📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েয-নিফাসরত অবস্থায় দৈনন্দিন কাজ

📄 হায়েয-নিফাসরত অবস্থায় দৈনন্দিন কাজ


হায়েয-নিফাস নিয়ে মানুষের মাঝে নানামুখী ধারণা রয়েছে। গ্রামগঞ্জে এমনকি শহরেও অনেকের এমন ধারণা রয়েছে যে হায়েযগ্রন্থ নারীর জন্য রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি কাজ ঠিক নয়, হায়েযরত অবস্থায় আচার বানালে বা স্পর্শ করলে আচার নষ্ট হয়ে যায়-এমনই আরও নানা রকমের উদ্ভট চিন্তাধারা। এসব ভিত্তিহীন। হায়েযগ্রস্থ নারী উল্লিখিত সকল কাজই করতে পারবে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এক্ষেত্রে ওযু করে এসব কাজ করা সর্বোত্তম।[১৫] এ বিষয়ে সমাজে যা কিছু প্রচলিত রয়েছে সেগুলো কু-সংস্কার এবং হিন্দুদের কুপ্রথা বৈ কিছুই নয়। এছাড়া ইহুদিরাও মহিলাদের হায়েযগ্রস্থ অবস্থায় তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না এবং এক সাথে ঘুমাতও না। যেমনটি আনাস-এর একটি হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।[১৬]

এই অবস্থায় নবী এর পত্নীগণ ও অন্যান্য মহিলা সাহাবীগণ উপরোক্ত সকল কাজই করতেন, এতে কোনো বাঁধাও দেওয়া হয়নি। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ বুখারীতে হায়েয অধ্যায়ে ২৯৫ নং হাদীস থেকে ধারাবাহিকভাবে বহু হাদীস এসকল কু-সংস্কারের অপনোদনের জন্য নিয়ে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ হায়েযগ্রস্থ নারীর ব্যাপারে বলেন,

إِن حيضتك ليست في يدك
তোমার হায়েয তো তোমার হাতে (লেগে) নেই।[১৭]

আম্মাজান আয়েশা বলেন,
كنت أرجل رأس رسول الله - صلى الله عليه وسلم- وأنا حائض
আমি হায়েযগ্রস্থ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথা চিরুনী দিয়ে আঁচড়াতাম![১৮]
হায়েয অবস্থায় নবীজি তার স্ত্রীদের সহিত একসাথে খেতেন ও পান করতেন। তাঁদের ঝুটাও খেতেন ও পান করতেন। এমনকি খাদ্যের যে স্থানে হায়েযগ্রস্থ স্ত্রীর মুখ লেগেছে নবীজি সেখানেই তাঁর মুবারক মুখ লাগাতেন। এবং তিনি তাঁর হায়েযগ্রস্থ স্ত্রীর সাথে এক বিছানায় ঘুমাতেন।[১৯]

টিকাঃ
[১৫] রাদ্দুল মুহতার- ১/৪৮৬; হাশিয়ায়ে ত্বহত্ববী আলা মারাক্কিল ফালাহ- ১১৬, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া- ১/২২২
[১৬] সুনানে নাসায়ী- ১/১৫২,১৮৭; হাদীসটির মান সহীহ।
[১৭] সহীহ মুসলিম- ১১ থেকে ১৩; আবু দাউদ- ২৬২; তিরমিযী- ১৩৪; নাসায়ী- ৩৮১ থেকে ৩৮২
[১৮] সহীহ বুখারী- ২৯৫, ২০২৯, ৫৮৮১; সহীহ মুসলিম- ৬৭১; আবু দাউদ- ২৪৬৮; তিরমিযী- ৮০৪; সুনানে নাসায়ী- ৩৮৭; ইবনে মাজাহ- ১৭৭৫; মুয়াত্ত্বা মালেক- ৬০; মুয়াত্তা মুহাম্মাদ- ৫৩
[১৯] সহীহ বুখারী- ২৯৮, ৩২২, ৩২৩, ১৯২৯; সহীহ মুসলিম- ৫, ২৯৬, ৩০০; নাসায়ী- ৩৬৯; নাসায়ী- ২৭৯, ২৮৩, ৩৭৭; সুনানুল কুবরা- ১/৩১১, হাদীস- ১৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ- ১/৫৮ হাদীস- ১১০; সহীহ ইবনু হিব্বান- ৪/১০৮, ১৯৪, হাদীস- ১২৯৩, ১৩৬০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ইস্তিহাযা এবং তার হুকুম

