📄 বাবা-মা বিয়ে দেয় না
আজ থেকে অর্ধশত বছর আগেকার সমাজে আজকের মতো নোংরামি বিদ্যমান ছিল না। ছিল না নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বেহায়াপনা, যিনা-ব্যভিচারের সহজলভ্যতা, পর্নোগ্রাফির মতো অন্তরের রোগসমূহ। পুরুষেরা অনেক গুনাহ থেকেই মুক্ত থাকত, নারী থাকত পর্দার আড়ালে। তবুও সচরাচর পুরুষদের বিয়ে হতো ২১-২২ বছর বয়সে, নারীদের তো আরও কমে। যেই বয়সে আমাদের বাবা-মা বিয়ে করেছে, বর্তমান সময়ে সন্তানকে সেই বয়সে বিয়ে দেয়াটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাবা-মা এখানে অবুঝ। সন্তানের চাওয়া, কষ্ট, সংগ্রাম বাবা-মায়েরা এখন আর বোঝে না। পুঁজিবাদী সমাজ আমাদেরকে চাকর হতে শিখিয়েছে। পরিপূর্ণভাবে চাকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে ভাবা যাবে না, আখিরাত নিয়ে ভাবা যাবে না। পরিপূর্ণ চাকর হতে হলে লাখ টাকা স্যালারি, একটা গাড়ি, একটা বাড়ি, একটা টাক মাথা, একটা ভুঁড়ি আর পঁয়ত্রিশ ঊর্ধ্ব বয়স থাকা আবশ্যক; এরপর নাহয় বিয়ে! এমন বিয়ের আদৌ কি কোনো দরকার আছে? পঁয়ত্রিশে পৌঁছতে পৌঁছতে একটা যুবক কি তার সতীত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে? ওই বয়স পর্যন্ত একটা অবিবাহিত পুরুষ কী করে নিজের চরিত্র ঠিক রাখতে পারে? এসব বিষয় অভিভাবকেরা বুঝবে না, বুঝতে চাইবে না। তবুও চেষ্টা করে যেতে হবে। বিয়ের সামর্থ্য থাকলে ও বিয়ে অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ালে বাবা-মাকে যে করেই হোক বোঝাতে হবে। না হলে সমাজের নগ্নতার ঢেউয়ে কচুরিপানার মতো অচিরেই হারিয়ে যেতে হবে।
বিয়ের জন্য আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা আমরা আগেই জেনেছি। তাই প্রথমত নিজেকে কষ্টি পাথরে যাচাই করে নিতে হবে যে, আপনি সেই নবজীবনে পদার্পণ করার জন্য কতটুকু প্রস্তুত। এরপর আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং এলাকার বা কাছের দ্বীনদার-বুঝবান বিবাহিত ভাইদের পরামর্শ নিয়ে বাবা-মাকে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করা যেতে পারে। সামাজিক দৃষ্টিতে বয়স কিছুটা কম হলে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক এতে সম্মতি দেবেন না; এমনকি সন্তানের এ রকম অসাধু আবদার (!) শুনে চটেও যেতে পারেন। সেটার জন্য প্রস্তুত থাকা চাই। এক-দুইবার বলেই হাল ছেড়ে দিলে হবে না। বিয়ে আপনার জন্য কতটুকু প্রয়োজনীয় সেটা আপনিই ভালো বুঝেন। সেই অনুপাতে লেগে থাকতে হবে, পরিবারকে বারবার বোঝাতে হবে। আমাদের অভিভাবকও এই জাহেলি সমাজেরই অংশ, যার কারণে আপনার আবদার মেনে নিতে তাদের কিছুটা কষ্ট হবে। এই জন্য অন্যদের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, যারা সঠিক বয়সে বিয়ে করেছে এবং সুখী আছে। এটা খুব কাজে দেয়। এ ক্ষেত্রে বাসায় বিবাহিত দ্বীনি ভাইদেরকে সস্ত্রীক দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে।
সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি অভিভাবক অসম্মতি জানায় সে ক্ষেত্রে প্রথমত নিজের যোগ্যতা তাদের সামনে কতটুকু প্রমাণ করতে পেরেছি, যোগ্যতা অর্জনের জন্যে কতটুকু পরিশ্রম করেছি সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। পরিবারের মাঝে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে নিজের প্রয়োজন ও অর্জন অনেকাংশেই প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই পরিবারের সদস্যদেরকে সময় দিতে হবে।
