📄 সাদাস্রাব
লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব হচ্ছে নারীদের একটি বিশেষ সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাদাস্রাব শারীরবৃত্তীয়, যার কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্রাবের রঙ অস্বাভাবিক ও প্রচুর পরিমাণে হলে, এতে রক্তের দাগ ও দুর্গন্ধ থাকলে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
সাধারণত, স্বাভাবিক স্রাব পাতলা এবং সামান্য চটচটে হয়। এটা অনেকটা সর্দির মত। সাধারণত যোনিপথে সাদাস্রাবের পরিমাণ ডিম্বস্ফুটন এবং মানসিক চাপের কারণে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মাসিকচক্রেও তারতম্য হতে পারে।
আবার বয়ঃসন্ধিকালে রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ার কারণে এর নিঃসরণ বেশি হতে পারে। এছাড়া, স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণে, যৌনমিলনকালে, যৌন আবেগে, গর্ভাবস্থায়, শরীরের রাসায়নিক সমতা বজায় রাখতে এবং যোনির কোষগুলোকে সচল রাখতে ইস্ট্রোজেন (oestrogen) হরমোনের প্রভাবে সাদাস্রাবের নিঃসরণ হতে পারে। মেয়ে শিশুর জন্মের প্রথম ৭-১০ দিনের মধ্যেও সাদাস্রাবে চাপ দিতে পারে। মায়ের শরীরে যদি অত্যাধিক হরমোন থাকে সেক্ষেত্রেও সাদাস্রাব হতে পারে। ওভুলেশন বা ডিম্বাণু নিঃসরণকালে জন্ম বিরতিকরণ পিল ব্যবহার করলেও এমনটি হয়ে থাকে।
• স্বাভাবিক সাদাস্রাব
• মাসিকের আগে, মাসিক চলাকালীন ও মাসিকের শেষে সাদাস্রাব হয়ে থাকে, এটা স্বাভাবিক;
• সাদাস্রাব জেলীর মতো থকথকে তরল হয়ে থাকে, কিন্তু থকথকে দইয়ের মতো না। এর কোনো বাজে গন্ধ নেই এবং তা বর্ণহীন;
• সাদাস্রাবের সাথে চুলকানি থাকবে না;
• সাদাস্রাবের সাথে দুর্বলতার কোনো সম্পর্ক নেই।
• অস্বাভাবিক সাদাস্রাব
• মাসিক ছাড়া অন্য সময় চুলাকানি;
• স্রাব সবুজাভ বা হলুদাভ রঙের হলে;
• মাছের মতো আঁশটে দুর্গন্ধ;
• দইয়ের মতো থকথকে হলে তা অস্বাভাবিক।
পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম ও পুষ্টির অভাবের কারণে সাদাস্রাবের সমস্যা হতে পারে। তাই বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, সবুজ সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।
সাদাস্রাব পরিচ্ছন্নতার সাথে সম্পৃক্ত। তাই যোনিপথ পরিষ্কার রাখা বাঞ্ছনীয়। তাই পিরিয়ডের কাপড়, পায়জামা, অন্তর্বাস নিয়মিত জীবাণুনাশক পদার্থ (যেমন:- ডেটল, স্যাভলন ইত্যাদি) দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত।
📄 লোমকর্তন
বগলের ও গোপনাঙ্গের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি-
• দেহের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে ক্যামিকেল জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা উচিত;
• রেজার ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে;
• হেয়ার রিমুভাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এরপর অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের কালচে ও শুষ্ক ভাব দূর করতে সহায়ক