📄 সম্পর্ক উন্নয়নে আমার করণীয়
• যখন সঙ্গীর সাথে কথা বলবেন তখন তার দিকে মুখোমুখি বসে, পূর্ণ মনোযোগের সাথে কথা শোনার চেষ্টা করবেন। কথা শোনার সময় মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযগ মাধ্যম, হাতের কাজ; সবই একপাশে রেখে নিন। এতে আপনি বুঝাবেন যে, আপনি তাকে পরিপূর্ণ মনযোগ ও গুরুত্ব দিচ্ছেন। কথার মাঝখানে থামাবেন না বা নিজের মতামত ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
◇ প্রশংসা করবেন, তার কাজের তারিফ করবেন, তা যত ছোটই হোক না কেন। সবসময় তাকে অনুভব করাবেন যে, তিনি আপনার জন্য যথেষ্ট করছেন। ফলাফল যাই আসুক না কেন, তার চেষ্টাটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ।
◇ জাযাকাল্লাহ, থ্যাংক ইউ, শুকরিয়া ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে তাকে ধন্যবাদ জানাবেন সাথে মিষ্টি একটা হাসি।
◇ স্বামী কাজ সেজে বাসায় ফেরার পর তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, আজ তার দিন কেমন গেল, মন ভালো কিনা, শরীর ভালো আছে কিনা ইত্যাদি।
◇ স্বামী বাইরে যাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে তাকে অভ্যর্থনাস্বরূপ আলিঙ্গন করতে এবং চুমু খেতে ভুলে যাবেন না!
◇ তাকে সবসময় বলুন যে, আপনি তার সাথে কতটা ভালো আছেন। বলুন, তার সাথে দুনিয়ায় ও আখিরাতের জীবন আপনি কাটাতে চান।
◇ তার কোনো ব্যাপার পছন্দ না হলে রাগারাগি বা ঘ্যান ঘ্যান করবেন না। রাগ হলে ওই সময়টা কথাবার্তা না বলে চুপ থাকবেন। পরবর্তীতে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবেন।
◇ সবসময় ভালো কাজে উৎসাহ দিবেন। আপনার প্রেরণা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। কখনো ছোট করে কথা বলা, খোঁটা দেওয়া বা গালি-গালাজ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। এতে সঙ্গী নিজে অপমানিত বোধ করবে যা দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।
◇ তার পছন্দ ও অপছন্দকে সম্মান জানাবেন। তাকে হুট করে পরিবর্তন করতে যাবেন না। তাকে আপনার মতো বানানোর দরকার নেই, তাকে তার মতো থাকতে দিন। তাঁর ওপর জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দিবেন না।
◇ তার ভালো বিষয়গুলো দেখবেন এবং চেষ্টা করবেন তা লিখে রাখতে। সবসময় মন্দ বিষয় নিয়ে হতাশ হবেন না। কৃতজ্ঞ থাকুন আপনার রবের প্রতি।
◇ ভালোবাসা প্রকাশ করুন। ভালোবাসা মাখা চিঠি লিখুন। মাঝে মাঝে তার বইয়ের ফাঁকে বা ওয়ালেটে রেখে দিতে পারেন! তার ভালোলাগার কাজগুলো করুন। তাকে বিভিন্ন কাজ করে চমকে দিন।
◇ বেশি বেশি দু'আ করুন।
◇ সীরাহ বা অনুসরণীয়দের জীবনী পড়ুন, শিখুন।
◆ অন্য পুরুষের সাথে কখনো তুলনা করবেন না। এমনকি অন্য পুরুষের ব্যাপারে কোন আলোচনারও দরকার নেই।
◆ ভুল হলে নিজের ভুল মেনে নিবেন। জোর করে এটাকে সঠিক বানানোর দরকার নেই। ভুল মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন।
◆ বাসায় তার সামনে থাকাকালীন সময় খুশি খুশি থাকুন। চরম কষ্টের দিন আসলেও সবর করুন। বিনিময় আল্লাহ্ দিবেন।
◆ তাকে তার মতো থাকার কিছুটা সুযোগ দিন।
◆ তার প্রিয় কাজগুলোতে সঙ্গী হোন।
• একই সাথে কুরআন পড়ুন, ইসলামিক কোর্স করুন, ইলম অর্জনের সঙ্গী হোন।
• বিছানায় 'না' বলবেন না। তার মন বুঝে সহবাসের শুরুটা মাঝে মাঝে আপনি করুন!
