📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 গর্ভাবস্থায় যৌনমিলন

📄 গর্ভাবস্থায় যৌনমিলন


প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস সহবাস না করাই উত্তম। তবে করলে সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যাতে লিঙ্গ খুব বেশি গভীরে না যায়। এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এমনটাই হতে দেখা যায় যে, যারা বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয় না তাদেরই গর্ভপাত হয়ে থাকে। তাই সম্ভব হলে একদম বিরত থাকাই শ্রেয়।

এ ছাড়া গর্ভকালে যাদের একটু একটু রক্তপাত হয় তাদের জন্য পুরা ৯ মাসই সহবাস থেকে বিরত থাকা ভালো। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে স্বামী তার চাহিদা পূরণ করে নেবে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় যে, এই সময়টাতে স্ত্রী স্বামীর প্রতি আগ্রহ পায় না বা কোনো গন্ধও সহ্য করতে পারে না, কোমড় ব্যথা বা অন্যান্য অসুস্থতা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে স্ত্রী ওযরগ্রস্ত। তাই এটা স্বামীর মেনে নেওয়া উচিত।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 সন্তান জন্মের পর করণীয়

📄 সন্তান জন্মের পর করণীয়


* সন্তান প্রসবের পর সন্তানকে খুব দ্রুত মায়ের কোলে দেয়া উচিত যাতে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো যায়। বিশেষত শাল দুধ শিশুর জন্য খুবই পুষ্টিকর ও নবজাতকের মস্তিষ্ক গঠনে তা সহায়তা করে。
* নবজাতক শিশু গর্ভে থাকাকালীন অনেক উষ্ণ পরিবেশের উষ্ণ তরলের মধ্যে অবস্থান করছিল। তাই অল্পতেই নবজাতকের ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা থাকে যা থেকে নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সার্বক্ষণিক শিশুকে কাপড় বা সামান্য মোটা কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া উচিত যাতে বাচ্চার ঠান্ডা না লাগে。
* গরমকালেও সরাসরি পাখা বা এসির নিচে বাচ্চাকে না রাখা। তাকে যথাযথভাবে ঢেকে রাখতে হবে。
* প্রস্রাব-পায়খানা হচ্ছে কি না, নাভি ঠিক আছে কি না এসব খেয়াল রাখতে হবে。
* চুল ফালানোতে ঠান্ডা লাগতে পারে কারণ চুল নবজাতকের তাপমাত্রা ধরে রাখে। তাই শীতকালে বাচ্চা জন্ম নিলে আর বাচ্চার অধিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চুল না ফেলাই ভালো। এ ক্ষেত্রে দ্বীনদার কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে。
* মা যেহেতু শিশুকে দুধ পান করাবে তাই তার খাদ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে。
* সন্তানের জন্য মায়ের বুকের দুধই সর্বাধিক উপযোগী। বুকের দুধ অধিক ঠান্ডাও না আবার অধিক গরমও না। নবজাতক শিশুর জন্য এটাই উত্তম। জন্মের পর থেকে অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধই পান করাতে হবে, এর বাইরে অন্য কিছু খাওয়ানো যাবে না。

◇ বাচ্চাকে কৌটাজাত দুধ পান করানোর ব্যাপারে নিজেরা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। বাচ্চা যদি মায়ের দুধ পান না করে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্যাকেট বা কৌটাজাত দুধ শিশুদের জন্য অনুত্তম। যেই শিশু একদমই বুকের দুধ পান করে না তাদের জন্য সেসব বিকল্প ব্যবস্থা。

* মায়ের চোখে আজীবনই 'বাচ্চা কিছু খায় না'। ফলে মায়েরা সন্তানের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে চাপ দেয় সাধারণ দুধ আনার জন্য। তাই বুকের দুধ ভালোমতো পান করছে কি না সেটা বাবাদেরও খেয়াল রাখা দরকার। বাচ্চা দৈনিক অন্তত ৬ বার প্রস্রাব করলে বুঝতে হবে যে, তার খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হচ্ছে。

