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00