📄 শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের পূর্বে বিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করার গুরুত্ব
ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের অগাধ ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা সত্যিকার অর্থে অভিশাপ। এই অভিশাপ ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে, তাই ইসলাম জোর তাগিদ দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছে। শরীরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তেমনি মনের পবিত্রতা, চরিত্র ও সতীত্বকে বাঁচিয়ে রাখে বিয়ে। অন্যভাবে বলা যায়, ইসলামের রীতি অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বাঁচিয়ে রাখে। ইসলাম যেমন স্বামীকে স্ত্রীর জন্য করে দিয়েছে তেমনি স্ত্রীকে করেছে স্বামীর জন্য। শরী'আতে বিবাহ বলতে বোঝায়, নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।
বিয়ের ইহকালীন ও পরকালীন গুরুত্ব এবং উপকারিতা-
• বিবাহ একটি অসম্পূর্ণ মানুষকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলে।
• বিয়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা প্রদান করে।
■ বিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন।
• বিয়ে ভালোবাসা এবং সুখের অন্যতম একটি উৎস।
• বিয়ে আমাদের প্রিয় নবী -এর রেখে যাওয়া সুন্নাহ।
• বিয়ে প্রশান্তি দেয়, পার্থিব চিন্তামুক্ত রাখে।
• বিয়ে আল্লাহর বিশেষ দান বা উপহার।
• বিয়ে মন্দ চিন্তা, অস্থিরতা ও পাপ থেকে দূরে রাখে, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
• বিয়ে পুণ্য অর্জনের দিকে ধাবিত করে।
• বিয়ের মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের কল্যাণকামী হয়।
• বিয়ের মাধ্যমে সন্তান, বংশ ও মুসলিদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইবাদাত বৃদ্ধি হয়।
আল্লাহ বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে। [৫]
বিবাহ নবী-রাসূলদের সুন্নাহ। আল্লাহ বলেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ
আর অবশ্যই তোমার আগে আমি রাসূলদের পাঠিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। [৬]
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন,
النكاح من سنتي فمن رغب عن سنتي فليس مني
বিবাহ আমার সুন্নাহ। অতএব, যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। [৭]
রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোজা রাখা। কেননা তা জৈবিক উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়। [৮]
নবী কারিম আরও বলেন,
إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ؛ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الدِّينِ، فَلْيَتَّقِ اللهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي
কোনো ব্যক্তি যখন বিয়ে করল তখন সে দ্বীনের অর্ধেকটা পূর্ণ করে ফেলল। এখন সে যেন বাকি অর্ধাংশের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।[৯]
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বিবাহের গুরুত্ব ব্যাপক। তাই বিয়ের পূর্বেই বিয়ে সম্পর্কে ইসলামী বিধিমালা সুবিস্তর জেনে নেওয়া খুব জরুরি। নতুবা পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবন কলহময় ও জটিলতর হয়ে উঠবে।
হজরত উমার বলেন,
تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوِّدُوا
তোমরা নেতৃত্ব পাওয়ার আগেই (শরী'আতের যাবতীয়) ফিক্বহ জেনে নাও।[১০]
সাংসারিক জীবনে পদার্পণ করার সাথে সাথেই নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর বিশাল এক দায়িত্ব চলে আসে। সেই দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে অবশ্যই পূর্ব থেকে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
টিকাঃ
[৫] সূরা রুম- ২১
[৬] সূরা রা'দ- ৩৮
[৭] সহীহ বুখারী- ৫০৫৬; সহীহ মুসলিম- ১৪০১; সুনানে ইবনু মাজাহ- ১৮৪৬
[৮] সহীহ বুখারী- ৪৭৭৯, ৫০৬৬; সহীহ মুসলিম- ১৪০০।
[৯] শুয়াবুল ঈমান- ৫৪৮৬; মিশকাতুল মাসাবীহ- ২/২৬৮; মুদ্বেহু আওহামিল জামঈ ওয়াত তাফরীক, বাগদাদী- ২/৬৭; মু'জামুল আওসাত্ব- ৮/৩৩৫, হাদীস- ৭৬৪৭, সনদ হাসান।
[১০] সহীহ বুখারী- ৬৮৭