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন

📄 পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন


পোস্ট-পার্টাম অর্থাৎ প্রসব-পরবর্তী মুহূর্তে হতাশা অনুভূত হওয়া গর্ভকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় বিষয়। প্রসব-পরবর্তী সময়টাতে সাধারণত শিশুর দিকেই সবাই অধিক মনোযোগী হয়ে ওঠে এবং তাকে ঘিরেই এক আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। প্রেগন্যান্সির একটা বড় চাপের পর হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে মায়ের মধ্যে এমনিতে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। এটি একটি সাধারণ ফিজিওলজি। তাই মায়ের মনে এই ভেবে আরও হতাশা জন্মায় যে, তার দিকে কেউ ততটা মনোযোগ দিচ্ছে না, সকলে বাচ্চাকে নিয়ে মেতে আছে। তাই এই সময়টাতে মায়েরও অনেক পরিচর্যা করা দরকার। এই সময়ে সবার উচিত তাকে সহযোগিতা করা, সঙ্গ দেওয়া। স্বামীর উচিত এই বিষয়ে নিজে জানা, সচেতন থাকা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে প্রসবের পূর্বেই ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া।

পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন অনেক বিপজ্জনক। এটি কারও বেশি হয় আবার কারও কম হয়। এটি যে কেবল মায়েদেরই হয় এমনটি নয়। বাবাদেরও পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন হতে পারে। তবে এটা ঠিক যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি বাবাদের তুলনায় মায়েদেরই অধিকহারে হয়ে থাকে। মায়েদের অধিক হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, গর্ভধারণের কারণে যেসব হরমোন বেড়ে গিয়েছিল, প্রসবের পরপরই সেই হরমোন স্তর হুট করে পরিবর্তন হয়ে নেমে আসে। থাইরয়েড হরমোনগুলোও এই সময়টায় কমে যায়। তাই দুর্বল হওয়া, অমনোযোগী হওয়া, বিরক্ত হওয়া ইত্যাদি নতুন মায়ের জন্য স্বাভাবিক। বাবাদেরও এমনটা হতে পারে—রাতে বাচ্চার কান্নাকাটির জন্য ঘুমাতে না পারা, বাচ্চাকে দেখাশোনা, প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদির কারণে। তাই পুরুষদেরও মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা উচিত।

এ ছাড়া বাচ্চা জন্ম দেয়ার পর তাকে পালন করাও মায়েদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। দুধ পান করানো, খেয়াল রাখা, বাচ্চার কান্নার জন্য রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, বাচ্চা খেতে না চাওয়া, বাচ্চার মলমূত্র পরিষ্কার করা ইত্যাদি কারণে পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন হতে পারে। এমনটি হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে :

* দ্রুত মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়া, মন খারাপ থাকা。
* হতাশগ্রস্ত ও বিষণ্ণ থাকা。
* মানসিক অবসাদ বোধ করা。
* কেউ মায়ের খেয়াল নিচ্ছে না, সবাই শুধু বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত, মায়ের কাছে এমন মনে হওয়া。
* ঠিকমতো ঘুম না হওয়া。
* আগে যেসব কাজ করতে ভাল্লাগত এখন তা করতে ভালো না লাগা。
* বাচ্চা বা স্বামীর প্রতি অনীহাও জন্ম নিতে পারে。

এইসব সমানযোগে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন প্রসবের পরে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। এর অধিক হলে ডাক্তার দেখাতে হবে। এ ছাড়া অনেক সতর্ক থাকতে হবে। এমনও হয় যে, অতিরিক্ত হতাশা থেকে অনেকে বাচ্চাকেও মেরে ফেলে; এমনকি নিজেও আত্মহত্যা করে ফেলে।

এ অবস্থায় স্বামীর উচিত তার মানসিক অবস্থা ভালো রাখা। সে যেই কষ্ট করেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং বাহবা দেয়া। তাকে ভালো কিছু উপহার দেয়া যাতে সে খুশি হয়। সাধারণত গর্ভকালে ও সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকতে চায়। তার জন্য সেই ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00