📄 পুরুষদের কিছু কমন সাইকোলজিক্যাল এনালাইসিস
নারী-পুরুষের পার্থক্য সহজাত। কিন্তু এই পার্থক্যটা অনেক নারী বুঝে উঠতে পারে না। ফলস্বরপ দেখা দেয় অনিবার্য অমিল। দুই পক্ষেরই অনুযোগ থাকে যে, কেউ কাউকে বুঝতে পারে না বা বোঝার চেষ্টা করে না। যখন এটা মেনে নেওয়া হয় যে, নারী-পুরুষের চিন্তা বা আচরণের পদ্ধতি ভিন্ন; তখন এইসব সমস্যার সমাধান সহজেই করা যায়। চেষ্টার মাধ্যমেই একটি চমৎকার এবং সফল সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। পুরুষদের মনস্তত্ত্বকে কিছুটা হলেও বোঝার মাধ্যমে নারীরা ভুল বোঝাবুঝির সমস্যা সমাধান করতে পারবে। স্বামীকে সর্বোত্তম উপায়ে সমর্থন দিতে পারবে এবং সংসার জীবনে পরিতৃপ্ত রাখতে পারবে। তাই পুরুষদের কিছু সাধারণ মনস্তত্ত্ব নিয়ে জেনে নেয়া যাক:
◆ পুরুষেরা নারীদের থেকে ভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ স্থাপন করে
পুরুষেরা সাধারণত তথ্যবহুল কথা বলার চেষ্টা করে। তাই তাদের কথাগুলো হয় অনেকটা সোজাসাপ্টা এবং আক্ষরিক। এমনকি যখন কথা শুনে তখনও অন্তর্নিহিত অর্থটা না ধরে আক্ষরিক ব্যাপারটা গ্রহণ করে। অপরদিকে নারীদের কথায় অনেক অন্তর্নিহিত অর্থ থাকে। সাধারণত তারা কথা বলার মাধ্যমে তাদের আবেগ প্রকাশ করে থাকে।
◆ পুরুষদের আবেগের চাহিদা নারীদের থেকে ভিন্ন!
একজন পুরুষের সাধারণত অনুপ্রেরণা, সমর্থন, সম্মান, আনুগত্য, নিজস্ব জগৎ, শারীরিক চাহিদা ইত্যাদির চাহিদা থাকে। অন্যদিকে মেয়েদের আবেগ জড়িত থাকে ভালোবাসা, আদর, নমনীয়তা, নিরপত্তা, মন বুঝতে পারা, অগ্রাধিকার দেওয়া ইত্যাদির সাথে। নারী-পুরুষের এই ভিন্ন আবেগের চাহিদা বুঝতে পারলে তাদের মনস্তত্ত্বকে বুঝা সহজ হয়।
◆ সেন্স অফ সেফ
পুরুষদের নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থাকে এবং সেই জায়গাটা থেকে অনেকটা নিজের মতন করে জীবন যাপন করতে ভালোবাসে। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সকল সমস্যা সমাধান করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যে কোনো উপায়ে পৌঁছানো। অধীনস্থদের দেখভাল করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা বড় টার্গেট হিসেবে দেখে তারা। নেতৃত্ব প্রদান, নিজের উপর ভরসা, সক্ষমতা, শক্তি ও সামর্থ্য, সফলতা ইত্যাদি তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
• চিন্তা ও কাজের ধরণ
তারা একটি সময়ের মধ্যে একটি প্রকারের কাজ খুব ভালো মনযগের সাথে করতে পারে। তাদের কাজে তারা এতটাই শ্রম প্রয়োগ করে যে তারা চায় তাদের সে কাজ এবং চেষ্টাকে মূল্যায়ন করা হোক। একটা কাজ করার মাধ্যমে তারা সেই কাজের দক্ষতাটাকে দেখানোর চেষ্টা করে। স্ত্রীরা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছে এটা তারা অনুভব করতে চায় না। তারা কষ্টকে সাধারণত রাগ ও 'ইগো' দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। আর্থিক উপার্জন এবং ফ্যামিলি সাপোর্ট দেওয়াকে তারা ভালোবাসার একটা ধরণ হিসেবে বিবেচনা করে।
• অনূভুতি প্রকাশ
তারা সাধারণ তাদের কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকে। মৌখিক প্রকাশের তুলনায় কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা দেখানোতে তারা বিশ্বাসী। অপরদিকে নারীরা চায় তাদেরকে 'ভালোবাসি' শব্দটা বারবার বলার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করা হোক। আপনার স্বামীর ভালোবাসা প্রকাশের ধরণটা বুঝতে পারলে আপনার জন্য তাকে বোঝা আরো সহজ হবে।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা উচিত, পুরুষদের দক্ষতা নিয়ে যখন সন্দেহ প্রকাশ করা হয় তখন তারা রেগে উঠতে পারে। তাই কখনো তাদেরকে এভাবে প্রশ্ন করা উচিত না, "আপনি কি এটা করতে পারবেন বা আপনার দ্বারা কি এটা সম্ভব?" বরং এইভাবে বলবেন যে, "আপনি এটা করে দিন বা আপনি কি এটা করে দিবেন?"
