📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 দ্বীনদার পুরুষদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তা

📄 দ্বীনদার পুরুষদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তা


বিবাহ বন্ধনে যুগলবন্দি ঘটে নারী ও পুরুষের মাঝে। তাই বিয়ের বিষয়ে কেবল নিজের দিক থেকে চিন্তা করলেই হয় না, জীবনসঙ্গীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চাওয়া-পাওয়ার কথাও মাথায় রাখা দরকার। এর আগের দারসটিতে আলোচনা হয়েছিল পুরুষদের মানসিকতা সম্পর্কে। সেখান থেকে আমাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, পুরুষেরা যৌন চাহিদার দিক থেকে অনেকটাই দুর্বল। আর দ্বীনদার পুরুষদের জন্য পারিপার্শ্বিক সমাজ, বেপর্দা ও বেহায়া মহল, নগ্নতা, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি একেকটি ফিতনার কারণ। এসব ফিতনা থেকে বাঁচতে এবং সমাজকে রক্ষা করতে বিয়ের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। পূর্ববর্তী দারসে Men's Psychology Survey থেকে আমরা জেনেছিলাম পুরুষদের পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির কথা। সেই জরিপে পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য ফিতনা থেকে বাঁচতে তাদের কাছে বিয়ের কেমন গুরুত্ব রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে ইন শা আল্লাহ-

