📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েয শেষ হয়েছে কিনা তা বোঝার উপায়

📄 হায়েয শেষ হয়েছে কিনা তা বোঝার উপায়


জীবনে প্রথম বার হায়েয হলে হায়েয শেষ হয়েছে কিনা তা বুঝতে হায়েযের লাল রক্ত বন্ধ হওয়া দেখতে হবে। এজন্য লজ্জাস্থানে তুলা বা ন্যাকড়া রেখে কিছুক্ষণ পরে বের করে এনে তা শুকনো অথবা রক্তবিহীন ও পরিষ্কার দেখতে পেলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে নেবে। হাদীস থেকে জানা যায়, মহিলারা আয়েশা এর নিকট কৌটায় করে তুলা প্রেরণ করত। তাতে হলুদ রং দেখলে আয়েশা বলতেন "তাড়াহুড়া কর না, সাদাস্রাব বা পরিষ্কার রক্ত দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।" এর দ্বারা তিনি হায়েয হতে পবিত্র হওয়া বোঝাতেন। [৭] পবিত্রতার ক্ষেত্রে কখনো কখনো সাদাস্রাবও বের হতে পারে। তবে এটা বের হওয়া জরুরি না।

যদি কোনো নারীর হায়েয বন্ধের একটি স্বাভাবিক অভ্যাস থেকে থাকে সেই অনুযায়ী হায়েয বন্ধ হলে ঐ সময়েই গোসল সেরে পবিত্র হয়ে নামায পড়ে নেবে। অর্থাৎ হায়েযের রক্ত দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকে শুরু করে যতদিন শেষে তা সচরাচর বন্ধ হয়ে থাকে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- কারো মাসের ১০ তারিখে হায়েয শুরু হলে ১৬ তারিখে শেষ হয়। আবার পরের মাসের ৭ তারিখ হায়েয শুরু হলে ১৩ তারিখ শেষ হয়। এমনটাই যদি চলমান থাকে তাহলে ঐ নারীর হায়েযের অভ্যাস ৬ দিন। এভাবে অভ্যাস অনুযায়ী যেই সময়ে হায়েয বন্ধ হবে তখন পবিত্র হয়ে নিবে। পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ক্ষেত্রে সাদাস্রাব আসতেই হবে এমনটা জরুরি নয়; বরং লাল রক্ত বন্ধ হলেই হায়েয শেষ হয়ে গেছে বলে ধর্তব্য হবে।

তবে অনেকেরই হায়েয বন্ধ হওয়ার স্বাভাবিক কোনো অভ্যাস থাকে না। অর্থাৎ প্রতি মাসেই হায়েযের সময়কাল কমবেশি হয়, সেক্ষেত্রে রক্ত যখনই পুরোপুরি অদৃশ্যমান হবে তখনই গোসল করে নামায আদায় করা তার জন্য আবশ্যক হবে।[৮]

টিকাঃ
[৬] মুখতাসারু কিতাবিল উম্ম- ১/৬৫-৬৬; আল আওসাত্ব ফিস সুনানি ওয়াল ইজমা, ইবনুল মুনযির- ১/২৫৫; আহকামুন নিসা, ইবনুল জাওযী- ২৭
[৭] মুআত্ত্বা মালিক- ১/৫৯; সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারী তা'লীক হিসেবে এ হাদীস এনেছেন। মুসান্নাফ ইবনু আব্দুর রযযাক- ১/৩০২; হাদীস- ১১৫৯; হাদীসটির সনদ হাসান。
[৮] ফাতওয়ায়ে শামী- ১/৪৮৯-৪৯১; আল বাহরুর রায়েক- ১/৩৫৩-৩৫৫; ফাতহুল কাদীর- ১/১৭৩-১৭৪

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 একবার হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর আবার রক্ত দৃশ্যমান হওয়া

📄 একবার হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর আবার রক্ত দৃশ্যমান হওয়া


এমতাবস্থায় অনেকেই একে হায়েয মনে করে সালাত ছেড়ে দেয়। অথচ এটি হায়েয হিসেবে পরিগণিত হবে না। কেননা পূর্বেও উল্লিখিত হয়েছে যে, দুই হায়েযের মাঝে কমপক্ষে ১৫ দিনের পবিত্রতা থাকতে হবে। এর মাঝে যেই রক্ত দেখা যাবে তা ইস্তিহাযা হিসেবে পরিগনিত হবে।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 হায়েয এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য

📄 হায়েয এবং ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য


হায়েয ও ইস্তিহাযা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। কেননা এর একটির কারণে নামায ও অন্যান্য ইবাদত ছেড়ে দিতে হয় কিন্তু অপরটির কারণে নামায বা অন্যান্য ইবাদত ছাড়া যায় না। কোনো নারীর হায়েয হলে সে অপবিত্র বলে গণ্য হবে এবং সালাত, সিয়াম ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র হওয়ার পর তার জন্য গোসল করে নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

কিন্তু ইস্তিহাযা হচ্ছে সাধারণ রক্ত। এর কারণে কেউ অপবিত্র হয় না। তাই ইবাদত থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই, আবার গোসলেরও প্রয়োজন নেই বরং ওযুই যথেষ্ট। বোঝাই যাচ্ছে হায়েয ও ইস্তিহাযার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে না পারলে অনেক ফরয আমলও অযথাই ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হায়েয ও ইস্তিহাযার মাঝে পার্থক্যগুলো হলো-

• اللوز (রং) : হায়েযের রক্ত কালো। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত লাল।
◇ اللزوجة (ঘনত্ব) : হায়েযের রক্ত গাঢ়। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত পাতলা।

📘 মুহস্বানাত (পবিত্র নারীদের পাঠশালায়) > 📄 রমাদানের সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয হয়ে গেলে করণীয়

📄 রমাদানের সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয হয়ে গেলে করণীয়


রমাদানে সিয়ামরত অবস্থায় হায়েয দেখা দিলে রোজা ছেড়ে দেবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে রমাদানের সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার পরিত্যাগ করা উত্তম, তবে এটি জরুরি নয়। আবার প্রকাশ্যে পানাহার করাও উচিত নয়। তবে রমাদানের দিনের বেলা যদি কোনো নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরবর্তী সময়ে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর ছুটে যাওয়া রোজার সাথে সেই দিনের রোজারও কাজা করতে হবে।[১]

ইমাম আন-নববী বলেন- “উম্মাহর উলামাগণ সর্বসম্মতিক্রমে একমত যে, যেই মহিলাদের হায়েয ও নিফাস দৃশ্যমান হয় তাদের জন্য রোজা রাখা হারাম এবং তাদের রোজা বৈধ নয়... উলামাগণ সর্বসম্মতভাবে এই বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, সেই নারীদের জন্য রমাদানে ছুটে যাওয়া রোজা কাজা আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব। আত-তিরমিযী, ইবনুল মুনযির, ইবনু জারীর, সাহাবাগণ এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদেরও এবিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে।”[১০]

টিকাঃ
[৯] হেদায়া- ১/২২৫; কিফায়াহ- ৩/২৮৩; ফাতহুল বারী- ২/২৮২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/৪২০
[১০] আল মাজমু'- ২/৩৮৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00