📄 পর্দার ক্ষেত্রে নিকাব পরিধানের বিধান
নারীদের জন্য গাইরে মাহরামের সামনে নিকাব পরিধান তথা মুখ ঢাকা ফরয। এ সম্পর্কে ৪ মাযহাবের মুফতা ও মু'তামাদ (গ্রহণযোগ্য) ফতোয়া এটাই। আল্লাহ বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّ﴾
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী ও কন্যা এবং মু'মিনদের অধীনস্থ নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।[১৫]
এই আয়াতে 'জিলবাব' দ্বারা এমন এক চাদরকে বোঝানো হয়েছে যা মুখমণ্ডল সহ পূর্ণ শরীর আবৃত রাখে। ইমাম কুরতুবী তার তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন।[১৬]
'আল্লামা আলুসী 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস-এর বরাত দিয়ে লিখেন, 'জিলবাব' সেই চাদরকে বলে যা মহিলাদের দেহের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছেঁড়ে দেওয়া হয়।[১৭]
আল্লামা ইবন হাযম লিখেন, "আরবী ভাষায় 'জিলবাব' এমন কাপড়কে বলা হয় যা সারা শরীর আচ্ছাদন করে। যে কাপড় সমস্ত শরীর ঢাকে না, সে কাপড়ের ক্ষেত্রে 'জিলবাব' শব্দটির প্রয়োগ সঠিক ও শুদ্ধ নয়।”[১৮]
আরবী অভিধানের বিখ্যাত গ্রন্থ "লিসানুল আরাব"-এ লেখা হয়েছে, 'জিলবাব' ঐ চাদরকে বলা হয় যা নারীরা নিজেদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকার জন্য ব্যবহার করে।[১৯]
উপরোক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে জাহেলী যুগের বাজে-বেপরোয়া নারীদের থেকে সম্ভ্রান্ত, ভদ্র নারীগণকে যাতে পার্থক্য করা যায়। তাফসীরে ত্ববারীতে উল্লিখিত আয়াত সম্পর্কে এটি উল্লেখ আছে, এই আয়াতে "চেনা সহজতর হবে" এর অর্থ হচ্ছে, তাদেরকে এ ধরনের অনাড়ম্বর লজ্জা নিবারণকারী পোশাকে সজ্জিত দেখে প্রত্যেক প্রত্যক্ষকারী জানবে তারা অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের পবিত্র মেয়ে। ভবঘুরে অসতী ও পেশাদার মেয়ে নয়, যার কাছে কোনো অসদাচারী মানুষ নিজের কামনা পূর্ণ করার আশা করতে পারে। "না কষ্ট দেওয়া হয়" এর অর্থ হচ্ছে এই যে, তাদেরকে যেন উত্যক্ত ও জ্বালাতন না করা হয়। এবং তারা যাতে এও বুঝতে পারে এসব মেয়েরা দাসী নয় বরং স্বাধীন নারী।
আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস ও আবু উবাইদাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
أمر نساء المؤمنين أن يغطين رؤسهن و وجوههن بالجلابيب إلا عينا واحدة .... ليعلم أنهن حرائر
মু'মিনা নারীরা নিজেদের চাদর দ্বারা নিজ নিজ মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে বের হবে। তারা কেবল একটি চোখ খোলা রাখতে পারে। তারা যে স্বাধীনা নারী এর মাধ্যমে এটা বোঝা যাবে। [২০]
আম্মাজান আয়েশা -এর এক হাদীস দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এই আয়াত যখন নাযিল হয় তখন সাহাবিয়াতগণ মুখমণ্ডলসহ পূর্ণ শরীর আচ্ছাদন করেছিলেন।[২১]
ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী সেই হাদীসে فاختمرن এর ব্যাখ্যায় বলেন,
(فاختمرن) أي غطين وجوههن
