📄 ঘরের কাজ
নববধূর জন্য অন্যতম একটি কষ্টদায়ক বিষয় হচ্ছে নতুন সংসারের হাল ধরতে পারা। একদম নতুন একটি পরিবেশে নতুন কিছু মানুষের সাথে বসবাস করা, তাদের দেখভাল করা, তাদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা, সেই সাথে স্বামীকে তার প্রাপ্য সময়টুকু দেয়া; একই সাথে এতগুলো বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের পক্ষে কষ্টসাধ্য এবং পুরোপুরিভাবে সংসার নামক ষাঁড়কে বাগে আনাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এটা স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের মাথায় রাখা উচিত। স্ত্রী ঘরের কী কী কাজ করবে এটা পুরোপুরি ব্যক্তিভেদে নির্ভরশীল। যদি তার শক্তি-সামর্থ্য কিছুটা কম হয়, মেয়ে ধনী পরিবারের হয় এবং সাংসারিক কাজ করতে অভ্যস্ত না হয়ে থাকে, তাহলে এসব ক্ষেত্রে তার ওপর বোঝা হবে এমন কোনো কাজ চাপিয়ে না দেয়াই শ্রেয়। মূলকথা, সে তার বাবার বাড়িতে যতটুকু কাজ করত, সেই বাড়িতে সে যেই কাজগুলোর সাথে পরিচিত সেই কাজগুলোই শ্বশুরবাড়িতে করবে। এটি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যাতে ঝামেলা করতে না পারে তাই বিয়ের আগে থেকেই তাদেরকে নরমভাবে বোঝাতে হবে, শরী'আহ এ ক্ষেত্রে কী বিধান আরোপ করে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্র ও শর্ত মাথায় ঠিক করতে হবে স্ত্রী ঘরের কতটুকু কাজ করবে এবং এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর পর্দা রক্ষা করাও স্বামীর দায়িত্ব।
📄 ফেমিনিজম (নারীবাদ) - পুরুষেরা কতটুকু দায়ী?
বর্তমান জামানায় অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি হচ্ছে নারীবাদ। এটি এমন একটি ব্যাধি যে, ব্যক্তি বুঝতে পারে না সে নিজেও এই ব্যাধিগ্রস্ত। সত্যিকার অর্থেই অধিকাংশ নারী কিছুটা বোকা প্রকৃতির। 'আবেগ' নামক মুলা ঝুলিয়ে তাদেরকে খুব সহজেই বসে আনা যায়। ফেমিনিজমের গোড়ায় গেলে দেখা যাবে এর পেছনে কোনো না কোনো পুরুষেরই হাত আছে। বর্তমান যুগেও অনেক পুরুষই ফেমিনিজমের ধ্বজাধারী সেজে আছে; যারা মুখে মুখে নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতার কথা বললেও তলে তলে এরা মাংসাশী প্রাণী। কিন্তু নারীরা এসব বোঝে না। পুরুষেরা যখন 'নারীদের শরীর তাদের নিজেদের অধিকার' বলে মুখে ফেনা তুলে তখন সাধারণভাবেই বুঝে নেয়া যায় যে, কেন তাদের এ নিয়ে এত সংগ্রাম, তাদের লাভটা আসলে কোথায়? নারীরা যার সাথে ইচ্ছা শুতে পারবে, এই স্বাধীনতা বাস্তবায়নই তাদের উদ্দেশ্য। এই স্বাধীনতা কি তাদের মা, বোন বা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও রয়েছে? নাকি কেবল নিজে যাদের সাথে শুতে পারবে তাদের জন্যই সীমাবদ্ধ?
