📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পাপের সাগরে নিমজ্জিত একজন পুরুষ

📄 পাপের সাগরে নিমজ্জিত একজন পুরুষ


একজন পুরুষের অন্তরে এমন অনেক কিছুই উদিত হতে পারে, যা একজন নারী কল্পনাও করতে পারে না। হারাম সম্পর্ক, পরকীয়া, পতিতালয়ে গমন, ধর্ষণের ইত্যাদির মতো জঘন্যতম কাজগুলো সংঘটিত হয়ে থাকে পুরুষদের মাধ্যমেই। পুরুষদের জীবনে যৌনতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়। কিন্তু অধিকাংশ নারীই পুরুষদেরকে নিজেদের মতো নিষ্পাপ চিন্তাধারার মনে করে থাকে। এরপর সেই অচেনা-অজানা পুরুষের সাথে বন্ধুত্ব করে, অবাধ কথাবার্তা চালায়, ঘুরাঘুরি করে বেড়ায়। অতঃপর অধিকাংশ সময় সেই পুরুষের মাধ্যমেই সে নির্যাতিত হয়, ধর্ষিত হয় অথবা আপন ইচ্ছায় সেই নারী নিজের দেহ সেই পুরুষের উদ্দেশ্যে উজাড় করে দেয়। পুরুষদের চায়ের আড্ডা মুখরিত থাকে তাদের গার্লফ্রেন্ড-জাস্টফ্রেন্ডদের অঙ্গের মাপ, গোপনাঙ্গের ব্যাখ্যা অথবা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গল্প দিয়ে। অধিকাংশ নারীই এসব বিষয়ে বেখবর।

তবে দ্বীনদার মহলে এই ফিতনা নেই বললেই চলে। কতিপয় দ্বীনের বুঝসম্পন্ন পুরুষদের অন্তরে যৌনতার যেসব ব্যাধি ভর করে বসেছে তার অধিকাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে পর্নোগ্রাফি। কেননা অন্তর রোগাগ্রস্থ দ্বীনদারদের ক্ষেত্রে পরকীয়া, পতিতালয়ে গমন, ধর্ষণের চেয়ে গোপন পাপ তথা পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনে লিপ্ত হওয়া সহজতর। অনেক সংসার ভেঙে যাওয়ার জন্য দায়ী ওই নীল জগৎ। দ্বীনদার মহলের অধিকাংশ নারীই জানে না ওই জগতটা সম্পর্কে। অনেকের ধারণা দ্বীন মেনে চলা সকল পুরুষই সম্ভবত আল্লাহর বিধি-নিষেধ পুরোপুরিভাবেই মেনে চলে। অথচ প্রকৃতপক্ষে কিছু দ্বীনদার পুরুষও এই মারাত্মক ব্যাধিগ্রস্থ। জেনারেল পড়ুয়া দ্বীনদার পুরুষদের অতীত হয়ে থাকে ভয়ানক। অনেকেই যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়। অনেকে আবার সেই অতীতের কল্পনার হাতছানিতে বারবার সেই পাপের সাগরে ডুব লাগায়। তবু তারা যুদ্ধ করে অন্তরের বিরুদ্ধে, কিন্তু বেশ কিছু কারণেই অনেক সময় সফলকাম হতে পারে না।

বিবাহিত পুরুষদের জন্যও পর্নোগ্রাফি হতে পারে ফিতনার কারণ। অন্তত আমাদের জরিপ তা-ই বলে। যদি এমনটাই হয় যে, বিবাহিত পুরুষরাও পর্নোগ্রাফির ফিতনায় পতিত হচ্ছে তাহলে বুঝে নিতে হবে সেখানে তাদের স্ত্রীদের কিছু গাফেলতি অবশ্যই রয়েছে। আর গাফেলতিটা এখানেই যে, সেই নারী হয়তো ধরেই নিয়েছে তার স্বামী সম্পূর্ণ ফিতনামুক্ত। পুরুষদের মানসিকতা ও এই পর্নোগ্রাফির দুনিয়া সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকাও এর অন্যতম কারণ। পুরুষদের মুখ থেকেই আমরা এমনও শুনেছি যে, ২-৩ বছর ধরে বিবাহিত, অথচ স্বামী পর্নআসক্ত, তবে স্ত্রীর কাছে তা অজানা। তাই এটা একজন নারীর জন্য কর্তব্য হয়ে দাড়িয়েছে যে, পুরুষদের বিষয়ে সে ভালো করে জানুক। কেননা, আল্লাহর লিখন থাকলে হয়তো তার জন্য এমনই একজন অন্তরের রোগী অপেক্ষমাণ রয়েছে, তাকে চিকিৎসার দায়িত্ব তো সেই নারীরই।

