📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 সতীচ্ছেদ

📄 সতীচ্ছেদ


উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ আফ্রিকার অনেক দেশ ও জাতিসত্তার মাঝে এমন ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত যে, কোনো নারী কুমারী কি না সেটা প্রমাণের উপায় হচ্ছে প্রথম সহবাসে তার যোনিপথ থেকে রক্তপাত হওয়া। এমনকি একটা সময় পশ্চিমা রাজা-বাদশাহদের মাঝেও এমন প্রচলন ছিল যে, বিয়ের পর রানিকে কুমারী না পেলে তুমুলকাণ্ড হয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে রাণীর মুণ্ডুও নিয়ে নেয়া হতো। হিন্দুধর্মের গল্পকাহিনি অনুযায়ী নিজের সতীত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে সীতাকে অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। বোঝাই যায় নারীর সতী না হওয়ার ব্যাপারটা খুবই সংবেদনশীল।

অথচ একজন নারী কুমারী কি না তা বোঝার উপায় নেই বললেই চলে। সতীচ্ছেদের মাধ্যমে রক্তপাতের প্রচলিত ধারণায় খুব কমই সত্য রয়েছে। সব নারীরই যে প্রথম সহবাসে রক্তপাত হবে এমনটি সঠিক নয়। কিছু নারীর প্রথম মিলনে রক্তপাত হয় আর কিছু নারীর হয় না, এমনটি হওয়ার কারণ নারীর প্রজনন অঙ্গের Hymen নামক একটি অংশ, যাকে আমরা বাংলায় সতীচ্ছদ পর্দা বলে জানি। হাইমেন হচ্ছে মিউকাস মেমব্রেন দ্বারা সৃষ্ট একটি ভাঁজ, যা যোনির প্রবেশমুখ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে রাখে। এটি ভালভার বা বহিঃস্থ যৌনাঙ্গের অংশবিশেষ গঠন করে।

মিউকাস হচ্ছে এক ধরনের পিচ্ছিল নিঃসরণ যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শ্বাসতন্ত্র, পৌষ্টিকতন্ত্র ইত্যাদি হতে নিঃসৃত হয়। শ্লেষা বা মিউকাস বিশেষ ধরনের ক্ষরণকারী গ্রন্থি থেকে বের হয়ে আসে। সাধারণত শ্লেষা বা মিউকাস গ্লাইকোপ্রোটিন এবং পানি দিয়ে তৈরি। অনেকের কফের সাথে, পায়খানার সাথে মিউকাস আসে। এটি কিছুটা সাদা প্রকৃতির হয়।

হাইমেন বা সতীচ্ছদ পর্দা নারীভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। ঠিক যেমন নারীদের উচ্চতা ও ওজন দৈহিক গঠনভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, তেমনি নারীর হাইমেনের গড়ন ও আকৃতিও বিভিন্ন রকম হয়। কারও হাইমেন অনেক পুরু, কারও-বা খুব পাতলা, কারও আবার জন্মগতভাবেই কোনো হাইমেন থাকে না। কোনো কোনো নারীর স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হাইমেন, কারও-বা হাইমেন এতই ছোট যে, সেটি যোনিমুখের অতি সামান্য অংশকে ঢেকে রাখতে সক্ষম হয়। হাইমেন ক্ষুদ্র বা পাতলা হলে প্রথম মিলনে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে না। আর হাইমেন পুরু হলে প্রথম মিলনে নারীদের কিছুটা ব্যথা অনুভূত হয়, তাই সফলভাবে সহবাস করতে সময় নিতে হয়।

সতীচ্ছদ পর্দা যদি পাতলা বা ক্ষুদ্র হয়, তাহলে দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে তা নিজে থেকেই অপসারিত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে পর্দাটি ছিঁড়েও যেতে পারে এবং অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেই এমনটি হয়। এমন অনেক কাজ আছে যেগুলোর কারণে এমনটি হতে পারে। যেমন: অতিরিক্ত লাফালাফি বা দৌড়ঝাঁপ করলে, ব্যায়াম করলে, নৃত্য করলে, মাসিক চলাকালীন সময় ট্যাম্পুন ব্যবহার করলে, বাইসাইকেল চালালে, হস্তমৈথুন করলে ইত্যাদি। এমতাবস্থায় তাদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে যাওয়া হাইমেনও অপসারিত হয়ে যায়। তাই যে নারীর হাইমেন ছোট ও পাতলা, তার ক্ষেত্রে প্রথম যৌনমিলনে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা খুবই কম। যে নারীর সতীচ্ছদ পর্দা নিজ থেকেই ছিঁড়ে গিয়েছে বা অপসারিত হয়ে গিয়েছে তার সাথে প্রথমবার মিলনে কখনোই রক্তপাত হবে না এটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল কর্তৃক প্রদত্ত ফলাফলও অত্যাশ্চার্যজনক। প্রায় ৬৩% মহিলারই প্রথমবারের যৌনমিলনে কোনোরকম রক্তপাত হয় না। তাই সতীত্ব ও সতীচ্ছদ পর্দা নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে।

