📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিফাস বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

📄 নিফাস বিষয়ক প্রশ্নোত্তর


১৩. আমার ১ম সন্তানের সময় নিফাসের রক্ত ৬০ দিন চলমান ছিল। ২য় সন্তানের সময় ৫৫ দিন। এক্ষেত্রে ৪০ দিন শেষে বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা। আমি যেহেতু নিয়ম জানতাম না তাই রক্ত দেখেলেসালাতপড়তাম না। এখন করণীয় কী?
◆ জি, ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যে রক্ত দেখা গিয়েছে তা ইস্তিহাযা। ইস্তিহাযার দিনগুলোতে ছুটে যাওয়া অর্থাৎ, ২০ দিন আর ১৫ দিনের সালাতগুলো কাজা করতে হবে।

১৪. নিফাসের ক্ষেত্রে যদি মাঝখানে কয়েকবার কয়েকদিন করে রক্ত বন্ধ থাকে আর সে দিনগুলোতে নামায না পড়ে যদি ৪০ দিন পর একবারে কাজা পড়ে নেয় তাহলে কি হবে? যেমন- কারো যদি ২০ দিনের পর ১০ দিন ব্লিডিং বন্ধ থেকে আবার ৩৬, ৩৭ তম দিনে ব্লিডিং হয়ে একবারে বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু ওই নারী ৪০ দিনই অপেক্ষা করে তারপর ৩৭ দিনের পর থেকে নামায গুলো কাজা পড়লো। একই ভাবে কেউ যদি ৪০ দিন অপেক্ষা করতে গিয়ে দেখে যে, অনেক আগেই সে পবিত্র হয়ে গিয়েছে। এরপর সে নামাযগুলো কাজা করে নিলো। নামাযগুলো এভাবে কাজা করার কারণে কি গুনাহ হবে? সে তো জানতো না যে, সে আসলেই পবিত্র হয়েছে কিনা। কেননা ৪০ দিনের আগ পর্যন্ত তো আবার ব্লিডিং-এর সম্ভাবনা থেকে যায়।
◆ নিফাসের অভ্যাসগত কোনো নিয়ম না থাকলে ৪০ দিনের আগে যখনই দেখবে রক্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে তখনই পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে। ৪০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেনা। যদি ৪০ দিনের মধ্যে আবার রক্ত দেখা যায় তবে তিনি সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবেন।

কিন্তু যদি পূর্বের নিফাসের সময়সীমা ও অভ্যাস জানা থাকে সেক্ষেত্রে রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও পূর্বের অভ্যাসের সময়ানুযায়ী পুনরায় রক্ত দেখার প্রবল ধারণা থাকলে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে যদি দেখা যায় যে, এই ৪০ দিন পর্যন্ত তিনি আর কোনো রক্ত দেখেনি, তাহলে যেদিন রক্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেদিন থেকে সেই ৪০ তম দিন পর্যন্ত সালাতগুলোর কাজা আদায় করে নেবে。

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইস্তিহাযা বিষয়ক প্রশ্ন

📄 ইস্তিহাযা বিষয়ক প্রশ্ন


১৫. আমার প্রায় সবসময়ই সাদাস্রাব হয়। তবে আমি মা'য়ূর নই। ১.৫-২ ঘণ্টা পর পর সাদাস্রাব হয়। এখন বাসায় থাকলে আমার সালাত আদায়ে কোনো সমস্যা হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। তবে যখন লম্বা সময়ের জন্য বাহিরে যাই, যেমন: কোচিং বা কলেজের জন্য বাইরে থাকি তখন আমি বাসা থেকে ওযু করে বের হই, যাতে সালাত আদায় করতে পারি। এখন ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার যে সাদাস্রাব হয়েছে সেটা আমি নিশ্চিত থাকি। স্রাব বাইরে বের না হলেও যোনিপথের ভিতরে থাকে। যখন প্রস্রাব হয় তখন সাদা ঘন পদার্থের মতো বের হয়ে যায়। এখন বাইরে তো কোনোভাবেই ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হওয়া সম্ভব হয় না। তাই ওযু ভঙ্গের অন্য কারণ না ঘটলে আমি কি সেই ওযু দিয়ে সালাত আদায় করতে পারবো? সালাত পড়তে না পারলেও এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি যাতে আমার সালাত কাজা না হয়?
যদি স্রাব যোনিপথের বাইরে না আসে তাহলে ওযু ভাঙবে না। সেই ক্ষেত্রে সেই ওযু দিয়েই নামায পড়ে নিতে পারবে। কিন্তু যখন স্রাব বের হয়ে যোনিপথের বহিরাংশ ভিজবে তখনই ওযু ভেঙে যাবে। সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে পরিষ্কার হয়ে ওযু করে নেবে। আর পরিষ্কার হওয়া সম্ভব না হলে এমনিতেই ওযু করে বা আগের ওযুতেই নামায সঠিক সময়ে আদায় করে নেবে, পরবর্তীতে সেই নামায বাসায় ফিরে পবিত্র হয়ে আবার আদায় করবে।

