📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিফাস

📄 নিফাস


সন্তান প্রসবের পর স্ত্রীলোকের জরায়ু থেকে যে রক্ত বের হয় তাকে ইসলামী শরী'আতের পরিভাষায় 'নিফাস' বলা হয়। [১]

টিকাঃ
[১] হিদায়াহ- ১/৬৯

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিফাস গণনা এবং নিফাস অবস্থায় ইবাদত

📄 নিফাস গণনা এবং নিফাস অবস্থায় ইবাদত


নিফাসের সময়কাল বা মেয়াদ হলো, সর্বোচ্চ চল্লিশ দিন। আর সর্বনিম্ন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই অর্থাৎ চল্লিশদিনের পূর্বে যখনই রক্ত অদৃশ্য হবে তখনই নিফাস শেষ বলে গণ্য হবে। সন্তান প্রসবের পর যদি কোনো স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব না হয় তবুও তার জন্য গোসল করা ওয়াজিব। তবে সন্তান প্রসব হবার সাথে সাথেই গোসল আবশ্যক হয় না। বরং নিফাসের রক্ত বন্ধ হবার পর গোসল করা আবশ্যক হয়। তবে এমনি গোসল করে পরিষ্কার হতে চাইলে সেটি ভিন্ন বিষয়।

চল্লিশ দিনের বেশি রক্তস্রাব হলে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন নিফাসের সময় গণ্য হবে এবং বাকিদিনগুলো ইস্তিহাযা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি দ্বিতীয়, তৃতীয়... সন্তান হয় এবং নিফাসের সময়কালের নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে সেক্ষেত্রে তার অভ্যাসের দিনগুলো নিফাসের দিন হিসেবে ধরা হবে। বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা হিসেবে পরিগণিত হবে। [২]

* ঋতুস্রাবের সময় নারীদের যে সকল বিধি-নিষেধ পালন করতে হয় নিফাসের সময়েও অনুরূপ করতে হবে। [৩]

হযরত আনাস থেকে বর্ণিত আছে, "রাসূল নিফাসগ্রস্থ নারীদের জন্য নিফাসের মেয়াদ সাব্যস্ত করেছেন চল্লিশ দিন। তবে যদি কেউ এর আগে পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা।"[৪]

উসমান ইবনে আবুল 'আস বলেন, "নিফাসগ্রস্থ নারীদের সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন। তবে যদি এর আগেই কেউ পবিত্র হয়ে যায়, (তাহলে পবিত্রতার বিধান শুরু হয়ে যাবে) অন্যথায় চল্লিশ দিন পর নামায শুরু করতে বিলম্ব করা যাবে না।"[৫]

টিকাঃ
[২] ফতওয়ায়ে আলমগীরী- ১/৩৭; রদ্দুল মুহতার- ১/৪৯৬-৪৯৮
[৩] বাহরুর রায়িক- ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার- ১/৪৯৬-৪৯৮
[৪] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস- ৬৪৯; আলমুজামুল আওসাত, হাদীস- ৮৩১১; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস- ৮৫২; সুনানে কুবরা, হাদীস- ১৬১৯
[৫] মুসনাদে দারেমী- ৫/১৮৫ (১০৩৭), এই রেওয়ায়েতের বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 প্রসবের পূর্বে পানি নির্গত হওয়া

📄 প্রসবের পূর্বে পানি নির্গত হওয়া


গর্ভবতী অবস্থায় সন্তান প্রসব হওয়ার পূর্বমুহূর্তে অনেকেরই ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় যোনিপথ থেকে পানি বের হয় ফলে শরীর ও কাপড় নাপাক হয়ে যায়। এতে সেই নারীর ওপর গোসল ফরয হবে না, তবে ওযু করে নিতে হবে এবং নির্গত পানি থেকে শরীর ও কাপড় পবিত্র করে নামায পড়তে হবে। কেননা সেগুলো নাপাক। [৬]

টিকাঃ
[৬] আদ্দুররুল মুখতার- ১/১৫৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/১০৭

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব

📄 সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব


সন্তান স্বাভাবিক নিয়মে ভূমিষ্ঠ হোক বা সিজারের মাধ্যমেই হোক, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নারীর যে রক্তস্রাব আসে তা নিফাস বলেই গণ্য হবে, হায়েয বা ইস্তিহাযা হিসেবে নয়। তাই চল্লিশ দিনের ভিতরে স্রাব বন্ধ না হলে এই সময়ে সহবাস হারাম এবং তার নামায বন্ধ থাকবে। আর চল্লিশ দিনের ভিতরে যেদিন-ই স্রাব বন্ধ হবে সেদিন থেকে গোসল করার পর সবকিছু বৈধ হবে। তবে سیজারের মাধ্যমে শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর যদি নারীর জরায়ু থেকে কোনো রক্তস্রাব না আসে এবং নিফাসের কোনো আলামত পাওয়া না যায় বরং পেট/নাভী/গুহ্যদ্বার থেকে রক্ত বের হয় তবে তা হায়েয/নিফাস হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু সেই রক্ত ঝরা বন্ধ হলে গোসল করা মুস্তাহাব। [৭]

টিকাঃ
[৭] বাহরুর রায়েক- ১/৩৪৫; আল বিনায়াহ- ১/৬৪৩; আল ফাতাওয়া আল উলুলজিয়া- ১/৫৭; আল ফাতাওয়া আস সিরাজিয়াহ- ৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00