তবে যদি নিজের সামর্থ্য না থাকে এমনকি পরিবারেরও সামর্থ্য না থাকে, তবে বিয়ে নিয়ে আপাতত বেশি চিন্তা না করে সিয়াম পালন করাই উত্তম। সেই সাথে আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করা যাতে আল্লাহ উত্তম একটি ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের সাথে সাথে আর্থিক সামর্থ্য অর্জনের জন্যও খাটুনি দিতে হবে। নিজের স্ত্রীকে চালানোর জন্যে কিছু তো দরকার। তাকে ঘরে এনে কষ্ট দেয়া যাবে না।
নিজের আয় না থাকলে পরিবারের টাকায় স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করতে বাধ্য হতে হয়। তখন অভিভাবক ভাবে ছেলেটা আমার, ছেলের স্ত্রীও আমার। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক আপনাদেরকে অধীনস্থ ভেবে যা ইচ্ছা তা-ই করতে থাকবে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে, ব্যক্তিগত অনেক ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে। পরিবার দ্বীনের বুঝসম্পন্ন না হলে শরী'আত-বিরোধী অনেক কাজ করতেও বাধ্য করতে পারে। এসব নিশ্চয় একজন সুপুরুষ পছন্দ করবে না। আর এটা একজন নারীর জন্যও কষ্টদায়ক। তাই বেকার অবস্থায় বিয়ে করতে চাইলে আগে পরিবারকে ঠিকভাবে বোঝাতে হবে। কিন্তু ফায়দা তেমন হবে বলে মনে হয় না। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।
শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতার চেয়েও বিয়ের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের মানসিক পরিপক্কতা অনেক অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। এর অনুপস্থিতিতে পরবর্তী সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মানসিক পরিপক্কতা না এলে অনেক কাজই আবেগের বসে করা হবে, ফলে এর ফলাফল ফলপ্রসূ হবে না। বিয়ের ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্কতা বৃদ্ধির উপায় হচ্ছে, যারা অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তাদের থেকে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া। পরিবার যদি বিয়ের চাহিদা ও কারণ না বোঝে, তাহলে অনেকেই মাথা গরম করে উচ্চবাক্যও প্রয়োগ করে ফেলে। এটা অনুচিত। খুব ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিমত্তার সাথে ধীরে ধীরে আগাতে হবে। নিজেকে সময়ে সময়ে তৈরি করতে হবে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে। ঘরের খরচপাতিতে মাঝে মাঝে শরীক হতে হবে। এ ছাড়া বাবা-মাকে প্রায়ই কিছু হাদিয়া করা যেতে পারে। এতে পরিবারে আপনার গুরুত্ব বাড়বে। ধীরে ধীরে পরিবারে কর্তৃত্ব বিস্তারের সক্ষমতা আসবে। আশা করা যায় বাকি কাজটা তখন পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।
অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের পীড়াপীড়িতে পরিবার মুখে মুখে বিয়ে দিতে রাজি হলেও ভেতরে তাদের থাকে ভিন্ন পরিকল্পনা। তাদের মাধ্যমে একটি ধোঁকার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এসব ক্ষেত্রে বিয়ের জন্য বাবা-মা রাজি না থাকা সত্ত্বেও পাত্রী দেখতে রাজি হয়। কিন্তু অন্তরে বিয়ে দেবে না বলেই মনস্থির করে রাখে। তারা পাত্রী দেখে, কিন্তু ইচ্ছা করেই পছন্দ করে না। অযথা ও অযৌক্তিক নানান খুঁত ধরে অকারণেই মানা করে। আর এসব কারণে ছেলেকে ছোট হতে হয় পাত্রী বা তার পরিবারের সামনে। কোনো অভিভাবক যদি অন্তরে এমন কিছু পুষে রাখে সে ক্ষেত্রে এটি বোঝারও কোনো উপায় নেই, যেহেতু বুক চিড়ে অন্তরের খবর জানা আমাদের সক্ষমতার বাইরে। তাই এমন কিছুর আঁচ পেলে অভিভাবকের সাথে খোলাখুলি কথা বলে জেনে নিতে হবে যে, তারা কি স্বেচ্ছায় আগাচ্ছে নাকি মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আগাচ্ছে, তারা কি আসলেই বিয়ে দিতে চায় নাকি এভাবে ধোঁকায় ফেলে রাখতে চায়। তারা রাজি না থাকলে শুধু শুধু পাত্রী দেখে নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার কোনো মানেই হয় না।
