📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারী ও পুরুষের সহশিক্ষার বিধান

📄 নারী ও পুরুষের সহশিক্ষার বিধান


আল্লাহ নারী-পুরুষের মাঝে সৃষ্টিগত ও স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হিসেবেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একটি বিশেষ আকর্ষণ প্রদান করেছেন। নারী ও পুরুষ জাতির মাঝে এই পারস্পরিক আকর্ষণ একদমই স্বাভাবিক। কিন্তু মহান আল্লাহ সৃষ্টির সকল জীব ও ব্যবস্থাপনার মাঝে একটি ভারসাম্য ও সীমারেখা নির্দিষ্ট করেছেন। শরী'আহসম্মত বিবাহ ও শরী'আহ নির্ধারিত মাহরাম ব্যতীত কোনো নারী-পুরুষ একে অপরের সাথে অযথা সাক্ষাৎ করা কিংবা উঠবস করা অথবা অবাধে মেলামেশা হয় এমন পরিবেশে অবস্থান করা জায়েয নেই। আল্লাহ বলেন,

هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا )

তিনি ওই সত্তা, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন। এবং এর মাঝ থেকেই তিনি তোমাদের একে অপরের (বৈবাহিক) জোড়া নির্ধারণ করেছেন, যাতে করে সে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। [২৬]

এই আয়াতে আল্লাহ নারী ও পুরুষকে তার নির্ধারিত সীমারেখার মাঝে অবস্থানের রূপরেখা দেখিয়েছেন। সুতরাং বৈবাহিক সম্পর্ক ও আল্লাহ যাদের সাথে বিবাহ হারাম করেছেন তারা ব্যতীত বেগানা নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে নিষেধ সেটি হোক শিক্ষা ক্ষেত্রে কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্রে। আল্লাহ কুরআনে পরিষ্কারভাবে বলেন,

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

আর তোমরা তাঁর (নবী -এর) স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার বিষয়। [২৭]

ইমাম কুরতুবী উক্ত আয়াতের আলোচনায় বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ -এর স্ত্রীদের কাছে কোনো প্রয়োজনে পর্দার আড়াল থেকে কিছু চাওয়া বা কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিয়েছেন। অন্যান্য সকল মু'মিন নারীরাও উপরোক্ত হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। [২৮] কিন্তু গুনাহে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা থাকলে তাও জায়েয নেই। রাসূল ইরশাদ করেন,

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ، وَالنِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى ، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

চোখের জিনা হলো—(হারام) দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হলো—(গাইরে মাহরামের যৌন উদ্দীপক) কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহ্বার জিনা হলো-(গাইরে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক) কথোপকথন। হাতের জিনা হলো-(গাইরে মাহরামকে) ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হলো- (খারাপ উদ্দেশ্যে) চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় (যদি জিনা করে) এবং মিথ্যায় পরিণত করে (যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে)। [২৯]

রাসূল আরও বলেছেন,
لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان
কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত না হয়। কেননা শয়তান তাদের ৩য় জন হয়! (অর্থাৎ শয়তান তাদের পরস্পরের মাঝে কুমন্ত্রণা প্রদান করে। [৩০]

আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল বলেন,
لا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم، ولا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، فقام رجل فقال: يا رسول الله، إن امرأتي خرجت حاجة، وإني اكتُتِبْتُ في غزوة كذا وكذا، قال: انطلق فحج مع امرأتك؛

মাহরাম পুরুষ ছাড়া যেন কোনো নারী কোনো পুরুষের সাথে নির্জনে মিলিত না হয় এবং মাহরাম ছাড়া কোনো নারী যেন একা সফর না করে। এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো অমুক অমুক যুদ্ধে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছি আর আমার স্ত্রী (একা) হজ্জের সফরে বের হয়েছে।” নবী বললেন- "এখান থেকে উঠো এবং তোমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে হজ্জ করো।” [৩১]

আ'তা ইবনু আবী রবাহ থেকে বর্ণিত,
لو انتمنت على بيت مال لكنت أميناً، ولا آمن نفسي على أمة شوهاء
যদি আমাকে বাইতুলমালের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, আমি অবশ্যই বিশ্বস্ত থাকতে পারব। কিন্তু আমি আমার নিজের নফসকে (প্রবৃত্তিকে) কোনো কুৎসিত দাসীর নিকটও নিরাপদ ও বিশ্বস্ত মনে করি না! [৩২]

