📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে তারপরে রমাদানের কাজা রোজা আদায়

📄 শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে তারপরে রমাদানের কাজা রোজা আদায়


হাদীসের নস ১৩ থাকায় হানাফীদের মত হলো এই যে, আগে শাওয়ালের রোজা রেখে এরপর যেকোন মুহূর্তে রমাদানের কাজা রোজা রাখা যাবে।[১৪]

টিকাঃ
[১৩] প্রাগুক্ত।
[১৪] সহীহ বুখারী- ১৯৫০, রদ্দুল মুহতার ২/২৪৩, বাহরুর রায়েক- ২/৮৬, আল মাওসূয়াতুল ফিক্বহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ২৮/১০০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েযরত অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদরের আমল

📄 হায়েযরত অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদরের আমল


রমাদানের শেষ দশ রাত ব্যাপক ফজিলতপূর্ণ। এই রাতগুলো আল্লাহর বান্দা-বান্দীগণ আমলে কাটিয়ে দেন লাইলাতুল ক্বদরের তালাশে। এমতাবস্থায় অনেক নারীই হায়েয বা নিফাসগ্রস্থ থাকেন, সেক্ষেত্রে তারা কি সকল প্রকার আমল ছেড়ে দেবে? উত্তর হচ্ছে- অবশ্যই না। সেই নারী অপবিত্র অবস্থায় যেসকল আমল করা যায় সেসব আমল অধিক হারে করবে। লাইলাতুল ক্বদরে বেশি বেশি দুরুদ, জিকির-আযকার, মাসনূন দু'আ, কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ, তাওবাহ-ইস্তিগফার ইত্যাদি আমলসমূহ হায়েয-নিফাসগ্রস্থ নারী করতে পারে। [১৫]

عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : الْحَابِضُ وَالْجُنُبُ يَذْكُرَانِ اللَّهَ وَيُسَمِّيَانِ

ইবরাহীম নাখায়ী থেকে বর্ণিত, “হায়েযরত নারী ও যার উপর গোসল ফরয হয়েছে উভয়ে আল্লাহর জিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে। [১৬]

টিকাঃ
[১৫] ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৮-৩৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক- ১/১৬৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৭৭; আদ্দুররুল মুখতার- ১/২৯৩
[১৬] মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস- ১৩০৫, সুনানে দারেমী- ১৮৯

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েযরত অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ

📄 হায়েযরত অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ


হায়েযরত অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ করা যাবে না। তবে ওযু ব্যতীত, হায়েয ও জুনুবী তথা গোসল ফরয অবস্থায় কোনো আলগা কাপড় বা রুমাল দিয়ে ধরা যাবে। এই ব্যতীত গিলাফ মুড়ানো কুরআন স্পর্শ করা যাবেনা যেহেতু সেটা আলগা কাপড় নয়। [১৭] আল্লাহ বলেন,

لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ )

“পবিত্ররা ব্যতীত কেউই এই কুরআন স্পর্শ করবে না।” [১৮]

ইমাম নববী ও ইমাম তাইমিয়া বলেন- "পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন হযরত আলী, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, সালমান, আবদুল্লাহ ইবনে উমার সহ প্রমুখ সাহাবি এবং অন্য সাহাবিদের এর বিপরীত কোনো অভিমত নেই।”[১৯] অনুরূপভাবে এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرُ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর বিন হাযম বলেন, রাসূল আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন- "পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”। [২০]

عن عبد الله بن عمر أن رسول الله ﷺ قال: لا يمس القرآن إلا طاهر
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন- “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।” [২১]

টিকাঃ
[১৭] আদ্দুররুল মুখতার- ১/৩২০; তাহতাবি- ১৪৩-১৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী- ১/৪০২; রদ্দুল মুহতার- ১/২৯৩; আলবাহরুর রায়েক- ১/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৯
[১৮] সূরা ওয়াকিয়াহ- ৭৯
[১৯] শরহুল মুহাজ্জাব- ২/৮০; মাজমুউল ফাতাওয়া- ২১/২৬৬
[২০] মুয়াত্তা মালিক- ৬৮০; কানযুল উম্মাল- ২৮৩০; মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার- ২০৯; আল মুজামুল কাবীর- ১৩২১৭; আল মুজামুস সাগীর- ১১৬২; সুনানে দারেমী- ২২৬৬
[২১] মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ৫১২

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েযরত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআনের আয়াত লেখা

📄 হায়েযরত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআনের আয়াত লেখা


হায়েযরত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত ও তার পূর্ণ কোনো আয়াত লেখা কোনোটিই জায়েয নেই।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন,
لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن
ঋতুবর্তী মহিলা এবং গোসল ফরয হওয়া ব্যক্তি কুরআন পড়বে না। [২২]

عن إبراهيم قال: الحائض والجنب يذكر ان الله ويسميان
ইবরাহীম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–“হায়েয এবং গোসল ফরয হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করতে পারবে, এবং তাঁর নাম নিতে পারবে। [২৩]

তবে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' বা 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজি'উন' তিন কুল, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি ইত্যাদি বা কুরআনের অন্যান্য বাক্যাংশ যা সাধারণত দু'আ হিসেবে পঠিত হয়; কেবল সেই আয়াতগুলোই জিকিরস্বরূপ (আল্লাহর স্মরণে) পড়তে পারবে।

আর একান্ত প্রয়োজনে কুরআনের আয়াত লিখতে হলে আয়াতের লিখিত অংশে হাত না লাগিয়ে লেখা যেতে পারে। [২৪]

টিকাঃ
[২২] সুনানে তিরমিযী- ১৩১; সুনানে দারেমী- ৯৯১; মুসনাদুর রাবী- ১১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১০৯০; মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৩৮২৩; আল ইলাল, ইবনে আবী হাতিম- ১/৪৯
[২৩] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১৩০৫; সুনানে দারেমী- ৯৮৯
[২৪] ফাতহুল কাদীর, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00