• কনফ্লিক্ট সাইকেল!
মাঝে মাঝে এটা মনে হতে পারে যে, একটা সম্পর্কে আপনি দিয়েই যাচ্ছেন কিন্তু বিনিময়ে কিছুই যেন পাচ্ছেন না! হয়তো আপনি আপনার প্রাপ্য বিনিময়টুকু ঠিকই পাচ্ছেন কিন্তু অনুধাবনের পদ্ধতিটা বুঝে উঠতে পারছেন না। এর সমাধানে একে অপরকে নির্দেশনা প্রদান করা উচিত যে, ভালোবাসা প্রকাশের কোন মাধ্যম ও পদ্ধতিটি সে পছন্দ করে। যেমন: একজন পুরুষ সাধারণত ভালোবাসা অনুভব করে যখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, মুগ্ধ হয়ে সম্মান করা হয়, তার কাজের সমর্থন দেওয়া হয়, তাকে উৎসাহ দেওয়া হয় ইত্যাদি।
আবার দু'জন দু'জনকে বুঝতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হয় আরেক ঝামেলার! ধরুন আপনি একটা কাজে হতাশ হয়ে সঙ্গীর সাথে অনেক কথা বলছেন। এমন সময় বিপরীত পার্টি আপনাকে ঠাস ঠাস দিয়ে দিলো আপনার সকল সমস্যার সমাধান! আপনি গেলেন রেগে! কারণ আপনি চাচ্ছেন আপনার অনুভূতি প্রকাশ করতে, সমাধান না। এদিকে উনি ভাবলেন উনি তো সমস্যার সমাধান দিয়েই দিয়েছেন! সমাধান দেওয়ার পরও আপনি গেলেন রেগে, যার জন্য ওনারও মন খারাপ হয়ে গেল, আবার ওনার এই মন খারাপের জন্য এবার ওনি আপনাকে দায়ী করলেন, এই হলো 'কনফ্লিক্ট সাইকেল'!
◆ সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি
পুরুষদের সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি নারীদের থেকে অনেকটা ভিন্ন হয়। যেমন: তারা কোনো সমস্যায় পরলে সাধারণত নিজে সেটা সমাধানের চেষ্টা করে। অনেক সময় সমস্যাকে বার বার উল্লেখ করাকে নিজের দুর্বলতা মনে করতে পারে। এই সময় যদি স্বামী নিজের সমস্যা ব্যক্ত না করে তাহলে তাকে সমস্যা বর্ণনা করতে চাপ প্রয়োগ করার দরকার নেই। বরং নিজ থেকে সমস্যা বুঝে নিয়ে সমাধানের জন্য যথাযথ চেষ্টা করতে হবে। ফলে সম্পর্ক মধুর হবে এবং আশা করা যায় স্বামীও এতে বিরক্তি প্রকাশ করবে না।
আমরা নারী-পুরুষের সাধারণ ও প্রধান কিছু মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্য দেখলাম। কিন্তু সব পুরুষের মানসিকতা একই হবে, তা নয়। ব্যক্তিত্বের ভিন্নতার জন্য একেক পুরুষের চিন্তা, আচরণ, ভালোবাসার ধরণ, রাগ প্রকাশের ধরণ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাই স্বামী বা মাহরামদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য তাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভালোভাবে বুঝার চেষ্টা করতে হবে।
📄 সম্পর্ক উন্নয়নে আমার করণীয়
• যখন সঙ্গীর সাথে কথা বলবেন তখন তার দিকে মুখোমুখি বসে, পূর্ণ মনোযোগের সাথে কথা শোনার চেষ্টা করবেন। কথা শোনার সময় মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযগ মাধ্যম, হাতের কাজ; সবই একপাশে রেখে নিন। এতে আপনি বুঝাবেন যে, আপনি তাকে পরিপূর্ণ মনযোগ ও গুরুত্ব দিচ্ছেন। কথার মাঝখানে থামাবেন না বা নিজের মতামত ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
◇ প্রশংসা করবেন, তার কাজের তারিফ করবেন, তা যত ছোটই হোক না কেন। সবসময় তাকে অনুভব করাবেন যে, তিনি আপনার জন্য যথেষ্ট করছেন। ফলাফল যাই আসুক না কেন, তার চেষ্টাটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ।
◇ জাযাকাল্লাহ, থ্যাংক ইউ, শুকরিয়া ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে তাকে ধন্যবাদ জানাবেন সাথে মিষ্টি একটা হাসি।
◇ স্বামী কাজ সেজে বাসায় ফেরার পর তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, আজ তার দিন কেমন গেল, মন ভালো কিনা, শরীর ভালো আছে কিনা ইত্যাদি।
◇ স্বামী বাইরে যাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে তাকে অভ্যর্থনাস্বরূপ আলিঙ্গন করতে এবং চুমু খেতে ভুলে যাবেন না!