তারা নিজেদের মুখমণ্ডল ঢেকে রেখেছিলেন। [২২]
এই আয়াত নাযিল হলে আনসারী সাহাবিয়াতগণ এমন চাদর পরিধান করলেন যাতে তাদের সম্পূর্ণ দেহ ঢেকে গিয়েছিল এবং পথ চেনার জন্য তাঁরা এক চোখ খোলা রাখতেন। তাঁরা এমনভাবে পর্দা করতেন যে, মনে হতো তাদের মাথার ওপর কোনো কাক দন্ডায়মান হয়েছে। [২৩]
হাদীসে নারীদের পূর্ণ দেহকেই 'আওরাহ' তথা ঢেকে রাখা জরুরি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, আর মুখমণ্ডল হচ্ছে দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। [২৪]
এছাড়াও আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
وَلَا تَنتَقِبُ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلَا تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ
হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে এমন নারীগণ নিকাব এবং মোজা পরিধান করবে না। [২৫]
এই হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে হজ্জ ব্যতীত নিকাব পরিধানের বিধান শরী'আতে রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কি হজ্জের দিনে মেয়েদের নিকাব পরিধান অবৈধ? আসলে আমাদের সালাফগণ ও মুহাদ্দিসগণ এভাবে এই হাদীসের ব্যাখ্যা করেননি। মূলত হজ্জের সময় সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান নিষিদ্ধ। কিন্তু নিকাব নিষিদ্ধ নয়। হজ্জের সময়েও আলগা কাপড় বা সেলাই ছাড়া ঝুলে থাকে এমন কাপড় দিয়ে পুরুষদের থেকে নিজেদের চেহারা লুকাতে হবে। ইমাম আবু বকর ইবনুল আ'রাবী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,
... وَذَلِكَ لِأَنَّ سَتْرَهَا وَجْهَهَا بِالْبُرْقُعِ فَرْضُ إِلَّا فِي الْحَجِّ، فَإِنَّهَا تُرْخِي شَيْئًا مِنْ خِمَارِهَا عَلَى وَجْهِهَا غَيْرَ لَاصِقٍ بِهِ، وَتَعْرِضُ عَنِ الرِّجَالِ وَيُعْرِضُونَ عَنْهَا
...কেননা নারীদের চেহারা বোরকা দ্বারা ঢাকা ফরয, তবে হজ্জ ব্যতীত। সেক্ষেত্রে মহিলারা কাপড়ের সাথে সেলাই ব্যতীত ঝুলে থাকবে এমন খিমার মুখের ওপর ব্যবহার করবে যেন পুরুষদের থেকে নিজেদের বিরত রাখে এবং পুরুষরাও যাতে তাদের দেখতে না পারে। [২৬]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ এর ব্যাখ্যা থেকেও বোঝা যায় যে, হজ্জের সময় নারীরা সেলাই করা কাপড়, নিকাব ও বোরকা পরিধান করবে না তবে আলগা কাপড় বা সেলাই ছাড়াই ঝুলে থাকে এমন কাপড় বা ওড়না দিয়ে নিজের মুখ ঢাকবে। [২৭] ইমাম ইবনে আবেদীন আশ শামী তো এক্ষেত্রে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন। [২৮] সুতরাং পুরুষের উপস্থিতিতে ইহরাম অবস্থায়ও নারীরা যথাসম্ভব চেহারা ঢাকবে। আয়েশা থেকে বর্ণিত যে,
فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ
হজ্জের সময় পুরুষেরা তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নারীরা জিলবাব দিয়ে মুখ ঢেকে নিত এরপর তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিত। [২৯]
