📄 পিতা হিসেবে সন্তানের তারবিয়াত
সন্তান লালনের মূল দায়িত্বটা মায়েদের ওপর অর্পিত হলেও বাবাদের দায়িত্বটাও ফেলে দেয়ার মতো না। বাবা হচ্ছে সন্তানদের জন্য বটবৃক্ষের ছায়া। বাবার বুকে যেমন সন্তানের জন্য মমতা লুক্কায়িত থাকবে তেমনি বাবার চোখে চোখ রাখতে সন্তানেরা ভয় পাবে। সন্তানদের কাছে হিরো হবে তাদের বাবা। প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন থাকে 'বড় হয়ে বাবার মতো হতে চাই'। তাই সন্তানের তারবিয়াতের ক্ষেত্রে বাবাদের প্রথম করণীয় হলো নিজেকে প্রশ্ন করা, 'আমি কি চাই যে, আমার সন্তান আমার মতো হোক?' যদি উত্তর 'না' আসে তাহলে কেন চান না সেই উত্তর খুঁজুন এবং নিজেকে সেই অনুযায়ী পরিবর্তন করুন।
সন্তান নিজেকে তার বাবা-মায়ের দর্পণে দেখতে ভালোবাসে। অর্থাৎ সন্তান মূলত তার বাবা-মায়েরই প্রতিবিম্ব। তাই সন্তানকে ছোটকাল থেকেই ইসলামের মূল্যবোধ শেখাতে হবে। এই সময়টা সন্তানেরা নরম মাটির মতো থাকে। যেভাবে খুশি গড়া যায়। পরে ধীরে ধীরে তা শক্ত হয়ে যায়। তখন চাইলেও পরিবর্তন সম্ভব হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তাই এই সময়টা কাজে লাগাতে হবে। আবার সন্তানদের বয়স হয়ে গেলে যে তাদের তারবিয়াতের আর প্রয়োজন নেই এমনটা ভাবা যাবে না। সন্তানেরা আজীবন বাবা-মায়েদের কাছ থেকে শিখবে। প্যারেন্টিং একটি সুদীর্ঘ পাঠ। যার শুরু হয় সন্তান জন্ম নেয়ারও বহু পূর্ব থেকেই।
* সন্তান জন্মের পূর্বে
তারবিয়াত শুরু হয় সন্তান প্রসবেরও অনেক পূর্ব থেকেই। এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হচ্ছে ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য দ্বীনদার মা খোঁজা। দুজনেরই দ্বীনের বুঝ না থাকলে সন্তানকে সঠিক দ্বীনের দিশা মেলানো কষ্টকর হয়ে যাবে。
সন্তান যখন গর্ভে থাকে তখন স্ত্রীকে সকল প্রকার হারাম পরিবেশ ও গান-বাজনা থেকে দূরে রাখতে হবে। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত শোনাতে হবে। সন্তান প্রসব হয়ে গেলে আযান দেয়া, তাহনীক করানো, সুন্দর অর্থবহ নাম রাখা, আকীকা দেয়া ইত্যাদি বিষয় বাবার পরিকল্পনায় থাকা উচিত。
◆ শাসন
সন্তানের বয়স, আচরণ, চিন্তাধারা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করবে যে তাকে শাসন কীভাবে করতে হবে। যদি বাচ্চা শান্ত স্বভাবের হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে শাসনের খুব একটা প্রয়োজন নেই। তবে সন্তান যদি কিছুটা দুষ্টু প্রকৃতির হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। মূলত সন্তানদেরকে ৭-৮ বছরের আগে শাসন না করাই উত্তম।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঘরের কাউকে না কাউকে ভয় পাওয়া উচিত। এই স্থানটাতে বাবা থাকলেই সবচেয়ে ভালো হয়। তবে কথায় কথায় সন্তানকে বকা দেয়া, মাত্রাধিক্য শাসন করা, মার দেয়া ইত্যাদি থেকে নিঃসন্দেহে বিরত থাকতে হবে। সামান্য কিছু সময়ের জন্য কথা না বলে থাকা, অভিমান করে কথা বলা ইত্যাদির মাধ্যমে তাকে বোঝাতে হবে যে তার কাজটি ঠিক হয়নি।
* সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠন
সন্তানের সামনে সুন্দর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে হবে। এতে তাদেরও সুন্দর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠবে। এ ছাড়া সন্তানেরা যখন বড় হতে থাকে তখন থেকেই তাদেরকে পড়াশোনার জন্য কোথায় পাঠানো হবে তা নিয়ে ফিকির করতে হবে। ভালোমানের মাদরাসা বা ইসলামিক স্কুলের খোঁজ করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে বুঝ হলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও যাতে অগ্রসরমান হয় সেটা নিয়েও বাবাদের তটস্থ থাকা উচিত। যেমন: সাধারণ জ্ঞান, ভৌগোলিক জ্ঞান, দা'ওয়াহ প্রদানের উপায় ও ধরন, সাঁতার, মার্শাল আর্ট ইত্যাদি শেখানো। ছোটকাল থেকেই বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে যাতে বড় হয়ে পড়ুয়া হয়। সন্তানকে দৌড়ঝাঁপ করতে উৎসাহিত করতে হবে, হোক তা বাসায়। এতে ছোটকাল থেকেই সন্তানের মাঝে চাঞ্চল্য আসবে যা পরবর্তীতে কাজে দেবে ইন শা আল্লাহ。
◆ হতে হবে সন্তানের বন্ধু
সন্তানদের সাথে এতটুকু খোলামেলা থাকতে হবে যাতে সে তার প্রয়োজন, চাহিদা, সমস্যাগুলো আপনার কাছে নিঃসংকোচে বলতে পারে। তার বয়সের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তাকে দুনিয়ার অন্ধকার থেকে হেফাযত করে যেতে হবে। সময় হলে সন্তানের বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিত। এতে বিলম্ব না করাই উত্তম। আমাদের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষরা আমাদের সাথে যা করেছে আমরাও যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সাথে তেমনটা না করি। সন্তানের অন্তরের অবস্থা বুঝতে হবে পিতাদেরকে।
* সন্তানকে উপদেশ প্রদান
সন্তান যখন পরিপূর্ণ বুঝবান হয়ে যাবে তখন সন্তানকে বিভিন্ন সৎ উপদেশ প্রদান করতে হবে, দিকনির্দেশনা দিতে হবে। পূর্ববর্তী নবীগণ তাদের সন্তানদেরকে উপদেশ দিতেন। নিজ পুত্রসন্তানকে লুকমান হাকীমের প্রদত্ত বেশ কিছু উপদেশ কুরআনেও এসেছে। এটি একটি নবীওয়ালা চর্চা। তাই এটি অনুশীলন করা উচিত。
* সন্তানের চাহিদামাফিক খরচ
সর্বোপরি পিতাদের অন্যতম মহৎ দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানদের জন্য খরচ করা। এ ব্যাপারে অযথা কিপটামো করা অনুচিত। এ ছাড়া সন্তানদের মাঝে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন যাতে নিশ্চিত হয় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে。
* সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা
একাধিক সন্তানের মাঝে বাবাদের সমতা রক্ষা করা উচিত। সন্তানদের মাঝে কারও যাতে এমন মনে না হয় যে, তাকে কম প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে。
