📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পুরুষই কেন নারীর অভিভাবক?

📄 পুরুষই কেন নারীর অভিভাবক?


মানুষ যখন থেকে সামাজিকভাবে বসবাস শুরু করেছে তখন থেকেই নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনূভুত হইয়েছে। কারণ, একাধিক মানুষ যখন একত্রিত হয় তখন চিন্তাধারার তারতম্যের কারণে মতের ভিন্নতা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় নেতৃত্বস্থানে কাউকে না কাউকে বসতেই হয়, যে সমস্ত বিষয় পরিচালনা করবে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে। মানব ইতিহাস সাক্ষী; এই যাবৎ অনেক জনপদ, দেশ ও সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে বা সঠিক নেতৃত্বের অভাবে। আল্লাহ বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ)

পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এজন্যে যে, পুরুষেরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। [৩৭]

উপরোক্ত আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি, আল্লাহ এর নির্দেশনা হচ্ছে নারীদের জন্য অভিভাবক তাদের স্বামী। কারণ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে- তিনি এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। মানব জীবনের স্তরে স্তরে কেউ কখনো দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়, আবার কখনো বা সে হয় অধীনস্থ। এই রীতির অনুপস্থিতিতে মানব জীবনের গতিধারা চিন্তা করাও মুশকিল।

একটা পরিবারে দায়িত্বশীল কাউকে না কাউকে তো হতেই হবে। তাই আল্লাহ সেই দায়িত্ব আরোপ করেছেন পুরুষদেরকে আর দায়িত্বের দিক থেকে নারীর উপর পুরুষ শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে। কেননা সে সংসারের চালিকাশক্তি। সংসার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পেছনে পুরুষের বড় একটা অবদান হলো এই যে, সে অর্থের জোগান দেয়। এদিকে সন্তানদের দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে মূলত মায়েদের ওপরই। এভাবেই প্রতিটি মানুষই কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আবার কিছু ক্ষেত্রে অধীনস্থ। কিন্তু সাধারণ এই বিষয়টিকে নারীবাদীরা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের কথা হচ্ছে সংসারে কেউ কারও ওপর প্রাধান্য পাবে না। দুজনই থাকবে সমানে সমানে। তাদের এই থিউরি অবলম্বন করেই আজ আমাদের সমাজে প্রতিনিয়তই শত শত দাম্পত্য জীবন কাঁচের মতো ভেঙে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে, হু হু করে বেড়ে চলছে তালাকের সংখ্যা।

মা-বাবা আমাদের ওপর দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমরা কি কখনও বলি যে, মা-বাবা আর সন্তান কেউ কারও ওপর দায়িত্বশীল হবে না, সবাই সমান? অথবা দেশের নেতৃত্ব স্থানীয় প্রধানকে টেনে হেঁচড়িয়ে গদি থেকে নামিয়ে কেউ কি বলবে যে, জনগণ সবাই সমান, কাউকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন নেই! অথবা অফিসের ম্যানেজার বা চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের টাই ধরে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দিয়ে কেউ কি কখনও বলেছে যে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সমানভাবে কাজ করবে, কেউ কারও উপর দায়িত্বশীল থাকবে না, কেউ কারও ওপর ক্ষমতা দেখাবে না! স্যালারিও সবার সমানে সমান! এই বিষয়গুলো যেমন হাস্যকর ঠিক তেমনি, সংসারে কেউ প্রধান দায়িত্বশীল থাকবে না এমন ভাবাটাও বোকামি।

টিকাঃ
[৩৭] সূরা নিসা- ৩৪

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ক্যারিয়ার বনাম সন্তানের তারবিয়াত

📄 ক্যারিয়ার বনাম সন্তানের তারবিয়াত


নারীদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তাদের মাতৃত্ব। তাদের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে সভ্য জাতি। এই কারণেই ইবনুল কইয়্যিম বলেছেন, "উম্মাহর অর্ধেক হচ্ছে নারী আর অর্ধেককে জন্ম দিয়েছে নারী। তাই বলা যায় পুরো উম্মাহই হলো নারী।”[৩৮]

কিন্তু আফসোস, আজকের যুগের নারীরা তাদের প্রকৃত সম্মান ভুলে যাওয়ার পথে। নারীরা আজ বহির্মুখী। আজ নারীদের কাছে সন্তানের চেয়ে ক্যারিয়ার বড়। ক্যারিয়ারের কথা ভেবে অনেকেই সন্তান দেরি করে নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করে। যে বয়সে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা মনে জাগে ততদিনে অনেকের মাতৃত্বের ক্ষমতাও হয়ে যায় দুর্বল।

বহু কষ্টে ও অনেক অপেক্ষার পর ভাগ্য ভালো থাকলে কোল জুড়ে জায়গা করে নেয় ছোট্ট একটা জীবন। তারপর ৬-৭ মাস যেতে না যেতেই সন্তান অর্ধদিনের জন্য মা হারা হয়ে যায়! গৃহ পরিচারিকার হাতে সন্তানকে তুলে দিয়ে মা ক্যারিয়ার গড়ার নিমিত্তে আবার কর্মমুখী হয়। দুধের শিশু মাতৃত্ব খুঁজে পায় গৃহ-পরিচারিকার আঁচলে। কাজের লোকের তারবিয়াতেই অবশেষে সন্তান বড় হতে থাকে।

খবরে আমরা অহরহ দেখছি যে, সন্তানকে রেখে বাবা এবং মা কর্মক্ষেত্রে গিয়েছেন, এদিকে কাজের লোক সন্তানকে নির্যাতন করছে। [৩৯] আবার সন্তান মায়ের কাছে আকুতি-মিনতি করছে যে, তার মা যাতে তাকে ব্যাগে করে অফিসে নিয়ে যান। অথচ এসব মায়েদের ভাষ্য হলো, সন্তান পালনের দায়িত্ব কি শুধুই নারীদের, পুরুষদের না? সন্তান পালন কি আজ এতটাই তুচ্ছ বিষয় হয়ে গেল যে দায়িত্ব ছুড়াছুড়ি করতে হচ্ছে! [৪০]

বাবার সংস্পর্শ সন্তান কিছুটা কম পেয়ে থাকে। আদব-কায়দা, মু'আমালাত, দ্বীনের প্রাথমিক শিক্ষা সন্তান সাধারণভাবে মায়েদের কাছ থেকেই শিখে থাকে। যখন মা থেকেও অনুপস্থিত হয়ে যায় সেটা সন্তানের জীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব সন্তানেরা তাদের কৈশোর কিংবা যৌবনে মাদক, চুরি-ছিনতাই, পর্ণাসক্তি, ব্যাভিচারের মতো অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

যখন তারা বুঝতে পারে যে তাদের জীবনটা বিষিয়ে উঠেছে অথচ অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে; ফিরে আসার রাস্তা যখন আর খুঁজে পায় না তখন তারা ঠিকই তাদের পরিবার তথা মা-বাবাকে দোষ দিতে থাকে। মা-বাবার সুষ্ঠু প্যারেন্টিং-এর অভাবে সন্তান এভাবেই বিগড়ে যায়। ফলে ব্যাক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন এমনকি সমাজও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

টিকাঃ
[৩৮] তুহফাতুল মাওলুদ ফী আহকামিল মাওলুদ, পৃষ্ঠা- ১৬
[৩৯] https://youtu.be/6kkFbYVEfh0
[৪০] https://www.shorturl.at/nyQS6

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00