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় নিকাব পরিধান ছেড়ে দেয়ার মতো কোন আমল নয়। এমনকি নিকাব পরিধান ফরয বা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ৪ মাযহাবেরই নির্ভরযোগ্য ফতোয়া রয়েছে। [৩০]
◆ নারীদের ক্ষেত্রে গাইরে মাহরামদের সামনে মুখ খোলা রাখার বিষয়ে আসমা বিনতে আবু বাকর এর হাদীসের তাহক্বীক-
নারীদের মুখ খোলার রাখার পক্ষে যখন মত দেওয়া হয় তখন দলিল হিসেবে আসমা বিনতে আবু বকর-এর একটি হাদীস প্রায়ই পেশ করা হয়। কিন্তু এই হাদীসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে পূর্ববর্তীদের সমালোচনা রয়েছে। তাই এর তাহক্বীক আমাদের সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন।
◇ হাদীস-
أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَابُ رِقَاقُ فَأَعْرَضَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ : " يَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتْ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَا وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَيْهِ
একদিন আসমা বিনতু আবু বকর পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ -এর নিকট গেলেন। এতে তিনি অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন- "হে আসমা! নারীরা যখন বালেগা হয়, তখন তার শরীরের কোনো অঙ্গ দৃষ্ট হওয়া উচিত নয়, তবে কেবল এটা এবং এটা ব্যাতীত।" (রাবী বলেন) এ বলে তিনি তাঁর মুখ এবং তাঁর দু-হাতের কব্জির দিকে ইঙ্গিত করলেন। [৩১]
◇ খুলাসাতুল হুকুম- সার্বিক বিবেচনায় এই হাদীসটি মুহাদ্দিসদের নিকট সহীহ নয়। সুতরাং এই হাদীস দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না। [৩২]
◇ সনদ-
حدثنا يعقوب بن كعب الأنطاكي و مؤمل بن الفضل الحراني قالا حدثنا الوليد عن ..... سعيد بن بشير عن قتادة عن خالد ابن در يك عن عائشة رضي الله عنها
◇তাহক্বীক- এই হাদীসের সনদ [৩০] ও মতন [৩৪] উভয়ই সমালোচিত।
• স্বয়ং ইমাম আবু দাউদ এই হাদীসটি বর্ণনা করার পর একে মুরসাল [৩৫] বলেন। কেননা ইয়াকূব ইবনু দুরাইক আম্মাজান আয়েশা কে পাননি, সুতরাং তার থেকে বিনা ওয়াসেতা বা মাধ্যমে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
■ এই বর্ণনায় ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম রয়েছে। ওয়ালিদ ইবনু মুসলিমের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তার জরাহ (৩৬) ও তা'দীল [৩৭] উভয়ই পাওয়া যায়, কিন্তু তার জরাহ মুফাসসার [৩৮] হওয়ায় অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ তাকে মাজরুহ[৩৯] হিসেবেই গণ্য করেছেন। নিম্নে তার তা'দীল উল্লেখ ব্যাতীতই তার জরাহ-এর কিছু নমুনা পেশ করা হচ্ছে।
• তার থেকে বর্ননাকারী আবু মুসহির বলেন- "ওয়ালিদ ইবনু আবীস সাফার থেকে আওযায়ীর হাদীস গ্রহণ করতেন না এবং তিনি মিথ্যুক ছিলেন। ওয়ালিদ (ইবনু আবীস সাফার নাম উল্লেখ ব্যতীতই) আওযায়ী থেকে বর্ণনা করার দাবি করতেন... কখনও কখনও ওয়ালিদ মিথ্যুক রাবীদের থেকে তাদলিস [৪০] করে হাদীস বর্ণনা করতেন। "[৪১]
