📄 বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে বহুবিবাহ
সমাজে বেহায়াপনা এখন তুঙ্গে। রাস্তাঘাটে বেপর্দা মেয়ে, ব্যাভিচারের সহজলভ্যতা, হারাম সম্পর্ক, পর্নোগ্রাফির সাইটগুলোতে অতি সহজ এক্সেস এমন আরও অনেক ফিতনা বর্তমানে উপস্থিত যেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ে ছিল না। এই অবস্থায় বর্তমানে পুরুষদের কতটা ঈমানী পরীক্ষা দিতে হয় তা অভাবনীয়।
আজ উম্মাহর নারীদের যে দায়িত্ব থাকার কথা ছিল, সেই দায়িত্ব ভুলে গিয়ে নারীরা উল্টো নিজেদের আবেগকেই প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। অথচ আবেগ চাইলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বহুবিবাহ নিয়ে যেই জুজু সমাজে বিষফোঁড়া হয়ে আছে তা দূর করা প্রয়োজন। তাই আমাদেরকে বহুবিবাহের কিছু ইতিবাচক দিক জেনে রাখা আবশ্যক।
• এটা একটা মৃতপ্রায় বিধান, যা জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য বোনেদের এ ব্যাপারে নিজেদের মনের সকল সংকীর্ণতা দূর করে ফেলা উচিত।
◆ আল্লাহ্-এর সন্তুষ্টির জন্য উম্মাহর খেদমতে নারীকে এই বিধান মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এমতাবস্থায় একাধিক স্ত্রী মানে অধিক সন্তান। আর অধিক সন্তান মানে উম্মাহর সংখ্যা বৃদ্ধি আর রাসূল এর ঠোঁটে গর্বের হাসি। বহুবিবাহের অনেক সুবিধা রয়েছে, আর উম্মাহর জন্য দিন দিন এর প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
◆ দ্বীনদারেরা নিজেদের সন্তানদেরকে যেই শিক্ষা দেয় বেদ্বীনিরা সেই শিক্ষা দিতে পারে না। বর্তমানে দ্বীনের বুঝসম্পন্ন মানুষ সম্পূর্ণ জনসংখ্যা, এমনকি মুসলিম জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। এদিকে, বর্তমানে নারীদের মাঝে সন্তান-ধারণ ক্ষমতা পূর্ববর্তীদের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। এর পিছনেও রয়েছে পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র। পুঁজিবাদী সমাজ অনেক কৌশল করে নারীদের সন্তান প্রসবের ক্ষমতাকে দমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে একজন নারীর জন্য দু-তিনটি সন্তান প্রসব করাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বহুবিবাহ হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার। একাধিক স্ত্রী থেকে অধিক সন্তানগ্রহণের মাধ্যমে উম্মাহর মাঝে যোগ্য আলিম, দা'ঈ, মুজাহিদের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। উম্মাহর এই ক্রান্তিকালে সংখ্যা গরিষ্ঠতা একটা বড় শক্তি।
◇ অনেক এতিম, তালাকপ্রাপ্তা, বিধবা, শারীরিক ত্রুটিপূর্ণ, অধিক বয়স্ক মেয়েদের জন্য বিয়েটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বহুবিবাহ সমাধান হতে পারে।
• অনেক নারীর সন্তান হয় না। এই অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের মাধ্যমে সন্তান লাভ করা সম্ভব হয়।
• পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যাও হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন এই অনুপাত বেড়েই চলছে। পুরুষদের মৃত্যুহার নারীদের তুলনায় অধিক অপরদিকে পুরুষদের জন্মহার নারীদের চেয়ে কম। আবার যেই হারে মুসলিম নিধন হচ্ছে, এতে পুরুষদের সংখ্যা কমতে থাকবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। এখনই এমনটা অনেক মুসলিম অধ্যুষিত স্থানে দেখা যাচ্ছে যে, নারীদের বিবাহের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে পুরুষদের সংখ্যা স্বল্পতা।[১৫] এমতাবস্থায় বহুবিবাহের বিধান মেনে নিতে না পারলে উম্মাহর নারীদের অনেক বড় একটা অংশ অবিবাহিতই থেকে যাবে, সমাজের ভারসাম্য ব্যাহত হয়ে পড়বে এবং তা অসুস্থ একটি সমাজে পরিণত হবে।
• নারীদের হায়েয, গর্ভবতী অবস্থা, নিফাস ইত্যাদি কারণে পুরুষদের দৈহিক মিলন থেকে বিরত থাকতে হয়। যা অনেক পুরুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর হতে পারে। অনেক নারীর সক্ষমতা কম থাকায় স্বামীর চাহিদা যথাযথভাবে পূর্ণ করতে তারা অক্ষম হয়। সেক্ষেত্রে স্বামীর অনেক সম্ভাবনা থাকে পাপে জড়িয়ে যাওয়ার। এই অবস্থায় বহুবিবাহ সমাধান।
এত সুন্দর একটা বিধান, যাতে রয়েছে একাধিক সমাধান। যদিও এর এরকম আরও বহু সুবিধা রয়েছে যা আলোচনা করে শেষ করা যাবে না। আমাদের মন্দ ঈর্ষাকে যদি আমরা সাময়িক এই দুনিয়ার কয়েকদিনের জীবনে দমিয়ে রাখতে পারি, তাহলে সেটা উম্মাহর জন্য অসংখ্য ফায়দা বয়ে আনতে পারে আল্লাহর অনুমতিক্রমে।
উপরের বিষয়টি সকলকে বহুবিবাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা হয়নি। বরং আল্লাহর বিধানের যুক্তিসমূহ উপস্থাপনপূর্বক এটা জানিয়ে দেওয়াই উদ্দেশ্য যে, এই বিধান কতই না শাশ্বত। আল্লাহ প্রদত্ত বিধানই আমাদের জন্য সর্বাধিক উত্তম, সেটা আমরা বুঝতে পারি কিংবা না পারি, বিশ্বজাহানের মালিক আল্লাহ ঠিকই বুঝে শুনে বিধানসমূহ আরোপ করেছেন। তাই নিজের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধ জ্ঞানের ওপর ভরসা না করে আমাদের উচিত সেই মহান সত্তার উপর ভরসা রাখা, যার জ্ঞানের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
টিকাঃ
[১৫] https://www.middleeasteye.net/news/syrias-era-women-war-leaves-streets-empty-men