◇ তার মা, বাবা, সন্তানের খেয়াল রাখুন এবং যত্ন নিন। আত্মীয়দের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন, বিপদে তাদের পাশে থাকুন।
◆ সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হোন।
◇ শিখার এবং মানার চেষ্টা করুন কিভাব একজন ভালো ওয়াইফ হওয়া যায়। আপনি একটু চেষ্টাই করলেই একটি সুন্দর পরিবার উপহার দিতে পারবেন, ইন শা আল্লাহ।
📄 নারীকণ্ঠ
নারীকণ্ঠ পুরুষদের জন্য অনেক বড় একটি দুর্বলতা। নারীদের কণ্ঠ যতটা মধুর এবং মিহি হয় পুরুষদের ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কাও ততটাই বেড় যায়। নারীদের কণ্ঠস্বর প্রকৃতপক্ষেই পুরুষদের কণ্ঠের চেয়ে অধিক জটিল। নারী এবং পুরুষের ভোকাল কর্ড ও ল্যারিংক্সের আকারের পার্থক্যের কারণে এবং নারীদের কণ্ঠে আল্লাহ প্রদত্ত 'সুর' থাকার কারণে পুরুষ কণ্ঠের চেয়ে নারীদের কণ্ঠের শব্দ তরঙ্গ অধিক হয়, যা পুরুষদের অন্তরেও তরঙ্গের সৃষ্টি করতে যথেষ্ট হয়![১] পুরুষেরা নারীকন্ঠের নির্দিষ্ট কিছু তরঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এক গবেষণায় কিছু পুরুষকে দুটি কণ্ঠ শোনানো হয়। একটি হলো নারীর মূল কণ্ঠ। আর অপরটি নকল কণ্ঠ, তবে কণ্ঠের তরঙ্গ বাড়িয়ে দিয়ে নারীকণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আবার তাদেরকে নারীদের উচ্চস্বরবিশিষ্ট একটি কণ্ঠ শোনানো হয় এবং আরেকটি নারীকণ্ঠ শোনানো হয় যা মূলত তরঙ্গ কমিয়ে নিম্নতর স্বরে রূপান্তর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট কণ্ঠটাকেই অধিক আকর্ষণীয় মনে করেছে যদিও সেগুলো কৃত্রিম।[২]
অপরদিকে আরেকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, নারীরা পুরুষদের সাথে তখনই উচ্চ কম্পাঙ্কে কথা বলতে শুরু করে যখন তারা সেই পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।[৩] তাই পরপুরুষদের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর প্রয়োজনে যদি কথা বলতেই হয় তাহলে কণ্ঠস্বর যথাসম্ভব নিচুস্বরে এবং গাম্ভীর্য বজায় রেখে কথা বলা উচিত。
টিকাঃ
১] Male and Female Voices Effects Brain Differently, Journal from University of Sheffield
📄 নারীদের দৃষ্টিপাত
নারীদের অবয়ব বা দেহের আকৃতি-গঠনের দিকে নজরপাত করতে একজন পুরুষের মনে যে পরিমান ইচ্ছা জাগে সেই তুলনায় নারীর মনে ঐ রকম ইচ্ছা জাগে না বললেই চলে। পুরুষের দিকে নজরপাত করাটা নারীদের ফিতরাতের মধ্যে অন্তর্গত নয়। তবুও নারীদের মাঝে জৈবিক চাহিদার তারতম্য, নজরপাতের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে অনেকেই পরপুরুষের দিকে খেয়ালে কি বেখেয়ালে দৃষ্টিপাত করে ফেলে। এতে পুরুষদের মনে কীরূপ প্রভাব পড়ে তা আমরা মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জানবো।
যখন কোনো নারী একজন পুরুষের দিকে তাকায় তখন সেই পুরুষের মনে এটাই জাগ্রত হয় যে, হয়তো সেই নারীটি তাকে পছন্দ করেছে অথচ এমনটা সবসময় নাও হতে পারে। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন নারী অন্য কোনো পুরুষের দিকে নিজের অজান্তেই নজরপাত করে ফেলে আর সেই নজরপাত তার অন্তরে তেমন একটা প্রভাবও ফেলে না। কিন্তু নারীর সামান্য চাহনিটুকুও সেই পুরুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