এই বিষয়টি সম্পর্কে ইমাম যাহাবী দারাকুতনী থেকেও একই দোষ বর্ণনা করেছেন।
• মুয়াম্মাল ইবনু ইহাব আবু মুসহির থেকে বর্ণনা করেন-
كان الوليد بن مسلم يحدث بأحاديث الأوزاعي عن الكذابين ثم يدلسها عنهم
ওয়ালিদ বিন মুসলিম আওযায়ী মিথ্যুক রাবীদের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করত অতঃপর সেগুলো তাদের থেকে তাদলীস করত। [৪২]
• আবু বকর আল মারওয়াযী বলেন,
لأحمد بن حَنْبَل فِي الْوَلِيد؟ قال: هُوَ كَثير الخطأ
আমি ইমাম আহমাদকে ইবনে হাম্বলকে ওয়ালিদের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলাম। তিনি বললেন, (হাদীস বর্ণনায়) তার অনেক ত্রুটি রয়েছে। [৪৩]
D এ বর্ণনায় বাশীর ইবনু সায়ীদ আল আযদী আল বাসরী আছেন, যাকে আবু আব্দুর রহমানও বলা হয়। তার ব্যাপারেও মুহাদ্দিসগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে কিন্তু তার তা'দীল থাকলেও তিনি উপরোক্ত রাবী।[৪৪] ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম থেকে অধিকতর মাজরুহ। নিচে তার তা'দীল উল্লেখ ব্যতীতই তার জরাহ এর কিছু নমুনা দেওয়া হলো।
• আবু মুসহির বলেন,
لم يكن في بلدنا أحد أحفظ منه، وهو منكر الحديث
আমাদের এই দেশে হাদীস মুখস্থের ক্ষেত্রে তিনি অপেক্ষায় অধিকতর হাফেজ আর কেউ ছিলেন না, অথচ তিনি মুনকারুল [৪৫] হাদীস! [৪৬]
ইমাম বুখারী বলেন,
يتكلمون في حفظه
তার হিফজ শক্তি নিয়ে মুহাদ্দিসগণ কালাম [৪৭] করেছেন। [৪৮]
ইমাম ইবনু মায়ীন ও ইমাম নাসায়ী তাকে 'দ্বঈফ' [৪৯] বলেছেন।
হাদীসটিকে শাইখ আলবানী শাওয়াহেদ [৫০] এর ভিত্তিতে সহীহ বললেও এটি সঠিক নয়। প্রথমত, উসূলে হাদীস [৫১] মোতাবেক শাওয়াহেদের ভিত্তিতে যে শর্তে সনদ হাসান বা সহীহ [৫২] হয় সেই শর্ত এখানে বিদ্যমান নেই। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণই এর সনদ ও মতনের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে একে 'দ্বঈফ' বলেছেন।
এই হাদীসের মতনেও আলিমগণ একটি আপত্তি করেছেন। আর তা হলো, আবু বকর এর মেয়ে আসমা একজন সম্ভ্রান্ত ঘরের নারী ও একজন সাহাবিয়াত হয়ে কীভাবে বালেগা হওয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ-এর নিকট পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় আসতে পারেন যা দেখে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ মুখ ফিরিয়ে নেবেন!? অথচ এ ঘটনা যখন ঘটেছে তখন আসমা এর বয়স অন্তত সাতাশের উপরে ছিল। কারণ মাদীনায় হিজরতের বছর তাঁর বয়স ছিল সাতাশ। এছাড়া স্বয়ং আসমা বিনতে আবু বকর অন্যত্র বলেন- "আমরা পুরুষদের থেকে আমাদের চেহারা আবৃত রাখতাম।"[৫৩]
পর্দার ব্যাপারে ওহী নাযিলের সময়কাল বিবেচনা করে আলিমগণ বলে থাকেন যে, যদি এ হাদীসকে সহীহ হিসেবেও ধরে নেওয়া হয় তাহলে এটা বুঝতে হবে যে, এটা পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা ছিল। [৫৪]
মূল কথা হচ্ছে, উক্ত হাদীসটির মতন 'নাকারাত' [৫৫] দোষে এবং সনদ 'ইযতিরাব' [৫৬] দোষে দুষ্ট। [৫৭]
টিকাঃ
[১৫] সূরা আহযাব- ৫৯
[১৬] কুরতুবী, আল-জামিলি আহকামিল কুরআন- ১৪/২৪৩