আমাদের জরিপ বলে, দ্বীনে প্রবেশের পূর্বে ৯১.৩০% পুরুষ পর্ন দেখেছে। এর মাঝে ৪৫% পুরুষ সাধারণভাবে পর্ন দেখতো, ২৭.৫০% খুব কম হলেও পর্ন দেখতো আর ১৮.৮০% পর্নাসক্ত ছিল।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পর্নোগ্রাফি পুরুষদের অন্তরকে যেভাবে বিকৃত করেছে

📄 পর্নোগ্রাফি পুরুষদের অন্তরকে যেভাবে বিকৃত করেছে


আমাদের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে যারা পর্নআসক্ত তাদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে, কোন ধরনের পর্ন দেখে তারা অধিক অভ্যস্ত। অনেকেই একাধিক ধরনের প্রতি অভ্যস্ততার কথা জানিয়েছেন। সবগুলোকে আমরা ৬টি ধরনে একত্রিত করেছি। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে।

অস্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- প্রায় ২৬.৬৬% পুরুষ অস্বাভাবিক মাপের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট। অর্থাৎ স্তন কিংবা নিতম্বের অস্বাভাবিক মাপ যা পর্নতারকারা বিভিন্ন সার্জারির মাধ্যমে করে থাকে। সাধারণত নারীদের দেহের এসব বিশেষ অঙ্গের প্রতি পুরুষদের আকর্ষণ রয়েছে। একজন পুরুষ যখন এধরনের পর্নদেখে অভ্যস্ত হবে তখন স্বভাবগতভাবেই তার দৃষ্টি বাস্তবেও এমন কিছুই খুঁজবে এবং নারীদের দেহের সেসব স্থানে দৃষ্টিপাতের চেষ্টা করবে। আমাদের নারীদের পর্দাটা কেমন হওয়া দরকার তা আমরা এ থেকেই আঁচ করতে পারছি।

অত্যাচারমূলক- উত্তরদাতাদের মাঝে প্রায় ৩৩% পুরুষ বলেছেন তারা অত্যাচারমূলক পর্নদেখে অভ্যস্ত। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ বা গণধর্ষণজনিত পর্নো, রাস্তাঘাটে জোরপূর্বক নারীদের শরীরে হাত দেওয়া, নির্যাতন করা ইত্যাদি জাতীয় পর্নো। এই জরিপের অংশগ্রহণকারীগণ সামান্য হলেও দ্বীনের বুঝ রাখে। তারা এরকম ভয়ানক ধরনের পর্নদেখে অভ্যস্ত। যদিও আল্লাহর ভয়ে হয়তো তারা একে বাস্তবে রুপান্তর করে না। কিন্তু যাদের অন্তরে আল্লাহর বিন্দুমাত্র ভয় নেই তাদের মাঝে এই ধরনের পর্নউপভোগ করার প্রবণতা নিসঃন্দেহে অধিক। আর তাদের অন্তরে তাক্বওয়ার অনুপস্থিতির কারণে তারা যা দেখে তা বাস্তবে রূপান্তর করতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাই তারা তখন এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য নির্যাতন করে তাদের স্ত্রীদেরকে বা অন্য কোনো নারীকে। এমনকি রাস্তাঘাট থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের নযিরও আমরা অহরহ দেখছি। আমাদের সমাজে অগণিত মা-বোনের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে পর্নোগ্রাফি।

সম্মিলিত বা গ্রুপ-৩০% পুরুষ বলেছেন তারা এমন পর্নদেখে অভ্যস্ত, যেখানে একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষ বা একজন পুরুষের সাথে একাধিক নারী অথবা একাধিক নারীর সাথে একাধিক পুরুষ যৌনমিলনে লিপ্ত হয়।

