📄 ডোপামিনের কাঠের চশমা
ডোপামিন হলো এমন একটি হরমোন, যা মস্তিষ্কে অবস্থান করে। আমাদের অনুভূতি ও কাজের সাথে এটি দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত। এটি মূলত একটি নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে, যা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান করে।
ডোপামিন আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারের সাথে জড়িত থাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে 'রিওয়ার্ড সেন্টার' কী? রিওয়ার্ড সেন্টারের মূল কাজ আপনাকে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন উৎপাদনের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা। অর্থাৎ রিওয়ার্ড সেন্টার যখন এটা বুঝতে পারে যে আপনাকে পুরস্কার দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে তখন প্রচুর ডোপামিন ও অক্সিটোসিন উৎপাদন করে আপনার মাঝে আনন্দের অনুভূতি জাগায়।
ডোপামিন নির্গত হওয়ার মাধ্যমে আপনার মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত আনন্দের অনুভূতি হয় এবং আপনি এই আনন্দটা বার বার পেতে চান। যখন রিওয়ার্ড সেন্টার ডোপামিন উৎপাদন করে তখন আমরা ভালো অনুভব করি এবং আমরা ওই কাজটি বার বার করতে চাই।
যখনই আমরা কোনো কাজ করি, সেটা হোক খেলাধুলা করা বা খাওয়া-দাওয়া করা- আমাদের মস্তিষ্ক তখন সেটা নির্ধারণ করে দেয় যে আমার কাজটি কেমন লাগলো। আমাদের মস্তিষ্ক এই ঘটনাগুলোকে ভালো অথবা মন্দ নির্ধারণ করে এই হরমোনগুলোর নিঃসরণের মাধ্যমে। যখন আমরা মজার কোনো খাবারে ভালো স্বাদ পাই বা কোনো কাজে আনন্দ পাই তখন ডোপামিন নিঃসরণ হয় যেটা আমাদের পুনরায় সেই কাজ করার জন্য উৎসাহিত করে। এটাকে বলা যায় 'ন্যাচারাল রিএনফোর্সমেন্ট'। [৫]
যখন কেউ মাদক গ্রহণ করে তখন তার মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন উৎপাদিত হয়। পর্নআসক্ত ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই রকম ঘটনা ঘটে এবং তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা যায় যে, এই দুইয়ের মস্তিষ্কের গঠন হুবহু এক। [৬]
ডোপামিন যখন স্নায়ুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে তখন পুরস্কার পাবার নতুন রাস্তা তৈরি হয়। এর ফলে যে কাজটার কারণে প্রথমবার ডোপামিন নির্গত হয়েছিল, মস্তিষ্ক ডোপামিনের লোভে বার বার সেটাতে ফিরে যেতে চায়। এই কারণেই একবার পর্ন দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। [৭]
এভাবে যতবার একজন পর্ন দেখবে ততবার ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়তে থাকবে এবং যত বেশি বাড়তে থাকবে ততই আগের পরিমাণের ব্যাপারে কম সংবেদনশীল হয়ে পড়বে। অর্থাৎ একটু আগে নির্দিষ্ট ডোজের পর্ন দেখে সে যতটুক আনন্দ পেয়েছে, দ্বিতীয়বার সেই ডোজে পর্ন দেখে সে ততটা উত্তেজিত হবে না এবং আনন্দ পাবে না। তাই তার নতুন ও আরও আনন্দ দেবে এমন কোনো কিছু দেখতে হবে যার ফলে ডোপামিনের ক্ষরণ আরও বাড়বে ফলে সে অধিক বেশি আনন্দ লাভ করবে। এই ডোপামিনের ক্ষরণ একজনকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছুর প্রতি চাহিদা জোগাবে। এভাবেই মানুষ সফটকোর থেকে হার্ডকোর এবং ধীরে ধীরে এনাল সেক্স, ফুট ফেটিশ, শিশুপর্নো, সমকামী, গ্রুপ সেক্স ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে যায়। [৮]