[১৭] রুহুল মা'আনী- ২২/৮৮
[১৮] আল-মুহাল্লা- ৩/২১৭
[১৯] লিসানুল 'আরাব- ১/২৭৩
[২০] তাফসীরে বাগাবীতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এটা আনা হয়েছে; ফাতহুল কদীর, শাওকানী- ৭/৩০৭
[২১] সহীহ বুখারী- ৪৭৫৯
[২২] ফাতহুল বারী- ৮/৩৪৫
[২৩] সুনানে আবু দাউদ- ৪১০০-৪১০১; ফাতহুল বারী- ৮/৩৪৫
[২৪] জামে তিরমিযী- ১১৭৩; সহীহ ইবনে খুযাইমাহ- ১৬৮৫; সহীহ ইবনে হিব্বان- ৫৫৯৮ থেকে ৫৫৯৯, হাদীসটির সনদ হাসান এবং কারো কারো মতে সহীহ।
[২৫] সহীহ বুখারী- ১৭৩৮, ১৭৪১, ১৭৯৪; সুনানে আবু দাউদ- ১৮২৫; জামে তিরমিযী- ৮৩৩; সুনানে নাসায়ী- ২৬৭৩; মুয়াত্ত্বা মালেক- ১/৩২৮; মুসনাদে আহমাদ- ২/১১৯; সুনানে কুবরা বাইহাক্বী- ৫/৭৪, হাদীস- ৯০৪৪ থেকে ৯০৪৬
[২৬] আ'রিদ্বাতুল আহওয়াযী ৪/৫৬
[২৭] বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ- ২/৬৬৪-৬৫
[২৮] হাশিয়ায়ে ইবনে আবেদীন- ৩/২৬১, কিতাবুল হাজ্জ
[২৯] সুনানে আবু দাউদ- ১৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ- ২৩৫০১, হাদীসটির মান হাসান। এর অনেক শাওয়াহেদ আছে।
[৩০] মাজমাউল আনহুর শারহু মুলতাক্কাল আবহুর- ১/৮১; আল মাবসূত্ব- ১০/১৫২; বাযলুল মাজহুদ- ১৬/৪৩১; যাদুল মুয়াসসার আলা ইলমিত তাফসীর- ৬/৩১; আল ফুরু- ১/৬০১; আল ফাতাওয়া- ১৯২; আওনুল মাবুদ- ১১/১৬২; আল ইকলীল- ১/৪১
[৩১] সুনানে আবু দাউদ- ৪১০৪; সুনানে বাইহাক্বী- ২/২২৬
[৩২] খুলাসাতুল হুকুম বলতে বোঝানো হয়েছে হুকুমের সারসংক্ষেপ
[৩৩] রাসূল থেকে হাদীসের গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত বর্ণনাকারীর যেই ক্রমধারা অনুসরণ করে হাদীসের মূল কথাটুকু পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর ক্রমানুযায়ী সাজানো থাকে।
[৩৪] হাদীসের মূল ভাষ্যটুকুকে মতন বলে।
[৩৫] যে হাদীসের সনদে শেষের দিকে এসে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি অর্থাৎ যে হাদীসে সাহাবীর নাম বাদ দিয়ে কোনো তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহর এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।
[৩৬] হাদীসের পরিভাষায় জরাহ বলতে বোঝায় রাবীর জীবনী নিয়ে সমালোচনা করা।
[৩৭] রাবী বা বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা ও গ্রহণযোগ্যতা।
[৩৮] সুস্পষ্ট।
[৩৯] সমালোচিত।
[৪০] অর্থাৎ রাবীদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে উল্লেখ না করে গোপন করা।
[৪১] সিয়ারু আলামিন নুবালা- ৯/২১২
[৪২] তাহযীবুল কামাল- ৫৪৪৭
[৪৩] প্রাগুক্ত, এছাড়াও ওয়ালিদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব- ১১/১৩৫; তারীখু মাদীনাতি দিমাশক- ৩৪/৬০২-৬০৯ পৃষ্ঠা ব্যাপী।
[৪৪] বর্ণনাকারী।
[৪৫] যিনি অগ্রহণযোগ্য রাবীদের থেকে একক সূত্রে দুর্বল বা অপ্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণনা করে থাকে।
[৪৬] সিয়ারু আলামিন নুবালা- ৭/৩০৫
[৪৭] হাদীস শাস্ত্রে রাবীর 'কালাম' করা বলতে রাবীর সমালোচনা করা বোঝায়।
[৪৮] প্রাগুক্ত।
[৪৯] যে হাদীস ত্রুটিপূর্ণ তাকে দ্বঈফ হাদীস বলে।
