📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 মা বনাম স্ত্রী!

📄 মা বনাম স্ত্রী!


মায়েদের কাছে তাদের সন্তান খুবই আবেগের একটা জায়গা। এই আবেগের দরুন মায়েরা চায় তাদের পুত্রের সমস্তটা জুড়ে তাদেরই আধিপত্য থাকুক। আর ছেলের বিয়ের পর এই আধিপত্য বিস্তারের ঠান্ডা মাথার একটা লড়াই শুরু হয়ে যায় অনেক মায়েদের মাঝে নিজের অজান্তেই। ছেলেকে বিয়ে করানোর পর থেকে মায়েরা একটা অজানা শূন্যতায় ভুগতে থাকে। তারা ভাবতে থাকে, তার ছেলেটা হয়তো কোনোভাবে মায়ের চাইতে স্ত্রীকে অধিক প্রাধান্য দিচ্ছে। স্বভাবতই একজন পুরুষ দাম্পত্য জীবনের সূচনালগ্নে স্ত্রীর সাথে একটু বেশি সময় ধরে অবস্থান করে। এই সময়টাতেই মায়েদের ভেতরে এমন শূন্যতা কাজ করতে থাকে। সেখান থেকেই নানান সমস্যার শুরু হয়।

তখন মায়েদের ক্ষেত্রে ছেলেদের প্রতি আলাদা চিন্তা, আলাদা যত্ন নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাদের চিন্তা হতে থাকে পুত্রবধূ ঠিকমতো যত্ন নিতে বা খেয়াল রাখতে পারছে কি না! মায়েরা নিজেরাও হয়তো জানেন না যে, তাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটে চলছে। এ জন্য বিয়ের আগে থেকে এই বিষয়গুলো ঠান্ডা মাথায় মাকে বোঝাতে হবে। মাকে বোঝাতে হবে যে, তার জায়গাটা অনেক ওপরে। সেই স্থানে কেউই যেতে পারবে না, কারও সাধ্য নেই। বিয়ের পরেও যেকোনো বিষয়ে মায়ের সাথেই প্রথমে পরামর্শ করা, এরপর স্ত্রীর থেকে পরামর্শ নেয়া। এর দ্বারা উভয় ব্যক্তিই বুঝে নেবে যে, তাদেরকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে কেউই নিরাশ বা মনঃক্ষুণ্ণ হবে না। মা-বাবার খোঁজখবর নেয়া আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিতে হবে। যাতে তাঁদের অন্তরে কোনো কমতি অনুভূত না হয়।

কষ্টদায়ক সত্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাশুড়ির দ্বারা বউ জুলুমের শিকার হয়। নতুন পরিবেশে এসে একটা মেয়ের খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। সেজন্য দেখা যায় প্রথম দিকে তার প্রতিটা কাজেই ভুল হতে থাকে। মাঝে মাঝে মস্ত বড় বড় ভুলও হয়ে যায়। এই সময়টাতে শাশুড়ি অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্যহীন হয়ে নানান ধরনের কথা শুনিয়ে দেয়। এ ছাড়াও ছেলের প্রতি তখন আলাদা টান বেড়ে যাওয়াতে ছেলের সামান্য অযত্নে মায়েরা ভীষণ রেগে যায়। অপরদিকে আমাদের সমাজে এখনো বেশির ভাগ পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের বাড়ি থেকে যৌতুক আশা করে। এসকল ক্ষেত্রে শাশুড়িরা নানাভাবে বউকে তার বাপের বাড়ির বিষয়ে ইঙ্গিতবহ কথা শোনায়। এসকল ক্ষেত্রে ছেলেকে সোচ্চার হতে হবে। মাকে আলাদা করে বিষয়গুলো বুঝিয়ে সমাধানে আনতে হবে। তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, মায়ের ওপর চড়াও হওয়া যাবে না এবং বোঝানোর সময় যাতে স্ত্রী সামনে উপস্থিত না থাকে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। কেননা পুত্রবধূর উপস্থিতিতে এসব কথা তাঁর জন্য আপত্তিকর ও অপমানজনক মনে হতে পারে। ফলে ফলাফল হবে হিতে বিপরীত।