সর্বোপরি যৌনচাহিদা কমাতে সিয়াম রাখা, ব্যায়াম করা, ইলম অর্জনে অধিক মনযোগী হওয়া; এ রকম বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। মস্তিষ্ককে ওইসব চিন্তা থেকে বিমুখ রাখতে হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো আসলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কার্যকরী নয়। তাই ছাত্রাবস্থা থেকেই পরিমাণে কম হলেও অর্থ উপার্জনের পথ বের করতে হবে। টিউশন, অনলাইন ব্যবসা, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, অনুবাদ, বইপত্রের কাজ বা অন্য যেকোনো হালাল ব্যবসা বা কাজ করা যেতে পারে। নিজে প্রতিনিয়ত গুনাহে পতিত হতে থাকলে এবং পরিবার কোনোমতেই রাজি না হলে আলেমদের সাথে আলোচনা করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।
📄 পুরুষ মানেই কর্তৃত্ব
অধিকাংশ মেয়েই বাবা-মায়ের কাছে ছোট থেকে বড় হয় তাদের রাজকুমারী হয়ে। সেই জীবনে তার ওপরে কোনো দায়িত্ব থাকে না, থাকে না কোনো সংসারের চাপ। কিন্তু যখন মেয়েটির বিয়ে হয় তখন তার জীবনে এক নতুন অচেনা অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন একটি পরিবেশে এসে তার জন্য এত শত দায়িত্ব বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। সে ছোটবেলা থেকে এক পরিবেশে বড় হয়েছে আর অপরদিকে শ্বশুরবাড়ির সবকিছু তার জন্য সম্পূর্ণ অভিনব, নতুন নিয়মকানুনের এক অচেনা জগৎ। এ জগতে সবকিছু খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিন্তা করে করতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই যেন কেল্লাফতে। নারীদের জন্য বিয়ের আগের জীবনের তুলনায় বিয়ের পরের জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ। সেই সাথে রয়েছে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মন জুগিয়ে চলার এক গুরুদায়িত্ব। এখানে চারদিকের সবার মনস্তত্ত্ব বুঝে চলতে হয়। আমাদের সমাজে বাড়ির বউদের প্রতি পরিবারের মানুষদের অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে। নতুন বউয়ের কাছ থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্য যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ আশা করে। যেমন: বাড়ির বাচ্চা-কাচ্চারা চাইবে নতুন বউ তাদের সাথে সারাদিন খেলা করুক বা গল্প করুক, বাড়ির মুরুব্বিরা চাইবে বউ বারেবারে তাদের খোঁজ নিক, কিছু লাগবে কি না বারবার জিজ্ঞাসা করুক, অন্যান্য সমবয়স্কা নারীরা চাইবে একটু দীর্ঘ সময় বসে থেকে গল্প-গুজব করুক ইত্যাদি। এই চাওয়াগুলো প্রতিটি পরিবারেই একটি স্বাভাবিক চিত্র, ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। একান্নবর্তী বড় পরিবারগুলোতে ঝামেলাটা আবার একটু বেশিই হয়ে থাকে। নতুন বউয়ের কাছ থেকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের এ রকম চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়; বরং এটা ভালো, নতুন মানুষটির প্রতি সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো, নতুন সংসারের কাজকর্মের দায়িত্ব বুঝে নেয়া, সবাইকে খুশি করে চলা; বৈবাহিক জীবনের শুরুর দিকে একাধারে এতগুলো কর্তব্য পালন