[৫০] যদি দুটি সমভাষ্য হাদীসের মূল রাবী একই ব্যক্তি না হন তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা'আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।
[৫১] হাদীসশাস্ত্রের মূলনীতি।
[৫২] যেই হাদীসের সনদে প্রত্যেকজন রাবীরই পূর্ণ আদালত ও প্রখর স্মরণশক্তি রয়েছে এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।
[৫৩] মুস্তাদরাক হাকিম- ১৬৬৪
[৫৪] আওদাতুল হিজাব- ৩/৩৩৬
[৫৫] হাদীস শাস্ত্রে 'নাকারাত' সমালোচনা অর্থে ব্যবহৃত হয়। রাবীর বর্ণিত হাদীসে বহুবিধ সমস্যা রয়েছে এটি বোঝায়。
[৫৬] একই রাবী থেকে যখন সনদে বা মতনে দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় তখন সেই বর্ণনাকে 'ইযতিরাব' বলা হয়।
[৫৭] কিতাবুল ইলাল, ইবনে আবী হাতিম- ১৪৬৩; আলকামিল, ইবনে আদী- ৩/১২০৯; আন নাযার ফী আহকামিন নাযার, ইবনুল কাত্তান- ১৬৭ ও ১৬৮; তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, ইবনে কাছীর- ৩/৩১২; আলজাওহারুন নাকী, (সুনানে কুবরা বাইহাকীর সাথে মুদ্রিত)- ৭/৮৬; আননাকদুল বান্না, আবু মুয়ায তারিক ইবনে আউযুল্লাহ, পৃষ্ঠা- ২৮ থেকে ৪০
📄 পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের হাত-পা ঢেকে রাখার বিধান
নারীদের জন্য মূলত বাহিরে বের হওয়ার সময় দুই হাত ও দুই পায়ে মোজা পরিধান করা কিংবা দুই হাত-পা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা সর্বাবস্থায় মুস্তাহাব। কিন্তু ফিতনার আশঙ্কা থাকলে তা ওয়াজিব। এটিই ৪ মাযহাবের সিদ্ধান্ত। [৫৮] উল্লেখ্য যে, এই জামানা মোটেও ফিতনামুক্ত নয় আজ থেকে বহুকাল পূর্বে আমাদের সালাফগণ তাদের সেই জামানাকে ফিতনাময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সেদিক বিবেচনায় এই জামানা তো তাদের তুলনায় অধিকতর ফিতনাময়। নারীর হাত-পাও তার আওরাহর অংশ। আল্লামা ইবনে কুদামাহ আল মুকনিতে ইমাম মারদাউই থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "স্বাধীন নারী পুরোপুরি আওরাহ, এমনকি তার নখ এবং চুলও।” [৫৯]
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেন- "সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য দস্তানা, মোজা ও নিকাব পরিধানের অনুমতি নেই। এটাই ইঙ্গিত বহন করে যে, ইহরামে না থাকা অবস্থায় নিকাব ও হাত-পা মোজা (পর্দার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে) পরিধেয়। এ থেকে বোঝা যায় যে সাহাবিয়াতগণ তাদের মুখ এবং হাত ঢেকে রাখতেন।"[৬০]
সুতরাং নারীদেরকে গাইরে মাহরাম পুরুষদের সামনে নিজের হাত-পা ঢাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে তাকে হাত-পা মোজা দিয়েই ঢাকতে হবে। সে তার পোশাকের কিছু অংশ হাতের ওপর ঝুলিয়ে দিতে পারে এবং যদি তার মাঝে মাঝে মোজা পরার প্রয়োজন হয় এবং এটি তার পক্ষে কিছুটা কঠিন হয় তাহলে সে সহ্য করবে এবং এর জন্য আল্লাহ -এর নিকট প্রতিদান আশা করবে।