সব সময় যে কেবল মায়েরাই ভুল হয় এমনটি নয়। অনেক সময় জুলুম হয় স্ত্রীদের পক্ষ থেকেও। তাই ভালোবাসায় অন্ধ হওয়া যাবে না, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মায়ের যতই ভুল হোক, তাঁর সাথে মন্দ ব্যবহার করা যাবে না। শেষ জমানার একটি আলামত হলো, লোকেরা তাদের মায়েদের সাথে দাসীর মতো আচরণ করবে। তাই এ বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা উচিত। যেখানে স্ত্রীর ভুল হবে সেখানে স্ত্রীকে বোঝাতে হবে এবং তাকে ভুল শুধরে নেয়ার আহ্বান করতে হবে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে স্ত্রীর দ্বারা মা-বাবা কোনোভাবে অবহেলিত হচ্ছে কি না, স্ত্রী কি তাদের সঠিক মর্যাদা দিচ্ছে কি না! শ্বশুর-শাশুড়ি ও সংসারের অন্যান্য সদস্যদেরকে সম্মানের ব্যাপারগুলো বিয়ের প্রথম দিকেই স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

মা এবং স্ত্রী একজন পুরুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্র। এই চরিত্র দুটির অবদান অতুলনীয়। এই ভিন্নধর্মী প্রিয় দুটি মানুষের যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেদিকটা গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সে জন্য কখনো কখনো একজন পুরুষকে হতে হবে অনেক নরম, আবার কখনো হতে হবে কিছুটা কঠোর। একপাক্ষিকভাবে কখনোই দুজনকে মূল্যায়ন করা যাবে না। দুজনের ভুলের বিরুদ্ধেই সমানভাবে সোচ্চার থাকতে হবে; আবার মাঝে মাঝে ছাড়ও দিতে হবে। সব ভুলই যে শুধরে দিতে হবে বিষয়টা এমন না। দুজনেই যেহেতু নারী তাই আবেগের সহিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। সংসারের প্রতি দুজনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। মায়ের জন্য যেন স্ত্রীর অবহেলা না হয় কিংবা স্ত্রীর জন্য যাতে মায়ের অবহেলা না হয় সে দিকটা একজন পুরুষকে ইনসাফের সাথে খেয়াল রাখতে হবে। স্ত্রীর সাথে যাতে মা নিজেকে তুলনা না করে সেই বিষয়টা বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে আগে থেকেই বিচক্ষণতার সাথে বোঝাতে হবে। দুইজনের ক্ষেত্র ও অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই নিক্তিতে উভয়কে মাপা একজন পুরুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 আলাদা সংসার

📄 আলাদা সংসার


নারীরা নিজেদের আলাদা সংসার কতটুকু আশা করে? ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, ২৭% নারী স্বামীর সাথে আলাদা সংসার করতে চায়। ৩৫% নারী শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে চায়। আর বাকি ৩৮% বিভিন্ন শর্তের কথা জানিয়েছেন। সেসব শর্ত অনুপস্থিত থাকলে আলাদা সংসারকেই অধিক প্রাধান্য দিয়েছে।

প্রতিটা নারী-পুরুষের জীবনেই বিয়েটা হলো দীর্ঘদিনের স্বপ্নবুনা এক যাত্রা। নারী-পুরুষের এই স্বপ্নগুলো চাহিদাভেদে আবার সম্পূর্ণ আলাদা। পুরুষদের দাম্পত্য জীবনের স্বপ্নগুলো হয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার স্ত্রী-কেন্দ্রিক। অপরদিকে নারীরা স্বপ্ন বুনে সমগ্র একটা সংসারকে নিয়ে। সেখানে স্বামী, সন্তানসহ শো-কেসে সাজানোর জন্য একটা ফুলদানি; প্রত্যেকটি বিষয়ই তার স্বপ্নজুড়ে থাকে। নারীরা সহজাতিকভাবেই সংসার-কেন্দ্রিক। তারা চায় নিজের আয়ত্তাধীন একটা সংসার হবে। তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে তার পুরো সংসার। সে হবে সেই সংসারের রানি।

একান্নবর্তী পরিবারে এই স্বপ্নপূরণ পুরোপুরিভাবে সম্ভব হয় না। কারণ, সেই সংসারটা মূলত থাকে শাশুড়ির হাতে। শাশুড়ির সেই সংসারে হস্তক্ষেপ করা শাশুড়ির নিশ্চয় পছন্দ হবে না সেটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়াও একান্নবর্তী পরিবারে ননদ, ভাসুর, জা সকলে মিলে একসাথে বসবাস করার দরুন সেখানে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়।

