📄 রমাদানের সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয হয়ে গেলে করণীয়
রমাদানে সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয দেখা দিলে রোজা ছেড়ে দেবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে রমাদানের সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার পরিত্যাগ করা উত্তম, তবে এটি জরুরি নয়। আবার প্রকাশ্যে পানাহার করাও উচিত নয়। তবে রমাদানের দিনের বেলা যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরবর্তী সময়ে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর ছুটে যাওয়া রোজার সাথে সেই দিনের রোজারও কাজা করতে হবে।[১]
ইমাম আন-নববী বলেন- “উম্মাহর উলামাগণ সর্বসম্মতিক্রমে একমত যে, যেই মহিলাদের হায়েয ও নিফাস দৃশ্যমান হয় তাদের জন্য রোজা রাখা হারাম এবং তাদের রোজা বৈধ নয়... উলামাগণ সর্বসম্মতভাবে এই বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, সেই নারীদের জন্য রমাদানে ছুটে যাওয়া রোজা কাজা আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব। আত-তিরমিযী, ইবনুল মুনযির, ইবনু জারীর, সাহাবাগণ এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদেরও এবিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে।”[১০]
টিকাঃ
[৯] হেদায়া- ১/২২৫; কিফায়াহ- ৩/২৮৩; ফাতহুল বারী- ২/২৮২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/৪২০
[১০] আল মাজমু'- ২/৩৮৬
📄 রমাদানের কাজা সিয়াম
হায়েযের কারণে ছুটে যাওয়া রমাদানের সিয়ামগুলো পরবর্তী রমাদান আসার আগে যেকোনো দিন হায়েয বা নিফাস থেকে পবিত্র থাকাবস্থায় কাজা আদায় করে নিতে হবে। তবে দ্রুত আদায় করাই উত্তম। আল্লাহ বলেন,
فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস (রমাদান) পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে (ছুটে যাওয়া রোজার) এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। [১১]
আম্মাজান আয়েশা নিজের ব্যস্ততার কারণে রমাদানের ছুটে যাওয়া সিয়াম শা'বান মাসে রাখতেন। এর দ্বারা বোঝা যায় সুযোগ মতো কাজা রোজা রাখা যায়। আবু সালামাহ হতে বর্ণিত,
سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَ إِلَّا فِي شَعْبَانَ قَالَ يَحْيَى الشَّغْلُ مِنَ النَّبِيِّ أَوْ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
"আম্মাজান আয়েশাকে বলতে শুনেছি, আমার ওপর রমাদানের যে কাজা হয়েছে তা শা'বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না........।" [১২]
এক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বা একসাথে সবগুলো, উভয়ভাবেই রোজা কাজা রাখা যাবে。
টিকাঃ
[১১] সূরা বাক্করাহ- ১৮৫
[১২] সহীহ বুখারী- ১৯৫০
📄 শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে তারপরে রমাদানের কাজা রোজা আদায়
হাদীসের নস ১৩ থাকায় হানাফীদের মত হলো এই যে, আগে শাওয়ালের রোজা রেখে এরপর যেকোন মুহূর্তে রমাদানের কাজা রোজা রাখা যাবে।[১৪]
টিকাঃ
[১৩] প্রাগুক্ত।
[১৪] সহীহ বুখারী- ১৯৫০, রদ্দুল মুহতার ২/২৪৩, বাহরুর রায়েক- ২/৮৬, আল মাওসূয়াতুল ফিক্বহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ২৮/১০০
📄 হায়েযরত অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদরের আমল
রমাদানের শেষ দশ রাত ব্যাপক ফজিলতপূর্ণ। এই রাতগুলো আল্লাহর বান্দা-বান্দীগণ আমলে কাটিয়ে দেন লাইলাতুল ক্বদরের তালাশে। এমতাবস্থায় অনেক নারীই হায়েয বা নিফাসগ্রস্থ থাকেন, সেক্ষেত্রে তারা কি সকল প্রকার আমল ছেড়ে দেবে? উত্তর হচ্ছে- অবশ্যই না। সেই নারী অপবিত্র অবস্থায় যেসকল আমল করা যায় সেসব আমল অধিক হারে করবে। লাইলাতুল ক্বদরে বেশি বেশি দুরুদ, জিকির-আযকার, মাসনূন দু'আ, কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ, তাওবাহ-ইস্তিগফার ইত্যাদি আমলসমূহ হায়েয-নিফাসগ্রস্থ নারী করতে পারে। [১৫]
عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : الْحَابِضُ وَالْجُنُبُ يَذْكُرَانِ اللَّهَ وَيُسَمِّيَانِ
ইবরাহীম নাখায়ী থেকে বর্ণিত, “হায়েযরত নারী ও যার উপর গোসল ফরয হয়েছে উভয়ে আল্লাহর জিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে। [১৬]
টিকাঃ
[১৫] ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৮-৩৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক- ১/১৬৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৭৭; আদ্দুররুল মুখতার- ১/২৯৩
[১৬] মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস- ১৩০৫, সুনানে দারেমী- ১৮৯