১৬. স্রাব আটকে রাখার জন্য লজ্জাস্থানে তুলা বা কাপড় দিয়ে রাখলে যদি লজ্জাস্থানের সাথে তুলা/কাপড়ের লেগে থাকা অংশ ভিজে যায় তাহলে কি ওযু ভেঙে যাবে?
ওযু করার পর এমন হলে ওযু ভেঙে যাবে। তবে তুলা বা কাপড় না ভিজলে ওযু ভাঙবে না।

১৭. স্রাব না আসার জন্য লজ্জাস্থানে কাপড়/তুলা দিয়ে এরপর ওযু করে বাইরে যাওয়ার পর যখন নামাজের ওয়াক্ত হবে তখন যদি বুঝতে না পারি যে স্রাব আসছে কিনা এবং ওই অবস্থায় সালাত আদায় করি এবং বাসায় আসার পর যদি লজ্জাস্থানে দিয়ে রাখা কাপড়/তুলা বের করার পর তাতে স্রাব লেগে আছে দেখতে পাই তাহলে কি আমার নামায আদায় হবে? আর যদি আমার বাইরে থাকা অবস্থায় সন্দেহ হয় স্রাব এসে গেছে কিন্তু আমি নিশ্চিত না আর নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায় তখন কি করবো?
পবিত্রতার ক্ষেত্রে কেবল সন্দেহ গ্রহণযোগ্য নয়, নিশ্চিত বা প্রবল ধারণা হতে হবে। যদি নিশ্চিত হন যে, ওযুর পরেই সাদাস্রাব এসেছে তাহলে নামায আবার আদায় করে নিতে হবে আর যদি নিশ্চিত হন নামাজের পরে বের হয়েছে তাহলে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না।

১৮. কারো মাঝে মাঝে লাগাতার সাদাস্রাব যায়, আবার কখনো বন্ধ থাকে। অর্থাৎ, সে অনিশ্চিত এই বিষয়ে। এক্ষেত্রে সে কোনো ওয়াক্তের নামাজের পূর্বে যদি ওযু করে সাথে সাথেই নামাজে দাঁড়ায় এবং ভেজা অনুভব করে, মনে হয় যেন সাদাস্রাব বের হয়েছে তাহলে কি তার ওযু ভেঙে যাবে?
মনে হলে ওযু ভাঙবেনা। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সালাত আদায় করতে থাকবে।

১৯. ইস্তিহাযার বিধানে প্রত্যেক ওয়াক্তে ওযু করে সালাত পড়তে হয় এক্ষেত্রে কি কাপড় পরিবর্তন করা লাগবে? প্রত্যেক ওযুর সময় রক্ত বা স্রাব পরিষ্কার করতে হবে নাকি শুধু ওযু করলেই পবিত্রতা হাসিল হয়ে যাবে?
◆ এক্ষেত্রে কাপড়টিও যথাসম্ভব পবিত্র রাখতে হবে।

২০. আমরা জেনেছি সাদাস্রাব বের হলে ওযু করতে হয়। তাহলে এটি যদি আমাদের কাপড়ে লেগে যায় তখন কি কাপড় পরিবর্তন করা জরুরি? নাকি ওই কাপড় পরা অবস্থায় ওযু করলেই পবিত্র হতে পারবো?
◆ কাপড়ের ওই অংশ ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট হবে。

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 লোমকর্তন-বিষয়ক প্রশ্ন

📄 লোমকর্তন-বিষয়ক প্রশ্ন


২১. বগলের অবাঞ্ছিত লোম পুরোপুরি না চেঁছে বা না উপড়ে ফেলে যদি কেঁটে ছোট করে নিই তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে?
◆ সমস্যা নেই।