* পর্দা রক্ষায় সমস্যা

জয়েন্ট ফ্যামিলিতে স্ত্রীর জন্য খোলামেলাভাবে বাড়িতে হাঁটাচলা করা দুষ্কর। বাড়িভর্তি মানুষ থাকাতে সব সময় হিজাব-নিক্কাব পরে চলতে হয়। যখন তখন ভাসুর কিংবা দেবরের সামনে পরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যার কারণে বারবার পর্দা লঙ্ঘন হয়ে যায়। আবার যেসকল বাড়িতে চাচা, মামাশ্বশুরেরাও অবস্থান করে সেই বাড়িতে পর্দা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর তার ওপরে যদি স্বামীর পরিবারে দ্বীনের বুঝ না থাকে, তাহলে পর্দা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। কারণ, নতুন বউ বাড়িতে এলে সবাই নতুন বউ দেখতে চায়। চাচা-মামাশ্বশুরদের সামনে গিয়ে মুখ খুলে কথা বলতে হয়, আর তা না করলে তৈরি হয় সমস্যা。
* ব্যক্তিগত সময়ে বাধা

একান্নবর্তী পরিবারে ব্যক্তিগত সময় বলে কিছু নেই। সেখানে সকলেই চায় বাড়ির বউ তাদেরকে সময় দিক। এভাবে সকলকে সময় দিতে গিয়ে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করা সম্ভব হয় না। ফলে আমলে ব্যাপক ঘাটতি পড়ে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সময়েও পরিবারের সদস্যদের ডাক পরে যায়। যার ফলে স্বামীর সাথে কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানোও দুরূহ হয়ে যায়। এতে দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব বাড়ে。

◇ ঝগড়া-বিবাদ

একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে বিভিন্ন বয়স ও চিন্তাধারার মানুষের বসবাস। সেখানে একেকজনের চাহিদা থাকে একেক রকম। অন্য একটি পরিবেশ এবং অন্য একটি পরিবার থেকে আসা মেয়েটির জন্য প্রত্যেকের চাহিদা পূরণ করে সবাইকে খুশি রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। এভাবে স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য তৈরি হয়। আর তা থেকে ঝগড়া-বিবাদ, রাগারাগির শুরু হয়।

* সন্তানের তারবিয়াতে বাধা

জাতি গঠনে সন্তানের সুষ্ঠু তারবিয়াতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমান প্রজন্ম চারিদিকে ফিতনা ভরা নদীতে থাকা একটি দোদুল্যমান সাঁকোর ওপরে চলছে। এই প্রজন্মকে সঠিক তারবিয়াত না দিতে পারলে সেই সাঁকো থেকে যখন তখন ছিটকে পড়ে যেতে পারে।

এজন্য প্রতিটি বাবা-মায়ের তাদের সন্তানের পিছনে অনেক মেধা এবং শ্রম প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু একান্নবর্তী পরিবারে থাকলে এই বিষয়টি কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ, বেশির ভাগ পরিবারগুলোতে দ্বীনের পরিপূর্ণ বুঝ থাকে না। যার দরুন তারা ইসলামিক প্যারেন্টিং-এর বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না। সচেতন বাবা-মায়েরা যেই ছোট ছোট বিষয়গুলোকেও খুব সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে চায় সেগুলো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কখনো চিন্তাই করে না। কিংবা তাদেরকে সেগুলো বোঝাতে গেলেও তারা বুঝতে তো পারেই না উল্টো ভিন্ন অর্থ দাঁড় করাতে সচেষ্ট হয়। যার ফলে সন্তানের সঠিক তারবিয়াত এখানে বাধাগ্রস্ত হয়।

অপরদিকে যদি বাবা-মায়ের সাথে থাকা দম্পতির জন্য কোনো সমস্যার কারণ না হয়, তাহলে একত্রে থাকাই শ্রেয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমার বলেন,

رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِينِ، وَسَخَطُهُ فِي سَخَطِهِمَا

পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মাঝে রবের সন্তুষ্টি আর তাঁদের (বাবা-মায়ের) অসন্তুষ্টির মাঝে তাঁর (রবের) অসন্তুষ্টি। [১]