রাসূল এর সময়ে নারীগণ তাঁদের পোশাক এমনভাবে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতেন যাতে পদযুগল প্রকাশিত না হয়ে যায়। এমনকি নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেওয়ার কারণে কাপড়ে মাটি থেকে ময়লা লেগে যেত। এক নারী সেই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাস করেন। তখন তিনি বলেন, "পরবর্তীতে যা (কাপড়ে) লাগে তা সেটাকে পবিত্র করে দেয়। [৬১]
টিকাঃ
[৫৮] যাদুল মুয়াসসার আলা ইলমিত তাফসীর- ৬/৩১, আল ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী- ২/৪৫১
[৫৯] আল-ইনসাফ- ১/৪৫২
[৬০] মাজম্ 'আল-ফাতাওয়া- ১৫/৩৭১-৩৭২
[৬১] তিরমিযী- ১৪৩, আবু দাউদ- ৩৮৩, ইবনু মাজাহ- ৫৩১
📄 বর্তমান ট্রেডিশনাল হিজাব
বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে, কাপড় বা ওড়না মাথায় কেবল উঁচু করে পেঁচিয়ে একে বলা হয় হিজাব। অথচ মুখ থাকে খোলা, হাত পা থাকে অনাবৃত, গায়ে থাকে চুমকি-পুতি খচিত ও চমকপ্রদ পোশাক যা আঁটসাঁট তাই অঙ্গের ভাজগুলো বোঝা যায়। পূর্বে প্রদত্ত মাসআলাগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, এগুলোকে হিজাব বলে না। হিজাবকে ট্রেডিশন হিসেবে নেওয়া হয়েছে কেবল। শুধু মাথার চুল ঢেকে নিলেই পর্দা হয়ে যায় এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
📄 নারীর মাহরাম ও বিস্তারিত মাহরাম চার্ট
﴿ وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِ بْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِ بْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾
আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনত রাখতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, এবং তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে, যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তারা যেন তাদের ঘাড় ও বুক মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [৬২]
যাদের সামনে পর্দা করতে হবে না বা পর্দার ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে-
১. স্বামী- স্বামীকে দেখা দেওয়া, সৌন্দর্য প্রদর্শন করা, তার সাথে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো জায়েয এবং সওয়াবের কাজ। তার সামনে কোনো প্রকার পর্দা করতে হবে না।
২. পিতা, দাদা, নানা ও তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ- আপন পিতা, সৎ পিতা এবং দুধ পিতা মাহরাম। অন্য যেকোনো প্রকারের পিতা যেমন: ধর্মীয় পিতা, পালক পিতা ও উকিল পিতা মাহরাম নন। আর আপন দাদা বা নানা এবং দাদা-নানার ও দাদী-নানীর আপন ভাই, দুধ ভাই, সৎ ভাই মাহরাম। তেমনি দাদা-দাদী ও নানা-নানীর পিতা, তাদের নানা-দাদা... এভাবে যত উপরেই যাক, সবাই মাহরাম।
৩. শ্বশুর, আপন দাদা-নানা শ্বশুর এবং তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ- আপন শ্বশুর ও দুধ শ্বশুর মাহরাম। তবে সৎ শ্বশুর যেমন- শাশুড়ির প্রাক্তন বা পরবর্তী স্বামী মাহরাম নন। ঠিক তেমনি আপন দাদা বা নানা শ্বশুর ও দুধ দাদা বা নানা শ্বশুর মাহরাম। সৎ দাদা বা নানা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, চাচা শ্বশুর, খালু শ্বশুর ও ফুফা শ্বশুর কেউই মাহরাম নন।
