📄 কাপড়ের নাপাকি
নাপাকি বা নাজাসাত ২ প্রকার।
* النجاسة الخفيفة (আন নাজাসাতুল খফীফাহ) তথা হালকা নাপাকি যেমন: কবুতর, মুরগী, কোয়েল, চড়ুই পাখি ইত্যাদির প্রস্রাব ও বিষ্ঠা। এধরনের নাপাকি কাপড়ে লাগলে সেই কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা জায়েয।
* النجاسة الغليظة (আন নাজাসাতুল গলীযাহ) তথা ভারী নাপাকি যেমন: পায়খানা, প্রস্রাব, মনী (বীর্য), মযী, পুঁজ, মুখভর্তি বমি, মহিলাদের হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযার রক্ত, ডাঙ্গায় বসবাসকারী ব্যাঙের প্রস্রাব ইত্যাদি। গলীযাহ নাপাকি যতটুকুই লাগুক না কেন, কাপড়ের যেখানে নাপাকি লেগেছে উক্ত অংশটি নাপাক হয়ে যাবে। তবে কথা হলো, এর দ্বারা নামায পড়া শুদ্ধ হবে কি না? এক্ষেত্রে যদি গলীযাহ নাপাকি এক দিরহাম মুদ্রার পরিমাপ (অর্থাৎ হাতের তালুর মাঝের গভীরতা সমপরিমাণ) বা তার অধিক হয়, তাহলে উক্ত কাপড় পরে নামায পড়া জায়েয নয়। কিন্তু নাপাকির পরিমাণ যদি এক দিরহাম মুদ্রার পরিমাপ থেকে কম হয়, তাহলে উক্ত কাপড়সহ নামায পড়া জায়েয আছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ধুয়ে নেওয়াই সর্বোত্তম। আর যদি নাপাকি দিরহামের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সে নাপাকি ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। এ পরিমাণ নাপাকি নিয়ে নামায পড়লে নামায আদায় হবে না।[৩৫]
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- "এক দিরহাম পরিমাণ রক্তের কারণে নামায পুনরায় আদায় করো।”[৩৬]
فلما ذكره صاحب الأسرار عن علي وبن مسعود أنهما قدرا النجاسة بالدرهم وكفى بهما حجة في الاقتداء وروي عن عمر أيضا أنه قدره بظفره
হযরত আলী এবং ইবনে মাসউদ (কাপড়) নাপাক হওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করেছেন এক দিরহাম। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমার নির্ধারণ করেছেন নখ পরিমাণ। [৩৭]
ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ সহ প্রমুখ বিখ্যাত আলিমগণ এর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আর যদি নাপাকি শক্ত প্রকৃতির হয়, তাহলে এক দিরহাম মুদ্রার ওজনের কম হলে নামায আদায় হয়ে যাবে। এক দিরহাম মুদ্রার ওজন বর্তমানে প্রায় তিন গ্রাম। [৩৮]
টিকাঃ
[৩৫] ইলাউস সুনান- ১/৪০৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকীল ফালাহ- ৮৪; আলবাহরুর রায়েক- ১/২২৮; শরহুল মুনইয়াহ- ১৭১; আন নাহরুল ফায়েক- ১/১৪৬; আল জাওহারাতুন নাইয়িরা- ১/৪৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৮৭
[৩৬] সুনানে দারা কুতনী- ১; সুনানে বায়হাকী কুবরা- ৩৮৯৬, জামেউল আহাদীস- ১০৭৮৩, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী- ১৩২৩; আল জামেউল কাবীর- ২৩৮
[৩৭] উমদাতুল কারী- ৩/১৪০, আদিল্লাতুল হানাফিয়্যাহ- ১০۱
[৩৮] কানযুদ দাকায়েকের টিকা- ১৫ থেকে ১৬
📄 শিশুদের প্রস্রাব বা পায়খানা
বাচ্চা কাপড়ে প্রস্রাব বা পায়খানা করে দিলে এবং নাপাকির স্থান নিশ্চিতভাবে জানা থাকলে সেই স্থান ধুয়ে নিলেই হবে। তবে নির্দিষ্ট স্থান জানা না থাকলে পোশাকের যতটুকু অংশে প্রস্রাব লেগেছে বলে সন্দেহ হয় ততটুকু ধুতে হবে, যেন নাপাকির স্থান নিশ্চিতভাবে ধৌত হয়ে যায়। আর নাপাকি কোথায় লেগেছে এটা একদমই না বুঝতে পারলে পুরো কাপড়ই ধুয়ে নিতে হবে। [৩৯] হানাফী মাযহাবে শিশুদের প্রস্রাব সর্বাবস্থায় নাপাক যদিও তা দুধের শিশু হয়, হোক তা ছেলে কিংবা মেয়ে। [৪০] শিশুদের প্রস্রাব যে নাপাক এই সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। [৪১]
বাচ্চারা অনেক সময় মেঝেতে প্রস্রাব করে দেয়। মেঝে যদি মাটির হয় সেক্ষেত্রে তা শুকিয়ে প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। আর মেঝে পাঁকা হলে এবং শুকিয়ে না গেলে প্রসাবের স্থান ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেললে এবং মেঝে থেকে প্রসাবের প্রভাব ও দুর্গন্ধ চলে গেলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।
কিন্তু অনেকেই এক্ষেত্রে প্রয়োজনের অধিক কসরত করতে থাকে। তিনবার পানি ঢেলে প্রতিবার শুকনা করে না মোছা পর্যন্ত পবিত্র বিবেচনা করা হয় না। ওই স্থানে ভিজা পা পড়লে পাও অপবিত্র হয়ে যায় এই ধারণা করা হয়। অথচ সতর্কতার বাড়তি এ কষ্টটুকু মাসআলার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে হয়ে থাকে। প্রকাশ থাকে যে, পাঁকা মেঝেতে প্রস্রাব করার পর তা শুকিয়ে গেলে এবং প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে মোছা ছাড়াই ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। [৪২]
টিকাঃ
[৩৯] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ২/৭৫; বাদায়েউস সানায়ে- ১/২৩৬; ফাতহুল কাদীর- ১/১৬৮
[৪০] মাআরিফুস সুনান- ১/২৬৮-২৬৯; ইলাউস সুনান- ১/৪০৯; রদ্দুল মুহতার- ১/৩১৮
[৪১] সহীহ বুখারী- ১/৩৫; জামে তিরমিযী- ১/২১
[৪২] ইবনে আবি শাইবা- ১/৭৬; আদ্দুররুল মুখতার- ১/৩৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/৪২; ফাতহুল কাদীর-১/২০৩; তাতারখনিয়া- ১/৩১৬