📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পর্দা করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি আপলোড

📄 পর্দা করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি আপলোড


পর্দা করে নিজের ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড দেওয়া কোনো ভদ্র, সভ্য ও রুচিশীল নারীর কাজ হতে পারেনা। মু'মিন-মু'মিনাহগণ অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে। তাই এসব অনর্থক কাজ পরিহার করতে হবে। [৯] আল্লাহ বিশ্বাসীদের গুনাবলি বর্ণনা করে বলেন,
وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا)
যখন তারা অনর্থক বিষয়ের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে যায় তখন সম্মানের সাথেই এড়িয়ে চলে। [১০]

রাসুলুল্লাহ বলেন,
من حسن إسلام المرء: تركه مالا يعنيه
ইসলামের অনুপম দিক সমূহের মাঝে অন্যতম দিক হচ্ছে- কোনো (মুসলিম) ব্যাক্তি (যাবতীয়) অনর্থক কাজ পরিহার করবে। [১১]

হাদীসটি বিভিন্ন সনদে কতিপয় সাহাবীদের থেকে হাসান ও যঈফ সূত্রে রিওয়ায়াত হয়েছে। ইমাম নববী-সহ বেশ কজন মুহাদ্দিস এ হাদীসকে সহীহ ও হাসান বলেছেন।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ বলেন,
وقد جمع النبي صلى الله عليه وسلم الورع كله في كلمة واحدة، فقال: (من حسن إسلام المرء تركه مالا يعنيه، فهذا يعم الترك لما لا يعني: من الكلام، والنظر، والاستماع، والبطش، والمشي، والفكر، وسائر الحركات الظاهر والباطن، فهذه كلمة شافية في الورع
নবী এই একটি কথার মাঝে তাকওয়া ও আল্লাহ ভীরুতার সকল কথা ও নির্দেশের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। সুতরাং এখানে অনর্থক কাজ পরিহার করার ব্যাপকতা হচ্ছে- কথায়, নজরে, শ্রবণে, ধরায়, চলায়, চিন্তা করায় ও সকল বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনর্থক কাজ পরিহার করা। আর এসকল বিষয়ই হচ্ছে আল্লাহ ভীরুতার সাথে সংশ্লিষ্ট। [১২]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেয়া ভদ্র ও চরিত্রবান মেয়েদের ক্ষেত্রে দৃষ্টি কটু দেখা যায়। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ )
যারা সতী-সাধ্বী (মুহস্বানাত), নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। ১৩

এই আয়াতের 'মুহস্বানাত'- এর ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারীর তবারী বলেন,
يعني العفيفات
- পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী, যারা অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেমালুম (বহু দূরত্বে অবস্থানকারী)।

'আল্লামা আলুসী বলেন, "পবিত্রতার সার্বিক উপাদান নিয়ে বেড়ে উঠা এবং উত্তম চরিত্রের ওপর লালিত-পালিত হওয়ার কারণে অন্য কোনো চিন্তা ও মানসিকতা তাদের কল্পনায় আসে না। এই গুণ পূর্ণ নিষ্কলুষতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার প্রমাণ বহন করে... [১৪]

অন্যত্র রয়েছে- "আত্মার ব্যাধিমুক্ত স্বচ্ছ অন্তরের নারীদের মধ্যে প্রবঞ্চনামূলক چাতুর্য নেই। তাদের স্বভাব-প্রকৃতিতে অসৎ কোনো মনোবাসনা নেই। শৈশবকাল থেকেই এই স্বভাব তাদের চরিত্রশীল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।"[১৫]

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি না দেওয়ার আরও অনেকগুলো কারণ রয়েছে-
◆ অফলাইনে অর্থাৎ রাস্তাঘাটে পুরুষেরা একটা মেয়ের দিকে খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকাতে পারে না বললেই চলে। কেননা এতে লোকচক্ষুর ভয় রয়েছে, লজ্জাশীলতা রয়েছে। কিন্তু যখন সেই পুরুষ এমনই নারীর ছবি অনলাইনে পেয়ে যায় তখন সেই নারীর দিকে বাজে দৃষ্টি দেওয়া থেকে তাকে বাঁধা দেওয়ার মতো আর কিছুই থাকে না। তার নজর তখন এমন সব স্থানেও চলে যেতে পারে যেসব স্থান সেই নারী কখনই চাবে না কোনো পুরুষের চোখে এভাবে ফুটে উঠুক। অনেকেই ভাবতে পারে, পর্দা করে ছবি দিলে হয়তো সেই আশঙ্কা নেই। এই ধারণা একদমই ভুল। যে পুরুষ নির্লজ্জ, তার কাছে বেপর্দা আর পর্দানশীলের মাঝে কোনো ফারাক নেই।

