📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব

📄 সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব


সন্তান স্বাভাবিক নিয়মে ভূমিষ্ঠ হোক বা সিজারের মাধ্যমেই হোক, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নারীর যে রক্তস্রাব আসে তা নিফাস বলেই গণ্য হবে, হায়েয বা ইস্তিহাযা হিসেবে নয়। তাই চল্লিশ দিনের ভিতরে স্রাব বন্ধ না হলে এই সময়ে সহবাস হারাম এবং তার নামায বন্ধ থাকবে। আর চল্লিশ দিনের ভিতরে যেদিন-ই স্রাব বন্ধ হবে সেদিন থেকে গোসল করার পর সবকিছু বৈধ হবে। তবে سیজারের মাধ্যমে শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর যদি নারীর জরায়ু থেকে কোনো রক্তস্রাব না আসে এবং নিফাসের কোনো আলামত পাওয়া না যায় বরং পেট/নাভী/গুহ্যদ্বার থেকে রক্ত বের হয় তবে তা হায়েয/নিফাস হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু সেই রক্ত ঝরা বন্ধ হলে গোসল করা মুস্তাহাব। [৭]

টিকাঃ
[৭] বাহরুর রায়েক- ১/৩৪৫; আল বিনায়াহ- ১/৬৪৩; আল ফাতাওয়া আল উলুলজিয়া- ১/৫৭; আল ফাতাওয়া আস সিরাজিয়াহ- ৪৯

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 গর্ভপাতের পর রক্তস্রাব

📄 গর্ভপাতের পর রক্তস্রাব


কারো যদি অসময়ে গর্ভপাত হয় যাতে একটি গোশতের টুকরা বের হয়েছে, কোনো অঙ্গ প্রকাশ পায়নি এক্ষেত্রে গর্ভপাত পরবর্তী রক্ত নিফাস নয়; বরং এই স্রাব শুরু হওয়ার আগে ১৫ দিন পবিত্র অবস্থায় কাটলে তা হায়েযের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে যদি স্রাব তিনদিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত না হয় তাহলে তা ইস্তিহাযার রক্ত হিসাবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় হায়েয মনে করে ছেড়ে দেওয়া নামাযগুলো কাজা করে নিতে হবে। [৮]

টিকাঃ
[৮] আলবাহরুর রায়েক- ১/২১৯; বাদায়েউস সানায়ে- ১/১৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া- ১/৩৯৪; রদ্দুল মুহতার- ১/৩০২; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৪৫; নাফউল মুফতী ওয়াস সায়িল ফী জাময়িল মুতাফাররিক্বাতিল মাসায়িল (ফতোয়ায়ে লাখনৌভী)- ৪১৮; কুনইয়াতুল মুনইয়াহ- ১১৬

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 গর্ভ নষ্ট হওয়ার কারণে ডিএনসি করার পরে রক্তস্রাব

📄 গর্ভ নষ্ট হওয়ার কারণে ডিএনসি করার পরে রক্তস্রাব


গর্ভ নষ্ট হওয়ার কারণে যখন ডিএনসি করা হয় এরপর অনেকেরই রক্তস্রাব দেখা দেয়। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সেটা কি ইস্তিহাযা নাকি নিফাস এবং এরজন্য সালাত থেকে দূরে থাকতে হবে কিনা? কারও যদি প্রতিমাসে ৮ দিন হায়েযের কারণে অপবিত্র থাকার অভ্যাস থাকে কিন্তু ডিএনসি করার পর থেকে ৮ দিনের অধিক স্রাব চলতে থাকে সেক্ষেত্রে ডিএনসির পর ৮ দিন পর্যন্ত হায়েয ধর্তব্য হবে। এরপর থেকে ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। তাই প্রথম ৮ দিনের পর থেকে স্রাব থাকলেও নিয়মিত নামায পড়তে হবে। প্রকাশ থাকে যে, নষ্ট ভ্রূণে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ না হলে ডিএনসি পরবর্তী স্রাব হায়েয হিসেবে ধর্তব্য হবে। যদি নষ্ট ভ্রূণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে তাহলে এ স্রাব নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। [৯]

টিকাঃ
[৯] নাফউল মুফতী ওয়াস সায়িল ফী জাময়িল মুতাফাররিক্বাতিল মাসায়িল (ফতোয়ায়ে লাখনৌভী)- ৪১৮; কুনইয়াতুল মুনইয়াহ- ১১৬; আলমুহীতুল বুরহানী- ১/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক- ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর- ১/১৬৫-১৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া- ১/৫৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৭; আদ্দুররুল মুখতার- ১/৩০২

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েয, নিফাস, জুনুব থেকে পবিত্রতা অর্জন

📄 হায়েয, নিফাস, জুনুব থেকে পবিত্রতা অর্জন


প্রথমেই হায়েয, নিফাসের রক্ত বা দৈহিক মিলনজনিত নাপাকি ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ফরয গোসলের নিয়মানুযায়ী গোসল করতে হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي
হায়েয দেখা দিলে নামায ছেড়ে দাও। আর হায়েযের সময় শেষ হয়ে গেলে (গোসলের মাধ্যমে) রক্ত ধুয়ে নাও এবং নামায আদায় কর। [১০]

টিকাঃ
[১০] সহীহ বুখারী- ৩০১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00