📄 পুরুষের যৌনতা বনাম নারীর যৌনতা
পুরুষদের জীবনে অনেক প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে তার যৌন জীবন। পুরুষ ও নারীর যৌনতার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। একজন নারী যৌনতা নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে পুরুষেরা সেভাবে চিন্তা করে না। যৌনতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের চিন্তাধারার মাঝে বেশ খানিকটা ফারাক রয়েছে। যৌন জীবন নিয়ে চিন্তাধারার সেসব ফারাক ও অমিল সম্পর্কে অধিকাংশ নারীর কোনো প্রকার ধারণা নেই। উল্টো পুরুষদের আবেগটাকে অনেক নারী নিজের মতো করে চিন্তা করতে থাকে। ফলে দেখা দেয় মতপার্থক্য, মনোমালিন্য। তাই পুরুষদের যৌনতা সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রতিটি নারীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
◆ পুরুষদের যৌনতা শুরু হয় দেহে
নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা তাদের মন, স্মৃতি বা সংযোগের সংবেদনশীল অনুভূতি দ্বারা উৎসাহিত হতে পারে। কিন্তু পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা শারীরিক। পুরুষদের দেহে প্রচুর পরিমাণে টেস্টোস্টেরন (testosterone) হরমোন রয়েছে যা তাদেরকে যৌন আকাঙ্ক্ষার দিকে ঠেলে দেয়। কম বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সামান্যতম যৌন উস্কানিও তার যৌন ইচ্ছাকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। পুরুষদের দেহ রসায়ন যেভাবে তার মনস্তত্ত্বকে যৌনতার দিকে পরিচালিত করে তা দমন করা কষ্টসাধ্য।
◇ পুরুষদের জন্য যৌনতা হলো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
পুরুষদের দেহ একটি দুর্দান্ত আনন্দ যন্ত্র যা থেকে সে পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে চায়! যেহেতু পুরুষদের জন্য বীর্যপাত সহজ এবং এটাই পুরুষদের জন্য এই আনন্দঘন মুহূর্তের ইতি; তাই বিভিন্ন যৌনক্রিয়া, আসন (position) এবং ফ্যান্টাসি দ্বারা তারা এই মুহূর্তটা দীর্ঘায়িত করে উপভোগ করতে চায়। প্রেয়সীর সামান্য মিষ্টি দুষ্টামি, মিষ্টি হাসি বা উদ্ভাস পুরুষ মস্তিষ্ককে জাগ্রত করে তুলে। সামান্য একটু ইশারায় বা যৌনতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে পুরুষদের মস্তিষ্ক আন্দোলিত হতে পারে।
◆ পুরুষদের কাছে সহবাস মানেই চূড়ান্ত মুহূর্ত
নারীরা ধীর-স্থিরতা পছন্দ করে। তারা চায় তাদের স্বামী গল্প করবে, অনেক দুষ্টু-মিষ্টি কথা বলবে, তার আবেগকে বুঝবে, যৌনমিলনের জন্য ধীরে ধীরে আগাবে ইত্যাদি। ফলে যৌনমিলনের প্রতি নারীদের আকাঙ্ক্ষাও ধীর গতিতে বাড়ে। এক্ষেত্রে নারীদের জন্য যৌনমিলনটা মুখ্য না, বরং তার কাছে মুখ্য হলো পূর্ব-মুহূর্ত ও মধ্যকার সময়টুকু। কিন্তু পুরুষেরা এক্ষেত্রে ভিন্নভাবে চিন্তা করে। পুরুষেরা খুব সহজে সহবাসের জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। তাই এই অবস্থায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যেতে চায়। চূড়ান্ত মুহূর্তটাই তার কাছে অধিক উপভোগ্য।
◇ পুরুষদের জন্য যৌনমিলন ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম
নারীদের কাছে ভালোবাসা প্রকাশের সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন। উপহার দেওয়া, রোমান্টিক আলাপ করা, অফিসে গিয়েও খোঁজখবর নেওয়া, একসাথে চাঁদনী রাত উপভোগ করা এসব হচ্ছে নারীদের কাছে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পুরুষেরা কিছুটা ভিন্নভাবে চিন্তা করে। পুরুষদের কাছে ভালোবাসা মানেই যৌনমিলন অথবা যৌনমিলনকে কেন্দ্র করেই তাদের ভালোবাসা। কিন্তু অধিকাংশ নারীই এই বিষয়টা বুঝতে পারে না। তাই দাম্পত্য জীবন সুখী করতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পারস্পরিক সমঝোতা খুব প্রয়োজনীয়।[১০]
উপরোক্ত বিষয়গুলো যখন একজন নারী জানবে এবং বুঝবে তখন সে তার স্বামীর সাথে তাদের মাঝের যৌন সম্পর্ক নিয়ে পরস্পর সমঝোতায় যেতে পারবে। নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কেও একজন নারীর ঝেড়ে কাশতে হবে। অন্যথায় দাম্পত্য জীবনে একটা শূন্যতা থেকে যাবে আজীবন। আর এসব কারণেই বৈবাহিক জীবন অনেকের কাছে বিষিয়ে ওঠে。
টিকাঃ
[১০] Laurie J Watson-এর আর্টিকেল The Truth About Men and Sex
📄 স্বামীকে বশ করে রাখার টোটকা!
