📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 চাকরি বা ব্যবসা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

📄 চাকরি বা ব্যবসা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর


৩১. কেউ যদি পড়াশোনা শেষ করে শুধু বাবা-মায়ের খেদমতের জন্যই চাকরি করে আয় করতে চায় এবং বিয়ের পরেও অর্জিত অর্থ তার বাবা-মাকে দিয়ে দিতে চায়। তার এই সিদ্ধান্ত ঠিক কি হবে?
◆ মেয়ের অর্জিত বা মালিকানাধীন টাকা সম্পূর্ণ তার। এটি তিনি যেকোনো জায়েয ও হালাল খাতে ব্যয় করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। কিন্তু কথা হলো তিনি চাকরি কেন করবেন? বাবা-মা কি অক্ষম কিংবা তাদের পরিবার চালানোর আর কেউ নেই? নাকি আবেগ থেকেই এমন চিন্তা এসেছে? কেবল এরকম আবেগের বশে মেয়েদের চাকরি করা জায়েয নেই।

৩২. আমি একটি চাকরি করি। এখানে সব সময়ই গাইরে মাহরামদের সাথে কাজ করতে হয়। বোরকা পরলেও নিকাব পরা সম্ভব হয় না। আমার স্বামী চায় যে আমি চাকরি করি। চাকরির কারণে আরো কিছু বিষয় আমাকে করতে হয় বা মেনে নিতে হয়, যা শরী'আহ অনুমোদন দেয় না। যেমন শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা বা অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি। চেহারা খোলা থাকায় কি আমার গুনাহ হচ্ছে? চাকরিটা কি আমার জন্য হালাল হচ্ছে?
◆ চেহারা খোলা থাকলে গুনাহ হবে, গাইরে মাহরামদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে না চলা, মিনারে ফুল দেওয়া, গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা- এগুলো সবই হারাম কাজ। স্বামীর কথা এ ক্ষেত্রে মানা জায়েয নেই।

৩৩. নারী ডাক্তার কি পুরুষের চিকিৎসা করতে পারবে? যেমন ডেন্টিস্টদের কাজই থাকে মুখের ভিতর। তাহলে তারা কি পুরুষদের চিকিৎসা করতে পারবে?
◆ ছোট বাচ্চা আর একদম বয়োবৃদ্ধ পুরুষ ছাড়া অন্যান্য পুরুষদের চিকিৎসা করতে পারবে না।

৩৪. কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণ-পোষণের খরচ বহন না করে এমনকি স্ত্রীকে যদি চাকরি করার অনুমতি না দেয় সেক্ষেত্রে ওই স্ত্রীর চাকরি করা কি জায়েয হবে?
◆ পর্দা রক্ষা করে জায়েয।

৩৫. আমরা দুই বোন। আমাদের বাবা-মা বয়স্ক এবং আমরা ব্যতীত কার্যক্ষম আর কেউ নেই। এমতাবস্তায় পরিবার চালানোর জন্য অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে চাকরি করলে কি গুনাহ হবে?
◆ শরী'আতের বিধান ঠিক রেখে চাকরি করতে পারলে গুনাহ হবে না ইন শা আল্লাহ। তবে বিবাহিত হলে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি লাগবে।

৩৬. বর্তমান সময় অনেক পুরুষই তার স্ত্রীকে নিচু করে দেখে শুধু সে যথেষ্ট শিক্ষা অর্জন করেও কোনো চাকরি করে না বলে। তারা ভাবে সংসারে তাদের আর্থিক কোনো অবদান নেই বলে তাদের মতামতেরও কোনো গুরুত্ব নেই। পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পুরুষদের এই মনোভাব দেখে দ্বীনের বুঝদার অনেক বোনও চাকরি করা ছাড়া বিয়ে করতে চান না। এক্ষেত্রে বোনদের জন্য নাসীহাহ কী হবে?
◆ সামাজিক এই বিরূপ মানসিকতা দূর করতে হবে। বোনদের বুঝতে হবে আসল সম্মান ও মর্যাদা তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্ধারণ করেছেন। এতেই পরম সৌভাগ্য ও সম্মান নিহিত। দুনিয়ার মানুষের নির্ধারিত সম্মান প্রকৃত সম্মান নয়। আল্লাহ নারীদের সংসার গোছানো ও সংসারে সন্তানের দ্বীনি তারবিয়াতের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। এতেই তাদের সম্মান নিহিত। সর্বোপরি দ্বীনদার মেয়েদের উচিত দ্বীনদার কোনো পাত্র দেখে বিয়ে করা। কেননা একজন প্রকৃত দ্বীনদার পুরুষ এমন চিন্তাধারা লালন করবে না বরং সে চাইবে তার স্ত্রীকে তাবত দুনিয়ার মানুষের নজর থেকে আগলে রাখতে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00