করা বাবার বাড়িতে রাজকুমারী হয়ে থাকা সেই মেয়েটির পক্ষে অনেক সময়ই প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই সময়টাতে তার প্রয়োজন শ্বশুরবাড়ির মানুষদের সহায়তা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে সিংহভাগ শ্বশুরবাড়ির মানুষদের চিন্তাধারা অনেক সংকীর্ণ হয়ে থাকে। এরূপ অবস্থায় নববধূদেরকে ছাড় খুব কমই দেয়া হয়। সবাই যেন ধরেই নেয় যে, বাড়ির বউদেরকে রোবটের মতো হতে হবে, ভুল করা চলবে না। কোনো ক্ষুদ্র একটি বিষয় মনঃপূত না হলেই নানান কথা শোনানো শুরু করে অনেক পরিবারই। যেটা একটা সময় সেই নারীর মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়।
এ জন্য বিয়ের আগে থেকেই একজন পুরুষের উচিত নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করার সাথে সাথে পরিবারকেও বোঝানো যে, একটি নতুন মানুষকে কীভাবে নতুন পরিবেশে আমন্ত্রণ করতে হবে, তার সাথে কীভাবে আচরণ করতে হবে। সেই সাথে নববধূকেও জানিয়ে দিতে হবে নিজের পরিবারের মানুষগুলো কে কেমন। এতে স্ত্রীর জন্য ব্যক্তিভেদে মেপে মেপে কথা বলা সহজ হবে।
এরপরও কিছু ঝামেলা হয়েই যাবে। সেসব পরিস্থিতিতে পুরুষদের ভিজে বিড়াল সাজা যাবে না, বরং শক্ত থাকতে হবে যাতে অন্য ঘরের মানুষটির ওপর কোনো মানসিক নির্যাতন না হয়। পুরুষদের বুঝতে হবে যে, সেই নারীটি তার পরিবারের সকলকে ছেড়ে এসেছে। এমতাবস্থায় তার অভিভাবক তার স্বামীই। সে চাইবে তার এই অভিভাবক ন্যায় বজায় রাখুক। তাই পরিবারে কর্তৃত্বের জায়গাটি দখল করতে হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে নিজের মূল্য বজায় রাখতে হবে।
পরিবারে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে স্ত্রীর প্রতি বেইনসাফি তো হয়ই সেই সাথে অনেক শরী'আহ-বিরোধী কাজও মুখ বুঝে মেনে নিতে হয়। যেমন: বিয়ের অনুষ্ঠানে শরী'আহ'র বিধান লঙ্ঘন, স্ত্রীর পর্দা রক্ষা করতে না পারা ইত্যাদি। বিয়েকে ঘিরে সমাজে হাজারো কুসংস্কার প্রচলিত আছে যা আমরা পূর্বেও আলোচনা করেছি। এসব কুসংস্কার অন্তত ব্যক্তিজীবন থেকে কখনোই দূর করা সম্ভব হবে না যদি পরিবারে নিজের কর্তৃত্ব না থাকে। আবার আপনার স্ত্রীর দ্বীনের হেফাযতকারী হবেন আপনি; এই ভেবে সে হয়তো আপনাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু কর্তৃত্ব বিস্তার করতে না পারলে কথায় কথায় স্ত্রীর পর্দা লঙ্ঘন হতে পারে। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর পর্দা রক্ষা করা একজন স্বামীর অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্ত্রীর পর্দা কোনোভাবেই যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে তার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। বিয়ের পর নতুন বধূকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন আসে। সেখানে চাচাশ্বশুর, মামাশ্বশুর, চাচাতো-মামাতো ভাইসহ এমন অনেকেই থাকে যারা সেই নববধূর জন্য গাইরে মাহরাম। তারা যাতে কোনভাবেই স্ত্রীকে দেখতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় এ সকল ক্ষেত্রে তাদের মাঝে মনোমালিন্য তৈরি হয়, রাগারাগিও হয়ে যায়। তবুও এসকল বিষয়ের চেয়ে স্ত্রীর পর্দা রক্ষাকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া আমাদের সমাজের চিরাচরিত একটি প্রথা হলো, বয়সে বড়দেরকে কদম্বুসি করে সালাম করা। এই প্রথাটি আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নববধূদের বেলায় এই নিয়ম এখনো পাকাপোক্ত। ঘরের নতুন বউকে আহ্বান জানানো হয় বাড়ির সব মুরুব্বিকে কদম্বুসি করে সালাম করতে। যা অত্যন্ত জঘন্য একটি রীতি। এ ক্ষেত্রে পুরুষেরা নিজ পরিবারকে এসব বিষয়ে সচেতন করবে এবং এমন কিছু হতে নিলে নিজ থেকে বাধা দেবে।