◆ বদনজরের কারণ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি আপলোড করা। আপনি জানেনও না আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় এমন কত মানুষ আছে। আপনার ছবি দেখে যদি তারা ঈর্ষায় ভুগে তাহলে অনেক সম্ভবনা রয়েছে বদনজরের শিকার হওয়ার। তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ছবি আপলোড করা থেকে বিরত থাকা উচিত, হোক তা পর্দাবৃত বা খোলামেলা। অনেক সংসারও ভেঙে যায় বদনজরের কারণে। স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গ কিছু মূহুর্তের ছবি অনলাইনে আপলোড করে অনেকে, অথবা সেসব মূহূর্তের কথা কিছু মধুর শব্দের সমন্বয়ে ফুটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বুভুক্ষ চোখের সামনে তুলে ধরে অনেক নারী। এসবও বদনজরের কারণ হতে পারে। কত ঘর ভেঙেছে এরকম বদনজরের কারণে তা আল্লাহই ভালো জানেন। তাই যদি কেউ সত্যিই তার স্বামীকে ও তার সংসারকে ভালোবেসে থাকে তাহলে তার উচিত এসব থেকে বিরত থাকা।

• ছবি ব্যবহার করে জঘন্যতম ও বিশ্রী কালোজাদু করা যায় খুব সহজে। আমরা হয়তো অনেকেই এমন দেখেছি যে কালোজাদুর জন্য যেসব ছবি ব্যবহার করা হয় সেসব ছবির উপর বিভিন্ন আঁকিঝুঁকি, বিভিন্ন লেখা, ক্রস, ছক, রক্তের ছোপ ইত্যাদি থাকে। সংসার ধ্বংস, বিচ্ছেদ, বন্ধাকরণ এমনকি জীবননাশের জন্যও এসব জাদু করা হয়ে থাকে। যারা জাদু করে তারা এসব ছবি সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই সংগ্রহ করে নিতে পারে খুব সহজে। তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি আপলোড করা থেকে পরিপূর্ণভাবে বিরত থাকা জরুরি।

• এছাড়া নারীদের বেপর্দা, পর্দা করা এমনকি ছোট্ট অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ছবিও অনলাইনে পোস্ট করা উচিত নয়। রোমহর্ষক হলেও সত্য যে, বিভিন্ন সূত্র ও সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় নারীদের এসব ছবি অনেক সময়ই পাচার হয়ে যায় বিভিন্ন পর্ন সাইটে। এমনকি ছোট্ট শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ছবিও বিভিন্ন নোংরা সাইটে পাওয়া গিয়েছে বলে মাঝে মাঝেই সংবাদে আসে। ইন্টারনেটের অন্ধকার জগতে ঘাপটি মেরে থাকা শিশুকামীদের হাতে আপনার শিশুর ছবি চলে যাক তা নিশ্চয় তা আপনি চাইবেন না!

টিকাঃ
[৯] তাকমিলা ফাতহিল মুলহিম- ৪/১৬৪; ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া- ৪/১০৬; কিফায়াতুল মুফতী- ৫/৩৮৮; হিদায়া- ৪/৪৫৮; মিশকাত- ২/২৮০; সূরা নূর- ৩০
[১০] সূরা ফুরক্বান- ৭২
[১১] তিরমিযী- ৪/২৩১৭; ইবনু মাজাহ- ২/৩৯৭৬; ইবনু হিব্বান- ১/২২৯; শুয়াবুল ঈমান- ৪/২৫৫; আরবাঈন আস সুগরা- ১৯; মুসনাদে শিহাব- ১/১৯; আল কামেল- ৬/৫৪
[১২] মাদারিজুস সালেকীন- ২/২২
[১৩] সূরা নূর- ২৩
[১৪] রূহুল মা'আনী- ৬/১২৬
[১৫] গারায়িবুল কুরআন- ৫/১৭৩