◇ তাকে সবসময় বলুন যে, আপনি তার সাথে কতটা ভালো আছেন। বলুন, তার সাথে দুনিয়ায় ও আখিরাতের জীবন আপনি কাটাতে চান।
◇ তার কোনো ব্যাপার পছন্দ না হলে রাগারাগি বা ঘ্যান ঘ্যান করবেন না। রাগ হলে ওই সময়টা কথাবার্তা না বলে চুপ থাকবেন। পরবর্তীতে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবেন।
◇ সবসময় ভালো কাজে উৎসাহ দিবেন। আপনার প্রেরণা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। কখনো ছোট করে কথা বলা, খোঁটা দেওয়া বা গালি-গালাজ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। এতে সঙ্গী নিজে অপমানিত বোধ করবে যা দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।
◇ তার পছন্দ ও অপছন্দকে সম্মান জানাবেন। তাকে হুট করে পরিবর্তন করতে যাবেন না। তাকে আপনার মতো বানানোর দরকার নেই, তাকে তার মতো থাকতে দিন। তাঁর ওপর জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দিবেন না।
◇ তার ভালো বিষয়গুলো দেখবেন এবং চেষ্টা করবেন তা লিখে রাখতে। সবসময় মন্দ বিষয় নিয়ে হতাশ হবেন না। কৃতজ্ঞ থাকুন আপনার রবের প্রতি।
◇ ভালোবাসা প্রকাশ করুন। ভালোবাসা মাখা চিঠি লিখুন। মাঝে মাঝে তার বইয়ের ফাঁকে বা ওয়ালেটে রেখে দিতে পারেন! তার ভালোলাগার কাজগুলো করুন। তাকে বিভিন্ন কাজ করে চমকে দিন।
◇ বেশি বেশি দু'আ করুন।
◇ সীরাহ বা অনুসরণীয়দের জীবনী পড়ুন, শিখুন।
◆ অন্য পুরুষের সাথে কখনো তুলনা করবেন না। এমনকি অন্য পুরুষের ব্যাপারে কোন আলোচনারও দরকার নেই।
◆ ভুল হলে নিজের ভুল মেনে নিবেন। জোর করে এটাকে সঠিক বানানোর দরকার নেই। ভুল মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন।
◆ বাসায় তার সামনে থাকাকালীন সময় খুশি খুশি থাকুন। চরম কষ্টের দিন আসলেও সবর করুন। বিনিময় আল্লাহ্ দিবেন।
◆ তাকে তার মতো থাকার কিছুটা সুযোগ দিন।
◆ তার প্রিয় কাজগুলোতে সঙ্গী হোন।
• একই সাথে কুরআন পড়ুন, ইসলামিক কোর্স করুন, ইলম অর্জনের সঙ্গী হোন।
• বিছানায় 'না' বলবেন না। তার মন বুঝে সহবাসের শুরুটা মাঝে মাঝে আপনি করুন!