লিক হওয়া পর্নো- প্রায় ২৮% পুরুষ বলেছেন তারা নারী ও পুরুষের সজ্ঞানে বা গোপনে ধারণকৃত যৌনমিলনের লিক বা ভাইরাল হয়ে নেটে ছড়িয়ে যাওয়া ভিডিও দেখে অভ্যস্ত। এ ধরনের পর্নোগ্রাফি খুব দ্রুতই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায় ফলে উক্ত নারী-পুরুষের জন্য তা চরম লজ্জার কারণ হয় যেহেতু তারা পেশাদার পর্নতারকা নয়। এই লজ্জার কারণে অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।

বিকৃত যৌনাচার- ৪৩.৩৩% পুরুষ বলেছেন তারা বিকৃত কর্মকান্ড সংবলিত পর্নউপভোগ করে। পায়ুপথে সঙ্গম, উভয়লিঙ্গ, নারীদের পায়ের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ (foot fetishism), নারী সমকামী, অল্প বয়সী বা শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নইত্যাদি এই ধরনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসবের কুফল ব্যাপক। আমাদের এমনও শুনতে হয়েছে যে, দ্বীনদার দম্পতি অথচ স্বামী তার স্ত্রীকে পায়ুপথে সঙ্গম করতে বাধ্য করে।

ইন্সেস্ট (incest) - ‘ইন্সেস্ট’ শব্দটির সাথে অনেকেই পরিচিত নন। ইন্সেস্ট বলতে মূলত বোঝায় নিজের রক্তের সম্পর্কের কারও সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা। অর্থাৎ ভাই-বোন, মা-ছেলে, বাবা-মেয়ে একে অপরের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া (নাউযুবিল্লাহ)। আমাদের জরিপ অনুসারে প্রায় ২০% পুরুষ এই ধরনের পর্নদেখে অভ্যস্ত। আমাদের রক্তের পবিত্র বন্ধনগুলোকে কতটা ঠুনকো করে দিচ্ছে এই যৌনতা তা অভাবনীয়। আজ বাবার কাছে মেয়ে সুরক্ষিত না, ভাইয়ের কাছে বোন সুরক্ষিত না- এমনই এক জগতে আমরা বাস করছি। আমরা জানিও না, হয়তো আমাদের সমাজে হাজার হাজার পুরুষ এই ধরনের পর্নদেখে অভ্যস্ত হয়ে নিজেদের মা-মেয়ে- বোনের দিকেই কুদৃষ্টি দিচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।

বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝতে এক বোনের লেখা আমরা এক নিশ্বাসে পড়ে নিতে পারি। আশা করি লেখাটি থেকে এই ভয়ানক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে আমাদের সুবিধা হবে-

“ মাহরাম পুরুষ!! ইসলাম চৌদ্দ জন মাহরামের গণ্ডি ঠিক করে দিয়েছে আমাদের জন্য। মাহরামের সামনে শালীন পোশাকে থাকতে হয়, অর্থাৎ কেবল সতর ঢাকার বিধান রয়েছে। এই মাহরাম আমাদের কাছে ‘সেফটি’ স্বরূপ। আমরা চোখ বুজে তাদের বিশ্বাস করি। অথচ এই মাহরামের কাছ থেকেও যখন যৌন নিপীড়নের কথা শুনি বুক কেঁপে ওঠে! খণ্ড খণ্ড কয়েকটা ঘটনা বলি...

গতবছর, সম্ভবত জানুয়ারির দিকে এক বোনের জন্য মাসআলা খুঁজতে খুঁজতে হয়রান প্রায়। বোনের সমস্যা ছিল- বোনের সম্মতিতেই তাঁর বাবার সাথে শারীরিক মেলামেশা হয়েছে। বোন তখন ছোট ছিল, দশ-এগারো বছর বয়স, সেসব বুঝতো না। বারো বছর বয়সে বাবা মারা যায়, সতেরো বছর বয়সে বোন দ্বীনের বুঝ পায়। আমাকে যখন কথাগুলো বলছিল, বোনের বয়স তখনও আঠারো পূর্ণ হয়নি। আমার দুনিয়া সেদিন থেমে গিয়েছিল। এটা কি করে হয়! বাবা কীভাবে মেয়ের দিকে হাত বাড়ায়? দশ বছর বয়সী মেয়েটা তো খুব বড়ও নয়। তাহলে!