পুরুষদের জীবনটা খুব যৌনমুখী। সে সারাটা জীবন তার মনের মতো একজন সঙ্গী খুঁজে বেড়ায়। যার কাছে সে দুঃখের সময় আশ্রয় পাবে, যাকে ঘিরে তার স্বপ্ন, যার আঁচল ধরেই সেই পুরুষের পরবর্তী প্রজন্ম দেখবে নিষ্ঠুর এই পৃথিবী। কিন্তু মস্তিষ্কের এককোণে ঠিকই থেকে যায়-পুরুষেরা খুঁজে একজন প্রেমময়ী নারী। যেই নারী তার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকবে। যেই নারী স্বামী-সোহাগী, স্বামীকে ছাড়া সে এক মুহূর্ত কাটাতে পারে না। পূর্বে আমরা যেমনটা জেনেছি যে, পুরুষদের কাছে সহবাস হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের সংজ্ঞা, সেও চায় তার প্রিয়তমা তার ভালোবাসার এই সংজ্ঞাই নিজের মননে প্রোথিত করে নিক।
* পুরুষেরা তার স্ত্রীর মাঝে আবেদনময়িতা খুঁজে ফিরে।
* পুরুষেরা চায় তাদের স্ত্রী হবে তাদের প্রতি উৎসুক।
* সেই ক্ষেত্রে স্বামীর সাথে সংগোপনে অবস্থানের সময় উদ্দীপনামূলক পোশাক পরিধানের বিকল্প নেই।
* পোশাক-বিশেষ করে অন্তর্বাস জাতীয় কাপড়গুলো পুরুষদেরকে খুব সহজে আকৃষ্ট করে।
* আর পুরুষদের চোখে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নারীদের পোশাকের রং হচ্ছে লাল।[১১]
কিন্তু বিয়ের পরপরই সাংসারিক নানান ব্যস্ততার কারণে দাম্পত্য জীবনের আনন্দগুলো ধীরে ধীরে অবহেলিত হতে থাকে ফলে স্বামীও ধীরে ধীরে আকাঙ্ক্ষা হারাতে থাকে। নারীদের উচিত এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বোঝা এবং তাদের স্বামীদের এই হক যথাযথভাবে আদায় করা。
টিকাঃ
[১১] Journal of experimental Psychology: General- Red, Rank and Romance in Women viewing men, পৃষ্ঠা- ৩৯৯-৪০১
📄 পুরুষের কল্পজগৎ
জীবনকে উপভোগ করতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মধুর সম্পর্কের সাথে আর অন্য কিছুর তুলনা হয় না। কিন্তু দিন যত গড়ায় আকর্ষণের আগুন ততই নিভু নিভু করতে থাকে। অথচ এই দাম্পত্য জীবনকে তো নিয়ে যেতে হবে বহুদূর। তাই স্বামী যাতে কিছু বছরের মাথায় নিমিষেই আকর্ষণ হারিয়ে না ফেলে সেই বিষয় মাথায় রাখা উচিত। এক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-
• সহবাসের আসন পরিবর্তন করা এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৃজনশীলভাবে নতুন নতুন আসন আবিষ্কার করা যেতে পারে। এতে পুরুষেরা সহবাসের প্রতি আরও উৎসাহিত হয়。
• মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ, বেডরুম থেকে ড্রইংরুম বা লিভিং রুম, বিছানা ছেড়ে সোফা, চেয়ার বা মেঝেতে ইত্যাদি। তবে সেক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে যাতে সেই মুহূর্তের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।
• ব্যস্ততাকে কিছুদিনের জন্য ইস্তফা দিয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া যেতে পারে। সমুদ্র, পাহাড়, খোলা আকাশ, চাঁদনী রাত; এরকম পরিবেশ দম্পতিকে রোমান্টিক করে তোলে।
• এ ছাড়াও সহবাস বা যৌনতা নিয়ে স্ত্রীদের সম্পর্কে পুরুষদের আরও অনেক ধরনের জল্পনা-কল্পনা, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা থেকে থাকে। স্ত্রীদের উচিত সেগুলো নিজ থেকে জেনে নেওয়া এবং তাকে খুশি রাখতে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা, যদি না স্বামীর ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাগুলো শরী'আহর সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
বলা হয়, পুরুষেরা তাদের বীজ ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীতে এসেছে, এটাই তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু নারীরা এমন একজন সাথির সন্ধান করতে থাকে; যে তার সন্তানদের রক্ষা করবে, পরিবারের দায়িত্ব নিবে, আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবে ইত্যাদি। রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জৈব নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার বলেন- পুরুষদের মস্তিষ্কের দুটি অংশ একটি অপরটির সাথে ততটা উত্তমভাবে যুক্ত নয়। এই গঠন প্রকৃতির কারণে পুরুষেরা সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল একটি বিষয়বস্তুর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে; অর্থাৎ শমস্তিষ্কের এরূপ গঠন পুরুষকে অত্যন্ত লক্ষ্যমুখী ক্ষমতা দেয়। অন্যদিকে নারীদের মস্তিষ্কের গঠন পুরুষদের বিপরীত। নারীরা একসাথে অনেকগুলো অনুভূতি একীভূত করতে সক্ষম। পুরুষ আর নারীর এই সাধারণ একটা তারতম্য যদি দম্পতির কাছে অজানা থেকে যায় তাহলে তা দাম্পত্য জীবনের সুখকে মাটি করতে যথেষ্ট হবে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছ থেকে সুখ পাবে, নানান আবদার করবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু এতটুকু আপনাকে বুঝতে হবে যে, অপর লিঙ্গের মানুষটিকে তার স্রষ্টা আপনার থেকে ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই তার বিষয়গুলোকে তার দৃষ্টিকোণ থেকেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে, সেই সাথে অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।