আমাদের সন্তানেরা এক পচনশীল দুনিয়ার মুখ দেখতে যাচ্ছে। এমন দুনিয়া যেখানে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ। এমতাবস্থায় সন্তান জন্ম দিয়ে ছেড়ে দিলে সন্তান হাজার হাজার রাস্তার মাঝ থেকে নিজের পছন্দমতো পথ খুঁজে নেবে। এই হাজার হাজার রাস্তার মাঝে একটিই কেবল মিলিত হয়েছে জান্নাতের সাথে, সেটাই হলো সিরাত্বাল মুস্তাক্বীম। সেই সিরাত্বাল মুস্তাক্বীম চিনিয়ে দেয়ার দায়িত্ব বাবাদের। এই ব্যাপারে অবহেলার শাস্তি তাই বাবারও পেতে হবে।
📄 ঘরের কাজ
নববধূর জন্য অন্যতম একটি কষ্টদায়ক বিষয় হচ্ছে নতুন সংসারের হাল ধরতে পারা। একদম নতুন একটি পরিবেশে নতুন কিছু মানুষের সাথে বসবাস করা, তাদের দেখভাল করা, তাদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা, সেই সাথে স্বামীকে তার প্রাপ্য সময়টুকু দেয়া; একই সাথে এতগুলো বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের পক্ষে কষ্টসাধ্য এবং পুরোপুরিভাবে সংসার নামক ষাঁড়কে বাগে আনাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এটা স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের মাথায় রাখা উচিত। স্ত্রী ঘরের কী কী কাজ করবে এটা পুরোপুরি ব্যক্তিভেদে নির্ভরশীল। যদি তার শক্তি-সামর্থ্য কিছুটা কম হয়, মেয়ে ধনী পরিবারের হয় এবং সাংসারিক কাজ করতে অভ্যস্ত না হয়ে থাকে, তাহলে এসব ক্ষেত্রে তার ওপর বোঝা হবে এমন কোনো কাজ চাপিয়ে না দেয়াই শ্রেয়। মূলকথা, সে তার বাবার বাড়িতে যতটুকু কাজ করত, সেই বাড়িতে সে যেই কাজগুলোর সাথে পরিচিত সেই কাজগুলোই শ্বশুরবাড়িতে করবে। এটি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যাতে ঝামেলা করতে না পারে তাই বিয়ের আগে থেকেই তাদেরকে নরমভাবে বোঝাতে হবে, শরী'আহ এ ক্ষেত্রে কী বিধান আরোপ করে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্র ও শর্ত মাথায় ঠিক করতে হবে স্ত্রী ঘরের কতটুকু কাজ করবে এবং এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর পর্দা রক্ষা করাও স্বামীর দায়িত্ব।
📄 ফেমিনিজম (নারীবাদ) - পুরুষেরা কতটুকু দায়ী?
বর্তমান জামানায় অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি হচ্ছে নারীবাদ। এটি এমন একটি ব্যাধি যে, ব্যক্তি বুঝতে পারে না সে নিজেও এই ব্যাধিগ্রস্ত। সত্যিকার অর্থেই অধিকাংশ নারী কিছুটা বোকা প্রকৃতির। 'আবেগ' নামক মুলা ঝুলিয়ে তাদেরকে খুব সহজেই বসে আনা যায়। ফেমিনিজমের গোড়ায় গেলে দেখা যাবে এর পেছনে কোনো না কোনো পুরুষেরই হাত আছে। বর্তমান যুগেও অনেক পুরুষই ফেমিনিজমের ধ্বজাধারী সেজে আছে; যারা মুখে মুখে নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতার কথা বললেও তলে তলে এরা মাংসাশী প্রাণী। কিন্তু নারীরা এসব বোঝে না। পুরুষেরা যখন 'নারীদের শরীর তাদের নিজেদের অধিকার' বলে মুখে ফেনা তুলে তখন সাধারণভাবেই বুঝে নেয়া যায় যে, কেন তাদের এ নিয়ে এত সংগ্রাম, তাদের লাভটা আসলে কোথায়? নারীরা যার সাথে ইচ্ছা শুতে পারবে, এই স্বাধীনতা বাস্তবায়নই তাদের উদ্দেশ্য। এই স্বাধীনতা কি তাদের মা, বোন বা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও রয়েছে? নাকি কেবল নিজে যাদের সাথে শুতে পারবে তাদের জন্যই সীমাবদ্ধ?