তখন আমি মাসআলা কোর্সে একদম নতুন, সদ্য শিখছি-শিখছি অবস্থা। এর মাঝে এক বোন খুব ইতস্তত হয়ে উস্তাযাকে বললো তাঁর একটা মাসআলা জানা প্রয়োজন।
অসুস্থ শ্বশুরের সেবা করার সময় শশুরের হাত যদি পুত্রবধূর স্তন ছুঁয়ে যায়, তাহলে গুনাহ হবে কিনা........

হুরমত, তালাক, নিকাহ এই তিন ধরনের মাসআলা-সিকিং পোস্ট আমাদের গ্রুপে এপ্রুভ করা হয় না। করলেও আমরা লিখিত মাসআলা আনার কথা বলে ডাক যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে কমেন্ট অফ করে রাখি। প্রায় দু-তিন মাস আগে হয়েছিল কি-একজন এডমিনের অসতর্কতাবশত হুরমত সংক্রান্ত একটা পোস্ট এপ্রুভ হয়ে যায়, যেখানে কন্যার সাথে বাবার কামনা বিষয়ক কোনো স্পর্শের ঘটনা ঘটলে বাবা মায়ের বিবাহ বন্ধন থাকবে নাকি ডিভোর্স হয়ে যাবে তার ওপর নির্ভর করে আল কাউসারের একটা উত্তর কপি করা ছিল।

আঠারো মিনিটের মাঝে ওই পোষ্ট এতো রিচ হলো আর কমেন্টবক্সে এতো এতো প্রশ্ন আসলো যে বলার বাইরে। আমি স্রেফ মুফতির সাথে যোগাযোগের কথা বলে কমেন্ট অফ করে দিই। ওই মুহূর্তে পোস্টটা ডিলিট করার কোনো রাস্তা ছিল না। সেখান থেকেই এক আপু আমাকে ইনবক্স করে। আপু জানতে চায় যে- বোন ঘুমাচ্ছে, এমন সময় যদি আপন ছোট ভাই তার বোনকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে, তখন বিধান কী? বাবা-মায়ের সম্পর্ক থাকবে তো?

আমি মেসেজটা দেখে থ হয়ে গিয়েছিলাম। ছোট ভাইটা বোনের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে কীভাবে? 'আপু, আপু' করে কি এখনও বোনকে ডাকে? আমার নিজের দুইটা ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়লো তখন। ভাই দুইটা আমাকে ছাড়া কিছু বুঝেনা, ছোটটা তো একদম পাগল আমার জন্য। ওই বোনের ভাইটাও কি এমন ছিল না? ভাই হয়ে মমতাময়ী বোনের দিকে কুনজর কীভাবে দিতে পারে!

গত সপ্তাহে এক আপার মেসেজ এলো। ইয়া বড় মেসেজ। একবার আপন দাদা, অতঃপর আপন মামা কর্তৃক যৌন নিপীড়নের ঘটনা শুনে আমি কেঁদেছিলাম। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা ছিল না। আমি শুধু তাঁর সাথে টুকটাক কথা বলে তাঁর বায়োটা নিয়ে রাখলাম। বোনটার বিয়ে হয়ে যাওয়া জরুরি। নয়তো এই নিপীড়নের যাতাকলে পিষে তাকে মরতে হবে আরও হাজার বার।

আধঘণ্টা আগে একটা ফোন এসেছে। কথা বলা শেষ করে আমি লিখতে বসেছি। আপা শুধু বিলাপ করছিল, আর বলছিল, "আপা বলেন, আমাদের সম্পর্কটা এখনও হালাল আছে! হারাম হয়ে যায়নি..." তাকে মুফতির নাম্বার দিয়ে ফোন রাখলাম। আমার এখনও মাথায় ঘুরছে আপার কথাগুলো শুনে। মাকে স্বীয় স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখেও আমার বোনটা বেঁচে আছে কেমন করে! আমি হলে হয়তো দম আঁটকে মরে যেতাম! নিজের মা, নিজের স্বামী। একজনের পায়ের নিচে জান্নাত আর আরেকজন জান্নাতের সাথি। এতবড় ভয়ানক দৃশ্য বোনটা সহ্য করলো কীভাবে!

