📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 বিয়ের উদ্দেশ্য

📄 বিয়ের উদ্দেশ্য


নিয়তের উপরই আমল নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি বিষয়ে আমাদের নিয়ত শুদ্ধ রাখা দরকার। বিয়ের ক্ষেত্রেও নিয়তের পরিশুদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই নিয়ত পরিশুদ্ধ করার আগে আমাদের জেনে নিতে হবে যে ইসলাম মোতাবেক বিয়ের উদ্দেশ্য কী।

• মানুষের জৈবিক চাহিদা রয়েছে। সেই জৈবিক চাহিদা মেটানোর হালাল পন্থা হচ্ছে বিয়ে। হাদীসে এসেছে যে, কেউ যদি হারামকে বর্জন করে হালাল বিয়ের মাধ্যমে সঙ্গী গ্রহণ করে এবং সে যদি তার সাথে মিলনে লিপ্ত হয় সেটাও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। [৪]

• বিবাহের মাধ্যমে আমলে তুষ্টি আসে ফলে রবের নৈকট্য হাসিল করা সম্ভব হয়। তাই এই নিয়ত রাখা উচিত যে- বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি যাতে এর মাধ্যমে রবের নৈকট্য অর্জন করা যায়।

◇ বিয়ের মাধ্যমে চরিত্র হেফাজত করা সহজ হয়। গোপনাঙ্গ, নজর, জবান ও অন্তরের জিনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় বিয়ের মাধ্যমে।

• বিয়ের মাধ্যমে ইলমে এবং রিযিকে বারাকাহ আসে। দ্বীনের বিষয়ে পরিপক্কতা আসে।

◇ বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সন্তান জন্মের মাধ্যমে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটানো। এই নিয়ত রেখে প্রত্যেকের অধিক সন্তান প্রসবের মানসিকতা ধারণ করা উচিত।

◆ দ্বীনের বুঝ সম্পন্ন দম্পতি পরিকল্পিত তারবিয়াতের মাধ্যমে সুসন্তান গড়ে তুলতে পারে। ফলে বিশ্বে দ্বীনদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভব হয়。

টিকাঃ
[৪] সহীহ মুসলিম- ১৬৭৪ عن أبي ذر : " أن ناسا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم يا رسول الله ذهب أهل الدثور بالأجور يصلون كما نصلي ويصومون كما نصوم ويتصدقون بفضول أموالهم، قال : أو ليس قد جعل الله لكم ما تصدقون، إن بكل تسبيحة صدقة ، وكل تكبيرة صدقة ، وكل تحميدة صدقة، وكل تهليله صدقة، وأمر بالمعروف صدقة، ونهي عن منكر صدقة، وفي بضع أحدكم صدقة، قالوا: يا رسول الله أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر ؟ قال: أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه فيها وزر ؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের পূর্বে বিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করার গুরুত্ব

📄 শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের পূর্বে বিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করার গুরুত্ব


ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের অগাধ ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা সত্যিকার অর্থে অভিশাপ। এই অভিশাপ ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে, তাই ইসলাম জোর তাগিদ দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছে। শরীরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তেমনি মনের পবিত্রতা, চরিত্র ও সতীত্বকে বাঁচিয়ে রাখে বিয়ে। অন্যভাবে বলা যায়, ইসলামের রীতি অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বাঁচিয়ে রাখে। ইসলাম যেমন স্বামীকে স্ত্রীর জন্য করে দিয়েছে তেমনি স্ত্রীকে করেছে স্বামীর জন্য। শরী'আতে বিবাহ বলতে বোঝায়, নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।

বিয়ের ইহকালীন ও পরকালীন গুরুত্ব এবং উপকারিতা-
• বিবাহ একটি অসম্পূর্ণ মানুষকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলে।
• বিয়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা প্রদান করে।
■ বিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন।
• বিয়ে ভালোবাসা এবং সুখের অন্যতম একটি উৎস।
• বিয়ে আমাদের প্রিয় নবী -এর রেখে যাওয়া সুন্নাহ।
• বিয়ে প্রশান্তি দেয়, পার্থিব চিন্তামুক্ত রাখে।
• বিয়ে আল্লাহর বিশেষ দান বা উপহার।
• বিয়ে মন্দ চিন্তা, অস্থিরতা ও পাপ থেকে দূরে রাখে, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
• বিয়ে পুণ্য অর্জনের দিকে ধাবিত করে।
• বিয়ের মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের কল্যাণকামী হয়।
• বিয়ের মাধ্যমে সন্তান, বংশ ও মুসলিদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইবাদাত বৃদ্ধি হয়।

