📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইস্তিহাযা এবং তার হুকুম

📄 ইস্তিহাযা এবং তার হুকুম


হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত অন্য সময়ে নারীর জরায়ু থেকে যেই রক্ত লাগাতার বের হতে থাকে তাকে ইস্তিহাযা বলে। ইস্তিহাযাকালীন নামায-রোজা সবকিছুই করতে পারবে। এবং এই সময়ে সহবাসেও কোনো বাধা নেই। [২০] এক্ষেত্রে মুস্তাহাযা নারী সালাত আদায়ের আগে প্রতি ওয়াক্তের জন্য পুনরায় ওযু করে নেবে। [২১]

টিকাঃ
[২০] আল মাবসূত্ব- ৩/২০৪; শরহে বিকায়া- ১/১১৩
[২১] ফতহুল ক্বদীর- ১/১৭৯

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ঘন ঘন সাদাস্রাব নির্গত হওয়া

📄 ঘন ঘন সাদাস্রাব নির্গত হওয়া


যদি কারো ক্ষেত্রে সাদাস্রাব লাগাতার নির্গত হতে থাকে; এবং এতটুকু সময় পাওয়া না যায় যার মাঝে ফরয নামাযটুকু আদায় করে নেওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে শরঈ পরিভাষায় তাকে মুস্তাহাযা মহিলার হুকুমে ধরা হবে। অর্থাৎ, তাকে মা'যূর বা অক্ষম বলে গণ্য করা হবে। মুস্তাহাযা বা মা'যূর ব্যাক্তির মত প্রতি ওয়াক্তে সে ওযু করবে এবং ওযুর পূর্বে স্রাব ধুয়ে নেবে। এ ওযু দিয়ে ফরয বা নফল যত রাকাত নামায পড়তে চায় পড়ে নিতে পারবে, কুরআন মাজীদ স্পর্শ করতে পারবে। এ সময় স্রাব নির্গত হতে থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু পরবর্তী নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলেই পূর্বের ওযুটি ভঙ্গ হবে এবং পুনরায় নতুন করে ওযু করে নামায পড়তে হবে। তবে সাদাস্রাব লাগাতার না হলে সে মা'যূর না। তাই সেক্ষেত্রে ওযু করে নামায পড়ে নেবে। এবং এমতাবস্থায় নামায পড়ার সময় স্রাব বের হলে পুনরায় অজু করে নামায পড়ে নেবে। (টীকা ২০ ও ২১ দ্রষ্টব্য)

যেসব নারী এরকম রোগে আক্রান্ত, ওযু যাতে নষ্ট না হয় তাই তারা যদি টিস্যু বা তুলা স্রাব আসার রাস্তায় এমনভাবে রাখে, যাতে স্রাব বাইরে আসতে না পারে, তাহলে এমতাবস্থায় সব ইবাদত আদায় করতে পারবে। এটিই রোগীর জন্য উত্তম পন্থা। তবে তুলা বা টিস্যু পেপারের বহিরাংশ যদি ভিজে যায় তাহলে অজু নষ্ট হয়ে যাবে। [২২]

টিকাঃ
[২২] ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের স্বপ্নদোষ

📄 নারীদের স্বপ্নদোষ


অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, নারীদের স্বপ্নদোষ হয় কিনা। উত্তর হচ্ছে, জি নারীদেরও স্বপ্নদোষ হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা বলেন, আবু তালহা-এর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে আরজ করলেন,
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ فَقَالَ " تَرِبَتْ يَدَاكِ فَبِمَ يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا

"হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের যখন স্বপ্নদোষ হয় তখন কি তার উপর গোসল করা জরুরি?" রাসূলুল্লাহ বললেন- “হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে।" (এ কথা শুনে) উম্মু সালামা বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! নারীদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়?” তিনি বললেন, "তোমার উভয় হাত ধূলিময় হোক! তাহলে তার সন্তান কেমন করে তার সদৃশ হয়?” [২৩]

উল্লেখ্য যে, রাসুলুল্লাহ আরও বলেছেন যে,
مَاءَ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءَ الْمَرْأَةِ رَقِيقُ أَصْفَرُ
সাধারণত পুরুষের বীর্য হয় গাঢ় ও সাদা এবং স্ত্রীলোকের বীর্য হয় পাতলা ও হলদে [২৪]

এ হাদীসগুলো থেকে বোঝা যায়-
* ছেলেদের মতো মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়;
* স্বপ্নদোষ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের ওপর গোসল করা ফরয হয়;
* ছেলেদের বীর্য গাঢ় ও সাদা হয় আর মেয়েদের বীর্য পাতলা ও হলদে হয়।

টিকাঃ
[২৩] সহীহ বুখারী- ১/৪২; সহীহ মুসলিম- ৫৯৯
[২৪] সহীহ মুসলিম- ৩১১

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 স্বপ্ন দেখার পরও কোনো পানি দৃশ্যমান না হওয়া

📄 স্বপ্ন দেখার পরও কোনো পানি দৃশ্যমান না হওয়া


যদি কেউ স্বপ্ন দেখে এবং এর ফলে অন্তরে খায়েশও জাগে কিন্তু কোনো পানি দৃশ্যমান না হয় তাহলে এক্ষেত্রে গোসল ফরয হবে না। তবে পানি দেখলে বা কাপড়ে দাগ দৃশ্যমান হলে গোসল ফরয হবে, স্বপ্নের কথা মনে থাকুক বা না থাকুক।

আম্মাজান আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠার পর ভেজা অনুভব করে, কিন্তু তার স্বপ্নের কথা স্মরণ নেই তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ -কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন- হ্যাঁ, তাকে গোসল করতে হবে। আর ওই ব্যক্তি, যার স্বপ্নের কথা স্মরণ আছে কিন্তু সে কাপড়ে বা শরীরে কোনো ভেজা পায়নি, তার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- না, তার জন্য গোসল করা জরুরি নয়।"[২৫]

টিকাঃ
[২৫] জামে তিরমিযী- ১১৩; সুনানে আবু দাউদ- ২৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00