📄 স্বামীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে গান (হালাল), নাশীদ, নাচ, আবৃত্তি
স্ত্রী স্বামীর মনোরঞ্জন করতে চাইলে নাশীদ, নাচ ও কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি শিখতে ও শোনাতে পারে। তবে গানের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মাথায় রাখতে হবে। যথা-
• ভাষা শালীন হতে হবে, অশ্লীল হতে পারবে না।
• অন্য কোনো গাইরে মাহরামের দিকে ইঙ্গিতবহ কিংবা উল্লেখমূলক হতে পারবে না।
• বাজনাবিহীন হবে।
• শরী'আহ গর্হিত কথা থাকতে পারবে না।
• স্বামী-স্ত্রী একদম নির্জন থাকবে।
• এসব শ্রবণে দুনিয়ামুখিতা বাড়বেনা বরং আখিরাতের স্বরণ হবে।
📄 দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নারীদের ব্যায়াম করা
পাশ্চাত্য সমাজে লজ্জাহীন নারীরা যেখানে একাধিক পুরুষকে আকর্ষণের উদ্দেশ্যে দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে, সেখানে দ্বীনদার লজ্জাশীল নারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় স্বামীর আকর্ষণ ধরে রাখতে ব্যায়াম করলে সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে সেক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মনে রাখতে হবে-
* এসব ব্যায়াম সম্পূর্ণ নারী মহলে বা একদম নির্জনে হবে। এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থাকা যাবে না。
* পর্দার খেলাফ হবে এমন পরিবেশে ব্যায়াম করা যাবে না।
* ব্যায়াম চর্চা কালীন কোন গান-বাদ্য শোনা যাবে না।
* নারীদের মহলে হলে যেন কোনো মতেই এক নারীর সামনে অন্য নারীর যে আওরাহর অংশ রয়েছে তা প্রকাশিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
📄 দ্বীনদার পুরুষদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তা
বিবাহ বন্ধনে যুগলবন্দি ঘটে নারী ও পুরুষের মাঝে। তাই বিয়ের বিষয়ে কেবল নিজের দিক থেকে চিন্তা করলেই হয় না, জীবনসঙ্গীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চাওয়া-পাওয়ার কথাও মাথায় রাখা দরকার। এর আগের দারসটিতে আলোচনা হয়েছিল পুরুষদের মানসিকতা সম্পর্কে। সেখান থেকে আমাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, পুরুষেরা যৌন চাহিদার দিক থেকে অনেকটাই দুর্বল। আর দ্বীনদার পুরুষদের জন্য পারিপার্শ্বিক সমাজ, বেপর্দা ও বেহায়া মহল, নগ্নতা, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি একেকটি ফিতনার কারণ। এসব ফিতনা থেকে বাঁচতে এবং সমাজকে রক্ষা করতে বিয়ের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। পূর্ববর্তী দারসে Men's Psychology Survey থেকে আমরা জেনেছিলাম পুরুষদের পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির কথা। সেই জরিপে পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য ফিতনা থেকে বাঁচতে তাদের কাছে বিয়ের কেমন গুরুত্ব রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে ইন শা আল্লাহ-
* বিয়ে পুরোপুরি কার্যকর বলে মনে করি। একাকীত্বের কারণে এই ফিতনা গ্রাস করতে পারে ভালোভাবে।
* বিয়ে ছাড়া এটা (পর্নোগ্রাফি) থেকে বাঁচতে পারব বলে মনে হয় না। ট্রিগার হলেই পর্নোগ্রাফি থেকে আর দুরে থাকা যায় না।
* আসলে বিয়ে করলে যেই জৈবিক চাহিদাটা রয়েছে সেটা ইন শা আল্লাহ পূর্ণ হবে। তাহলে ফিতনায় আপতিত হওয়ার আর কোনো উদ্দেশ্যই থাকলো না।
* পর্নোগ্রাফি খুবই ক্ষতিকর। সবই বুঝি। কিন্তু সব সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না। যখন শারীরিক চাহিদা তৈরি হয়, তখন তো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়। একজন স্ত্রী থাকলে সমস্যা হতো না। কিন্তু স্ত্রী না থাকায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যা সব সময় সম্ভব হয় না। এসব অত্যন্ত হতাশার। এই হতাশা স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে আমাকে। মানসিক অবস্থা অনেক করুণ হয়ে গেছে।
• আমি মনে করি তাকওয়া অবলম্বন করলেই ইন শা আল্লাহ বাঁচা যায়। তবে বিয়েও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।
• নিঃসন্দেহে বিয়ে অনেকটাই সাহায্য করবে। তবে বৈধ পন্থায় যৌনমিলন করতে পারলেই পর্নএডিকশন চলে যাবে তা সকলের জন্য সমানভাবে সত্যি নয়। অনেকে এডিকশনের এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, স্ক্রিনে উত্তেজক কিছু না দেখলে তাদের আর বীর্যপাতই হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীকে স্ত্রী হিসেবে পেলেও একটা সময় তাদের সেই স্ক্রিনের উত্তেজনার দ্বারস্থ হতে হয়।