টিকাঃ
[৫] https://www.psychologytoday.com/basics/dopamine
[৬] https://www.theguardian.com/commentisfree/2013/sep/26/brain-scans-porn-addicts-sexual-tastes
[৭] মুক্ত বাতাসের খোঁজে, পৃষ্ঠা- ২৮
[৮] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4600144/#__ffn_sectitle; https://fightthenewdrug.org/how-porn-changes-the-brain/
📄 পর্ন আসক্ত পুরুষকে পর্নোগ্রাফি থেকে ফিরিয়ে আনার উপায়
একজন নারী যখন জানতে পারে যে, তার ভালোবাসার মানুষটি পর্নআসক্ত তখন ব্যর্থতা ও আশাহীনতা নিজের অনুভূতিকে বিচূর্ণ করে দেয়। তার মাঝে জন্ম নেয় হতাশা, রাগ, ক্ষোভ, যন্ত্রণা। নারীদের জন্য ব্যাপারটি একটি মানসিক আঘাত। একজন নারী যখন জানতে পারে পায় যে তার এত কাছের ভালোবাসার মানুষটি এমন একটি জঘন্য কাজের সাথে লিপ্ত, তখন সে মনের অজান্তে নিজের ওপরই দোষটা চাপিয়ে নেয়। নিজেকে মনে হয় প্রতারিত আর অপমানিত। কাছের মানুষের ওপর থেকে উঠে যায় সকল ভালোবাসা ও বিশ্বাস।
নারীদের অনুভূতি বর্ণনা করার কারণ হলো এই যে, আমরা নারীদের কষ্টটা বুঝি। আমরা তাদের প্রতি এই পরীক্ষায় সহানুভূতিশীল হতে চাই। এর সাথে তাদের এইটাও বলতে চাই আপনার, হ্যা শুধু আপনার একান্ত চেষ্টাতেই কাছের মানুষটি ফিরে আসতে পারে সেই অন্ধকার জগৎ থেকে! তাই অন্যকে সাহায্য করার আগে নিজেকে সাহায্য করুন। আপনি পারবেন, আপনার দু'আ ব্যর্থ হবে না। আল্লাহ আপনার ডাকে সাড়া দেবেন.. আপনার কষ্ট বিফলে যাবে না। পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি থেকে বেড়িয়ে আসাটা হয়তো অতি সহজ কোনো কাজ না কিন্তু আপনার সহযোগিতায় তা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ।
• আপনি যদি জানতে পারেন যে আপনার স্বামী পর্নআসক্ত, তাহলে প্রথম প্রশ্ন আসবে তিনি আসক্ত হয়েছেন কেন ও কীভাবে। আপনার প্রথম দায়িত্ব থাকবে তা খুঁজে বের করা। আপনি তার সাথে কথা বলে জেনে নিতে পারেন অথবা নিজ থেকে ভালোভাবে চিন্তা করে আপনি কারণটা বের করে নিতে পারেন। এমন হতে পারে যে, আপনাদের বিয়ের আগে থেকেই তিনি আসক্ত ছিলেন। আবার এমনও হতে পারে তার এই আসক্তি বিয়ের পর থেকে শুরু হয়েছে। এইখানে আপনি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন আপনার কোনো কমতি তার আসক্তির কারণ কিনা। এমন হতে পারে আপনি যৌন মিলনে আগের মতো আগ্রহী না, আপনি তাকে পর্যাপ্ত সময় দেন না অথবা আপনি খারাপ আচরণ করেন বিধায় আপনার প্রতি ক্ষোভ থেকে তিনি পাপে জড়ান। এমনও হতে পারে অতীতের কোনো দুঃখ, ক্ষত ভুলার জন্য অথবা চাকরি/ব্যবাসার মানসিক চাপের কারণে তিনি এমনটা করে থাকেন। আপনি তাকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি যদি সমস্যাটার কারণ খুঁজে বের করে নিতে পারেন তাহলেই অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলো।
