📄 স্যানিটারি প্যাড, টেম্পন, মেন্সট্রুয়াল/ডিভা কাপ ইত্যাদি ব্যবহার
এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সংক্রমণ এবং ব্যাকটেরিয়া এড়াতে প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর প্যাড পরিবর্তন করতে হবে। টেম্পনের ক্ষেত্রে আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তা ব্যবহার করলে ব্যাকটিরিয়া দ্বারা আক্রান্ত অথবা বিষক্রিয়া (টক্সিক শক সিন্ড্রোম) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি প্রতিরোধের জন্য আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টেম্পন পরিধান করা অনুত্তম। স্পঞ্জ এবং মেনস্ট্রুয়াল কাপ আপনার প্রবাহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দিনে এক বা দুবার পরিবর্তন করা যেতে পারে।
◇ সতর্কতা-
বাচ্চা জন্মের পর অর্থাৎ নিফাস চলাকালীন টেম্পন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তখন ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে।
• স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়-
📄 হায়েযের সময় করণীয়
বাজারে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের, বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড পাওয়া যায়। যে ধরনেরই হোক না কেন তা কোনোভাবেই দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা উচিত নয়। পিরিয়ডের প্রথম দু-তিন দিন একটু বেশি রক্তক্ষরণ হয়, তাই দুই ঘণ্টা পরপর প্যাড পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি প্যাড শুকনো না থাকে অর্থাৎ ওপরের অংশে রক্ত ভেসে আসতে দেখা যায় তাহলে সাথে সাথে তা পরিবর্তন করা উচিত এবং কোনোভাবেই চার থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি একটি প্যাড পরে থাকা উচিত নয়। কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে রক্তস্রাবের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। এসময় অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহার করেন। এতে করে সেই রক্ত দ্রুত শুকিয়ে সেখানে জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে যা যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে থাকে। অনেক লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে মেয়েরা চব্বিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে থাকে। কিন্তু এধরনের প্যাড দীর্ঘসময় শুকনো রাখার জন্য 'সেলুলোজ জেল' নামক উপাদান ব্যবহার করা হয় যা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। তাই এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সচেতন হতে হবে।
• এ সময়ে মেয়েদের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। যেমন: দুধ, ডিম, শাকসবজি ইত্যাদি অধিক পরিমাণে খেতে হবে।
• পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
• প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
• অনেক মেয়েরাই এসময় সাধারণ টুকরা কাপড় ব্যবহার করে থাকেন, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করাই উত্তম।
• ন্যাপকিন ৪-৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
• মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, অস্বাস্থ্যকরভাবে ন্যাপকিন ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে জরায়ুর ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আর এ সময় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করলে দেখা দিতে পারে রক্তস্বল্পতাসহ নানা সমস্যা। তাই নিজ থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে।
• স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার শেষে সতর্কতা-
স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার শেষে ডিস্পোজাল ব্যাগ ব্যবহার করে অথবা কাগজে মুড়ে পলিথিন ব্যাগে করে নির্দিষ্ট স্থানে লোকচক্ষুর আড়ালে ফেলা, সম্ভব হলে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা উচিত, কারণ-
* মাসিক ও হিজামার রক্ত কালোজাদুর অন্যতম উপকরণ হতে পারে;
* পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে এবং পথচারীদের যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য;
* নিজের হায়েযের রক্ত কোনো মানুষের সামনে প্রকাশিত হয়ে যাক এটা রুচিশীল কেউই পছন্দ করবে না;
* শৌচালয়ের কমোড বা লো-প্যানে ফেলা যাবে না। কেননা এতে পয়নিষ্কাশনের রাস্তা আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে。
📄 মাসিক বন্ধ রাখার ওষুধ সেবন
মাসিকের মাধ্যমে মূলত ডিম্বাণুর সাথে জরায়ুর যেই নরম আস্তরণ ভ্রূণকে ধারণ করে রাখে তা বের হয়ে আসে। প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়। কিন্তু পিল খেলে তা প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে জরায়ুর আস্তরণ পুরু হতে থাকে। কোনো ভ্রূণ না থাকা সত্ত্বেও আস্তরণ ভিতরেই থেকে যাচ্ছে, যা অস্বাভাবিক এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এসব পিল জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে বেশ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকে-
* মাসিক অনিয়মিত হওয়া;
* জরায়ুর আস্তরণ ভারী হতে থাকা;
* ব্রেস্ট টেন্ডারনেস বা স্তনে মৃদু প্রদাহ;
* বমি বমি ভাব;
* মন-মেজাজ হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া;
* যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তা আরও বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
আল্লাহ যে প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বাভাবিক করেছেন, সেটাকে বাধাগ্রস্ত করে অস্বাভাবিক করে তোলা নিষ্প্রয়োজন।
📄 কখন একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত
* ১৬ বছর বয়সেও মাসিক শুরু না হলে;
* স্তন বিকশিত হয়নি বা স্তন বিকাশের ৩ বছরের মধ্যে মাসিক শুরু হয়নি;
* মাসিক ৯০ দিনের জন্য হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে;
• অনিয়মিত মাসিকচক্র;
• সাত দিন ধরে ভারী রক্তপাত হলে;
• প্রচুর রক্তপাত হয় এবং প্রতি দুই ঘণ্টার মধ্যে একাধিক প্যাড বা টেম্পন ব্যবহার করতে হয় এমন অবস্থা হলে;
• দুই মাসিকের মধ্যকার সময়ে মাঝে মাঝেই রক্তপাত হলে;
• মাসিক চলাকালীন গুরুতর খিঁচ এবং ব্যথা অনুভূত করলে;
• টেম্পন ব্যবহার করার পরে জ্বর হলে।