এদিকে সমাজের জঘন্য এক বিষফোড়া হচ্ছে যৌতুক। যৌতুক-বিরোধী প্রচারণার ফলে সরাসরি যৌতুক দাবি করতে লজ্জা পায় অনেকে। কিন্তু অন্তরের নির্লজ্জতা তো উপেক্ষা করা যায় না। লোভ মানুষকে এভাবেই নীচে নামিয়ে দেয়। উপহার এবং বিভিন্ন নিয়ম- কানুনের নামে এখনো যৌতুকপ্রথা প্রচলিত আছে সমাজে। পরোক্ষভাবে বিভিন্ন নিয়মের অগোচরে লিস্ট ধরিয়ে দেয়া হয় যে, মেয়ের বাড়ি থেকে কী কী দেয়া লাগবে। যেমন: ঘরের ফার্নিচার, সিজনাল ফলমূল, রোজার সময় ইফতারি, কুরবানীর সময় কুরবানীর পশু কিংবা গোশত ইত্যাদি। এই চিন্তাধারার মানুষেরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বোঝাতে চায় যে, "ওই বাড়ির মানুষেরা তো এসব তাদের মেয়েকেই দিচ্ছে, আমাদের এসবের প্রতি কোনো চাহিদা নেই।” অথচ এরূপ সুন্দর সুন্দর কথার পিছনে থাকে লোভাতুর দূষিত কিছু অন্তর। এটি সমাজের নিকৃষ্টতম জুলুম। এভাবে চাপের মুখে রেখে অপরের মাল কুক্ষিগত করা কোনোক্রমেই জায়েয নয়। এসকল ঘটনা আমাদের সমাজে খুবই স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাচ্ছে, অথচ ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কতই-না গর্হিত কাজ। এসকল কাজে বাধা দেয়া স্বামীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ জন্য তাকে যদি সামান্য কঠোর হতে হয় তাতেও নিষেধ নেই। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে, অনেক দ্বীনদার পুরুষও এসব ক্ষেত্রে একদম নিশ্চুপ থাকে এবং স্ত্রীর বাবার বাড়ির ওপর দিয়ে এসব কারণে কেমন ঝড় বয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে একটুও চিন্তা করে না। এটা সুপুরুষের পরিচয় না। সব ক্ষেত্রে পৌরুষ প্রদর্শন করে আসল জায়গায় এসে নপুংসক হওয়া চলবে না। এসব কুপ্রথা থেকে নিজের স্ত্রীকে হেফাযত করতে হবে। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না।
📄 মা বনাম স্ত্রী!
মায়েদের কাছে তাদের সন্তান খুবই আবেগের একটা জায়গা। এই আবেগের দরুন মায়েরা চায় তাদের পুত্রের সমস্তটা জুড়ে তাদেরই আধিপত্য থাকুক। আর ছেলের বিয়ের পর এই আধিপত্য বিস্তারের ঠান্ডা মাথার একটা লড়াই শুরু হয়ে যায় অনেক মায়েদের মাঝে নিজের অজান্তেই। ছেলেকে বিয়ে করানোর পর থেকে মায়েরা একটা অজানা শূন্যতায় ভুগতে থাকে। তারা ভাবতে থাকে, তার ছেলেটা হয়তো কোনোভাবে মায়ের চাইতে স্ত্রীকে অধিক প্রাধান্য দিচ্ছে। স্বভাবতই একজন পুরুষ দাম্পত্য জীবনের সূচনালগ্নে স্ত্রীর সাথে একটু বেশি সময় ধরে অবস্থান করে। এই সময়টাতেই মায়েদের ভেতরে এমন শূন্যতা কাজ করতে থাকে। সেখান থেকেই নানান সমস্যার শুরু হয়।
তখন মায়েদের ক্ষেত্রে ছেলেদের প্রতি আলাদা চিন্তা, আলাদা যত্ন নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাদের চিন্তা হতে থাকে পুত্রবধূ ঠিকমতো যত্ন নিতে বা খেয়াল রাখতে পারছে কি না! মায়েরা নিজেরাও হয়তো জানেন না যে, তাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটে চলছে। এ জন্য বিয়ের আগে থেকে এই বিষয়গুলো ঠান্ডা মাথায় মাকে বোঝাতে হবে। মাকে বোঝাতে হবে যে, তার জায়গাটা অনেক ওপরে। সেই স্থানে কেউই যেতে পারবে না, কারও সাধ্য নেই। বিয়ের পরেও যেকোনো বিষয়ে মায়ের সাথেই প্রথমে পরামর্শ করা, এরপর স্ত্রীর থেকে পরামর্শ নেয়া। এর দ্বারা উভয় ব্যক্তিই বুঝে নেবে যে, তাদেরকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে কেউই নিরাশ বা মনঃক্ষুণ্ণ হবে না। মা-বাবার খোঁজখবর নেয়া আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিতে হবে। যাতে তাঁদের অন্তরে কোনো কমতি অনুভূত না হয়।