উপরে উল্লেখিত বিষয়সমূহ উপেক্ষা করে অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হওয়া একেবারেই অসম্ভব। এছাড়া পুরুষের মতোই নারীদের ক্ষেত্রেও গাইরে মাহরাম পুরুষদের দিকে তাকানো জায়েয নেই, যা আমরা পূর্বেও জেনেছি। সহশিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে নারী- পুরুষের একে অপরের সাথে অবাধ মেলামেশা, দৃষ্টিপাত, কথাবার্তা ইত্যাদির মাধ্যমে শরী'আহ লঙ্ঘন কোনো না কোনোভাবে হয়েই যায়। মোদ্দাকথা হলো, সহশিক্ষার পরিবেশে শরী'আতের বিধান পালন সম্ভবপর হয় না। সুতরাং সহশিক্ষা ও নারী- পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামী শরী'আহ কখনই সমর্থন করে না।

উপরন্তু আল্লাহর বিধানের বিপরীতে সমাজব্যবস্থা আজ পর্দার এমন লঙ্ঘন করছে যে, এর ফলে সমাজে যুবক-যুবতিদের মাঝে যেমন নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে তেমনি সমাজে বেড়েছে অবৈধ সন্তানের হিড়িক। আর এই বেপর্দার অভিশাপ আজকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পোহাতে হচ্ছে। অবৈধ যৌনাচার, অশ্লীলতা, অবৈধ উপার্জন, খুন, ধর্ষণসহ বহুবিধ অপরাধের মূল কারণ হচ্ছে এই পর্দাহীনতা এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।

টিকাঃ
[২৬] সূরা আ'রাফ- ১৮৯
[২৭] সূরা আহযাব- ৫৩
[২৮] তাফসীরে কুরতুবী- ১৪/২২৭
[২৯] সহীহ মুসলিম- ২৬৫৭; মুসনাদে আহমাদ-৮৯৩২
[৩০] জামে তিরমিযী- ৪/৪৬৫, হাদীস- ২১৬৫; সুনানে নাসায়ী- ৫/৩৮৭ হাদীস- ৯২১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান- ১০, ১৫/৪৩৬, ১২২, হাদীস- ৪৫৭৬, ৬৭২৮; মুসনাদে আহমাদ- ৩/৪৪৬, হাদীস- ১৫৭৩৪; আদ দ্বিয়া ফিল আহাদীসিল মুখতারাহ- ১/১৯১ ও ১৯২, হাদীস- ১৬
[৩১] সহীহ বুখারী- ৩/১০৯৪, হাদীস- ২৮৪৪; সহীহ মুসলিম- ২/৯৭৮, হাদীস- ১৩৪১
[৩২] সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, যাহাবী- ১/৯৬; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম তরজমা- ২৪৪

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের সুগন্ধি প্রসাধনী ব্যবহার

📄 নারীদের সুগন্ধি প্রসাধনী ব্যবহার


ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের জন্য পারফিউম বা সুগন্ধি ব্যবহার করে পরপুরুষদের নিকট দিয়ে গমনের ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ
যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে লোকজনের নিকট দিয়ে গমন করে, ফলে লোক সকল তার ঘ্রাণ পায়, সে নারী ব্যভিচারিণীর সমতুল্য। [৩৩]

কেননা, নারী দেহের সুগন্ধ পরপুরুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে বা যৌনতার দিকে আহ্বান করে। তবে স্বামী, মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ হারাম) এবং মহিলা অঙ্গনে তা ব্যবহারে কোনো দোষ নেই। ঘ্রাণ ছড়িয়ে যায় এমন সুগন্ধি ব্যবহার করে বাহিরে গমন নিষেধ। তবে হালকা সুগন্ধি, যেটাতে ঘ্রাণ ছড়ায় না তা ব্যবহার করাতে সমস্যা নেই। মহিলারা সুগন্ধি ব্যবহার করলে এবং ঘরের বাইরে যাওয়ার পর কোনো পরপুরুষের মাধ্যমে তার দেহের সুঘ্রাণ পাওয়ার উপক্রম হবে বলে ধারণা হলে তাদের ওপর আবশ্যক হলো, সুগন্ধির স্থানটি এমনভাবে ধুয়ে ফেলা যেন কোনো সুগন্ধি অবশিষ্ট না থাকে। তবে এতে গোসল করা আবশ্যক নয়। নবী বলেন,

