📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শিশুরা কি পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত?

📄 শিশুরা কি পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত?


শিশুদের নিষ্পাপ চেহারা দেখলে আমাদের অন্তরে একটা প্রশান্তি অনুভূত হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিশুরা; বিশেষ করে ছেলে বাচ্চাগুলোর মাঝে একটু তাড়াতাড়িই পাকনামো টের পাওয়া যায়। বাসায় কোনো নারী বেড়াতে আসলে এরা তাদের সংস্পর্শে থাকতেই অধিক পছন্দ করে। মাঝে মাঝে কথা বার্তায় একটু অন্যরকম ভাব থাকে। ৬-৭ বছরের বাচ্চাদের মাঝেই এমন দেখা যেতে পারে, এর অধিক বয়সের যারা আছে তাদের কথা তো বাদই দেওয়া গেল।

মূল বিষয় হচ্ছে, আমাদের বর্তমান জামানার আল্ট্রাস্মার্ট পিতামাতাগণ খুব অল্প বয়সে বাচ্চাদের হাতে ইন্টারনেট সমেত ফোন বা কম্পিউটার তুলে দিচ্ছেন। আর এর পরিণতি কেমন হতে পারে এই বিষয়ে অভিভাবকগণ থাকে সম্পূর্ণ বেখবর। ইন্টারনেট আজ এতোটাই খোলামেলা যে, কেবল কয়েকটি টাচ বা ক্লিকের ব্যবধানে জিনায় জড়ানো সম্ভব। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কর্মরত একটি বিদেশি সংস্থার মতে, পর্নোগ্রাফি ভিডিও বা পর্নোসাইট আকস্মাৎভাবে বাচ্চাদের চোখের সামনে চলে আসাই ছোটকাল থেকে পর্নাসক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পর্নসাইটগুলোতে বয়সের তথাকথিত সীমা ১৮ বা তার বেশি। অথচ কেবল একটি ক্লিক করেই ১৮ বছরের কম বয়স্ক শিশুরাও সাইটগুলোতে ঢুকতে পারে। পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার গড় বয়স মাত্র ১১ বছর। ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই প্রায় ৯৩.২% ছেলে এবং ৬২.১% মেয়ের সামনে পর্নোগ্রাফি উন্মুক্ত হয়। [২]

অস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ফ্যামিলি স্টাডি-এর এক জরিপে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য। সেখানে এক মাস ধরে জরিপ চালিয়ে দেখা গিয়েছে ৪৪% শিশু যাদের বয়স সর্বনিম্ন ৯ বছর, তাদের সামনে কোনো না কোনোভাবে অশ্লীল কন্টেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। [৩]

অনলাইন সিকিউরিটি কোম্পানি বিটডিফেন্ডার-এর নতুন গবেষণায় জানা যায় যে, পর্নোগ্রাফি সাইটে যারা প্রবেশ করে তাদের মাঝে ২২% ই দশ বছরের কম বয়সী শিশু। সেখানে আরও বলা হয় যে, ১০ জনের মধ্যে ১ জন ১০ বছরের কম বয়সী শিশু অশ্লীল ভিডিওর সাইটে প্রবেশ করে। [৪]

ইন্টারনেট ঘাটলে এমন আরও শত শত সার্ভে পাওয়া যাবে যেখানে এই ভয়ানক বিষয়টির সত্যতা উঠে এসেছে। পর্নোগ্রাফির এই ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত নয় কোমলমতি শিশুরাও।

এমতাবস্থায় আমাদের করণীয়
◆ নারীদের উচিত মাহরাম নয় এমন শিশুর সামনে নিজেদের পর্দার বিষয় খেয়াল রাখা। খুব ভালোভাবে বাচ্চাটির চাল-চলন, কথাবার্তা, চাহনী ইত্যাদির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এরপর যদি সেই শিশুর সামনে পর্দা জরুরি বলে মনে হয় তাহলে পর্দা নিশ্চিত করা নারীদের দায়িত্ব。
◆ নারীরা তাদের ঘরের বাচ্চাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে। ছোট ভাই, ভাগ্নে, ভাতিজা কিংবা নিজের সন্তান-তাদের দিকে খুব ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত খুব প্রয়োজন না হলে তারা যাতে কোনোমতেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংস্পর্শে না আসতে পারে。
◆ বাচ্চারা বাসার বড়দের কারো মুঠোফোন লুকিয়ে লুকিয়ে চালাচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখা জরুরি。
◆ যখন তাদের যথেষ্ট বুঝ হবে তখন ইলেকট্রনিক মিডিয়া তাদের হাতে দেওয়ার প্রয়োজন হলে এর পূর্বে এসবের কুফল অবশ্যই বর্ণনা করে তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে。
◆ এরপরও তাদেরকে একদম ছেড়ে দিলে চলবে না। ইন্টারনেটে তারা কি করে সেদিকে জোর নজরদারিতা রাখতে হবে。
◆ সেই ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বিভিন্ন প্যারেন্টিং সিকিউরিটি ব্যবহার করা যেতে পারে。

টিকাঃ
২]https://www.netnanny.com/blog/the-detrimental-effects-of-pornography-on-small-children/
৩] https://aifs.gov.au/publications/effects-pornography-children-and-young-people-snapshot
8] https://www.netnanny.com/blog/the-detrimental-effects-of-pornography-on-small-children/

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00