📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 কখন একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত

📄 কখন একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত


* ১৬ বছর বয়সেও মাসিক শুরু না হলে;
* স্তন বিকশিত হয়নি বা স্তন বিকাশের ৩ বছরের মধ্যে মাসিক শুরু হয়নি;
* মাসিক ৯০ দিনের জন্য হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে;
• অনিয়মিত মাসিকচক্র;
• সাত দিন ধরে ভারী রক্তপাত হলে;
• প্রচুর রক্তপাত হয় এবং প্রতি দুই ঘণ্টার মধ্যে একাধিক প্যাড বা টেম্পন ব্যবহার করতে হয় এমন অবস্থা হলে;
• দুই মাসিকের মধ্যকার সময়ে মাঝে মাঝেই রক্তপাত হলে;
• মাসিক চলাকালীন গুরুতর খিঁচ এবং ব্যথা অনুভূত করলে;
• টেম্পন ব্যবহার করার পরে জ্বর হলে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 মেনোপজ

📄 মেনোপজ


একজন নারী মেনোপজে পৌঁছে অর্থাৎ, নারীর মাসিক বন্ধ হয় মূলত কিছু হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে। এই বয়সে কিছু ফিমেল হরমোন কমতে থাকে ফলে তার মাসিক বন্ধ হয় সাথে সাথে কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: আকস্মিকভাবে শরীরের উপরিভাগে গরম অনুভূত হওয়া (hot flush), রাতের বেলায় ঘাম হওয়া (Night Sweats), ঘুম না হওয়া, দুশ্চিন্তা হওয়া, মনমরা ভাব এবং যৌনতায় বা যৌন মিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি। এসব ঘটনা স্বাভাবিক। মেনোপজে পৌঁছলে এই সমস্যাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া, অধিক চিন্তিত না হওয়া এবং স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

• যেসব ঘরোয়া ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে
• প্রতিদিন ব্যায়াম করা;
• ঢিলেঢালা, সুতির আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা, অতিরিক্ত গরমে না থাকা;
• ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়া, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা;
• ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওজন বেড়ে গেলে ওজন কমানোর বিষয়ে মনোযোগী হওয়া;
• দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চাপ না নেওয়া।

ত্রিশের পর থেকেই মেয়েদের খাবারে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। মেনোপজের কারণে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এ সময় খাবারের ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। আর মাঝ বয়সে সব ধরনের খাবারও খাওয়া যায় না। তাই নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সও খেতে হবে।

হট ফ্লাশ বা নাইট সোয়েট, বিষণ্ণতা, ঘুমজনিত সমস্যা যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে হরমোন ট্রিটমেন্ট করানো যায়। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন ফিমেল হরমোনগুলো কম ক্ষরণ বা ক্ষরণ না হওয়ার কারণেই মেনোপজ হয়। এই হরমোনগুলো প্রতিস্থাপন করা হলেই সমস্যার অনেকটা সমাধান করা যায়। তবে এটি যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ এবং খরচ সাপেক্ষ একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া। এটা সবার দরকারও হয় না। মেনোপজের শুরুতেই ঘরোয়া ব্যবস্থাগুলো মেনে চললেই ইন শা আল্লাহ সমস্যা অনেকখানি কমে আসবে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিফাস

📄 নিফাস


সন্তান প্রসবের পর যোনিপথে যে রক্তস্রাব দেখা যায় একে lochia বা নিফাস বলে। এতে রক্ত, রক্ত কোষ, জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে। নিফাসের এই সময়টা কারো কারো ক্ষেত্রে ৩০ দিনের অধিক হয়ে থাকে। তবে এর কমও হতে পারে। নিফাসের প্রথম ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪ র্থ দিন পর্যন্ত মায়ের দিকে খুব খেয়াল রাখা জরুরি। আমাদের দেশে পোস্ট-পার্টাম হেমোরেজ বা প্রসব পরবর্তী রক্তপাতের কারণে বছরে প্রায় ২৯% মা মৃত্যুবরণ করে। [১] বাসায় ডেলিভারির সময় দাঈরা সাধারণত এ ব্যাপারগুলো খেয়াল করে না।

লক্ষণীয় বিষয়, বাচ্চা বের হবার পর প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) আলাদা হয়, ফলে রক্তনালীগুলো উন্মুক্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সেসময় অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হলে রক্তপাত আস্তে আস্তে কমে যায়। এছাড়া বাচ্চা জন্মের সময় যোনিপথ ছিঁড়ে গেলে, এপিসিওটোমি বা সন্তান বের করে আনতে অনেক সময় যোনিপথের পার্শ্ব কাটা লাগতে পারে। সেখান থেকেও রক্তপাত হতে পারে।

টিকাঃ
[১] http://bangladesh.blogs.wm.edu/maternal-health/postpartum-hemorrhage/

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 নিফাস চলাকালীন লক্ষণীয়

📄 নিফাস চলাকালীন লক্ষণীয়


◆ সন্তান প্রসবের পর বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানোর প্রাকৃতিকভাবে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন বাড়ানো যায়। তাই শিশু জন্ম নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এতে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয় যা রক্তনালী সংকোচন করে রক্তপাত কমায়। সেই সাথে শালদুধ বা ক্লোস্ট্রাম বাচ্চার মস্তিষ্ক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত জরুরি।
◇ নিফাসের সময় এবডোমিনাল ম্যাসাজ বা তলপেট মালিশ করা যেতে পারে।
◇ বিশেষত, বাসায় ডেলিভারি হলে এ বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল করা উচিত। নিফাসের রক্তের পরিমাণ মাসিকের চেয়ে একটু বেশি হবে। তবে মাত্রাতিরিক্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারকে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয়, ঘণ্টায় কয়টি করে প্যাড লাগছে। নিফাসের ক্ষেত্রে প্রতিঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ টা প্যাডের অধিক লেগে গেলে তা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
◇ নিফাসের প্রথম ৩ দিন গাঢ় লাল রঙের রক্তপ্রবাহ হয়। ৪র্থ দিন থেকে রঙের গাঢ়তা কিছুটা কমবে আর ১৪ তম দিনে হালকা রঙ ধারন করবে। ১৪ দিন পার হয়েও রঙ গাঢ় রয়ে গেলে ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। নিফাসের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহ। ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এ লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।
◇ ৪র্থ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ১ম দিনের মতো মাত্রারিক্ত গাঢ় লাল রক্তপ্রবাহ দেখলে এবং এর সাথে নিম্নের ৩টি লক্ষণের যেকোনো একটি থাকলেই ডাক্তার দেখাতে হবে-
১। দুর্গন্ধময় ডিসচার্জ
২। তীব্র ব্যথা
৩। জ্বর

এই ৩টি জরায়ুর ইনফেকশনের লক্ষণ। তাই অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে, অবহেলা করা চলবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00