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 বিপরীত লিঙ্গের সাথে চ্যাট করা, পোস্টে কমেন্ট করা

📄 বিপরীত লিঙ্গের সাথে চ্যাট করা, পোস্টে কমেন্ট করা


শরঈ কোনো ওজর না থাকলে এভাবে বেগানা ছেলে-মেয়ের একে অপরের সাথে চ্যাটিং করা গুনাহের কাজ। আর শরঈ দৃষ্টিতে সিদ্ধ কোনো প্রয়োজনে কথা বলা কিংবা চ্যাটিং করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হচ্ছে মাহরাম সহকারে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে প্রয়োজনীয় কথা বলা। রাসূল ﷺ বলেছেন,

لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان
কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হলে নিঃসন্দেহে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (অর্থাৎ তখন শয়তান তাদের মনে কুমন্ত্রণা দেয়)। [১৬]

আরেক বর্ণনায় এসেছে,

لا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم، ولا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم)، فقام رجل فقال: يا رسول الله، إن امرأتي خرجت حاجة، وإني اكتتبتُ في غزوة كذا وكذا، قال: (انطلق فحج مع امر أتك)؛
"মাহরাম পুরুষ ছাড়া যেন কোনো নারী কোনো পুরুষের সাথে নির্জনে মিলিত না হয় এবং মাহরাম ছাড়া কোনো নারী যেন একা সফর না করে।" এক ব্যক্তি দাড়িয়ে গিয়ে বললেন- “হে আল্লাহর রাসূল! ﷺ আমি তো অমুক অমুক যুদ্ধে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছি আর আমার স্ত্রী (একা) হজ্জের সফরে বের হয়েছে।" নবী ﷺ বললেন- "এখান থেকে উঠো এবং তোমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে হজ্জ করো। [১৭]

আ'তা ইবনু আবী রবাহ থেকে বর্ণিত,
لو انتمنت على بيت مال لكنت أميناً، ولا آمن نفسي على أمة شوهاء
যদি আমাকে বাইতুল মালের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, আমি অবশ্যই বিশ্বস্ত থাকতে পারব। কিন্তু আমি আমার নাফস তথা প্রবৃত্তিকে কোনো কুৎসিত দাসীর নিকটও নিরাপদ ও বিশ্বস্ত মনে করিনা! [১৮]

সুতরাং নির্জনে কথা-বার্তা বলার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কেউই গুনাহ থেকে নিরাপদ নয়। অনলাইনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মাঝে যোগাযোগ স্থাপন খুবই সহজ। এখানে মানুষের লজ্জাবোধটা একটু কম কাজ করে থাকে। এই কারণে প্রায়ই দেখা যায় নারীদের ইনবক্সে দ্বীনি দাওয়াত (!) নিয়ে পুরুষেরা হানা দিয়ে থাকে। কিছু নারী একে নিছক দ্বীনি দাওয়াত মনে করেই ম্যাসেজের রিপ্লাই দিয়ে দেয় আর এরপর থেকেই দুইয়ের মাঝে হয়তো নিয়মিত কথা চলতে থাকে। সেই কথা এতটা দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে যে তা দ্বীনিদের জন্য অভাবনীয়। একেই বলা হয় নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। পরবর্তী দারসে আমরা এ বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবো ইন শা আল্লাহ।

টিকাঃ
[১৬] জামে তিরমিযী- ৪/৪৬৫, হাদীস- ২১৬৫; সুনানে নাসায়ী- ৫/৩৮৭, হাদীস- ৯২১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান- ১০, ১৫/৪৩৬, ১২২, হাদীস- ৪৫৭৬,৬৭২৮; মুসনাদে আহমাদ- ৩/৪৪৬, হাদীস- ১৫৭৩৪; আদ দ্বিয়া ফিল আহাদীসিল মুখতারাহ- ১/১৯১-১৯২, হাদীস- ১৬
[১৭] সহীহ বুখারী- ৩/১০৯৪, হাদীস- ২৮৪৪; সহীহ মুসলিম- ২/৯৭৮, হাদীস- ১৩৪১
[১৮] সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, যাহাবী- ৯/৯৬; হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম তরজমা নং- ২৪৪

