📄 লোম পরিষ্কার করার ইসলাম সম্মত উপায়
আসল উদ্দেশ্য যেহেতু লোম পরিষ্কার করা তাই যেসব উপায় গ্রহণের মাধ্যমে লোম পরিষ্কার হবে, সেই সকল উপায়ই গ্রহণ করা জায়েয আছে। সুতরাং রেজার, ব্লেড, ক্ষুর, কাঁচি, ক্রীম, পাউডার সবই ব্যবহার করা জায়েয। অবশ্য পুরুষের জন্য এক্ষেত্রে ব্লেড বা ক্ষুর ব্যবহার করাই উত্তম। [৩০]
উল্লেখ্য, 'নারীদের ক্ষেত্রে বগল বা যৌনাঙ্গের চারপাশের লোম কর্তনের সময় মাথায় রাখা উচিত যে, নারীদের চামড়া এমনিতেই মোলায়েম। এর ওপর যখন সেসব স্থানে বারবার রেজার বা ব্লেড লাগানো হয় এতে সেই স্থানগুলোর চামড়া ক্রমশই কালো হতে থাকে যা নারী-সৌন্দর্য হ্রাস করে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে যেমনটি পূর্ববর্তী মেডিকেল দারসে উল্লেখিত হয়েছে।
টিকাঃ
[৩০] কিতাবুল ফিকহ আ'লাল মাযাহিবিল আরবাআ'- ২/৪৫; আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যাহ- ৩/২১৬-২১৭, মরদূকে লেবাস আউর বালুকে শরঈ আহকাম- ৮১
📄 দৈহিক মিলনের পর ফরয গোসল
দৈহিক মিলনের ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশের দ্বারা উভয়ের উপর গোসল ফরয হয়ে যায়। এতে বীর্যপাত হোক কিংবা না হোক। [৩১] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ বলেন,
إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا، فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْغُسْلُ وَفِي حَدِيثٍ مَطَرٍ وَإِنْ لَّمْ يُنْزِلْ
“যখন কেউ তার স্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝে উপনীত হবে এবং তার সাথে মিলিত হবে তখন তার ওপর গোসল ফরয হয়ে যাবে।” মাত্বার এর হাদীসে "aunque no eyacule"- বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে। [৩২]
টিকাঃ
[৩১] সহীহ বুখারী- ২৯১, সহীহ মুসলিম- ৩৪৩
[৩২] সহীহ মুসলিম- ৩৪৮
📄 চুমু কিংবা স্পর্শের কারণে স্রাব নির্গত হওয়া
সামান্য চুমু খাওয়ার পর বা একে অপরকে স্পর্শ করার পর যদি পুরুষের সজোরে বীর্য নিক্ষেপ হয়ে থাকে তাহলে তার গোসল ফরয হবে কিন্তু স্ত্রীর নয়। আর যদি এই কারণে ওদী (الودي) ও মযী (مذي) তথা হালকা পানি বা সাদাস্রাব বের হয় তাহলে ওযু করে নিলেই যথেষ্ট হবে আর ওই অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে।[৩৩] ইবনে আব্বাস বলেন,
هُوَ الْمَنِيُّ وَالْمَذْيُّ وَالْوَدْيُّ فَأَمَّا الْمَذْيُّ وَالْوَدْيُ فَإِنَّهُ يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَ يَتَوَضَّأُ وَأَمَّا الْمَنِيُّ, فَفِيهِ الْغُسْلُ
মনী, মযী, ওদী; এর মাঝে মযী এবং ওদী (মযী- পুরুষদের হালকা পানি, ওদী- নারীদের স্রাব) বের হলে গোপনাঙ্গ ধুয়ে ওযু করে নিতে হবে। আর মনী (পুরুষদের বীর্য) বের হলে গোসল করতে হবে।”[৩৪]
টিকাঃ
[৩৩] আল হিদায়াহ- ১/৩২; সহীহ বুখারী- ২৬৯; সহীহ মুসলিম- ৩০৩; আস সুনানুল কুবরা- ১/২৮২, হাদীস- ৮১১; সুনান নাসায়ী- ১/২৩, হাদীস- ১৯৩; তাহাবী শরীফ- ২৫৯
