📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েয এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য

📄 হায়েয এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য


হায়েয ও ইস্তিহাযা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। কেননা এর একটির কারণে নামায ও অন্যান্য ইবাদত ছেড়ে দিতে হয় কিন্তু অপরটির কারণে নামায বা অন্যান্য ইবাদত ছাড়া যায় না। কোনো নারীর হায়েয হলে সে অপবিত্র বলে গণ্য হবে এবং সালাত, সিয়াম ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র হওয়ার পর তার জন্য গোসল করে নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

কিন্তু ইস্তিহাযা হচ্ছে সাধারণ রক্ত। এর কারণে কেউ অপবিত্র হয় না। তাই ইবাদত থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই, আবার গোসলেরও প্রয়োজন নেই বরং ওযুই যথেষ্ট। বোঝাই যাচ্ছে হায়েয ও ইস্তিহাযার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে না পারলে অনেক ফরয আমলও অযথাই ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হায়েয ও ইস্তিহাযার মাঝে পার্থক্যগুলো হলো-

• اللوز (রং) : হায়েযের রক্ত কালো। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত লাল।
◇ اللزوجة (ঘনত্ব) : হায়েযের রক্ত গাঢ়। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত পাতলা।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 রমাদানের সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয হয়ে গেলে করণীয়

📄 রমাদানের সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয হয়ে গেলে করণীয়


রমাদানে সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয দেখা দিলে রোজা ছেড়ে দেবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে রমাদানের সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার পরিত্যাগ করা উত্তম, তবে এটি জরুরি নয়। আবার প্রকাশ্যে পানাহার করাও উচিত নয়। তবে রমাদানের দিনের বেলা যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরবর্তী সময়ে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর ছুটে যাওয়া রোজার সাথে সেই দিনের রোজারও কাজা করতে হবে।[১]

ইমাম আন-নববী বলেন- “উম্মাহর উলামাগণ সর্বসম্মতিক্রমে একমত যে, যেই মহিলাদের হায়েয ও নিফাস দৃশ্যমান হয় তাদের জন্য রোজা রাখা হারাম এবং তাদের রোজা বৈধ নয়... উলামাগণ সর্বসম্মতভাবে এই বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, সেই নারীদের জন্য রমাদানে ছুটে যাওয়া রোজা কাজা আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব। আত-তিরমিযী, ইবনুল মুনযির, ইবনু জারীর, সাহাবাগণ এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদেরও এবিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে।”[১০]

টিকাঃ
[৯] হেদায়া- ১/২২৫; কিফায়াহ- ৩/২৮৩; ফাতহুল বারী- ২/২৮২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/৪২০
[১০] আল মাজমু'- ২/৩৮৬

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 রমাদানের কাজা সিয়াম

📄 রমাদানের কাজা সিয়াম


হায়েযের কারণে ছুটে যাওয়া রমাদানের সিয়ামগুলো পরবর্তী রমাদান আসার আগে যেকোনো দিন হায়েয বা নিফাস থেকে পবিত্র থাকাবস্থায় কাজা আদায় করে নিতে হবে। তবে দ্রুত আদায় করাই উত্তম। আল্লাহ বলেন,
فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ

কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস (রমাদান) পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে (ছুটে যাওয়া রোজার) এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। [১১]

আম্মাজান আয়েশা নিজের ব্যস্ততার কারণে রমাদানের ছুটে যাওয়া সিয়াম শা'বান মাসে রাখতেন। এর দ্বারা বোঝা যায় সুযোগ মতো কাজা রোজা রাখা যায়। আবু সালামাহ হতে বর্ণিত,
سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَ إِلَّا فِي شَعْبَانَ قَالَ يَحْيَى الشَّغْلُ مِنَ النَّبِيِّ أَوْ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

"আম্মাজান আয়েশাকে বলতে শুনেছি, আমার ওপর রমাদানের যে কাজা হয়েছে তা শা'বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না........।" [১২]
এক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বা একসাথে সবগুলো, উভয়ভাবেই রোজা কাজা রাখা যাবে。

টিকাঃ
[১১] সূরা বাক্করাহ- ১৮৫
[১২] সহীহ বুখারী- ১৯৫০

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে তারপরে রমাদানের কাজা রোজা আদায়

📄 শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে তারপরে রমাদানের কাজা রোজা আদায়


হাদীসের নস ১৩ থাকায় হানাফীদের মত হলো এই যে, আগে শাওয়ালের রোজা রেখে এরপর যেকোন মুহূর্তে রমাদানের কাজা রোজা রাখা যাবে।[১৪]

টিকাঃ
[১৩] প্রাগুক্ত।
[১৪] সহীহ বুখারী- ১৯৫০, রদ্দুল মুহতার ২/২৪৩, বাহরুর রায়েক- ২/৮৬, আল মাওসূয়াতুল ফিক্বহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ২৮/১০০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00