أَيُّمَا امْرَأَةً تَطَيَّبَت ثُمَّ خَرَجَتْ إِلَى المَسجِدِ لَم تُقبَل لَهَا صَلاةُ حَتَّى تَعْتَسِل
যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, তা ধৌত না করা পর্যন্ত তার কোনো সালাত কবুল হবে না। [৩৪]

ইমাম মুনাবী ফায়যুল ক্বাদীর গ্রন্থে বলেন, “এখানে تغتسل দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ধৌত করার মাধ্যমে বা অন্য কোন উপায়ে সুগন্ধি দূর করা।" সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদে এসেছে,

عن أبي هريرة أن امرأة مرت به تعصف ريحها فقال: يا أمة الجبار المسجد تريدين؟ قالت: نعم، قال: وله تطيبت؟ قالت: نعم، قال: فارجعي فاغتسلي فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ما من امرأة تخرج إلى المسجد تعصف ريحها فيقبل الله منها صلاة حتى ترجع إلى بيتها فتغتسل

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে যে, এক নারী মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর পাশ কেটে এমন সুগন্ধি লাগিয়ে যাচ্ছিলেন যার ঘ্রাণ ছড়াচ্ছিল, তখন তিনি তাকে বললেন, “হে আল্লাহর বান্দী, তুমি কি মসজিদে যেতে চাচ্ছ?" মহিলাটি বললেন- "জি।” তিনি বললেন- “তুমি কি সুগন্ধি ব্যবহার করেছ?" মহিলাটি বললেন- "জি।” তিনি বললেন- "ঘরে ফিরে যাও অতঃপর সুগন্ধি ধুয়ে এসো, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল থেকে শুনেছি- যেই নারী ঘ্রাণ ছড়ায় এমন সুগন্ধি ব্যবহার করে মাসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় তার সালাত কবুল করা হবেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত সে বাড়িতে ফিরে গিয়ে তা ধৌত করে আসে।"

টিকাঃ
[৩৩] নাসাঈ- ৫১২৬; মুসনাদে আহমাদ- ৮৭৭৩; মুসনাদে বাযযার- ৮২৫৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ- ২৬৮৬৪; মুসনাদে আবু ইয়ালা- ৬৪৪৯; ফয়যুল ক্বদীর- ৩/১৫৫
[৩৪] সুনানে ইবনে মাজাহ-৪০০২

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 অলংকার প্রদর্শিত হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিধান

📄 অলংকার প্রদর্শিত হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিধান


গাইরে মাহরামদের সামনে নারীদের পরিহিত অলংকার যাতে প্রদর্শিত না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ কুরআনুল কারীমে বলেন,

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ )

তারা যেন তাদের সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। [৩৫]

তাফসীরে ত্ববারীতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, তারা যেন বেগানা পুরুষের সামনে নিজের যীনাত (অলংকার) তথা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। যীনাত মূলত দুই প্রকার:-
◇ যা অভ্যন্তরীণ, যেমন: নুপুর, চুড়ি, কানের দুল, গলার হার ইত্যাদি。
◇ যা এমনিতেই প্রকাশ পায়, এই আয়াতের ভিত্তিতে তা আবার বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন কারো মতে তা হচ্ছে- পোশাকের বাহ্যিক সৌন্দর্য। [৩৬]

সাহাবাগণ ও তাবেয়ীগণ , ইমাম সুয়ূত্বী, আল্লামা শাওকানী, আল্লামা মুহাম্মাদ আমীন আশ শানক্কিতি, আল্লামা যামাখশারী সহ প্রমুখ এই আয়াতের একই ব্যাখ্যা করেছেন। [৩৭]

টিকাঃ
[৩৫] সূরা নূর- ৩১
[৩৬] তাফসীরে ত্ববারী- ১৯/১৫৫, সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য
[৩৭] আদ দুররুল মানসূর- ১১/২২-২৩; ফাতহুল কাদীর (তাফসীরে শাওকানী)- ৪/৩১-৩২; আদ্বওয়াউল বায়ান ফী ইদ্বাহিল কুরআন বিল কুরআন- ৫/৫১২

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিজের অজান্তে যেভাবে পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে

📄 নিজের অজান্তে যেভাবে পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে


দৈনন্দিন জীবনে চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই নিজেদের অজান্তেই আমাদের পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে। কেবল বোরকা-নিকাব, হাত-পা মোজা পরিধান করেই পর্দা হয়ে গেল বিষয়টা এমন না, যা আমরা পূর্বের দীর্ঘ আলোচনা থেকে ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো তো রয়েছেই, এর পাশাপাশি ঘরের বাহিরে থাকাকালে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা জরুরি-

■ নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে সুগন্ধি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমরা পূর্বে জেনেছি। সুগন্ধি বলতে যে কেবল পারফিউম বা বডি স্প্রে বোঝাচ্ছে বিষয়টা কিন্তু এমন না। বাজারে এমন বডি লোশন, চুলের তেল, ফেস ক্রিম ইত্যাদি প্রসাধনী রয়েছে যেসবেৱ গন্ধ পারফিউমের চেয়ে কম কিছু না। সেগুলোর সুগন্ধি যদি এতটা কড়া হয় যে তা পরপুরুষের নাকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেসব প্রসাধনীও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

■ অনেকেই এমন আছেন যারা বাহিরে বের হলে নিকাব পরিধান করেন সাথে চোখে কাজল বা সুরমা দেন। অথচ কাজল বা সুরমা নারীদের সাজসজ্জার অন্তর্ভুক্ত যা কেবল মাহরাম, নারী ও স্বামী ব্যতীত অন্যদের সামনে প্রকাশ করা বৈধ নয়।

• অনেকের বোরকার আস্তিন/হাতা এতটা ঢোলা হয় যে হাত সামান্য তুলতে গেলেই কজিসহ হাত উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাই বোরকার হাতার বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।

• বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি বা ঢং রয়েছে, যা নারীদের ক্ষেত্রে সহজাত। নারীদের এসব ঢং পুরুষদের মনে আবেদন জাগায়, আর সেটা পুরুষদের সহজাত। অনেকে রাস্তাঘাটে, বিশেষত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বান্ধবী ও সমবয়স্কাদের সাথে চলাফেরা করার সময় ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সেসব ঢং প্রকাশ করে ফেলে। বর্তমানে যেহেতু প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা প্রচলিত তাই সেসব অঙ্গভঙ্গি বা ঢং কোনো পরপুরুষের চোখের সামনে প্রকাশিত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই এই বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

• ঘরের বাহিরে নিকাবের নিচ দিয়ে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় নিজের অজান্তে চেহারার কিছু অংশ; তথা গাল, চিবুক, মুখ ইত্যাদি প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে। সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

• কোনো বস্তু নিচে পড়ে গেলে উঠানোর সময় এমনভাবে বসা উচিত যাতে কোনোমতেই কোমরের মাপ প্রকাশিত না হয়। অনুরূপ, চেয়ার জাতীয় স্থানে বসার ক্ষেত্রেও উক্ত বিষয়টি লক্ষণীয়।

■ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে পুরুষদের থেকে দূরে এবং পিছনের দিকে বসার চেষ্টা করতে হবে, যাতে পুরুষদের দৃষ্টির সামনে বারবার পড়তে না হয়। পুরুষ ক্লাসমেটদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা, হাসাহাসি, ঠাট্টা করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।

■ গণপরিবহনে ওঠা ও নামার সময় বিশেষ খেয়াল রাখবেন হেল্পার/কন্ডাক্টর গায়ে হাত দিচ্ছে কিনা। অনেক সময় তারা বাহনে উঠতে বা বাহন থেকে নামতে সাহায্য করার নামে পিঠে বা কোমরে ইচ্ছা করে হাত লাগিয়ে দেয়। তাই গণপরিবহণে ওঠা-নামার সময় প্রয়োজনে তাদেরকে বলুন নেমে দাঁড়াতে।

■ গণপরিবহণে ওঠার আগে দেখে নিন নারীদের সিট ফাঁকা আছে কিনা। তাহলেই সেই পরিবহনে উঠুন। আর যদি দেখেন যে নারীদের সিটে পুরুষেরা বসে আছে এবং অন্যত্র পর্দা রক্ষা করে বসা সম্ভব নয় তাহলে অধিকার সচেতন হয়ে তাদেরকে উঠতে বলুন সহজ ভাষায়। একদমই কোনো উপায় না থাকলে প্রয়োজনে দুটি সিটের ভাড়া দিন যাতে পাশে কোন পুরুষ না বসতে পারে।

■ রাতের দিকে যদি একা ভ্রমণ করতেই হয় তাহলে যাত্রীপূর্ণ গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করবেন। চারদিকে নজর রাখবেন, আসে পাশের পুরুষদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করবেন। কিছুটা সমস্যা মনে হলে গাড়ি থেকে নেমে পড়ুন। সর্বাবস্থায় রাত্রীকালে একা চলাচল পরিহার করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00