* বিয়ে পুরোপুরি কার্যকর বলে মনে করি। একাকীত্বের কারণে এই ফিতনা গ্রাস করতে পারে ভালোভাবে।
* বিয়ে ছাড়া এটা (পর্নোগ্রাফি) থেকে বাঁচতে পারব বলে মনে হয় না। ট্রিগার হলেই পর্নোগ্রাফি থেকে আর দুরে থাকা যায় না।
* আসলে বিয়ে করলে যেই জৈবিক চাহিদাটা রয়েছে সেটা ইন শা আল্লাহ পূর্ণ হবে। তাহলে ফিতনায় আপতিত হওয়ার আর কোনো উদ্দেশ্যই থাকলো না।
* পর্নোগ্রাফি খুবই ক্ষতিকর। সবই বুঝি। কিন্তু সব সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না। যখন শারীরিক চাহিদা তৈরি হয়, তখন তো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়। একজন স্ত্রী থাকলে সমস্যা হতো না। কিন্তু স্ত্রী না থাকায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যা সব সময় সম্ভব হয় না। এসব অত্যন্ত হতাশার। এই হতাশা স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে আমাকে। মানসিক অবস্থা অনেক করুণ হয়ে গেছে।
• আমি মনে করি তাকওয়া অবলম্বন করলেই ইন শা আল্লাহ বাঁচা যায়। তবে বিয়েও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।
• নিঃসন্দেহে বিয়ে অনেকটাই সাহায্য করবে। তবে বৈধ পন্থায় যৌনমিলন করতে পারলেই পর্নএডিকশন চলে যাবে তা সকলের জন্য সমানভাবে সত্যি নয়। অনেকে এডিকশনের এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, স্ক্রিনে উত্তেজক কিছু না দেখলে তাদের আর বীর্যপাতই হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীকে স্ত্রী হিসেবে পেলেও একটা সময় তাদের সেই স্ক্রিনের উত্তেজনার দ্বারস্থ হতে হয়।
• বিয়ের কার্যকারিতা ৬/১০। এটা ছাড়ার জন্য তাকওয়া এবং নেক আমলই সর্বাধিক কার্যকরী। বহুবিবাহও আরেকটা সমাধান হতে পারে।
• ফরয হয়ে গেছে বিয়ে। কারণ নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
• আমার কাছের তেমন বন্ধু নেই। একা একা থাকি সবসময়ই। তাই বৈবাহবাহিক বন্ধনের মাধ্যমে একজন বন্ধু পেলে তার কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাবো।
• আমার মতে একজন পুরুষের জৈবিক চাহিদা নিবারণে ব্যাঘাত ঘটলেই মানুষ পর্নোর দিকে ধাবিত হয় (যেহেতু সেটা সহজলভ্য), তাই এসব থেকে বাঁচতে আমি বিয়েটাকেই উত্তম উপায় মনে করি।
• এত বেশি কার্যকরী যে, এটাই একমাত্র শরী'আহ সম্মত উপায়। আর কোনো উপায় আছে বলে আমার জানা নেই।
• অনেকটাই কার্যকরী মনে করি। অবসরে বা যখন একা থাকি শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়। আবার স্বভাবতই পুরুষের মনে কাম-বাসনা সৃষ্টি হয় যার থেকে একজন পর্নদেখে বা হস্তমৈথুন করে। বিবাহ হলে এমন করার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
• এটা অত্যাবশ্যক। কারণ এতে একদিকে স্ত্রীর হক রক্ষা করা সম্ভব হয়, অন্যদিকে হালালভাবে বেঁচে থাকাও সম্ভব।
• বিয়ে প্রচুর প্রয়োজন। কারণ যারা পর্নোগ্রাফিতে নেশাগ্রস্ত ছিল বা হস্তমৈথুনে লিপ্ত ছিল, এগুলো ছেড়ে দিলে প্রথমে অনেক ভালো লাগে, অন্তরে একটা প্রশান্তি আসে কিন্তু একটা লম্বা সময়ের পর খুব মানসিক যন্ত্রণা কাজ করে। কিছুই ভালো লাগে না তখন। শারীরিক চাহিদা খুব বেড়ে যায়। ওই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আবার ওগুলোর মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। আমি মনে করি, যারা সত্যিকারেই আল্লাহকে ভয় করে এগুলো ছেড়ে দিতে চায়, তাদের জন্য বিয়ের চেয়ে উত্তম আর সহজ সমাধান হয় না।
◆ আমি মনে করি শতভাগ কার্যকরী। মনের মাঝে যেই আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় সেটা স্ত্রীর মাধ্যমে শতভাগ পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন আর ফিতনার দিকে ধাবিত হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না।
◆ খুব বেশি কার্যকর বলে মনে করি। মানুষের চাহিদা থাকে স্বাভাবিকভাবেই। বিয়ের মাধ্যমে সেগুলাতো পূরণ হয়-ই, সঙ্গে এও মনে হয় যে, বিয়ের পর ফitnar দিকে ঝুঁকতে গেলেও স্ত্রীর কথা মাথায় আসবে, মায়া হবে।
◇ আমি প্রচণ্ড আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রায় ৭/৮ বছরের আসক্তি। সেই বিভীষিকা থেকে লাস্ট ৩ মাস বেরিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। তাও যে ভুল হয়নি একেবারে সেটা না। হয়েছে ২/৩ বার ভুল। কিন্তু যেটাকে আসক্তি বলেছি সেটার কাছে কিছুই না এবং এখান থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে আর যাতে মনের মধ্যে ভুল করেও ইচ্ছা না জাগে তাই প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আর এই এতটুকুর জন্য বিয়েকে আমি অতীব জরুরি মনে করছি।
◇ কিছুটা কার্যকর। তবে একবার পর্নোগ্রাফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে শুধু বিয়ে করে এটা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব না। বরং বিয়ে এক্ষেত্রে কিছুটা সাপোর্টমাত্র। আর স্ত্রীও একজন মানুষ। তার নানা ব্যস্ততা থাকবে। গুনাহ থেকে সবসময় স্ত্রী এসেই বাঁচিয়ে দেবে না। বরং নিজে আল্লাহ এর কাছে অনেক কান্নাকাটি করে যথাসম্ভব দৃষ্টি ও শ্রুতির হেফাযত করে যেতে হবে। নাহলে বারবার পর্নোগ্রাফির ফাঁদে পড়ে যেতে হবে।
◇ যখন খাহেশাত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, সেটা থামানো অনেক কঠিন। হালাল পন্থা (বিয়ে) ছাড়া খুবই কষ্টকর। মাথা ঠান্ডা করতে নিজের মনকে অন্যদিকে অনেক কিছু করে ভুলিয়ে দিতে হয়। তাই বিয়ের বিকল্প নেই।
◆ এই জামানার ফিতনা থেকে বাঁচতে বিয়েও কার্যকরী নয়, যদি স্ত্রী স্বামীর মন-মানসিকতা না বুঝে। স্বামীর চাহিদার তোয়াক্কা করে না এমন অনেক দ্বীনদার নারীই আছে। আর এসব কারণে অনেকে বিয়ের পরও বিভিন্ন ফিতনায় জড়িয়ে যায়।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পুরুষদের বহুগামী চিন্তাধারা, এই অবস্থায় নারী হিসেবে করণীয়