• বিয়ের কার্যকারিতা ৬/১০। এটা ছাড়ার জন্য তাকওয়া এবং নেক আমলই সর্বাধিক কার্যকরী। বহুবিবাহও আরেকটা সমাধান হতে পারে।
• ফরয হয়ে গেছে বিয়ে। কারণ নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
• আমার কাছের তেমন বন্ধু নেই। একা একা থাকি সবসময়ই। তাই বৈবাহবাহিক বন্ধনের মাধ্যমে একজন বন্ধু পেলে তার কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাবো।
• আমার মতে একজন পুরুষের জৈবিক চাহিদা নিবারণে ব্যাঘাত ঘটলেই মানুষ পর্নোর দিকে ধাবিত হয় (যেহেতু সেটা সহজলভ্য), তাই এসব থেকে বাঁচতে আমি বিয়েটাকেই উত্তম উপায় মনে করি।
• এত বেশি কার্যকরী যে, এটাই একমাত্র শরী'আহ সম্মত উপায়। আর কোনো উপায় আছে বলে আমার জানা নেই।
• অনেকটাই কার্যকরী মনে করি। অবসরে বা যখন একা থাকি শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়। আবার স্বভাবতই পুরুষের মনে কাম-বাসনা সৃষ্টি হয় যার থেকে একজন পর্নদেখে বা হস্তমৈথুন করে। বিবাহ হলে এমন করার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
• এটা অত্যাবশ্যক। কারণ এতে একদিকে স্ত্রীর হক রক্ষা করা সম্ভব হয়, অন্যদিকে হালালভাবে বেঁচে থাকাও সম্ভব।
• বিয়ে প্রচুর প্রয়োজন। কারণ যারা পর্নোগ্রাফিতে নেশাগ্রস্ত ছিল বা হস্তমৈথুনে লিপ্ত ছিল, এগুলো ছেড়ে দিলে প্রথমে অনেক ভালো লাগে, অন্তরে একটা প্রশান্তি আসে কিন্তু একটা লম্বা সময়ের পর খুব মানসিক যন্ত্রণা কাজ করে। কিছুই ভালো লাগে না তখন। শারীরিক চাহিদা খুব বেড়ে যায়। ওই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আবার ওগুলোর মধ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। আমি মনে করি, যারা সত্যিকারেই আল্লাহকে ভয় করে এগুলো ছেড়ে দিতে চায়, তাদের জন্য বিয়ের চেয়ে উত্তম আর সহজ সমাধান হয় না।
◆ আমি মনে করি শতভাগ কার্যকরী। মনের মাঝে যেই আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় সেটা স্ত্রীর মাধ্যমে শতভাগ পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন আর ফিতনার দিকে ধাবিত হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না।
◆ খুব বেশি কার্যকর বলে মনে করি। মানুষের চাহিদা থাকে স্বাভাবিকভাবেই। বিয়ের মাধ্যমে সেগুলাতো পূরণ হয়-ই, সঙ্গে এও মনে হয় যে, বিয়ের পর ফitnar দিকে ঝুঁকতে গেলেও স্ত্রীর কথা মাথায় আসবে, মায়া হবে।
◇ আমি প্রচণ্ড আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রায় ৭/৮ বছরের আসক্তি। সেই বিভীষিকা থেকে লাস্ট ৩ মাস বেরিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। তাও যে ভুল হয়নি একেবারে সেটা না। হয়েছে ২/৩ বার ভুল। কিন্তু যেটাকে আসক্তি বলেছি সেটার কাছে কিছুই না এবং এখান থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে আর যাতে মনের মধ্যে ভুল করেও ইচ্ছা না জাগে তাই প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আর এই এতটুকুর জন্য বিয়েকে আমি অতীব জরুরি মনে করছি।
◇ কিছুটা কার্যকর। তবে একবার পর্নোগ্রাফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে শুধু বিয়ে করে এটা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব না। বরং বিয়ে এক্ষেত্রে কিছুটা সাপোর্টমাত্র। আর স্ত্রীও একজন মানুষ। তার নানা ব্যস্ততা থাকবে। গুনাহ থেকে সবসময় স্ত্রী এসেই বাঁচিয়ে দেবে না। বরং নিজে আল্লাহ এর কাছে অনেক কান্নাকাটি করে যথাসম্ভব দৃষ্টি ও শ্রুতির হেফাযত করে যেতে হবে। নাহলে বারবার পর্নোগ্রাফির ফাঁদে পড়ে যেতে হবে।
◇ যখন খাহেশাত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, সেটা থামানো অনেক কঠিন। হালাল পন্থা (বিয়ে) ছাড়া খুবই কষ্টকর। মাথা ঠান্ডা করতে নিজের মনকে অন্যদিকে অনেক কিছু করে ভুলিয়ে দিতে হয়। তাই বিয়ের বিকল্প নেই।
◆ এই জামানার ফিতনা থেকে বাঁচতে বিয়েও কার্যকরী নয়, যদি স্ত্রী স্বামীর মন-মানসিকতা না বুঝে। স্বামীর চাহিদার তোয়াক্কা করে না এমন অনেক দ্বীনদার নারীই আছে। আর এসব কারণে অনেকে বিয়ের পরও বিভিন্ন ফিতনায় জড়িয়ে যায়।