সমাজের নর্দমার কীটদেরকে নিয়ে আলোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য না। এমনিতেও তারা জাতি গঠনে কোনো কাজেও আসবে না। তারা দুনিয়াতে এসেছে ভোগ করতে, মৃত্যুর পরের জীবনেও তারা ভোগ করে যাবে, কঠিন শাস্তি। আমাদের দৃষ্টি তাদের দিকে যারা জাতি বিনির্মাণে শক্ত ভূমিকা রাখবে, যারা সমাজকে নগ্নতা থেকে মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান করবে। যে মানুষগুলোর দাম্পত্য জীবন অন্যদের জন্য আদর্শ। কষ্টের বিষয় হলেও সত্য, দ্বীনদার পুরুষদের মাধ্যমেও অনেক নারীই নারীবাদিতার দিকে ধাবিত হয়। বেদ্বীনেরা নারীদেরকে নারীবাদিতার দিকে তথাকথিত স্বাধীনতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করে। আর দ্বীনদারদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে কষ্ট পেয়ে তাদের স্ত্রী-কন্যার অন্তরে সুপ্ত নারিবাদিতার বীজ বপিত হয়ে থাকে। তাই পুরুষদের জানা উচিত যে, তার কোন কোন আচরণ একজন নারীকে রিদ্দা তথা ধর্মত্যাগের পথে নিয়ে যেতে পারে।
♦️ অনেক দ্বীনদার পুরুষের মাঝেও নারীবাদিতার সুপ্ত বীজ লুক্কায়িত থাকে। তারা সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান মতবাদে বিশ্বাস রাখে এবং একে সঠিক বলে মানে। এই ধরনের পুরুষদের স্ত্রী-কন্যা দ্বীনচর্চা করেও নারীবাদী হয়ে যেতে পারে। একে আমরা দ্বীনের মোড়কে ফেমিনিজম বলতে পারি। এরা দ্বীনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই পুরুষদের জানতে হবে ইসলাম নারী-পুরুষের ব্যাপারে কী বলে, তাদের দায়িত্ব ও মর্যাদাকে ইসলাম কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ইসলামের ছাঁচে যা সঠিক তা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নাহলে নারীবাদিতার প্রতি দুর্বলতা ঈমানের ওপরও আঘাত হানতে পারে।
♦️ অনেক পুরুষ ইসলামের মূল নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলে না। স্ত্রী-কন্যা, পুত্রবধূদের প্রতি বাজে আখলাক, তাদের অধিকারের ব্যাপারে অসচেতনতা, কথায় কথায় খুঁত ধরা, অতিরিক্ত অধিকার খাটানো এসবই তার অধীনস্থ কোনো নারীকে নারীবাদিতার দিকে ধাবিত করতে পারে। তাই সর্বপ্রথমে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর অধিকারের ব্যাপারে জ্ঞানলাভ এবং তদানুযায়ী আমল করতে হবে। তাদেরকে যথেষ্ট সম্মান করতে হবে, তাদের সাথে খুব সুন্দর আচরণ করতে হবে, তাদের কাজের প্রশংসা করতে হবে। তারা এর প্রাপ্য এবং ইসলামও আমাদেরকে তা-ই শেখায়।
♦️ অধীনস্থ নারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের থেকে নিজ হতে যেচে পরামর্শ চাওয়া উচিত। তাকে কোনোমতেই হেয় করা যাবে না। নারীরা সাধারণত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে অনেক সময় কষ্ট পেয়ে ফেমিনিজমের দিকে ছুটতে পারে।
♦️ অনেক পুরুষ আবার শরী'আতের বিধান মাত্রাতিরিক্তভাবে নারীদের ওপর আরোপ করে, যেভাবে ইসলাম আমাদেরকে শিখায় না। ইসলামে ছাড়াছাড়ি যেমন নিষিদ্ধ, বাড়াবাড়িও তেমনি নিষিদ্ধ। নিজের অধিকার বা আনুগত্যের ভার তার ওপরে অধিক চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি আসলেই তার মাঝে আনুগত্যের অভাব থাকে তাহলে সেটা ঠান্ডা মাথায়, সুন্দর সময়ে বোঝাতে হবে। নিজের অধিকারের ক্ষেত্রেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া যেতেই পারে।
♦️ আমাদের অনেকেই দুনিয়াবিমুখতা ভালোবাসি, তবে সেটা কেবল স্ত্রী-কন্যার ভরণ-পোষণের বেলায়। এই ধরনের পুরুষদের কোনো ভ্রুক্ষেপই থাকে না যে, স্ত্রী বা কন্যার কী প্রয়োজন। তারা যা-ই কিনতে চায় সবই অপচয় বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এতে তাদের মাঝে অর্থ উপার্জনের একটা ঝোঁক তৈরি হয়। এটাই নারীবাদিতার সিঁড়িতে প্রথম পদক্ষেপ বলা যেতে পারে। তবে সকল নারী এক নয়। কেউ কেউ আসলেই স্বামী বা পিতার অবহেলার কারণে অপারগ হয়ে কিন্তু আল্লাহকে যথাযথ ভয় করেই উপার্জনের পথ বেছে নেয়। এই ক্ষেত্রে সেই পুরুষ অবশ্যই তার দায়িত্বের অবহেলার জন্য আল্লাহ কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষদের উচিত, তার অধীনস্থ নারীদের আর্থিক দিক বিবেচনায় রাখা।
তাদেরকে মাসিক ভিত্তিতে হাতখরচ দেওয়া, যেন তারা নিজেদের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারে। যেন তারা ভাবতে পারে যে, এই টাকাটুকু একান্তই তাদের।