📄 পুরুষদের বহুগামী চিন্তাধারা, এই অবস্থায় নারী হিসেবে করণীয়


পুরুষেরা সাধারণত বহুগামী স্বভাবের হয়ে থাকে। অর্থাৎ, তারা একাধিক নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এভাবেই তারা সৃষ্ট। ব্যতিক্রম থাকতে পারে, সেটা উদাহরণ হিসেবে আনা যায় না। সকলেই এরকম না তবে অধিকাংশই। আর এ কারণে বিয়ের কিছু বছরের মাথায় বেদ্বীনদের মাঝে দেখা যায় পরকীয়া কিংবা পতিতালয়ে গমনের প্রবণতা। তবে আলহামদুলিল্লাহ বিবাহিত দ্বীনদার পুরুষদের মাঝে পতিতালয়ে গমনের মতো স্পর্ধা নেই। তবে পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় যেহেতু প্রথমেই উল্লিখিত হয়েছে একের অধিক নারীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া পুরুষদের সহজাত। আর এ কারণেই আল্লাহ বহুবিবাহের বিধান দিয়েছেন যাতে প্রয়োজন বা ফিতনার আশঙ্কা হলে পুরুষেরা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমানার বাহিরে গিয়ে হারামের দিকে অগ্রসর না হয়ে বিবাহের মাধ্যমে হালাল করে নেয়।

বিয়ের পর স্বামী যাতে পরকীয়ায় জড়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রেখে স্ত্রীদের বেশ কিছু করণীয় রয়েছে-

• স্ত্রীদের উচিত স্বামীদেরকে এমনভাবে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে রাখা যাতে অন্য কোনো নারীর প্রতি তার কোনো চাহিদাই তৈরি না হয়। এই বিষয়ে উপরে কিছুটা আলোচনা হয়েছে, তবে পরবর্তী দারসে এ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হবে ইন শা আল্লাহ।
◆ স্ত্রীদের উচিত সর্বক্ষেত্রে স্বামীদেরকে নজরদারিতার মধ্যে রাখা যাতে কোনোভাবেই সে গুনাহে জড়াতে না পারে। এক্ষেত্রে স্বামীর সাথে একটা পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আসা যেতে পারে। তার সাথে বিষয়গুলো নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে পরামর্শ করা, একে অপরের মুঠোফোন, ল্যাপটপ, সামাজিক মাধ্যম ইত্যাদিতে যাতে উভয়েরই সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকে এ বিষয়ে আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে।
◇ কিন্তু এর মানে এই না যে, তাকে প্রতিটি বিষয়ে সন্দেহ করতে হবে। সন্দেহ করলে সম্পর্কের মাধুর্যতা নষ্ট হবে। তাই সন্দেহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রিয়তমের প্রতি সবসময় ভালো ধারণা রাখতে হবে।
• যদি স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের মুঠোফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে প্রবেশাধিকার দিতে না চান তাহলে জোর-জবস্তি করা উচিত হবে না। অথবা যদি কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতে চান তাহলে ভেবে নিতে হবে যে, স্বামী নিরাপত্তাজনিত কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। হয়তো তার এমন কোনো গোপন নেক আমল রয়েছে যা স্ত্রীর সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাক এটা স্বামী চান না।
• স্বামীর কাছে নিজের গাইরাত (রক্ষণশীল ঈর্ষাপরায়নতা)- এর কথা এভাবে উল্লেখ করা যে, স্ত্রী তার স্বামীকে এতোটাই ভালোবাসেন যে, তিনি অন্য কোনো পরনারীর দিকে নজর দেবেন এটা স্ত্রী চান না।
◇ স্বামী যদি নিজ থেকে তার পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির কথা জানিয়ে সাহায্য চায় তাহলে সেটা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না বরং তাকে আশ্বাস দেওয়া উচিত যে স্ত্রী তাকে যথাসম্ভব সাহায্য করবে।
• স্বামীর পূর্বের হারাম সম্পর্ক, পর্নআসক্তি ছিল কিনা এসব জিজ্ঞাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব প্রকাশ হয়ে গেলে স্ত্রীর সামনে স্বামীর হায়া কমে যেতে পারে। তাই স্বামী নিজ থেকে সাহায্য চেয়ে যদি কিছু না বলে তাহলে তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে গোপন কিছু জানার চেষ্টা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। কেননা মুসলিমদেরকে আদেশ করা হয়েছে যাতে কেউ নিজেদের পাপ প্রকাশ না করে।
• যদি স্বামী নিজ থেকে পরকীয়ার কথা জানায় অথবা কাউকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার আশা ব্যক্ত করে অথবা তার দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তাহলে তার এই ইচ্ছাকে সম্মান করা উচিত। যদি মেনে নিতে কষ্ট হবে বলে মনে হয় তাহলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু এতে কাজ না হলে আল্লাহ্‌-এর বিধানের উপর বিশ্বাস ও তাক্বদীরের উপর ভরসা রেখে স্বামীর মতে সায় দেওয়া উচিত। কেননা এটা তার হক্ক যেহেতু আল্লাহই তার জন্য সুযোগ রেখে দিয়েছেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ উত্তম পরিকল্পনাকারী।

