📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শিশুদের প্রস্রাব বা পায়খানা

📄 শিশুদের প্রস্রাব বা পায়খানা


বাচ্চা কাপড়ে প্রস্রাব বা পায়খানা করে দিলে এবং নাপাকির স্থান নিশ্চিতভাবে জানা থাকলে সেই স্থান ধুয়ে নিলেই হবে। তবে নির্দিষ্ট স্থান জানা না থাকলে পোশাকের যতটুকু অংশে প্রস্রাব লেগেছে বলে সন্দেহ হয় ততটুকু ধুতে হবে, যেন নাপাকির স্থান নিশ্চিতভাবে ধৌত হয়ে যায়। আর নাপাকি কোথায় লেগেছে এটা একদমই না বুঝতে পারলে পুরো কাপড়ই ধুয়ে নিতে হবে। [৩৯] হানাফী মাযহাবে শিশুদের প্রস্রাব সর্বাবস্থায় নাপাক যদিও তা দুধের শিশু হয়, হোক তা ছেলে কিংবা মেয়ে। [৪০] শিশুদের প্রস্রাব যে নাপাক এই সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। [৪১]

বাচ্চারা অনেক সময় মেঝেতে প্রস্রাব করে দেয়। মেঝে যদি মাটির হয় সেক্ষেত্রে তা শুকিয়ে প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। আর মেঝে পাঁকা হলে এবং শুকিয়ে না গেলে প্রসাবের স্থান ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেললে এবং মেঝে থেকে প্রসাবের প্রভাব ও দুর্গন্ধ চলে গেলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।

কিন্তু অনেকেই এক্ষেত্রে প্রয়োজনের অধিক কসরত করতে থাকে। তিনবার পানি ঢেলে প্রতিবার শুকনা করে না মোছা পর্যন্ত পবিত্র বিবেচনা করা হয় না। ওই স্থানে ভিজা পা পড়লে পাও অপবিত্র হয়ে যায় এই ধারণা করা হয়। অথচ সতর্কতার বাড়তি এ কষ্টটুকু মাসআলার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে হয়ে থাকে। প্রকাশ থাকে যে, পাঁকা মেঝেতে প্রস্রাব করার পর তা শুকিয়ে গেলে এবং প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে মোছা ছাড়াই ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। [৪২]

টিকাঃ
[৩৯] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ২/৭৫; বাদায়েউস সানায়ে- ১/২৩৬; ফাতহুল কাদীর- ১/১৬৮
[৪০] মাআরিফুস সুনান- ১/২৬৮-২৬৯; ইলাউস সুনান- ১/৪০৯; রদ্দুল মুহতার- ১/৩১৮
[৪১] সহীহ বুখারী- ১/৩৫; জামে তিরমিযী- ১/২১
[৪২] ইবনে আবি শাইবা- ১/৭৬; আদ্দুররুল মুখতার- ১/৩৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/৪২; ফাতহুল কাদীর-১/২০৩; তাতারখনিয়া- ১/৩১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00