মাহরামের এই ধরনের ঘৃণ্য কাজের পেছনে বড় একটা কারণ হলো এই ফিতনার জামানা তথা নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা, পর্নো, আইটেম সং, সাধারণ সিরিয়াল টাইপ টিভি-প্রোগ্রামসহ নানাবিধ জলসা। পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানের অপ্রতুলতা, নারীকে পণ্যে পরিণত করে তোলাও এসবের বড় কারণ।

তবুও মাঝেমাঝে ভয় হয়। এসব শুনলে কেঁপে উঠি এটা ভেবে যে, আমার বাবা-ভাই-মামা-চাচা-দাদার কাছেই বা আমি কতটা নিরাপদ? তারা কি টিভির বেপর্দা নারীদের মতন করে চোখ দিয়ে আমাদেরও গিলে খায়? তাদের কি ভালোবাসা, সম্মান, সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ, লাজ-লজ্জা বলতে এখনো কিছু বাকী আছে? আর ভাবা যায় না, গলা শুকিয়ে যায়। আমাদের জন্য মাহরাম হচ্ছে গাইরে মাহরামদের কাছ থেকে নিজেদেরকে রক্ষার হাতিয়ার। কিন্তু মাহরামই যদি আমাদের ধ্বংস করতে আসে তাহলে আমরা যাব কই?
"
বোন আমিনা বিনতে আব্দুল মুক্বীত-এর লেখা। (কিছুটা পরিমার্জিত)

উপরের অংশের বিষয়বস্তু এমনভাবে সাজানো যাতে নারীগণ পুরুষদের মানসিকতা বুঝে নিজেদের প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। তারা যাতে এই বিষয়ে বেখবর না হন যে পুরুষেরা কতটা গভীর পাপে নিমজ্জিত থাকতে পারে। একজন নারীর জীবনে তার পিতা আছে, ভাই আছে। বিয়ের পর তার জীবনকে উজ্জ্বল করে তার জীবনসঙ্গী। কিন্তু হতেও তো পারে যে, তাদের মাঝে কেউ এই নীল সাগরের অথৈ পাথারে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের হাত ধরে পাড়ে তুলে আনার দায়িত্ব তো নারীরই। নারীদেরকে আল্লাহ এক অসামান্য ক্ষমতা দিয়েছেন- নারীরা বেপর্দা, বেহায়া হয়ে গেলে সমাজ ভঙ্গুর হয়ে যায়; আবার নারীরাই একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত সমাজকে তার প্রকৃত স্থানে ফিরিয়ে আনতে পারে। সার্বিক বিবেচনা করেই দারসটি সাজানো। পুরুষ জাতিকে খাটো করা কস্মিনকালেও আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

বর্তমান সমাজ আমাদেরকে জানান দিচ্ছে যে ভবিষ্যৎ আরও ভয়ানক। আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করছে পর্নোগ্রাফির ঘুটঘুটে অন্ধকার। একজন মা তখনই তার সন্তানকে ওই মরণথাবা থেকে বাঁচাতে পারবে যখন তিনি নিজেই সেই মরণথাবাকে চিনবে। তাই বর্তমান সমাজের এহেন পরিস্থিতি সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখা প্রতিটি নারীর জন্য জরুরত বলেই আমরা মনে করি。

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শিশুরা কি পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত?

📄 শিশুরা কি পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত?


শিশুদের নিষ্পাপ চেহারা দেখলে আমাদের অন্তরে একটা প্রশান্তি অনুভূত হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিশুরা; বিশেষ করে ছেলে বাচ্চাগুলোর মাঝে একটু তাড়াতাড়িই পাকনামো টের পাওয়া যায়। বাসায় কোনো নারী বেড়াতে আসলে এরা তাদের সংস্পর্শে থাকতেই অধিক পছন্দ করে। মাঝে মাঝে কথা বার্তায় একটু অন্যরকম ভাব থাকে। ৬-৭ বছরের বাচ্চাদের মাঝেই এমন দেখা যেতে পারে, এর অধিক বয়সের যারা আছে তাদের কথা তো বাদই দেওয়া গেল।