সার্ভেতে অংশগ্রহণকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো যে পরকীয়া, পর্নোগ্রাফি বা এ জাতীয় ফিতনা থেকে বাঁচতে বহুবিবাহ কতটুকু কার্যকরী বলে তারা মনে করে। প্রায় ৩৩.৭৫% পুরুষের মতে বহুবিবাহের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। প্রায় ৯% বলেছেন মোটামুটি প্রয়োজন। অংশগ্রহণকারীর মাঝে কয়েকজনের ভাষ্য তুলে ধরা হচ্ছে-

• বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলন ঘটানো জরুরি। পরকীয়া, পর্নোগ্রাফিসহ এধরনের ফিতনায় এটা আল্লাহর ইচ্ছায় খুব বেশি কার্যকর হবে বলে আশা করি। বহুবিবাহের ব্যাপারে ভাইদের এবং বোনদের উভয়পক্ষকেই এগিয়ে আসা উচিত এবং সামাজিকভাবে এর ব্যাপক প্রচলন ঘটিয়ে বহুবিবাহ নিয়ে আমাদের সমাজে যে ট্যাবু রয়েছে তা দূর করা উচিত।
• একটি বিয়েই যথেষ্ট বলে মনে করি।
• বহুবিবাহ একটি ভালো সমাধান হতে পারে যেহেতু একজন স্ত্রী থাকলে তার সাথে মিলন কোনো কারণে বন্ধ থাকলে তা পুরুষদের জন্য সবর করা কষ্টের হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পুরুষেরা ফিতনায় পড়ে যেতেই পারে। একাধিক স্ত্রী থাকলে এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পর্নআসক্তি সমাধান না করে বহুবিবাহ করলেও নানাবিধ সমস্যা লেগেই থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়।
• বহু বিবাহ সমাজ থেকে অনেকটা উঠে যাওয়ার ফল- বিবাহের পরেও পর্নোর প্রতি আসক্তি। মানুষ বিয়ের পরেও পর্নদেখছে কারণ একজনে হয়তো তার সব চাহিদা পূর্ণ হচ্ছে না। সামর্থ্য থাকলে বহু বিবাহ ভালো সমাধান।
• ছেলেরা ফিতরাতগতভাবেই একাধিক নারীর সঙ্গ চায়। একজন স্ত্রী হলে, মনে মনে আরো তিনটা চায়, যদিও সে নিজে মানুষ কেবল একজন। হালালভাবে একটির বেশি স্ত্রী না পেলে হারামভাবে ইন্টারনেটে অনেক নারীকে ফ্রিতে দেখতে পাওয়া যায়। চাকরি/ব্যবসা আর একজন স্ত্রীকে সময় দিয়ে গায়ে শক্তি বাকি থাকলে অনেকেই এই ফ্রি সময়ে এই হারামের দিকে চলে যেতে পারে। একাধিক স্ত্রী থাকলে একজনের পরে আরেকজনকে সময় দিয়ে আর অন্য হারাম কিছুতে মন দেওয়ার সময় থাকে না।
• বর্তমান সময়ে বা যুগে কোনো মেয়েই তার স্বামীর বহুবিবাহ খুশি মনে মেনে নেবে না। তবে আমার মতে দুটা বিয়ে করা যেতে পারে যদি উভয়জনকে ন্যায়ভাবে চালানোর সামর্থ্য থাকে।
◆ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এর প্রচলন খুবই জরুরি। আমি অবিবাহিত, তবুও বহুবিবাহের বাসনা লালন করি!
◆ আমার মনে হয় সাহায্যকারী হলে একজনই যথেষ্ট আমার জন্য, বাকিটা আল্লাহু 'আলাম।
◆ বহুবিবাহ কুরআন এ বর্ণিত হালাল বিধান। যাকে এতটা অপছন্দ করা হয় যতোটা গীবত, সুদ, ঘুষ, পরকীয়াকেও করা হয় না।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইসলামের বহুবিবাহের বিধান

