📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিজের অজান্তে যেভাবে পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে

📄 নিজের অজান্তে যেভাবে পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে


দৈনন্দিন জীবনে চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই নিজেদের অজান্তেই আমাদের পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে। কেবল বোরকা-নিকাব, হাত-পা মোজা পরিধান করেই পর্দা হয়ে গেল বিষয়টা এমন না, যা আমরা পূর্বের দীর্ঘ আলোচনা থেকে ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো তো রয়েছেই, এর পাশাপাশি ঘরের বাহিরে থাকাকালে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা জরুরি-

■ নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে সুগন্ধি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমরা পূর্বে জেনেছি। সুগন্ধি বলতে যে কেবল পারফিউম বা বডি স্প্রে বোঝাচ্ছে বিষয়টা কিন্তু এমন না। বাজারে এমন বডি লোশন, চুলের তেল, ফেস ক্রিম ইত্যাদি প্রসাধনী রয়েছে যেসবেৱ গন্ধ পারফিউমের চেয়ে কম কিছু না। সেগুলোর সুগন্ধি যদি এতটা কড়া হয় যে তা পরপুরুষের নাকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেসব প্রসাধনীও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

■ অনেকেই এমন আছেন যারা বাহিরে বের হলে নিকাব পরিধান করেন সাথে চোখে কাজল বা সুরমা দেন। অথচ কাজল বা সুরমা নারীদের সাজসজ্জার অন্তর্ভুক্ত যা কেবল মাহরাম, নারী ও স্বামী ব্যতীত অন্যদের সামনে প্রকাশ করা বৈধ নয়।

• অনেকের বোরকার আস্তিন/হাতা এতটা ঢোলা হয় যে হাত সামান্য তুলতে গেলেই কজিসহ হাত উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাই বোরকার হাতার বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।

• বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি বা ঢং রয়েছে, যা নারীদের ক্ষেত্রে সহজাত। নারীদের এসব ঢং পুরুষদের মনে আবেদন জাগায়, আর সেটা পুরুষদের সহজাত। অনেকে রাস্তাঘাটে, বিশেষত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বান্ধবী ও সমবয়স্কাদের সাথে চলাফেরা করার সময় ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সেসব ঢং প্রকাশ করে ফেলে। বর্তমানে যেহেতু প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা প্রচলিত তাই সেসব অঙ্গভঙ্গি বা ঢং কোনো পরপুরুষের চোখের সামনে প্রকাশিত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই এই বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

• ঘরের বাহিরে নিকাবের নিচ দিয়ে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় নিজের অজান্তে চেহারার কিছু অংশ; তথা গাল, চিবুক, মুখ ইত্যাদি প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে। সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

• কোনো বস্তু নিচে পড়ে গেলে উঠানোর সময় এমনভাবে বসা উচিত যাতে কোনোমতেই কোমরের মাপ প্রকাশিত না হয়। অনুরূপ, চেয়ার জাতীয় স্থানে বসার ক্ষেত্রেও উক্ত বিষয়টি লক্ষণীয়।

■ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে পুরুষদের থেকে দূরে এবং পিছনের দিকে বসার চেষ্টা করতে হবে, যাতে পুরুষদের দৃষ্টির সামনে বারবার পড়তে না হয়। পুরুষ ক্লাসমেটদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা, হাসাহাসি, ঠাট্টা করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।

■ গণপরিবহনে ওঠা ও নামার সময় বিশেষ খেয়াল রাখবেন হেল্পার/কন্ডাক্টর গায়ে হাত দিচ্ছে কিনা। অনেক সময় তারা বাহনে উঠতে বা বাহন থেকে নামতে সাহায্য করার নামে পিঠে বা কোমরে ইচ্ছা করে হাত লাগিয়ে দেয়। তাই গণপরিবহণে ওঠা-নামার সময় প্রয়োজনে তাদেরকে বলুন নেমে দাঁড়াতে।

■ গণপরিবহণে ওঠার আগে দেখে নিন নারীদের সিট ফাঁকা আছে কিনা। তাহলেই সেই পরিবহনে উঠুন। আর যদি দেখেন যে নারীদের সিটে পুরুষেরা বসে আছে এবং অন্যত্র পর্দা রক্ষা করে বসা সম্ভব নয় তাহলে অধিকার সচেতন হয়ে তাদেরকে উঠতে বলুন সহজ ভাষায়। একদমই কোনো উপায় না থাকলে প্রয়োজনে দুটি সিটের ভাড়া দিন যাতে পাশে কোন পুরুষ না বসতে পারে।

■ রাতের দিকে যদি একা ভ্রমণ করতেই হয় তাহলে যাত্রীপূর্ণ গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করবেন। চারদিকে নজর রাখবেন, আসে পাশের পুরুষদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করবেন। কিছুটা সমস্যা মনে হলে গাড়ি থেকে নেমে পড়ুন। সর্বাবস্থায় রাত্রীকালে একা চলাচল পরিহার করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00