কষ্টদায়ক সত্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাশুড়ির দ্বারা বউ জুলুমের শিকার হয়। নতুন পরিবেশে এসে একটা মেয়ের খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। সেজন্য দেখা যায় প্রথম দিকে তার প্রতিটা কাজেই ভুল হতে থাকে। মাঝে মাঝে মস্ত বড় বড় ভুলও হয়ে যায়। এই সময়টাতে শাশুড়ি অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্যহীন হয়ে নানান ধরনের কথা শুনিয়ে দেয়। এ ছাড়াও ছেলের প্রতি তখন আলাদা টান বেড়ে যাওয়াতে ছেলের সামান্য অযত্নে মায়েরা ভীষণ রেগে যায়। অপরদিকে আমাদের সমাজে এখনো বেশির ভাগ পরিবার রয়েছে যারা মেয়ের বাড়ি থেকে যৌতুক আশা করে। এসকল ক্ষেত্রে শাশুড়িরা নানাভাবে বউকে তার বাপের বাড়ির বিষয়ে ইঙ্গিতবহ কথা শোনায়। এসকল ক্ষেত্রে ছেলেকে সোচ্চার হতে হবে। মাকে আলাদা করে বিষয়গুলো বুঝিয়ে সমাধানে আনতে হবে। তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, মায়ের ওপর চড়াও হওয়া যাবে না এবং বোঝানোর সময় যাতে স্ত্রী সামনে উপস্থিত না থাকে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। কেননা পুত্রবধূর উপস্থিতিতে এসব কথা তাঁর জন্য আপত্তিকর ও অপমানজনক মনে হতে পারে। ফলে ফলাফল হবে হিতে বিপরীত।
সব সময় যে কেবল মায়েরাই ভুল হয় এমনটি নয়। অনেক সময় জুলুম হয় স্ত্রীদের পক্ষ থেকেও। তাই ভালোবাসায় অন্ধ হওয়া যাবে না, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মায়ের যতই ভুল হোক, তাঁর সাথে মন্দ ব্যবহার করা যাবে না। শেষ জমানার একটি আলামত হলো, লোকেরা তাদের মায়েদের সাথে দাসীর মতো আচরণ করবে। তাই এ বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা উচিত। যেখানে স্ত্রীর ভুল হবে সেখানে স্ত্রীকে বোঝাতে হবে এবং তাকে ভুল শুধরে নেয়ার আহ্বান করতে হবে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে স্ত্রীর দ্বারা মা-বাবা কোনোভাবে অবহেলিত হচ্ছে কি না, স্ত্রী কি তাদের সঠিক মর্যাদা দিচ্ছে কি না! শ্বশুর-শাশুড়ি ও সংসারের অন্যান্য সদস্যদেরকে সম্মানের ব্যাপারগুলো বিয়ের প্রথম দিকেই স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
মা এবং স্ত্রী একজন পুরুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্র। এই চরিত্র দুটির অবদান অতুলনীয়। এই ভিন্নধর্মী প্রিয় দুটি মানুষের যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেদিকটা গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সে জন্য কখনো কখনো একজন পুরুষকে হতে হবে অনেক নরম, আবার কখনো হতে হবে কিছুটা কঠোর। একপাক্ষিকভাবে কখনোই দুজনকে মূল্যায়ন করা যাবে না। দুজনের ভুলের বিরুদ্ধেই সমানভাবে সোচ্চার থাকতে হবে; আবার মাঝে মাঝে ছাড়ও দিতে হবে। সব ভুলই যে শুধরে দিতে হবে বিষয়টা এমন না। দুজনেই যেহেতু নারী তাই আবেগের সহিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। সংসারের প্রতি দুজনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। মায়ের জন্য যেন স্ত্রীর অবহেলা না হয় কিংবা স্ত্রীর জন্য যাতে মায়ের অবহেলা না হয় সে দিকটা একজন পুরুষকে ইনসাফের সাথে খেয়াল রাখতে হবে। স্ত্রীর সাথে যাতে মা নিজেকে তুলনা না করে সেই বিষয়টা বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে আগে থেকেই বিচক্ষণতার সাথে বোঝাতে হবে। দুইজনের ক্ষেত্র ও অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই নিক্তিতে উভয়কে মাপা একজন পুরুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।