◇ তার মা, বাবা, সন্তানের খেয়াল রাখুন এবং যত্ন নিন। আত্মীয়দের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন, বিপদে তাদের পাশে থাকুন।
◆ সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হোন।
◇ শিখার এবং মানার চেষ্টা করুন কিভাব একজন ভালো ওয়াইফ হওয়া যায়। আপনি একটু চেষ্টাই করলেই একটি সুন্দর পরিবার উপহার দিতে পারবেন, ইন শা আল্লাহ।
📄 নারীকণ্ঠ
নারীকণ্ঠ পুরুষদের জন্য অনেক বড় একটি দুর্বলতা। নারীদের কণ্ঠ যতটা মধুর এবং মিহি হয় পুরুষদের ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কাও ততটাই বেড় যায়। নারীদের কণ্ঠস্বর প্রকৃতপক্ষেই পুরুষদের কণ্ঠের চেয়ে অধিক জটিল। নারী এবং পুরুষের ভোকাল কর্ড ও ল্যারিংক্সের আকারের পার্থক্যের কারণে এবং নারীদের কণ্ঠে আল্লাহ প্রদত্ত 'সুর' থাকার কারণে পুরুষ কণ্ঠের চেয়ে নারীদের কণ্ঠের শব্দ তরঙ্গ অধিক হয়, যা পুরুষদের অন্তরেও তরঙ্গের সৃষ্টি করতে যথেষ্ট হয়![১] পুরুষেরা নারীকন্ঠের নির্দিষ্ট কিছু তরঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এক গবেষণায় কিছু পুরুষকে দুটি কণ্ঠ শোনানো হয়। একটি হলো নারীর মূল কণ্ঠ। আর অপরটি নকল কণ্ঠ, তবে কণ্ঠের তরঙ্গ বাড়িয়ে দিয়ে নারীকণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আবার তাদেরকে নারীদের উচ্চস্বরবিশিষ্ট একটি কণ্ঠ শোনানো হয় এবং আরেকটি নারীকণ্ঠ শোনানো হয় যা মূলত তরঙ্গ কমিয়ে নিম্নতর স্বরে রূপান্তর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট কণ্ঠটাকেই অধিক আকর্ষণীয় মনে করেছে যদিও সেগুলো কৃত্রিম।[২]
অপরদিকে আরেকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, নারীরা পুরুষদের সাথে তখনই উচ্চ কম্পাঙ্কে কথা বলতে শুরু করে যখন তারা সেই পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।[৩] তাই পরপুরুষদের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর প্রয়োজনে যদি কথা বলতেই হয় তাহলে কণ্ঠস্বর যথাসম্ভব নিচুস্বরে এবং গাম্ভীর্য বজায় রেখে কথা বলা উচিত。
টিকাঃ
১] Male and Female Voices Effects Brain Differently, Journal from University of Sheffield
📄 নারীদের দৃষ্টিপাত
নারীদের অবয়ব বা দেহের আকৃতি-গঠনের দিকে নজরপাত করতে একজন পুরুষের মনে যে পরিমান ইচ্ছা জাগে সেই তুলনায় নারীর মনে ঐ রকম ইচ্ছা জাগে না বললেই চলে। পুরুষের দিকে নজরপাত করাটা নারীদের ফিতরাতের মধ্যে অন্তর্গত নয়। তবুও নারীদের মাঝে জৈবিক চাহিদার তারতম্য, নজরপাতের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে অনেকেই পরপুরুষের দিকে খেয়ালে কি বেখেয়ালে দৃষ্টিপাত করে ফেলে। এতে পুরুষদের মনে কীরূপ প্রভাব পড়ে তা আমরা মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জানবো।
যখন কোনো নারী একজন পুরুষের দিকে তাকায় তখন সেই পুরুষের মনে এটাই জাগ্রত হয় যে, হয়তো সেই নারীটি তাকে পছন্দ করেছে অথচ এমনটা সবসময় নাও হতে পারে। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন নারী অন্য কোনো পুরুষের দিকে নিজের অজান্তেই নজরপাত করে ফেলে আর সেই নজরপাত তার অন্তরে তেমন একটা প্রভাবও ফেলে না। কিন্তু নারীর সামান্য চাহনিটুকুও সেই পুরুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
পুরুষেরা খুব সহজেই নারীদেরকে নিয়ে দূর-দূরান্তর পর্যন্ত চিন্তা করে ফেলতে পারে। যেমন : কোনো নারী একজন পুরুষের কাছে একটা কলম চাইলো। পুরুষটি তখন ভাবতে শুরু করবে নিশ্চয় মেয়েটা তাকে পছন্দ করেছে তাই তার কাছ থেকে কলম চাচ্ছে, অথচ সেই নারী এমন কিছুই ভাবেনি। কিছু কিছু পুরুষ নারীদের সাথে সামান্য কথা বার্তা বা এক দুই পলক দৃষ্টিপাতে এতোটাই গভীরে চলে যায় যে, সেই নারীদেরকে নিয়ে তারা অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করে দেয়। তাই পুরুষদের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়。
টিকাঃ
২] The role of femininity and averageness of voice pitch in aesthetic judgments of women's voices. Perception, 37(4), পৃষ্ঠা ৬১৫-৬২৩
৩] Journal of Evolutionary Psychology, 2011, পৃষ্ঠা ৫৭-৬৭