আল্লাহ বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে। [৫]

বিবাহ নবী-রাসূলদের সুন্নাহ। আল্লাহ বলেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ

আর অবশ্যই তোমার আগে আমি রাসূলদের পাঠিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। [৬]

রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন,
النكاح من سنتي فمن رغب عن سنتي فليس مني
বিবাহ আমার সুন্নাহ। অতএব, যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। [৭]

রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোজা রাখা। কেননা তা জৈবিক উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়। [৮]

নবী কারিম আরও বলেন,
إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ؛ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الدِّينِ، فَلْيَتَّقِ اللهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي

কোনো ব্যক্তি যখন বিয়ে করল তখন সে দ্বীনের অর্ধেকটা পূর্ণ করে ফেলল। এখন সে যেন বাকি অর্ধাংশের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।[৯]

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বিবাহের গুরুত্ব ব্যাপক। তাই বিয়ের পূর্বেই বিয়ে সম্পর্কে ইসলামী বিধিমালা সুবিস্তর জেনে নেওয়া খুব জরুরি। নতুবা পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবন কলহময় ও জটিলতর হয়ে উঠবে।

হজরত উমার বলেন,
تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوِّدُوا

তোমরা নেতৃত্ব পাওয়ার আগেই (শরী'আতের যাবতীয়) ফিক্বহ জেনে নাও।[১০]
সাংসারিক জীবনে পদার্পণ করার সাথে সাথেই নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর বিশাল এক দায়িত্ব চলে আসে। সেই দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে অবশ্যই পূর্ব থেকে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।

টিকাঃ
[৫] সূরা রুম- ২১
[৬] সূরা রা'দ- ৩৮
[৭] সহীহ বুখারী- ৫০৫৬; সহীহ মুসলিম- ১৪০১; সুনানে ইবনু মাজাহ- ১৮৪৬
[৮] সহীহ বুখারী- ৪৭৭৯, ৫০৬৬; সহীহ মুসলিম- ১৪০০।
[৯] শুয়াবুল ঈমান- ৫৪৮৬; মিশকাতুল মাসাবীহ- ২/২৬৮; মুদ্বেহু আওহামিল জামঈ ওয়াত তাফরীক, বাগদাদী- ২/৬৭; মু'জামুল আওসাত্ব- ৮/৩৩৫, হাদীস- ৭৬৪৭, সনদ হাসান।
[১০] সহীহ বুখারী- ৬৮৭

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 স্বামীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে গান (হালাল), নাশীদ, নাচ, আবৃত্তি

📄 স্বামীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে গান (হালাল), নাশীদ, নাচ, আবৃত্তি


স্ত্রী স্বামীর মনোরঞ্জন করতে চাইলে নাশীদ, নাচ ও কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি শিখতে ও শোনাতে পারে। তবে গানের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মাথায় রাখতে হবে। যথা-
• ভাষা শালীন হতে হবে, অশ্লীল হতে পারবে না।
• অন্য কোনো গাইরে মাহরামের দিকে ইঙ্গিতবহ কিংবা উল্লেখমূলক হতে পারবে না।
• বাজনাবিহীন হবে।
• শরী'আহ গর্হিত কথা থাকতে পারবে না।
• স্বামী-স্ত্রী একদম নির্জন থাকবে।
• এসব শ্রবণে দুনিয়ামুখিতা বাড়বেনা বরং আখিরাতের স্বরণ হবে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নারীদের ব্যায়াম করা

📄 দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নারীদের ব্যায়াম করা


পাশ্চাত্য সমাজে লজ্জাহীন নারীরা যেখানে একাধিক পুরুষকে আকর্ষণের উদ্দেশ্যে দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে, সেখানে দ্বীনদার লজ্জাশীল নারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় স্বামীর আকর্ষণ ধরে রাখতে ব্যায়াম করলে সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে সেক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মনে রাখতে হবে-

* এসব ব্যায়াম সম্পূর্ণ নারী মহলে বা একদম নির্জনে হবে। এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থাকা যাবে না。
* পর্দার খেলাফ হবে এমন পরিবেশে ব্যায়াম করা যাবে না।
* ব্যায়াম চর্চা কালীন কোন গান-বাদ্য শোনা যাবে না।
* নারীদের মহলে হলে যেন কোনো মতেই এক নারীর সামনে অন্য নারীর যে আওরাহর অংশ রয়েছে তা প্রকাশিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00