📄 পুরুষের কল্পজগৎ
জীবনকে উপভোগ করতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মধুর সম্পর্কের সাথে আর অন্য কিছুর তুলনা হয় না। কিন্তু দিন যত গড়ায় আকর্ষণের আগুন ততই নিভু নিভু করতে থাকে। অথচ এই দাম্পত্য জীবনকে তো নিয়ে যেতে হবে বহুদূর। তাই স্বামী যাতে কিছু বছরের মাথায় নিমিষেই আকর্ষণ হারিয়ে না ফেলে সেই বিষয় মাথায় রাখা উচিত। এক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-
• সহবাসের আসন পরিবর্তন করা এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৃজনশীলভাবে নতুন নতুন আসন আবিষ্কার করা যেতে পারে। এতে পুরুষেরা সহবাসের প্রতি আরও উৎসাহিত হয়。
• মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ, বেডরুম থেকে ড্রইংরুম বা লিভিং রুম, বিছানা ছেড়ে সোফা, চেয়ার বা মেঝেতে ইত্যাদি। তবে সেক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে যাতে সেই মুহূর্তের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।
• ব্যস্ততাকে কিছুদিনের জন্য ইস্তফা দিয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া যেতে পারে। সমুদ্র, পাহাড়, খোলা আকাশ, চাঁদনী রাত; এরকম পরিবেশ দম্পতিকে রোমান্টিক করে তোলে।
• এ ছাড়াও সহবাস বা যৌনতা নিয়ে স্ত্রীদের সম্পর্কে পুরুষদের আরও অনেক ধরনের জল্পনা-কল্পনা, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা থেকে থাকে। স্ত্রীদের উচিত সেগুলো নিজ থেকে জেনে নেওয়া এবং তাকে খুশি রাখতে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা, যদি না স্বামীর ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাগুলো শরী'আহর সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
বলা হয়, পুরুষেরা তাদের বীজ ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীতে এসেছে, এটাই তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু নারীরা এমন একজন সাথির সন্ধান করতে থাকে; যে তার সন্তানদের রক্ষা করবে, পরিবারের দায়িত্ব নিবে, আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবে ইত্যাদি। রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জৈব নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার বলেন- পুরুষদের মস্তিষ্কের দুটি অংশ একটি অপরটির সাথে ততটা উত্তমভাবে যুক্ত নয়। এই গঠন প্রকৃতির কারণে পুরুষেরা সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল একটি বিষয়বস্তুর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে; অর্থাৎ শমস্তিষ্কের এরূপ গঠন পুরুষকে অত্যন্ত লক্ষ্যমুখী ক্ষমতা দেয়। অন্যদিকে নারীদের মস্তিষ্কের গঠন পুরুষদের বিপরীত। নারীরা একসাথে অনেকগুলো অনুভূতি একীভূত করতে সক্ষম। পুরুষ আর নারীর এই সাধারণ একটা তারতম্য যদি দম্পতির কাছে অজানা থেকে যায় তাহলে তা দাম্পত্য জীবনের সুখকে মাটি করতে যথেষ্ট হবে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছ থেকে সুখ পাবে, নানান আবদার করবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু এতটুকু আপনাকে বুঝতে হবে যে, অপর লিঙ্গের মানুষটিকে তার স্রষ্টা আপনার থেকে ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই তার বিষয়গুলোকে তার দৃষ্টিকোণ থেকেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে, সেই সাথে অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।