• তার সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন। আমরা জানি, এই বিষয় নিয়ে কথা বলা কিছুটা লজ্জাজনক; যদিও তা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়। কিন্তু এখানে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে যে, আপনি আপনার ভালোবাসা দিয়ে তার মন জয় করে নিতে পারবেন। একটি সুস্থ আলোচনা দিতে পারে সুন্দর উপলব্ধি। তাই স্বামীর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন এবং আপনি তাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত তা জানান। কিন্তু এখানে তার সাথে রাগারাগি করা যাবে না বা তাকে আঘাত করে কোনো কথা বলা যাবে না। প্রথমেই সরাসরি তার আসক্তির ব্যাপারে কথা না বলে তাকে আগে তৈরি করে নিন। প্রথমবার মুখোমুখি কথা বলার সময় যতটা পারবেন নম্র হোন, আপনার নারীত্বকে কাজে লাগান, তার হাতটা ধরে চোখ ছলছল করে কথা বলুন। বলুন তাকে আপনি কতটা ভালোবাসেন, তার দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে আপনি কতটা চিন্তা করেন। আপনার জীবনের অতীতের সুন্দর স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিন এবং আপনাদের একসাথে দেখা সুন্দর ভবিষ্যতের কথা মনে করিয়ে দিন। জান্নাতের কথা মনে করিয়ে দিন, যেখানে আপনি তার সাথে চিরকাল থাকবেন। এভাবে তাকে তৈরি করে নেওয়ার পর মূল কথায় এগোতে হবে। এতে তিনি হয়তো লজ্জা পাবেন। এই লজ্জাটাকে কাজে লাগিয়ে সেইদিনই একটা পরিকল্পনা করুন। দরকার হলে খাতা-কলম নিয়ে বসুন এবং আপনাদের দুজনের লক্ষ্যগুলো লিখুন, যা আপনারা আগামী ১ সপ্তাহ/৩ মাস/১ বছর সময়কাল যাবৎ অনুসরণ করবেন। যেমন: এত সংখ্যক দিন পর্নথেকে দূরে থাকতে হবে, প্রয়োজনে পিসি-মোবাইলে পর্নোগ্রাফি সাইট ব্লক করা যায় এমন সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে, কোনো কাউন্সেলরের কাছে সপ্তাহের অমুক অমুক দিন কাউন্সেলিং-এর জন্য যেতে হবে, দৃষ্টি হিফাজত করতে হবে ইত্যাদি। এতে করে আপনার প্রাথমিক কাজগুলো গোছানো হয়ে যাবে।
◆ পরবর্তী ধাপ হলো আপনি যেই লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছেন তা বাস্তবে মেনে চলা। এই পুরো সময়টা আপনি নিজেকে উত্তমভাবে উপস্থাপন করুন। উত্তমভাবে উপস্থাপনের মধ্যে প্রথমেই আসবে সুন্দর ব্যবহার ও সুন্দর আখলাকের অধিকারী হওয়া। তাই সর্বদা হাসি মুখে থাকুন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন, ভালো কথা বলুন, ইতিবাচক চিন্তা করুন। দেখুন, তারা যা করছে তা নিঃসন্দেহে গুনাহ। কিন্তু আমরা নারীরা তাদের সেই অপরাধবোধেরও সম্মান জানাবো। কারণ দিন শেষে তারা এই আসক্তির সাথে প্রতিনিয়ত লড়ে চলছে। আমরা যদি তাদের সাথে সহানুভূতিশীল হই তাহলে তারা তাদের অপরাধ আরো ভালোভাবে অনুভব করতে পারবে এবং আমাদের ভালো আচরণ তাদেরকে উৎসাহ দেবে এর থেকে বেড়িয়ে আসতে। ভালোর বিনিময় ভালো ছাড়া আর কিই বা হতে পারে....