📄 ইসলামের বহুবিবাহের বিধান


ইসলামে পুরুষদের ৪টি পর্যন্ত বিবাহের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে তবে শর্ত হচ্ছে, সকল স্ত্রীর যথাযথ হক আদায় করতে হবে, পরস্পরের মাঝে সার্বিকভাবে ইনসাফ করতে হবে। তবে কোনো পুরুষের যদি মনে হয় যে, ইনসাফ কায়েম করতে সে ব্যর্থ ও অক্ষম হবে তাহলে তার জন্যে একাধিক বিয়ে জায়েয নেই। আল্লাহ বলেন,

فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً)

বিবাহ করো নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে- দুই, তিন অথবা চারটি। আর যদি আশঙ্কা কর যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে (মাত্র) একটি (বিবাহ করো)।[১১]

এই আয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো মুসলিম পুরুষ ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে (চারের বেশি নয়) করতে পারবে। কিন্তু তাতে শর্ত হলো, তাকে তার স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার অর্থাৎ একই রকম ভালোবাসা, একই মানের খাদ্য, বস্ত্র প্রদান করতে হবে এবং তাদের একের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না। আর যে একাধিক বিয়ে করতে ইচ্ছুক কিন্তু তার মনে হচ্ছে যে, সে তার স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার রক্ষা করতে পারবে না তাহলে তাকে একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলা হচ্ছে। স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার করা নিশ্চয় কঠিন কাজ। আল্লাহ মানুষকে সাবধান করে বলেছেন,

(ولن تستطيعوا أن تعدلوا بين النساء ولو حرصتم)

তোমরা যতই আগ্রহ রাখো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না। [১২]

অর্থাৎ বোঝা গেল, একাধিক স্ত্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে। একজনের ওপর অন্যজনকে প্রাধান্য দিয়ে কারও হক নষ্ট করা যাবে না। তবে উপরি-উক্ত আয়াতে উল্লেখিত ইনসাফের দুটি অংশ। প্রথম অংশে আল্লাহ বলছেন, পুরুষেরা পরিপূর্ণভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এখানে বোঝানো হচ্ছে, ভালোবাসা ও স্বাভাবিক মনের টান যা অবস্থার ভিত্তিতে অদল-বদল, কম-বেশি হবেই। কোনো মানুষই দুজনকে সব দিক থেকে সমান ভালোবাসতে পারে না। কখনো কখনো প্রথমজনের প্রতি কিছুটা বেশি ভালোবাসা অনুভূত হবে, কখনো আবার দ্বিতীয়জনের প্রতি। ভালোবাসা, মায়া, অন্তরের টান নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পুরুষ কেন, কোনো মানুষেরই নেই। সুতরাং মানসিক টান ও প্রবৃত্তিগত আবেগ কারও প্রতি কিছুটা অধিক থাকা আদল বা ইনসাফের বিপরীত নয়। কেননা, তা মানবমনের ক্ষমতার বাইরে।

তবুও যতটুকু সম্ভব তাকওয়া অবলম্বন করে চললে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন বলেই আয়াতের শেষে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় অংশের উদ্দেশ্য হলো, শরী'আহ নির্ধারিত অধিকার যেমন: ভরণ-পোষণ, সময় দেয়া, রাত্রিযাপন, সহবাস, ইত্যাদির ব্যাপারে ইনসাফ বজায় রাখার ব্যাপারে তাগাদা দেয়া হয়েছে-যা নিশ্চিত করা কঠিন কিছু না। এ ব্যাপারে নবী বলেন,