📄 আলাদা সংসার
নারীরা নিজেদের আলাদা সংসার কতটুকু আশা করে? ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, ২৭% নারী স্বামীর সাথে আলাদা সংসার করতে চায়। ৩৫% নারী শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে চায়। আর বাকি ৩৮% বিভিন্ন শর্তের কথা জানিয়েছেন। সেসব শর্ত অনুপস্থিত থাকলে আলাদা সংসারকেই অধিক প্রাধান্য দিয়েছে।
প্রতিটা নারী-পুরুষের জীবনেই বিয়েটা হলো দীর্ঘদিনের স্বপ্নবুনা এক যাত্রা। নারী-পুরুষের এই স্বপ্নগুলো চাহিদাভেদে আবার সম্পূর্ণ আলাদা। পুরুষদের দাম্পত্য জীবনের স্বপ্নগুলো হয়ে থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার স্ত্রী-কেন্দ্রিক। অপরদিকে নারীরা স্বপ্ন বুনে সমগ্র একটা সংসারকে নিয়ে। সেখানে স্বামী, সন্তানসহ শো-কেসে সাজানোর জন্য একটা ফুলদানি; প্রত্যেকটি বিষয়ই তার স্বপ্নজুড়ে থাকে। নারীরা সহজাতিকভাবেই সংসার-কেন্দ্রিক। তারা চায় নিজের আয়ত্তাধীন একটা সংসার হবে। তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে তার পুরো সংসার। সে হবে সেই সংসারের রানি।
একান্নবর্তী পরিবারে এই স্বপ্নপূরণ পুরোপুরিভাবে সম্ভব হয় না। কারণ, সেই সংসারটা মূলত থাকে শাশুড়ির হাতে। শাশুড়ির সেই সংসারে হস্তক্ষেপ করা শাশুড়ির নিশ্চয় পছন্দ হবে না সেটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়াও একান্নবর্তী পরিবারে ননদ, ভাসুর, জা সকলে মিলে একসাথে বসবাস করার দরুন সেখানে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়।
* পর্দা রক্ষায় সমস্যা
জয়েন্ট ফ্যামিলিতে স্ত্রীর জন্য খোলামেলাভাবে বাড়িতে হাঁটাচলা করা দুষ্কর। বাড়িভর্তি মানুষ থাকাতে সব সময় হিজাব-নিক্কাব পরে চলতে হয়। যখন তখন ভাসুর কিংবা দেবরের সামনে পরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যার কারণে বারবার পর্দা লঙ্ঘন হয়ে যায়। আবার যেসকল বাড়িতে চাচা, মামাশ্বশুরেরাও অবস্থান করে সেই বাড়িতে পর্দা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর তার ওপরে যদি স্বামীর পরিবারে দ্বীনের বুঝ না থাকে, তাহলে পর্দা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। কারণ, নতুন বউ বাড়িতে এলে সবাই নতুন বউ দেখতে চায়। চাচা-মামাশ্বশুরদের সামনে গিয়ে মুখ খুলে কথা বলতে হয়, আর তা না করলে তৈরি হয় সমস্যা。
* ব্যক্তিগত সময়ে বাধা
একান্নবর্তী পরিবারে ব্যক্তিগত সময় বলে কিছু নেই। সেখানে সকলেই চায় বাড়ির বউ তাদেরকে সময় দিক। এভাবে সকলকে সময় দিতে গিয়ে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করা সম্ভব হয় না। ফলে আমলে ব্যাপক ঘাটতি পড়ে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সময়েও পরিবারের সদস্যদের ডাক পরে যায়। যার ফলে স্বামীর সাথে কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানোও দুরূহ হয়ে যায়। এতে দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব বাড়ে。
◇ ঝগড়া-বিবাদ
একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে বিভিন্ন বয়স ও চিন্তাধারার মানুষের বসবাস। সেখানে একেকজনের চাহিদা থাকে একেক রকম। অন্য একটি পরিবেশ এবং অন্য একটি পরিবার থেকে আসা মেয়েটির জন্য প্রত্যেকের চাহিদা পূরণ করে সবাইকে খুশি রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। এভাবে স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য তৈরি হয়। আর তা থেকে ঝগড়া-বিবাদ, রাগারাগির শুরু হয়।