◇ নিজেকে উপস্থাপনের বাহ্যিক দিক হচ্ছে ভালো জামা-কাপড় পরিধান, সাজগোজ-মেকআপ করা, সুন্দর করে চুল বাধা, তার পছন্দের সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নম্র গলায় কথা বলা ইত্যাদি। এইগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার বাহ্যিক অবয়ব তার মনে একটা ভালো লাগার প্রভাব ফেলবে। যদি এমন হয় যে, সাংসারিক কাজের চাপে আপনি ভালোভাবে নিজের যত্ন নিতে পারছেন না তাহলে সাংসারিক ঝামেলা থেকে কিছু দিনের জন্য ছুটি নিন। নিজের কাজগুলো গুছিয়ে নিন এবং সময়ানুবর্তিতা শিখুন। আপনি চাইলেই ব্যস্ত জীবন থেকে নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য সময় বের করে নিতে পারবেন। এখন প্রচেষ্টা আপনার নিজের।
◇ তার সাথে ভালো কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করুন। যেমন: তার অফিসের বা ব্যবসার কোনো কাজে সাহায্য করা; তার পছন্দের কোনো কাজ যেমন: বাগান করা বা খেলাধুলা করা ইত্যাদিতে তাকে সঙ্গ দেয়া; দ্বীনি ইলম অর্জনে তাকে ব্যস্ত রাখা যেমন: হাদীস, কুরআন, তাফসীর, সীরাহ ইত্যাদি একত্রে মিলে অধ্যয়ন করা, তার সাথে অনলাইন/অফলাইনে বিভিন্ন ইসলামিক কোর্সে এনরোল করা ইত্যাদি। ইসলামিক ইলম অর্জন তার অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি করবে, আল্লাহর ভয় তখন তাকে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া দ্বীনি ইলম অন্তরে একধরনের প্রশান্তি দেবে যা তার অন্তরের শূন্যতা পূরণ করবে।
◇ তার আধ্যাত্মিকতা (spirituality) বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করুন। আমরা জানি মানুষের ঈমান বাড়ে এবং কমে। দুনিয়াবি ব্যস্ততায় ডুবে গেলে মানুষের অন্তর দুনিয়ামুখী হয়ে যায়। তাই তার দ্বীনমুখিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করুন। তার সাথে বিভিন্ন আমলের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, তার পেছনে সালাত আদায়, তার সাথে কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি আমল একত্রে করুন। রাত জাগা কমিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস গড়ুন এবং দিনের শুরুর বরকতময় সময়টা কাজে লাগান। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যান ও সকাল সকাল উঠে পড়ুন। সুরা ফালাক্ব-নাসের মাধ্যমে রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কথা রয়েছে। আর অধিকাংশ পর্নআসক্ত মানুষ রাতের ঘোর অন্ধকারেই এই পাপকাজটি করে থাকে। অতএব, সুরা ফালাক্ব-নাস-এ শিফা'র সন্ধান করুন।
• অন্তরঙ্গতায় আপনি তাকে সাহায্য করুন। বিছানায় আবেদনময়ী হয়ে উঠুন। পূর্বে আমরা জেনেছি একজন পুরুষের এই বিষয়ক ফ্যান্টাসি কেমন হয়ে থাকে। তাই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন, যেমন-সংক্ষিপ্ত পোশাক পরা বা তার পছন্দ অনুসারে সাজগোজ করা ইত্যাদি। বিছানা সুন্দর করে সাজান, সুন্দর বিছানার চাদর বিছান, অন্তরঙ্গতার জন্য ঘরকে তৈরি করে নিন। অতঃপর হালকা আঁধার আলোয় দুইজন একসাথে হোন। অন্তরঙ্গতার আগ মুহূর্তে তার প্রশংসা করুন যে-তিনি কতটা সুপুরুষ, আপনাকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, আপনাকে তিনি বিছানায় যথেষ্ট সুখী করতে পারেন। নিজের বিভিন্ন অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন, আপনি বুঝতে দিন আপনি তার সঙ্গ সবসময় উপভোগ করেন। অন্তরঙ্গতা শেষে তাকে কাছে টেনে নিয়ে ঘুমান। তাকে জানান আপনি তৃপ্ত হয়েছেন। পুরুষেরা তার স্ত্রীকে তৃপ্ত করতে পারলে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করে এবং তারা তাদের পুরুষত্ব জাহির করার জন্য কাজটি বার বার করতে চায়। তাই কখনও তার সামনে এই বিষয় নিয়ে তার সমালোচনা করবেন না; বরং উৎসাহ দিয়ে যান। তবে হ্যা, আপনাকে যদি তিনি হারাম কোনো কাজে লিপ্ত হতে বলেন সেক্ষেত্রে আপনি শক্ত গলায় না বলুন এবং তার চিন্তাধারা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করুন।