📄 ইস্তিহাযা এবং তার হুকুম


হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত অন্য সময়ে নারীর জরায়ু থেকে যেই রক্ত লাগাতার বের হতে থাকে তাকে ইস্তিহাযা বলে। ইস্তিহাযাকালীন নামায-রোজা সবকিছুই করতে পারবে। এবং এই সময়ে সহবাসেও কোনো বাধা নেই। [২০] এক্ষেত্রে মুস্তাহাযা নারী সালাত আদায়ের আগে প্রতি ওয়াক্তের জন্য পুনরায় ওযু করে নেবে। [২১]

টিকাঃ
[২০] আল মাবসূত্ব- ৩/২০৪; শরহে বিকায়া- ১/১১৩
[২১] ফতহুল ক্বদীর- ১/১৭৯

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 ঘন ঘন সাদাস্রাব নির্গত হওয়া

📄 ঘন ঘন সাদাস্রাব নির্গত হওয়া


যদি কারো ক্ষেত্রে সাদাস্রাব লাগাতার নির্গত হতে থাকে; এবং এতটুকু সময় পাওয়া না যায় যার মাঝে ফরয নামাযটুকু আদায় করে নেওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে শরঈ পরিভাষায় তাকে মুস্তাহাযা মহিলার হুকুমে ধরা হবে। অর্থাৎ, তাকে মা'যূর বা অক্ষম বলে গণ্য করা হবে। মুস্তাহাযা বা মা'যূর ব্যাক্তির মত প্রতি ওয়াক্তে সে ওযু করবে এবং ওযুর পূর্বে স্রাব ধুয়ে নেবে। এ ওযু দিয়ে ফরয বা নফল যত রাকাত নামায পড়তে চায় পড়ে নিতে পারবে, কুরআন মাজীদ স্পর্শ করতে পারবে। এ সময় স্রাব নির্গত হতে থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু পরবর্তী নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলেই পূর্বের ওযুটি ভঙ্গ হবে এবং পুনরায় নতুন করে ওযু করে নামায পড়তে হবে। তবে সাদাস্রাব লাগাতার না হলে সে মা'যূর না। তাই সেক্ষেত্রে ওযু করে নামায পড়ে নেবে। এবং এমতাবস্থায় নামায পড়ার সময় স্রাব বের হলে পুনরায় অজু করে নামায পড়ে নেবে। (টীকা ২০ ও ২১ দ্রষ্টব্য)

যেসব নারী এরকম রোগে আক্রান্ত, ওযু যাতে নষ্ট না হয় তাই তারা যদি টিস্যু বা তুলা স্রাব আসার রাস্তায় এমনভাবে রাখে, যাতে স্রাব বাইরে আসতে না পারে, তাহলে এমতাবস্থায় সব ইবাদত আদায় করতে পারবে। এটিই রোগীর জন্য উত্তম পন্থা। তবে তুলা বা টিস্যু পেপারের বহিরাংশ যদি ভিজে যায় তাহলে অজু নষ্ট হয়ে যাবে। [২২]

টিকাঃ
[২২] ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নারীদের স্বপ্নদোষ

📄 নারীদের স্বপ্নদোষ


অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, নারীদের স্বপ্নদোষ হয় কিনা। উত্তর হচ্ছে, জি নারীদেরও স্বপ্নদোষ হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা বলেন, আবু তালহা-এর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে আরজ করলেন,
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ فَقَالَ " تَرِبَتْ يَدَاكِ فَبِمَ يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا

"হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের যখন স্বপ্নদোষ হয় তখন কি তার উপর গোসল করা জরুরি?" রাসূলুল্লাহ বললেন- “হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে।" (এ কথা শুনে) উম্মু সালামা বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! নারীদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়?” তিনি বললেন, "তোমার উভয় হাত ধূলিময় হোক! তাহলে তার সন্তান কেমন করে তার সদৃশ হয়?” [২৩]

উল্লেখ্য যে, রাসুলুল্লাহ আরও বলেছেন যে,
مَاءَ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءَ الْمَرْأَةِ رَقِيقُ أَصْفَرُ
সাধারণত পুরুষের বীর্য হয় গাঢ় ও সাদা এবং স্ত্রীলোকের বীর্য হয় পাতলা ও হলদে [২৪]

এ হাদীসগুলো থেকে বোঝা যায়-
* ছেলেদের মতো মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়;
* স্বপ্নদোষ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের ওপর গোসল করা ফরয হয়;
* ছেলেদের বীর্য গাঢ় ও সাদা হয় আর মেয়েদের বীর্য পাতলা ও হলদে হয়।

টিকাঃ
[২৩] সহীহ বুখারী- ১/৪২; সহীহ মুসলিম- ৫৯৯
[২৪] সহীহ মুসলিম- ৩১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00