২২. অবাঞ্ছিত লোম যে সময়সীমার মধ্যে কাঁটতে হয় মাঝে মাঝে সেই সময়ের মধ্যে কাঁটা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় কি নামায হচ্ছে?
◇ জি, নামায হচ্ছে। তবে সময়সীমার ৪০ দিনের মধ্যে লোমকর্তন না করা মাকরুহে তাহরীমী।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 পবিত্রতাজনিত অন্যান্য প্রশ্ন

📄 পবিত্রতাজনিত অন্যান্য প্রশ্ন


২৩. নামায ফরয হবার পরেও অনেকটা বয়স পর্যন্ত স্বপ্নদোষের বিষয়টা জানা ছিল না। এমন হয়তো অনেক সময়ই হয়েছে যে, স্বপ্ন দেখেছি এবং ঘুম থেকে উঠার পর ভেজা ভাব ছিল। যেহেতু এসব জানতাম না তাই কেবল ওযু করেই নামায পড়েছি। এখন সে নামাযগুলো কি আদায় হয়নি? এর জন্য কি কিছু করণীয় আছে?
◆ উক্ত নামাযগুলো আন্দাজ করে সুযোগমতো কাজা আদায় করলেই হবে।

২৪. পিরিয়ডের জন্য ব্যবহৃত কাপড় যদি অন্য কোনো পবিত্র কাপড়ে লাগে বা রোদে শুকাতে দিলে ভালো কাপড়ের সাথে লেগে যায় তাহলে কি ঐগুলোও নাপাক হয়ে যাবে? ভালো কাপড় ও পিরিয়ডের কাপড় একই স্থানে দিলে কি কোনো সমস্যা হবে?
◆ নাপাকির ভেজা ও আদ্রতা অন্য কাপড়ে না লাগলে সেই অংশ নাপাক হবে না। তবে আলাদা করে রোদে শুকাতে দেয়াই উত্তম।

২৫. আজানের আগেই তো নামায পড়া যায়। যদি এমন হয়, ওয়াক্ত হয়েছে নামাজের, কিন্তু সে আজানের জন্য অপেক্ষা করে নামায আদায় করেনি। আর ওই ওয়াক্তের সময়ই হায়েয হয়ে গিয়েছে, তাহলে কি পরবর্তীতে ওই নামায আদায় করতে হবে?
◆ ইবরাহীম নাখায়ী বলেন- "নামাজের সময়ের মধ্যে কোনো মহিলার অপবিত্রতা শুরু হলে ওই নামায তাকে কাজা করতে হবে না।” [২] এছাড়া হাসান বসরী, মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন সহ প্রমুখ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে। [৩]

২৬. ইস্তিঞ্জা করার পর পবিত্র হওয়ার জন্য টিস্যু ব্যবহার না করে পানি ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে পানি যোনিপথের ভিতরে থেকে যায়। যখন একটু হাঁটা-চলা হয় বা সালাতে রুকু সিজদা করা হয় তখন পানিগুলো বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কি আমার ওযু বা সালাত ভেঙে যায়?
◆ এটা যদি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত পানি হয় তাতে ওযু ভাঙবে না। আর এটা যদি নাপাক তথা প্রস্রাব বা স্রাবের পানি হয় তাহলে ওযু ভেঙে যাবে।

২৭. ফরয গোসলের সময় ৩ বারের অধিক মাথায় পানি দেওয়া যাবে?
◆ যাবে। তবে পানির অপচয় করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, ওযুর ক্ষেত্রে ৩ বারের অধিক পানি নেওয়া হাদীসে নিষেধ রয়েছে।

২৮. বাচ্চা গায়ে প্রস্রাব/পায়খানা করে দিলে জায়গাটা পরিষ্কার করে ওযু করে নিলে হবে নাকি আবার গোসল করতে হবে?
◆ যদি শরীরের কোনো স্থানে লাগে তাহলে সেই স্থান ধুয়ে নিলেই হবে গোসল বা ওযু করতে হবে না। আর কাপড়ে লাগলে কাপড়ের সেই স্থানের সাথে শরীরের নাপাক অংশটুকু ধুতে হবে।

২৯. রাতে ওযু করে ঘুমানোর সময় ঘুমানোর জিকির করার পর যদি ওযু ভেঙে যায় তাহলে কি আবার ওযু করে এসে জিকির করতে হবে?
◆ জরুরি নয়。

টিকাঃ
২] কিতাবুল আছার- ১/৮৪
৩] কিতাবুল আছল- ১/২৮৬; ফাতহুল কাদীর- ১/১৫২; আলবাহরুর রায়েক- ১/২০৫; রদ্দুল মুহতার- ১/২৯১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া- ১/৪৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00