◆ তাকে নিয়ে হাঁটতে যান, কোথাও বেড়াতে বা দূরে কোথাও ঘুরতে যান। কিছুদিন প্রকৃতি-সমুদ্র দেখে কাটিয়ে আসুন।
◇ তার খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে নজর দিন। তাকে সুষম খাদ্য দিন। তার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। তাকে ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করতে পারেন। অথবা তার সাথে ফ্রী-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। এতে আপনাদের দুজনের মনই ভালো থাকবে।
◆ দুজন মিলে যে টার্গেট বানাবেন তা আপনার স্বামী পূরণ করতে পারলে তাকে পুরস্কার দিন। আর যদি না পারে তাহলে রাগারাগি না করে তাকে পরবর্তী সময়ের জন্য অনুপ্রেরণা দিন। আপনার প্রেরণা পেলে তিনি আরও বেশি উৎসাহিত হবে এবং পরবর্তীতে টার্গেট পূরণ করা তার জন্য সহজ হবে।
◆ দ্বীনি ভাইদের সাথে মিশতে উৎসাহিত করুন, যারা তার ঈমান বাড়াতে সাহায্য করবে। কাছের আত্মীয় বা শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুদের সাথেও মিশতে উৎসাহ দিন। কারণ অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা এমন আসক্তির পর সবার সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। নতুন করে সম্পর্ক জোড়া দেওয়া তাকে আরও সামাজিক হতে সহায়ক হবে এবং অন্ধকার থেকে বের হতে সাহায্য করবে।
• আপনার স্বামীকে গাইরে মাহরামদের সামনে দৃষ্টি সংযত রাখতে তাগাদা দিন। আপনি আপনার দিক থেকে অন্য নারীদের সাথে তার মেলামেশা বন্ধ করার চেষ্টা করুন। বাসায় কোনো গাইরে মাহরাম নারীকে না আনার চেষ্টা করুন।
◇ মনে রাখবেন, আপনার স্বামীর মুঠোফোন বা কম্পিউটার যেন কখনো পরিবারের অন্যান্য সদস্য; বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের হাতে না পড়ে। এতে ওইসব সাইট বা কন্টেন্ট তাদের চোখে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
◇ যদি তাকে কখনো পর্নোগ্রাফি দেখা অবস্থায় স্বামীকে ধরে ফেলেন তাহলে সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। তাকে একা ছেড়ে দিন। পরবর্তীতে টাকে ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন।
◇ রুকইয়াহ করাতে পারেন। অন্তরের রোগগুলোর জন্য রুকইয়াহ খুবই কার্যকরী একটি চিকিৎসা। রুকইয়াহকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে নিন।
এই সবগুলো ধাপ ছিল আপনার একান্ত নিজস্ব প্রচেষ্টা। বর্তমানে অনেক কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি নিয়ে কাজ করে। আপনি আপনার স্বামীকে এই বিষয়ে দক্ষ কারও কাছে নিয়ে যান। সাইকোলোজিক্যাল কাউন্সেলিং তার এই আসক্তি কাটাতে বড় রকমের সাহায্য করবে ইন শা আল্লাহ। এ ছাড়া কোনো আলিমের সাথেও এ নিয়ে কথা বলা যায়, যারা তাকে অন্তরের পরিশুদ্ধতার বিষয়ে উত্তম নাসীহা দিতে পারবেন।
আপনাকে এই পুরো পথ জুরে সবর করতে হবে। হয়তো এটাই আপনার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত পরীক্ষা। ধৈর্য্যহারা হলে চলবে না। কোনো আসক্তি থেকে মানুষ এক-দুইদিনেই বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হবে এমটি নয়। আপনি বুঝুন, নিজেকে অভয় দিন। আপনি পারবেন। শুধু একটু সবর দরকার।
নিজেকে এর জন্য দায়ী ভাববেন না। আপনার খুব কষ্ট হবে, আপনার অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাবে কিন্তু দিন শেষে আল্লাহ আপনাকে এর বিনিময় দেবেন। দুজনে একসাথে দু'আ করুন, আল্লাহ সাহায্যকারী।