* সন্তানের তারবিয়াতে বাধা
জাতি গঠনে সন্তানের সুষ্ঠু তারবিয়াতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমান প্রজন্ম চারিদিকে ফিতনা ভরা নদীতে থাকা একটি দোদুল্যমান সাঁকোর ওপরে চলছে। এই প্রজন্মকে সঠিক তারবিয়াত না দিতে পারলে সেই সাঁকো থেকে যখন তখন ছিটকে পড়ে যেতে পারে।
এজন্য প্রতিটি বাবা-মায়ের তাদের সন্তানের পিছনে অনেক মেধা এবং শ্রম প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু একান্নবর্তী পরিবারে থাকলে এই বিষয়টি কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ, বেশির ভাগ পরিবারগুলোতে দ্বীনের পরিপূর্ণ বুঝ থাকে না। যার দরুন তারা ইসলামিক প্যারেন্টিং-এর বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না। সচেতন বাবা-মায়েরা যেই ছোট ছোট বিষয়গুলোকেও খুব সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে চায় সেগুলো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কখনো চিন্তাই করে না। কিংবা তাদেরকে সেগুলো বোঝাতে গেলেও তারা বুঝতে তো পারেই না উল্টো ভিন্ন অর্থ দাঁড় করাতে সচেষ্ট হয়। যার ফলে সন্তানের সঠিক তারবিয়াত এখানে বাধাগ্রস্ত হয়।
অপরদিকে যদি বাবা-মায়ের সাথে থাকা দম্পতির জন্য কোনো সমস্যার কারণ না হয়, তাহলে একত্রে থাকাই শ্রেয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমার বলেন,
رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِينِ، وَسَخَطُهُ فِي سَخَطِهِمَا
পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মাঝে রবের সন্তুষ্টি আর তাঁদের (বাবা-মায়ের) অসন্তুষ্টির মাঝে তাঁর (রবের) অসন্তুষ্টি। [১]
মা-বাবা যদি নিজেরাই নিজেদের দেখাশোনা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে আলাদা থাকায় শরী'আতের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি বৃদ্ধ হয়, তাদের সাথে অবস্থান করার মতো আর কেউ না থাকে ইত্যাদি ক্ষেত্রে আলাদা থাকা কখনোই উচিত নয়। মূলত পরিস্থিতির ওপরেই বিষয়টি নির্ভর করে। এমন ক্ষেত্রে বিয়ের পূর্বেই পাত্রীকে বলে নিতে হবে এ বিষয়ে।
এক সংসারে সবাই মিলে বসবাস করলে বেশ কিছু ফায়দা রয়েছে। পরিবারকে দ্বীনের বুঝ দেয়া যায়, তাদের খেদমত করে জান্নাত হাসিল করা যায়, পরিবারের বন্ধন ভালো থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ঝামেলা হবেই সেটা স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী রেগে গেলে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বোকার মতো কোনো আচরণ করলে সহ্য করে নিতে হবে। যেহেতু পুরুষ অপেক্ষা নারীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া-প্রবণতা অধিক এবং এই দিক থেকে পুরুষের তুলনায় নারীর ধৈর্য বহুলাংশে কম, সুতরাং দয়া করেই হোক অথবা ভালোবাসার খাতিরেই, তার ছোটখাটো ভুলগুলো ক্ষমা করে দেয়াই শ্রেয়। [২] স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সম্পূর্ণভাবে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে বাঁকা হাড় ভেঙে যাবে, অর্থাৎ মন ভাঙার মাধ্যমে সংসারও ভেঙে যেতে পারে। [৩]
টিকাঃ
[১] আল আদাবুল মুফরাদ- ২; সুনানে তিরমিযী- ১৮২১, হাদীসটি সহীহ।
[২] মিশকাতুল মাসাবীহ- ৩২৩৮
[৩] মিশকাতুল মাসাবীহ- ৩২৩৯; সহীহ মুসলিম- ১৪৬৮; সহীহ বুখারী- ৫১৮৬