৪. পুত্র, কন্যার স্বামী, পুত্রের পুত্র, কন্যার পুত্র- আপন পুত্র, দুধ পুত্র ও স্বামীর অন্য স্ত্রী বা পূর্বের স্ত্রীর গর্ভে স্বামীর ঔরসজাত পুত্র মাহরাম। কিন্তু পালক পুত্র, ধর্মীয় পুত্র ও সতীনের পূর্বের স্বামীর ঔরসজাত পুত্র মাহরাম নন। অপরদিকে আপন পুত্রের পুত্র বা আপন কন্যার পুত্র, সৎ পুত্রের পুত্র বা সৎ কন্যার পুত্র, দুধ পুত্রের পুত্র বা দুধ কন্যার পুত্র ও তাদের অধস্তন পুরুষরাও মাহরামভুক্ত। কিন্তু তাদের পালক পুত্র ও ধর্মীয় পুত্র মাহরাম নয়। অনুরূপ আপন কন্যার কন্যার স্বামী এবং দুধ কন্যার কন্যার স্বামী এভাবে যত নিচের দিকে যাক সবাই মাহরামভুক্ত। তবে সৎ কন্যার স্বামী, অনুরূপ অধস্তন কেউ মাহরাম নয়।
৫. ভাই- আপন ভাই, সৎ ভাই ও দুধ ভাই অর্থাৎ আপন মায়ের দুধ পুত্র, দুধ মায়ের আপন, সৎ, দুধ পুত্র মাহরাম। সৎ বাবা অথবা সৎ মায়ের অন্য ঘরের পুত্র মাহরাম না। এ ছাড়া চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই, দুলাভাই, দেবর ও ভাসুর মাহরাম নয়।
৬. ভাতিজা- আপন ভাইয়ের পুত্র, সৎ ভাইয়ের পুত্র, দুধ ভাইয়ের পুত্র মাহরাম।
৭. ভাগিনা- আপন বোনের পুত্র, সৎ বোনের পুত্র, দুধ বোনের পুত্র মাহরাম।
৮. চাচা- আপন চাচা, সৎ চাচা ও দুধ চাচা অর্থাৎ আপন পিতার দুধ ভাই, দুধ পিতার আপন ভাই, আপন বাবার সৎ ভাই মাহরাম। কিন্তু ফুফা, সৎ বাবার ভাই মাহরাম না।
৯. মামা- আপন মামা, সৎ মামা ও দুধ মামা অর্থাৎ আপন মায়ের দুধ ভাই, দুধ মায়ের আপন ভাই, আপন মায়ের সৎ ভাই মাহরাম। তবে খালু, সৎ মায়ের ভাই মাহরাম নয়।
১০. নাবালক- এমন বালক যার মাঝে নারীদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই।
১১. অন্যান্য নারী- নারীদের সামনে নারীকে পর্দা করতে হবে না। তবে কাফির ও ফাসিক নারীদের সামনে শরীরের সৌন্দর্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। [৬৩]
উপরে বর্ণিত মাহরামের তালিকা ব্যতীত পৃথিবীর সকল পুরুষ নারীদের জন্য এবং সকল নারী পুরুষদের জন্য গাইরে মাহরাম।
টিকাঃ
[৬২] সূরা নুর- ৩১
[৬৩] সূরা নূর- ৩১; সহীহ বুখারী- ২৬৪৫; সুনানে তিরমিযী- ১১৪৬; সহীহ বুখারী শরহে কুসতুল্লানিসহ- ৯/১৫০; ফাতহুল বারী- ৯/১৩৮; সহীহ মুসলিম বি শারহিন নাবাবি- ১০/২২; তুহফাতুল আহওয়াযী- ৪/২৫৪; তাফসীরে রাযী- ২৩/২০৬; তাফসীরে কুরতুবী- ১২/২৩২, ২৩৩; তাফসীরে আলুসী- ১৮/১৪৩; ফাতহুল বায়ান ফি মাকাসিদ আল-কুরআন- ৬/৩৫২; আহকামুল কুরআন- ৩/৩১৭; তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন- ২/২৫৬-৩৬১; তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন- ৬/৪০১-৪০৫; তাফসীরে মাযহারী- ২/২৫৪-২৬১ ও ৬/৪৯৭-৫০২; শরহু মুসলিম, নববী- ৯/১০৫; উমদাতুল কারী- ৭/১২৮; বাদায়েউস সানায়ে- ২/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২১৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক- ২/২৪৩; তাফসীরে রুহুল মাআনী- ৪/২৫২; আলবাহরুর রায়েক- ৩/৯৩