আপনার নিজের যত্ন নেওয়াটা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আপনি যদি নিজে দুর্বল হয়ে পড়েন তবে এই পথটা আপনার জন্য আরো কঠিন হয়ে যাবে। তাই নিজের যত্ন নিন।
যদি এমন হয় যে আপনার একান্ত চেষ্টার পরও তিনি কথা শুনছেন না বা শুনতে চাইছেন না সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে পারেন। আপনার পরিবারের মুরুব্বি কাউকে উক্ত সমস্যার কথা জানান এবং প্রয়োজনে তাকে ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিন। নিঃসন্দেহে এরকম কোনো ঘটনা কাম্য নয়। কিন্তু আপনার সর্বাত্মক চেষ্টার পরও যদি আলো না দেখা যায় তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। [৯]
টিকাঃ
[৯] https://www.aboutislam.net/counseling/ask-the-counselor/marital-obstacles/when-your-husband-is-a-porn-addict/
https://www.islamweb.net/en/fatwa/103113/her-husband-is-addicted-to-pornography
https://muslimmatters.org/2020/09/26/sex-and-porn-addiction-advice-for-the-wife/
মুক্ত বাতাসের খোঁজে, লস্ট মডেস্টি, ইলমহাউস পাবলিকেশন
📄 পুরুষের যৌনতা বনাম নারীর যৌনতা
পুরুষদের জীবনে অনেক প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে তার যৌন জীবন। পুরুষ ও নারীর যৌনতার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। একজন নারী যৌনতা নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে পুরুষেরা সেভাবে চিন্তা করে না। যৌনতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের চিন্তাধারার মাঝে বেশ খানিকটা ফারাক রয়েছে। যৌন জীবন নিয়ে চিন্তাধারার সেসব ফারাক ও অমিল সম্পর্কে অধিকাংশ নারীর কোনো প্রকার ধারণা নেই। উল্টো পুরুষদের আবেগটাকে অনেক নারী নিজের মতো করে চিন্তা করতে থাকে। ফলে দেখা দেয় মতপার্থক্য, মনোমালিন্য। তাই পুরুষদের যৌনতা সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রতিটি নারীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
◆ পুরুষদের যৌনতা শুরু হয় দেহে
নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা তাদের মন, স্মৃতি বা সংযোগের সংবেদনশীল অনুভূতি দ্বারা উৎসাহিত হতে পারে। কিন্তু পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা শারীরিক। পুরুষদের দেহে প্রচুর পরিমাণে টেস্টোস্টেরন (testosterone) হরমোন রয়েছে যা তাদেরকে যৌন আকাঙ্ক্ষার দিকে ঠেলে দেয়। কম বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সামান্যতম যৌন উস্কানিও তার যৌন ইচ্ছাকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। পুরুষদের দেহ রসায়ন যেভাবে তার মনস্তত্ত্বকে যৌনতার দিকে পরিচালিত করে তা দমন করা কষ্টসাধ্য।
◇ পুরুষদের জন্য যৌনতা হলো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
পুরুষদের দেহ একটি দুর্দান্ত আনন্দ যন্ত্র যা থেকে সে পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে চায়! যেহেতু পুরুষদের জন্য বীর্যপাত সহজ এবং এটাই পুরুষদের জন্য এই আনন্দঘন মুহূর্তের ইতি; তাই বিভিন্ন যৌনক্রিয়া, আসন (position) এবং ফ্যান্টাসি দ্বারা তারা এই মুহূর্তটা দীর্ঘায়িত করে উপভোগ করতে চায়। প্রেয়সীর সামান্য মিষ্টি দুষ্টামি, মিষ্টি হাসি বা উদ্ভাস পুরুষ মস্তিষ্ককে জাগ্রত করে তুলে। সামান্য একটু ইশারায় বা যৌনতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে পুরুষদের মস্তিষ্ক আন্দোলিত হতে পারে।
◆ পুরুষদের কাছে সহবাস মানেই চূড়ান্ত মুহূর্ত