من كانت له امرأتان فمال إلى إحداهما جاء يوم القيامة وشقه مائل

যে ব্যক্তির দুজন স্ত্রী আছে, কিন্তু তার মধ্যে একজনের দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে। [১৩]

টিকাঃ
[১১] সূরা নিসা- ৩
[১২] সূরা নিসা- ১২৯
[১৩] আবু দাউদ- ২/২৪২; তিরমিযী- ৩/৪৪৭; ইবনু মাজাহ- ১/৬৩৩; নাসাঈ- ৭/৬৪; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৪৭; মুস্তাদরাকে হাকেম- ২/১৮৬; সহীহ ইবনে হিব্বান- ৪১৯; বুলুগুল মারাম- ৩/৩১০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 বর্তমান সমাজে বহুবিবাহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

📄 বর্তমান সমাজে বহুবিবাহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি


উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ পুরুষদের জন্য বহুবিবাহের বিধান উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমেও এই বিষয়টি প্রমাণিত যে, একজন পুরুষের জন্য সর্বাধিক ৪টি বিয়ে করা জায়েয। আর পূর্বের দারস থেকে আমরা জেনেছি যে, কেউ যদি এই বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা আল্লাহ না-ইনসাফী করেছেন বা এই বিধানকে সেকেলে, অপ্রয়োজনীয়, বর্তমান সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়, আমাদের ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষদের জন্য নয়; এরকম কিছুও যদি বলে তাহলে তার ঈমান চলে যাবে।

বহুবিবাহ এমন একটি রীতি যা পূর্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং এখনও আরবসহ বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত রয়েছে। আজ থেকে ৭০-৮০ বছর পূর্বেও আমাদের দেশে এই রীতি সাধারণভাবেই প্রচলিত ছিল। কিন্তু আজ এসে আল্ট্রামডার্ন (!) মানুষগুলোর কাছে এই বিধানটি হয়ে গেছে স্পর্শকাতর। অথচ আল্লাহর বিধান হিসেবে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।

এই বিষয়টা নিয়ে অনেক দ্বীনদার বোনও একদমই কথা বলতে চান না। কিন্তু আমাদের বোঝা উচিত, জানা উচিত যে আমাদের মগজ কয়েক দফা ধোলাই হয়ে গিয়েছে বিধায় আমরা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও চিন্তা লালন করছি বেধর্মীদের মতো। যে নারীগণ দ্বীনকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছেন তাদের মাঝেও এই বিধানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থাকে কিছুটা এমন যে, "আল্লাহ বিধান আরোপ করেছেন তাই মানতে হচ্ছে।" অনেকেই আবার সরাসরি বিরোধিতাও করে বসেন। বিষয়টা আজ যতটা স্পর্শকাতর হয়েছে ততটা স্পর্শকাতর হওয়ার কথা ছিল না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, কালের পরিক্রমায় বিষয়টাকে অস্বাভাবিক করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বেশি দূর না, আমাদের দাদা-নানাদের যুগের খোঁজ নিলেই জানা যাবে যে, অনেকের দাদা-নানা একাধিক বিয়ে করেছেন। সেই সময়ের নারীদের মাঝে দ্বীনের বুঝ ততটা ছিল না। স্বভাবগতভাবেই সেই যুগের নারীগণ লজ্জাশীল ছিলেন, ইবাদতকারিণী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইলমের সহজলভ্যতা, দা'ঈদের দাওয়াতের প্রসারতা, দ্বীনি বই পুস্তকের কালজয়ী সাফল্যসহ বহুমুখী কারণে এসময়ের দ্বীনদার নারীদের মাঝে পূর্ববর্তীদের তুলনায় দ্বীনের প্রতি অধিক মুহাব্বত লক্ষ্য করা যায়। তবুও পূর্বেকার নারীদের দ্বীনের কম বুঝ থাকা সত্ত্বেও স্বামীদের বহুবিবাহের ব্যাপারটাকে খুশি মনে তারা মেনে নিয়েছে কিন্তু বর্তমানের নারীরা তুলনামূলক দ্বীনের অধিক বুঝ সম্পন্ন হয়েও বিষয়টাকে মেনে নিতে পারছে না।