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত

📄 গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত


পুরুষের মতো নারীদেরকেও গাইরে মাহরাম পুরুষদের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন,
وَقُل لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ

মু'মিনা নারীদের বলুন! তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। [১৯]

ইমাম ইবনু কাসীর এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
أي: عما حرم الله عليهن من النظر إلى غير أزواجهن، ولهذا ذهب كثير من العلماء إلى أنه لا يجوز للمرأة أن تنظر إلى الرجال الأجانب بشهوة، ولا بغير شهوة- أصلاً

তারা যাতে তাদের স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো পরপুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত না করে। এই জন্যই অধিকাংশ আলিমদের মতে- কামনার সহিত হোক কিংবা কামনা-বাসনা ব্যতীত হোক, উভয় অবস্থাতেই নারীদের জন্য বেগানা পুরুষের দিকে তাকানো নাজায়েয। [২০]

এর পরিপ্রেক্ষিতে জমহুরদের দলিল হচ্ছে,

أم سلمة حدثته أنها كانت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وميمونة قالت فبينا نحن عنده أقبل ابن أم مكتوم فدخل عليه وذلك بعد ما أمرنا بالحجاب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجبا منه فقلت يا رسول الله أليس هو أعمى لا يبصرنا ولا يعرفنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أفعميا وان أنتما ألستما تبصرانه

উম্মে সালামাহ ও মাইমুনা নবীজি-এর নিকট বসা ছিলেন এমতাবস্থায় অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুম আসলেন। নবীজি বললেন, "তোমরা তার সামনে পর্দা করো (অর্থাৎ পর্দার অন্তরালে চলে যাও, তাকে দেখো না)।” আমি (উম্মে সালামাহ) বললাম, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! উনি তো অন্ধ, আমাদের তো দেখছেনও না আবার আমাদের চিনেনও না।" নবী বললেন, "(সে নাহয় দেখছে না কিন্তু) তোমরা কি অন্ধ? তোমরা কি দেখো না!?" [২১]

আল্লাহ বলেন,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ)

যখন তোমরা নারীদের নিকট প্রয়োজনীয় কোনো কিছু চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার বিষয় [২২]

এই আয়াতে কারীমা থেকে অনেকগুলো বিষয় অনুধাবন করা যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
◆ নারী ও পুরুষ একে অপরকে দেখবেনা, জরুরি কোন বিষয় হলে পর্দার আড়াল থেকে আদান-প্রদান হবে।

◆ আল্লাহ নারী-पुरुष একে অপরের সাথে দেখা না হওয়ার মাধ্যমে উভয়ের অন্তরকে অধিকতর পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। এতে দৃঢ় হলো, ফিতনা না থাকলেও বেগানা পুরুষের দিকে নারীরা তাকাবে না।

অপরপক্ষে ইমাম ইবনু কাসীর অধিকাংশ আলিমদের মত উল্লেখ করার পর বলেন,
وذهب آخرون من العلماء: إلى جواز نظر هن إلى الأجانب بغير شهوة، كما ثبت في الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل ينظر إلى الحبشة وهم يلعبون بحرا بهم يوم العيد في المسجد، وعائشة أم المؤمنين تنظر إليهم من ورائه، وهو يسترها منهم حتى ملت و رجعت

তবে আরেকদল উলামাগণ কামনা-বাসনা বিহীন অবস্থায় বেগানা পুরুষের দিকে তাকানো জায়েয বলেছেন। যেমনটি রাসূলুল্লাহ থেকে সহীহ সুত্রে প্রমানিত যে, তিনি ঈদের দিন হাবশীদের খেলা দেখছিলেন সাথে আয়েশা আল্লাহর রাসূল এর পিছন থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে খেলা দেখছিলেন, আর আল্লাহর রাসূল আম্মাজানকে তাদের থেকে পর্দাবৃত করছিলেন.....। [২৩]