মূল বিষয় হচ্ছে, আমাদের বর্তমান জামানার আল্ট্রাস্মার্ট পিতামাতাগণ খুব অল্প বয়সে বাচ্চাদের হাতে ইন্টারনেট সমেত ফোন বা কম্পিউটার তুলে দিচ্ছেন। আর এর পরিণতি কেমন হতে পারে এই বিষয়ে অভিভাবকগণ থাকে সম্পূর্ণ বেখবর। ইন্টারনেট আজ এতোটাই খোলামেলা যে, কেবল কয়েকটি টাচ বা ক্লিকের ব্যবধানে জিনায় জড়ানো সম্ভব। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কর্মরত একটি বিদেশি সংস্থার মতে, পর্নোগ্রাফি ভিডিও বা পর্নোসাইট আকস্মাৎভাবে বাচ্চাদের চোখের সামনে চলে আসাই ছোটকাল থেকে পর্নাসক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পর্নসাইটগুলোতে বয়সের তথাকথিত সীমা ১৮ বা তার বেশি। অথচ কেবল একটি ক্লিক করেই ১৮ বছরের কম বয়স্ক শিশুরাও সাইটগুলোতে ঢুকতে পারে। পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার গড় বয়স মাত্র ১১ বছর। ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই প্রায় ৯৩.২% ছেলে এবং ৬২.১% মেয়ের সামনে পর্নোগ্রাফি উন্মুক্ত হয়। [২]

অস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ফ্যামিলি স্টাডি-এর এক জরিপে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য। সেখানে এক মাস ধরে জরিপ চালিয়ে দেখা গিয়েছে ৪৪% শিশু যাদের বয়স সর্বনিম্ন ৯ বছর, তাদের সামনে কোনো না কোনোভাবে অশ্লীল কন্টেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। [৩]

অনলাইন সিকিউরিটি কোম্পানি বিটডিফেন্ডার-এর নতুন গবেষণায় জানা যায় যে, পর্নোগ্রাফি সাইটে যারা প্রবেশ করে তাদের মাঝে ২২% ই দশ বছরের কম বয়সী শিশু। সেখানে আরও বলা হয় যে, ১০ জনের মধ্যে ১ জন ১০ বছরের কম বয়সী শিশু অশ্লীল ভিডিওর সাইটে প্রবেশ করে। [৪]

ইন্টারনেট ঘাটলে এমন আরও শত শত সার্ভে পাওয়া যাবে যেখানে এই ভয়ানক বিষয়টির সত্যতা উঠে এসেছে। পর্নোগ্রাফির এই ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত নয় কোমলমতি শিশুরাও।

এমতাবস্থায় আমাদের করণীয়
◆ নারীদের উচিত মাহরাম নয় এমন শিশুর সামনে নিজেদের পর্দার বিষয় খেয়াল রাখা। খুব ভালোভাবে বাচ্চাটির চাল-চলন, কথাবার্তা, চাহনী ইত্যাদির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এরপর যদি সেই শিশুর সামনে পর্দা জরুরি বলে মনে হয় তাহলে পর্দা নিশ্চিত করা নারীদের দায়িত্ব。
◆ নারীরা তাদের ঘরের বাচ্চাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে। ছোট ভাই, ভাগ্নে, ভাতিজা কিংবা নিজের সন্তান-তাদের দিকে খুব ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত খুব প্রয়োজন না হলে তারা যাতে কোনোমতেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংস্পর্শে না আসতে পারে。
◆ বাচ্চারা বাসার বড়দের কারো মুঠোফোন লুকিয়ে লুকিয়ে চালাচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখা জরুরি。
◆ যখন তাদের যথেষ্ট বুঝ হবে তখন ইলেকট্রনিক মিডিয়া তাদের হাতে দেওয়ার প্রয়োজন হলে এর পূর্বে এসবের কুফল অবশ্যই বর্ণনা করে তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে。
◆ এরপরও তাদেরকে একদম ছেড়ে দিলে চলবে না। ইন্টারনেটে তারা কি করে সেদিকে জোর নজরদারিতা রাখতে হবে。
◆ সেই ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বিভিন্ন প্যারেন্টিং সিকিউরিটি ব্যবহার করা যেতে পারে。

টিকাঃ
২]https://www.netnanny.com/blog/the-detrimental-effects-of-pornography-on-small-children/
৩] https://aifs.gov.au/publications/effects-pornography-children-and-young-people-snapshot
8] https://www.netnanny.com/blog/the-detrimental-effects-of-pornography-on-small-children/

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00