নারীরা ধীর-স্থিরতা পছন্দ করে। তারা চায় তাদের স্বামী গল্প করবে, অনেক দুষ্টু-মিষ্টি কথা বলবে, তার আবেগকে বুঝবে, যৌনমিলনের জন্য ধীরে ধীরে আগাবে ইত্যাদি। ফলে যৌনমিলনের প্রতি নারীদের আকাঙ্ক্ষাও ধীর গতিতে বাড়ে। এক্ষেত্রে নারীদের জন্য যৌনমিলনটা মুখ্য না, বরং তার কাছে মুখ্য হলো পূর্ব-মুহূর্ত ও মধ্যকার সময়টুকু। কিন্তু পুরুষেরা এক্ষেত্রে ভিন্নভাবে চিন্তা করে। পুরুষেরা খুব সহজে সহবাসের জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। তাই এই অবস্থায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যেতে চায়। চূড়ান্ত মুহূর্তটাই তার কাছে অধিক উপভোগ্য।
◇ পুরুষদের জন্য যৌনমিলন ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম
নারীদের কাছে ভালোবাসা প্রকাশের সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন। উপহার দেওয়া, রোমান্টিক আলাপ করা, অফিসে গিয়েও খোঁজখবর নেওয়া, একসাথে চাঁদনী রাত উপভোগ করা এসব হচ্ছে নারীদের কাছে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পুরুষেরা কিছুটা ভিন্নভাবে চিন্তা করে। পুরুষদের কাছে ভালোবাসা মানেই যৌনমিলন অথবা যৌনমিলনকে কেন্দ্র করেই তাদের ভালোবাসা। কিন্তু অধিকাংশ নারীই এই বিষয়টা বুঝতে পারে না। তাই দাম্পত্য জীবন সুখী করতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পারস্পরিক সমঝোতা খুব প্রয়োজনীয়।[১০]
উপরোক্ত বিষয়গুলো যখন একজন নারী জানবে এবং বুঝবে তখন সে তার স্বামীর সাথে তাদের মাঝের যৌন সম্পর্ক নিয়ে পরস্পর সমঝোতায় যেতে পারবে। নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কেও একজন নারীর ঝেড়ে কাশতে হবে। অন্যথায় দাম্পত্য জীবনে একটা শূন্যতা থেকে যাবে আজীবন। আর এসব কারণেই বৈবাহিক জীবন অনেকের কাছে বিষিয়ে ওঠে。
টিকাঃ
[১০] Laurie J Watson-এর আর্টিকেল The Truth About Men and Sex
📄 স্বামীকে বশ করে রাখার টোটকা!
পুরুষদের জীবনটা খুব যৌনমুখী। সে সারাটা জীবন তার মনের মতো একজন সঙ্গী খুঁজে বেড়ায়। যার কাছে সে দুঃখের সময় আশ্রয় পাবে, যাকে ঘিরে তার স্বপ্ন, যার আঁচল ধরেই সেই পুরুষের পরবর্তী প্রজন্ম দেখবে নিষ্ঠুর এই পৃথিবী। কিন্তু মস্তিষ্কের এককোণে ঠিকই থেকে যায়-পুরুষেরা খুঁজে একজন প্রেমময়ী নারী। যেই নারী তার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকবে। যেই নারী স্বামী-সোহাগী, স্বামীকে ছাড়া সে এক মুহূর্ত কাটাতে পারে না। পূর্বে আমরা যেমনটা জেনেছি যে, পুরুষদের কাছে সহবাস হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের সংজ্ঞা, সেও চায় তার প্রিয়তমা তার ভালোবাসার এই সংজ্ঞাই নিজের মননে প্রোথিত করে নিক।
* পুরুষেরা তার স্ত্রীর মাঝে আবেদনময়িতা খুঁজে ফিরে।
* পুরুষেরা চায় তাদের স্ত্রী হবে তাদের প্রতি উৎসুক।
* সেই ক্ষেত্রে স্বামীর সাথে সংগোপনে অবস্থানের সময় উদ্দীপনামূলক পোশাক পরিধানের বিকল্প নেই।
* পোশাক-বিশেষ করে অন্তর্বাস জাতীয় কাপড়গুলো পুরুষদেরকে খুব সহজে আকৃষ্ট করে।
* আর পুরুষদের চোখে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নারীদের পোশাকের রং হচ্ছে লাল।[১১]
কিন্তু বিয়ের পরপরই সাংসারিক নানান ব্যস্ততার কারণে দাম্পত্য জীবনের আনন্দগুলো ধীরে ধীরে অবহেলিত হতে থাকে ফলে স্বামীও ধীরে ধীরে আকাঙ্ক্ষা হারাতে থাকে। নারীদের উচিত এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বোঝা এবং তাদের স্বামীদের এই হক যথাযথভাবে আদায় করা。
টিকাঃ
[১১] Journal of experimental Psychology: General- Red, Rank and Romance in Women viewing men, পৃষ্ঠা- ৩৯৯-৪০১