[৩৪] তাহাবী শরীফ- ২৫৯
📄 কাপড়ের নাপাকি
নাপাকি বা নাজাসাত ২ প্রকার।
* النجاسة الخفيفة (আন নাজাসাতুল খফীফাহ) তথা হালকা নাপাকি যেমন: কবুতর, মুরগী, কোয়েল, চড়ুই পাখি ইত্যাদির প্রস্রাব ও বিষ্ঠা। এধরনের নাপাকি কাপড়ে লাগলে সেই কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা জায়েয।
* النجاسة الغليظة (আন নাজাসাতুল গলীযাহ) তথা ভারী নাপাকি যেমন: পায়খানা, প্রস্রাব, মনী (বীর্য), মযী, পুঁজ, মুখভর্তি বমি, মহিলাদের হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযার রক্ত, ডাঙ্গায় বসবাসকারী ব্যাঙের প্রস্রাব ইত্যাদি। গলীযাহ নাপাকি যতটুকুই লাগুক না কেন, কাপড়ের যেখানে নাপাকি লেগেছে উক্ত অংশটি নাপাক হয়ে যাবে। তবে কথা হলো, এর দ্বারা নামায পড়া শুদ্ধ হবে কি না? এক্ষেত্রে যদি গলীযাহ নাপাকি এক দিরহাম মুদ্রার পরিমাপ (অর্থাৎ হাতের তালুর মাঝের গভীরতা সমপরিমাণ) বা তার অধিক হয়, তাহলে উক্ত কাপড় পরে নামায পড়া জায়েয নয়। কিন্তু নাপাকির পরিমাণ যদি এক দিরহাম মুদ্রার পরিমাপ থেকে কম হয়, তাহলে উক্ত কাপড়সহ নামায পড়া জায়েয আছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ধুয়ে নেওয়াই সর্বোত্তম। আর যদি নাপাকি দিরহামের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সে নাপাকি ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। এ পরিমাণ নাপাকি নিয়ে নামায পড়লে নামায আদায় হবে না।[৩৫]
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- "এক দিরহাম পরিমাণ রক্তের কারণে নামায পুনরায় আদায় করো।”[৩৬]
فلما ذكره صاحب الأسرار عن علي وبن مسعود أنهما قدرا النجاسة بالدرهم وكفى بهما حجة في الاقتداء وروي عن عمر أيضا أنه قدره بظفره
হযরত আলী এবং ইবনে মাসউদ (কাপড়) নাপাক হওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করেছেন এক দিরহাম। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমার নির্ধারণ করেছেন নখ পরিমাণ। [৩৭]
ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ সহ প্রমুখ বিখ্যাত আলিমগণ এর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আর যদি নাপাকি শক্ত প্রকৃতির হয়, তাহলে এক দিরহাম মুদ্রার ওজনের কম হলে নামায আদায় হয়ে যাবে। এক দিরহাম মুদ্রার ওজন বর্তমানে প্রায় তিন গ্রাম। [৩৮]
টিকাঃ
[৩৫] ইলাউস সুনান- ১/৪০৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকীল ফালাহ- ৮৪; আলবাহরুর রায়েক- ১/২২৮; শরহুল মুনইয়াহ- ১৭১; আন নাহরুল ফায়েক- ১/১৪৬; আল জাওহারাতুন নাইয়িরা- ১/৪৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৮৭
[৩৬] সুনানে দারা কুতনী- ১; সুনানে বায়হাকী কুবরা- ৩৮৯৬, জামেউল আহাদীস- ১০৭৮৩, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী- ১৩২৩; আল জামেউল কাবীর- ২৩৮
[৩৭] উমদাতুল কারী- ৩/১৪০, আদিল্লাতুল হানাফিয়্যাহ- ১০۱
[৩৮] কানযুদ দাকায়েকের টিকা- ১৫ থেকে ১৬