পুরুষেরা খুব সহজেই নারীদেরকে নিয়ে দূর-দূরান্তর পর্যন্ত চিন্তা করে ফেলতে পারে। যেমন : কোনো নারী একজন পুরুষের কাছে একটা কলম চাইলো। পুরুষটি তখন ভাবতে শুরু করবে নিশ্চয় মেয়েটা তাকে পছন্দ করেছে তাই তার কাছ থেকে কলম চাচ্ছে, অথচ সেই নারী এমন কিছুই ভাবেনি। কিছু কিছু পুরুষ নারীদের সাথে সামান্য কথা বার্তা বা এক দুই পলক দৃষ্টিপাতে এতোটাই গভীরে চলে যায় যে, সেই নারীদেরকে নিয়ে তারা অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করে দেয়। তাই পুরুষদের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়。
টিকাঃ
২] The role of femininity and averageness of voice pitch in aesthetic judgments of women's voices. Perception, 37(4), পৃষ্ঠা ৬১৫-৬২৩
৩] Journal of Evolutionary Psychology, 2011, পৃষ্ঠা ৫৭-৬৭
📄 নীলশহরের হাতছানি
পর্নআসক্তি মানবাত্মার মরণব্যাধি। পূর্বের দারসে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। মেন'স সাইকোলজি সার্ভের রিপোর্ট দেখেছি, পর্নোগ্রাফি নিয়ে পুরুষদের ভাবনা জেনেছি। এবার আমরা জানবো পর্নোগ্রাফি কীভাবে মানব মস্তিষ্ককে কাবু করে ফেলে এবং কেবল দৈহিক তুষ্টি অন্বেষণ কীভাবে ভয়ানক আসক্তিতে পরিণত হয়।
মানুষ স্বভাবগতভাবেই নগ্নতা অপছন্দ করে। তবুও মানুষ তার স্বীয় গতিধারার বিপরীতে হেটে পর্ণাসক্তিতে মুখ থুবড়ে পড়ে। নগ্নতা অপছন্দ করা একটা মানুষ রাতারাতিই যে পর্নআসক্ত হয়ে যায় ব্যাপারটা অবশ্য এমন নয়। পর্নোগ্রাফিকে বলা যেতে পারে স্লো পইজন। এর বিষ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের সাথে মিশে। ফলে এই আসক্তির প্রতিক্রিয়াও হয় অত্যন্ত ধীরগতিতে।
পুরুষেরা সাধারণত প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে পর্নোগ্রাফি দেখতে শুরু করে। অনেকে ভাবে একবারই দেখবে, এরপর আর কখনো দেখবে না। কিন্তু সেই 'একবার'-ই তাকে হাজারবার পর্নোগ্রাফির চৌকাঠে নিয়ে আছড়ে ফেলে। প্রথম প্রথম তার কাছে স্বাভাবিক ধরনের পর্নোগ্রাফি ভালো লাগে, কিন্তু একই বিষয় বারবার দেখতে দেখতে একঘেয়েমি এসে পরে। ফলে মস্তিষ্ক নতুন কিছুর স্বাদ চায়। স্নায়ুর এই প্রবল তাড়না উপেক্ষা করাটা যে কতটা প্রয়োজনীয় অনেকেই সেটা বুঝে না। নতুন নতুন স্বাদ খুঁজতে গিয়ে ধীরে ধীরে নোংরা থেকে বিদঘুটে ধরনের সব পর্ণের দিকে ধাবমান হতে থাকে। মরীচিকার স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলা আকর্ষণীয় (!) যৌনক্রিয়া তার কাছে বাস্তব যৌনক্রিয়া থেকে অধিক উপভোগ্য মনে হতে থাকে, ফলে স্ত্রীর প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে কলহ। এভাবেই ডোপামিনের তাড়নায় মানুষগুলোর সহজ-সরল মস্তিষ্ক আজ এক ক্ষুধার্ত দানবে পরিণত হয়েছে। মস্তিষ্কের এই খাই খাই স্বভাবকে পুঁজি বানিয়ে পর্নইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার ধরণের পর্নক্যাটাগরির ভিরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানব জীবনের মূল্যবোধ। যেখানে তোয়াক্কা নেই পারিবারিক বন্ধনের। যেখানে অগ্রাহ্য হয়েছে মানবতা।
একজন মানুষ যখন পর্নোগ্রাফিকে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে, এ থেকে ফিরে আসার কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না, বাস্তবিক যৌনতার চেয়েও আয়তাকার স্ক্রিনের যৌনতাকে অধিক উপভোগ করতে শুরু করে তখনই বুঝে নিতে হবে যে, সেই ব্যাক্তি পর্নআসক্ত।