বিষয় হচ্ছে, আজ থেকে এক শতাব্দী পূর্বেও বহুবিবাহ ছিল মুসলিমদের জন্য আর বাকি আট-দশটা বিধানের মতোই সাধারণ একটি বিধান। কিন্তু কালের পরিক্রমায় পাশ্চাত্য সমাজ তাদের বিধি-বিধান ইসলামের বিধানের বিপরীতে পেশ করতে সক্ষম হয়েছে। আর আমরা সেসবই গোগ্রাসে গিলেছি, এখনও গিলছি। কয়েক দফা পাশ্চাত্যের ধবল ধোলাই খেয়ে আমাদের মগজ দফারফা হয়ে গিয়েছে। তাই আজকে আমাদের নিকট আল্লাহর প্রদত্ত বিধানের তুলনায় কাফির, মুশরিকদের বিধান অধিক পছন্দনীয় মনে হয়।

একাধিক বিয়ে খ্রিস্টানধর্মে নিষিদ্ধ একটি বিষয়।[১৪] এদিকে নারীবাদীদের গাত্রদাহের বিষয়ও বটে। তাই বিষময় পাশ্চাত্য সমাজ তাদের বহুবিবাহের রীতির প্রতি বিতৃষ্ণাকে আমাদের উপর চাপাতে চেয়েছে খুব সূক্ষ্মভাবে। এর পিছনে বড় আরেকটা কারণও রয়েছে। কারণটা হচ্ছে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর একাধিক বিবাহ। আমরা জানি, বিভিন্ন কারণে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আল্লাহ রাসূল ﷺ একাধিক বিবাহ করেছেন; যেটা কাফির, জিন্দিক ও মুরতাদদের কাছে ইসলামকে খাটো করার জন্য খুব লোভনীয় একটি টপিক। তারা চেয়েছিল এই বিষয়টি নিয়েই মুসলিমদের অন্তরে আঘাত করবে, মুসলিমদেরকে রাসূল ﷺ-এর একাধিক বিয়ে নিয়ে লজ্জিত করবে। কিন্তু এটা তখনই সম্ভব হয়েছে যখন মুসলিমরা এই চর্চা থেকে বিমুখ হয়েছে। আজ আমরা নিজেরা এই বিধান থেকে বিমুখ ও এই বিধানটাকে আমরা নিজেরাই খাটো করে দেখতে শুরু করেছি। আমাদের ভাবা উচিত ছিল যে, যেই বিধানের চর্চা শ্রেষ্ঠ মানবের, সেই বিধানকে খাটো করে দেখাটা শরী'আতের নিক্তিতে কতটুকু সঠিক? যখন কাফির ও নাস্তিকগোষ্ঠী রাসূল ﷺ এর চরিত্রে আঘাত করে ও তাঁর বৈবাহিক জীবনের বিষয়টিকে বাজেভাবে ফুটিয়ে তুলে তখন মুসলিমরা লজ্জিত হয়। অথচ রাসূল ﷺ-এর সময়ের কাফিরেরা কত-শত ট্যাগ জুড়ে দিয়েছিল পবিত্র নামটির পরে কিন্তু তাদের কেউই কখনও নবীজি ﷺ-এর একাধিক বিয়ে নিয়ে তাঁর চরিত্রে আক্রমণ করেনি। কারণ সেই সমাজে সেটা স্বাভাবিক চর্চা ছিল। আমাদের মাঝে আজও যদি সেই চর্চা জীবিত থাকতো তাহলে তারা এই বিষয় নিয়ে কথা তুলে আমাদের আবেগকে আঘাত করতে পারত না এবং হুজুর ﷺ-এর শাহী নামের সাথে কলঙ্কময়ী কথা বলার স্পর্ধা দেখাতে পারত না। তারা যখন ইসলামের বহুবিবাহের বিধান নিয়ে সমালোচনা করে তখন তারা একটি বিষয়ের ওপর খুব ঘটা করে আলোকপাত করে থাকে যে, খোদ মুসলিম নারীরাই আল্লাহর বিধানের সমালোচনা করে এবং তারাই এই বিধান মানতে নারাজ, এমতাবস্থায় তাদের ছুড়ে দেওয়া সমালোচনার পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো আসলেই কি আর কিছু থাকে?

টিকাঃ
[১৪] https://bit.ly/2ENgqdx

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00