মা-বাবা যদি নিজেরাই নিজেদের দেখাশোনা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে আলাদা থাকায় শরী'আতের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি বৃদ্ধ হয়, তাদের সাথে অবস্থান করার মতো আর কেউ না থাকে ইত্যাদি ক্ষেত্রে আলাদা থাকা কখনোই উচিত নয়। মূলত পরিস্থিতির ওপরেই বিষয়টি নির্ভর করে। এমন ক্ষেত্রে বিয়ের পূর্বেই পাত্রীকে বলে নিতে হবে এ বিষয়ে।

এক সংসারে সবাই মিলে বসবাস করলে বেশ কিছু ফায়দা রয়েছে। পরিবারকে দ্বীনের বুঝ দেয়া যায়, তাদের খেদমত করে জান্নাত হাসিল করা যায়, পরিবারের বন্ধন ভালো থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ঝামেলা হবেই সেটা স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী রেগে গেলে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বোকার মতো কোনো আচরণ করলে সহ্য করে নিতে হবে। যেহেতু পুরুষ অপেক্ষা নারীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া-প্রবণতা অধিক এবং এই দিক থেকে পুরুষের তুলনায় নারীর ধৈর্য বহুলাংশে কম, সুতরাং দয়া করেই হোক অথবা ভালোবাসার খাতিরেই, তার ছোটখাটো ভুলগুলো ক্ষমা করে দেয়াই শ্রেয়। [২] স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সম্পূর্ণভাবে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে বাঁকা হাড় ভেঙে যাবে, অর্থাৎ মন ভাঙার মাধ্যমে সংসারও ভেঙে যেতে পারে। [৩]

টিকাঃ
[১] আল আদাবুল মুফরাদ- ২; সুনানে তিরমিযী- ১৮২১, হাদীসটি সহীহ।
[২] মিশকাতুল মাসাবীহ- ৩২৩৮
[৩] মিশকাতুল মাসাবীহ- ৩২৩৯; সহীহ মুসলিম- ১৪৬৮; সহীহ বুখারী- ৫১৮৬

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 পুরুষের স্বভাববাদি

📄 পুরুষের স্বভাববাদি


প্রত্যেকেই মা-বাবার ছত্রছায়ায় শিশু থেকে মস্ত বড় মানুষে পরিণত হয়। বাবা-মা যেমন যত্ন আর পরম আদরের সাথে সন্তানের দায়িত্ব পালন করে আসে তেমনি সন্তান যখন বড় হয়ে যায় মা-বাবার প্রতি তাদের ওপরেও কিছু দায়িত্ব চলে আসে। ছেলেরা যেমন সারা জীবন ধরে এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পায়, মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ কিছুটা কম থাকে। কারণ, মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। তবুও মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা সর্বোচ্চ চালিয়ে যেতে হয় মেয়েদেরও। এ সময়টাতে একজন নারীর তার স্বামীর সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে। একজন নারীর জন্য তার শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা করা যেমন ফরয না তেমনি পুরুষের ক্ষেত্রে একই। প্রত্যেকের জন্যই নিজেদের বাবা-মায়েদের খেদমত করা ফরয।

তবে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে একে অপরের দায়িত্বগুলোকে খুব সহজে ভাগাভাগি করে নিতে পারে। স্বামী সারাদিন বিভিন্ন ব্যস্ততায় দিন কাটায় ফলে নিজের বাবা-মায়ের যথেষ্ট সেবা-শুশ্রূষা করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। অপরদিকে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে চলে আসায় নিজের বাবা-মায়ের খেদমত করতে পারে না স্ত্রী, সেই সাথে নিজের উপার্জন না থাকায় বাবা-মায়ের জন্য খরচও করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী এক ধরনের চুক্তিতে যেতে পারে; স্ত্রী তার শ্বশুর-শাশুড়ির যথাযথ সেবা করবে, এদিকে স্বামী তার শ্বশুর-শাশুড়িকে আর্থিক দিক থেকে যথাসাধ্য দেখভাল করবে। এতে উভয়েরই দায়িত্ব পালন হলো, সাথে পরিবারের বন্ধনও মজবুত রইল।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 বহুবিবাহ