এই হাদীসকে অনেকেই আবার পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগের ঘটনা বলে দাবি করেন আবার কেউ কেউ এর খণ্ডনে বলে থাকেন এটি পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পরে।

মোটকথা, যারা জায়েযের পক্ষে তারা মূলত ফিতনা না হওয়ার ও কামনা-বাসনা দৃষ্টিতে না তাকানোর শর্তে জায়েয বলেছেন। এই হাদীস আম্মাজানের শানে এসেছে। এটি প্রতীয়মান যে, তিনি নিঃসন্দেহে নির্মল ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী ছিলেন, সে হিসেবে তার থেকে ফিতনা ও কামনা-বাসনার আশা করাই বোকামি। কিন্তু বর্তমান ফিতনা ও যৌনতায় রোগাক্রান্ত এই সমাজে ফিতনা ও শাহওয়াত থেকে বাঁচাটা খুব মুশকিল। আর শাহওয়াত তথা কামনা-বাসনার দৃষ্টিতে তাকালে সকল উলামার নিকটই তা অবৈধ।

টিকাঃ
[১৯] সূরা নূর- ৩১
[২০] তাফসীরে ইবনু কাসীর- ৬/৪৫
[২১] তিরমিযী- ২৭৭৮; আবু দাউদ- ৪১১২; নাসায়ী- ৯১৯৭; ইবনে রাহউইয়াহ- ৪/৮৫,১৬০; আহমাদ- ৬/২৯৬; আবু ইয়ালা- ১২/৩৫৩ হাদীস- ৬৯২২; মুশকিলুল আসার, ত্বহাবী- ১/২৬৫; ইবনে হিব্বান- ১২/৩৮৭-৩৮৯; সুনানে কুবরা, বাইহাক্বী- ৭/৯২; ইবনে আব্দিল বার- ১৯/১৫৫; খত্নীব- ৩/১৮; ইবনে আসাকির- ৫৪/৪৩৫; মিযযী- ২৯/৩১৩; মু'জামুল কাবীর, ত্ববারানী- ২৩/৩০২, হাদীস- ৬৭৮; তাফসীরে ইবনু কাসীর- ৬/৪৫, সূরা নূর- ৩১ এর তাফসীর। সনদটির সার্বিক বিবেচনায় অধিকাংশ মুহাদ্দিসই একে হাসান ও সহীহ বলেছেন। তবে কেউ কেউ সনদে উল্লিখিত নাবহানের কারণে হাদীসটির সনদকে যঈফ বলেছেন।
[২২] সূরা আহযাব- ৫৩
[২৩] তাফসীরে ইবনু কাসীর- ৬/৪৫; সহীহ বুখারী- ৪৫৪, ৫১৯০; সহীহ মুসলিম- ৮৯২; সুনানে নাসায়ী- ৪/১৯৫; মুসনাদে আহমাদ- ২৪৭৬৫

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পুরুষদেরকে সালাম দেওয়া বা সালামের জবাব দেওয়ার বিধান

📄 পুরুষদেরকে সালাম দেওয়া বা সালামের জবাব দেওয়ার বিধান


বিনা প্রয়োজনে পর পুরুষকে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। তবে প্রকাশ থাকে যে, পরপুরুষের সাথে কোনো বেগানা নারীর কথা বলার প্রয়োজন হলে তখন কথার শুরুতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া পরপুরুষের সাথে কথা বলার যেই আদব কুরআন মাজীদে উল্লিখিত রয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। অর্থাৎ, কোমলতা পরিহার করে স্বাভাবিকভাবে শুধু প্রয়োজনীয় কথাটুকু বলবে। [২৪] তবে শাফেয়ী মাযহাবে ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে সালাম দেওয়াকে জায়েয বলা হয়েছে। [২৫]

টিকাঃ
[২৪] ফাতাওয়া তাতারখানিয়া- ১৮; আলমুহীতুল বুরহানী- ৮/২৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ৫/৩২৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া- ৭২
[২৫] ফাতহুল বারী- ১১/৩৭; আওজাযুল মাসালিক- ১৭/১৮০, হাদীস- ১৭২৮; উমদাতুল কারী- ২২/৩৭৮-৩৭৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00