সমাজের নর্দমার কীটদেরকে নিয়ে আলোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য না। এমনিতেও তারা জাতি গঠনে কোনো কাজেও আসবে না। তারা দুনিয়াতে এসেছে ভোগ করতে, মৃত্যুর পরের জীবনেও তারা ভোগ করে যাবে, কঠিন শাস্তি। আমাদের দৃষ্টি তাদের দিকে যারা জাতি বিনির্মাণে শক্ত ভূমিকা রাখবে, যারা সমাজকে নগ্নতা থেকে মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান করবে। যে মানুষগুলোর দাম্পত্য জীবন অন্যদের জন্য আদর্শ। কষ্টের বিষয় হলেও সত্য, দ্বীনদার পুরুষদের মাধ্যমেও অনেক নারীই নারীবাদিতার দিকে ধাবিত হয়। বেদ্বীনেরা নারীদেরকে নারীবাদিতার দিকে তথাকথিত স্বাধীনতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করে। আর দ্বীনদারদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে কষ্ট পেয়ে তাদের স্ত্রী-কন্যার অন্তরে সুপ্ত নারিবাদিতার বীজ বপিত হয়ে থাকে। তাই পুরুষদের জানা উচিত যে, তার কোন কোন আচরণ একজন নারীকে রিদ্দা তথা ধর্মত্যাগের পথে নিয়ে যেতে পারে।
♦️ অনেক দ্বীনদার পুরুষের মাঝেও নারীবাদিতার সুপ্ত বীজ লুক্কায়িত থাকে। তারা সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান মতবাদে বিশ্বাস রাখে এবং একে সঠিক বলে মানে। এই ধরনের পুরুষদের স্ত্রী-কন্যা দ্বীনচর্চা করেও নারীবাদী হয়ে যেতে পারে। একে আমরা দ্বীনের মোড়কে ফেমিনিজম বলতে পারি। এরা দ্বীনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই পুরুষদের জানতে হবে ইসলাম নারী-পুরুষের ব্যাপারে কী বলে, তাদের দায়িত্ব ও মর্যাদাকে ইসলাম কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ইসলামের ছাঁচে যা সঠিক তা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নাহলে নারীবাদিতার প্রতি দুর্বলতা ঈমানের ওপরও আঘাত হানতে পারে।
♦️ অনেক পুরুষ ইসলামের মূল নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলে না। স্ত্রী-কন্যা, পুত্রবধূদের প্রতি বাজে আখলাক, তাদের অধিকারের ব্যাপারে অসচেতনতা, কথায় কথায় খুঁত ধরা, অতিরিক্ত অধিকার খাটানো এসবই তার অধীনস্থ কোনো নারীকে নারীবাদিতার দিকে ধাবিত করতে পারে। তাই সর্বপ্রথমে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর অধিকারের ব্যাপারে জ্ঞানলাভ এবং তদানুযায়ী আমল করতে হবে। তাদেরকে যথেষ্ট সম্মান করতে হবে, তাদের সাথে খুব সুন্দর আচরণ করতে হবে, তাদের কাজের প্রশংসা করতে হবে। তারা এর প্রাপ্য এবং ইসলামও আমাদেরকে তা-ই শেখায়।
♦️ অধীনস্থ নারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের থেকে নিজ হতে যেচে পরামর্শ চাওয়া উচিত। তাকে কোনোমতেই হেয় করা যাবে না। নারীরা সাধারণত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে অনেক সময় কষ্ট পেয়ে ফেমিনিজমের দিকে ছুটতে পারে।
♦️ অনেক পুরুষ আবার শরী'আতের বিধান মাত্রাতিরিক্তভাবে নারীদের ওপর আরোপ করে, যেভাবে ইসলাম আমাদেরকে শিখায় না। ইসলামে ছাড়াছাড়ি যেমন নিষিদ্ধ, বাড়াবাড়িও তেমনি নিষিদ্ধ। নিজের অধিকার বা আনুগত্যের ভার তার ওপরে অধিক চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি আসলেই তার মাঝে আনুগত্যের অভাব থাকে তাহলে সেটা ঠান্ডা মাথায়, সুন্দর সময়ে বোঝাতে হবে। নিজের অধিকারের ক্ষেত্রেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া যেতেই পারে।
♦️ আমাদের অনেকেই দুনিয়াবিমুখতা ভালোবাসি, তবে সেটা কেবল স্ত্রী-কন্যার ভরণ-পোষণের বেলায়। এই ধরনের পুরুষদের কোনো ভ্রুক্ষেপই থাকে না যে, স্ত্রী বা কন্যার কী প্রয়োজন। তারা যা-ই কিনতে চায় সবই অপচয় বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এতে তাদের মাঝে অর্থ উপার্জনের একটা ঝোঁক তৈরি হয়। এটাই নারীবাদিতার সিঁড়িতে প্রথম পদক্ষেপ বলা যেতে পারে। তবে সকল নারী এক নয়। কেউ কেউ আসলেই স্বামী বা পিতার অবহেলার কারণে অপারগ হয়ে কিন্তু আল্লাহকে যথাযথ ভয় করেই উপার্জনের পথ বেছে নেয়। এই ক্ষেত্রে সেই পুরুষ অবশ্যই তার দায়িত্বের অবহেলার জন্য আল্লাহ কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষদের উচিত, তার অধীনস্থ নারীদের আর্থিক দিক বিবেচনায় রাখা।
তাদেরকে মাসিক ভিত্তিতে হাতখরচ দেওয়া, যেন তারা নিজেদের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারে। যেন তারা ভাবতে পারে যে, এই টাকাটুকু একান্তই তাদের।