📄 বহুবিবাহ


দ্বীনদার পুরুষদের দৈনন্দিন জীবনের আড্ডায় হঠাৎ কেউ একজন বহুবিবাহ নিয়ে ঠাট্টা করে কিছু একটা বললেই আধা চাঁদ যেন মুখে নেমে আসে, দাঁতের ক্যালানি কে দেখে! ভাবতে ভালো লাগে, একের অধিক স্ত্রীর সোহবতে একজন পুরুষের যাপিত জীবন কতই-না সুখকর হতে পারে! এমন কল্পনা পুরুষের মনকে উদ্বেলিত করবে এটাই স্বাভাবিক। পুরুষেরা বহুমুখী, আর এ কারণেই জান্নাতে পুরুষদের জন্য রাখা হয়েছে একাধিক স্ত্রী। তারা পবিত্র, তারা কোমল চরিত্রের অধিকারিণী। কিন্তু দুনিয়ার নারীদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। তারা স্বামীর ভাগ অন্যকে দিতে চাইবে না, মেনে নিতে কষ্ট হবে। যদিও যুগের পর যুগ মুসলিমদের মাঝে এটা সাধারণ চর্চা ছিল।

কিন্তু হঠাৎ আমাদের মস্তিষ্ক অন্যভাবে ভাবতে শুরু করেছে। বিশেষত আমাদের উপমহাদেশে ইংরেজদের রেখে যাওয়া বিষ আমরা ঢকঢকিয়ে গিলে নিয়েছি। তাই তাদের সভ্যতা আমাদের কাছে সার্বজনীন মনে হলেও ইসলামের বিধান আমাদের কাছে মাঝে মাঝেই কিছুটা তেতো মনে হয়।

ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভেতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে মেনে নিতে পারবে কি না। ৫৭% নারী বলেছেন তারা মেনে নিতে পারবেন না। ২১% নারী বলেছেন মেনে নিতে কষ্ট হবে। বাকিরা বলেছেন মেনে নিতে পারবেন। যেহেতু অধিকাংশ নারী আজকের সমাজে বহুবিবাহ মেনে নিতে পারবে না বলেই জানিয়েছে তাই এমন সাহস করে শুধু শুধু নিজের জীবন বিপন্ন করার মতো বোকামি পুরুষদের না করাই শ্রেয়!

তবে খুব বিশেষ প্রয়োজনে পুরুষেরা একাধিক বিয়ে করতে পারে। যেমন: বর্তমান স্ত্রী বন্ধ্যা বা চাহিদা পূরণে বেশি অক্ষম হলে, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের সহায় হতে ইত্যাদি। আমাদের সমাজে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, নওমুসলিম, আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন এমন অনেকেই আছেন যাদের বিয়ের অনেক প্রয়োজন। ইনবাতের জরিপটিতে ৫৬.৯% নারী জানিয়েছেন যে, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা হওয়ার কারণে তাদেরকে সমাজে বা পরিবারে তাচ্ছিল্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুরুষেরা এগিয়ে এলে কারও কারও জীবন সুন্দর হতে পারে। তবে বহুবিবাহ নিয়ে আমাদের সমাজে যেসব সমস্যা হয়ে থাকে সেগুলোর জন্য পুরুষেরাই সিংহভাগ দায়ী।

* নতুন বিয়ে করে পূর্বের স্ত্রীকে ভুলে যাওয়া。
* সমাজে প্রথম স্ত্রীকে স্ত্রীরূপে স্বীকৃতি দেয়া আর অন্যান্য স্ত্রীদেরকে গোপনে রাখা。
* আলাদা সংসার না দেয়ার কারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে ফলে স্ত্রীদের মানসিক প্রশান্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া。
* একাধিক স্ত্রীর মাঝে যথাযথ ন্যায়তা রক্ষা করতে না পারা। আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে একাধিক স্ত্রীর খরচ ঠিকঠাকভাবে চালাতে না পারা। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা বিবাহ করলে তার অতীত মেনে নিতে না পারা, তার অতীত নিয়ে কথা শোনানো, তার পূর্বের সংসারের সন্তানদেরকে মেনে নিতে না পারা。
* পূর্বের স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করা জায়েয হলেও অনুচিত। একাধিক বিয়ে করার ইচ্ছা থাকলে ইচ্ছা প্রকাশের সাহসও থাকা চাই。

এর বাইরেও আরও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। একজন পুরুষের স্নায়ু যদি এতটা শক্তিশালী হয় যে, তার দ্বারা এসব ঝামেলা হবে না বলে মনে হয়, কেবল সে ক্ষেত্রেই একাধিক বিবাহের কথা মাথায় আনতে পারে! এর বিপরীত হলে এই স্বপ্নকে মাটি দেয়াই শ্রেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00