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেসব নারীর প্রথম সহবাসে রক্তপাত হয়েছে, তাদের সাথে জোর- জবরদস্তির সাথে যৌনকার্য সংঘটিত হয়েছিল। যদি কোনো নারী যথেষ্ট পরিমাণে উত্তেজিত না থাকে বা শিথিল থাকে অথবা যৌনমিলনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি না থাকে, সে ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী যদি তার ওপর জোরপূর্বক সহবাস ঘটায়, সেই পুরুষটি মূলত সেই নারীর শরীরের অভ্যন্তরে ক্ষতের সৃষ্টি করে-যা থেকে রক্তপাত হয়। অদ্ভুতভাবে অধিকাংশ লোকেরই এটাই ধারণা যে, নারীর প্রথম মিলনে রক্তপাত হওয়াই স্বাভাবিক। অথচ কেউ এটা বোঝে না যে, প্রথম মিলনে রক্তপাত নারীর ওপর জোরপূর্বক যৌনমিলনকৃত আঘাতের ফলেও হতে পারে এবং সেটা প্রথম মিলনপূর্বক হাইমেন ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে নাও হতে পারে। তাই রক্তপাত হওয়া বা না হওয়া সতীত্বের মানদণ্ড হতে পারে না। আর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাইমেন ছিঁড়ে রক্তপাত ঘটার সংখ্যাও ভীষণ কম।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 প্রথম মিলনে স্বামীর করণীয়

📄 প্রথম মিলনে স্বামীর করণীয়


দৈহিক মিলন বিষয়টা মুসলিমদের জন্য যতটা শারীরিক ঠিক ততটাই আত্মিক। কেউ নিজের খায়েশাতের জন্য সহবাসে লিপ্ত হলেও তাদের মাঝে আত্মিক সম্পর্ক হয়েই যায়। সেই সাথে বৈধভাবে সহবাসের সওয়াব হাসিলেরও সুযোগ রয়েছে।

নব-দম্পতির জন্য প্রথম রাত কথাবার্তা, গল্প, খুনসুটি করে কাটিয়ে দেয়া উচিত। এতে উভয়ই একে অপরকে সহজ করে নিতে পারবে। তা ছাড়া এতে সহবাসের প্রতি উভয়েরই আগ্রহ বাড়ে। প্রথমবার সহবাসে দুইজনই কিছুটা ভয়াতুর থাকে। কারণ অপরদিকের মানুষটা নতুন, কাজটাও নতুন। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই নারীদের উদ্বিগ্নতা কিছুটা বেশি কাজ করে। তাই প্রথম মিলন স্ত্রীর পরিচিত পরিবেশে হলে ভালো হয়। যেমন: তার নিজস্ব পিত্রালয়।

দৈহিক মিলনের পূর্বে-বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনের প্রাথমিক সময়গুলোতে–পূর্বরাগ বা ফোরপ্লে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আদর-সোহাগ, আলিঙ্গন, চুমু, সংবেদনশীল অঙ্গ স্পর্শ, মর্দন ইত্যাদির মাধ্যমে স্ত্রীকে সহবাসের জন্য তৈরি করে নিতে হবে। এগুলোর মাধ্যমে স্ত্রীদের যোনিপথ প্রসারিত হয় ও উত্তেজনায় পিচ্ছিল হয়। ফলে খুব সহজেই সহবাস সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া উত্তেজনার কারণে ব্যথাও একদমই অনুভূত হয় না। তাই স্বামী হিসেবে পুরুষদের উচিত ফোরপ্লের সময় যোনি পিচ্ছিল হয়েছে কি না খেয়াল রাখা।

দাম্পত্য জীবনের প্রথম কিছুদিন হয়তো সফলভাবে সহবাস করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবর করা উচিত। কোনোমতেই নববধূর ওপর চড়াও হওয়া যাবে না। কারণ, এখানে তার কোনো দোষ নেই। কুমারী নারীদের গোপনাঙ্গের ছিদ্র পুরুষদের গোপনাঙ্গের পুরুত্বের তুলনায় ক্ষুদ্র থাকে, তাই প্রথমবার সহবাসের ক্ষেত্রে ব্যথা পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে ফোরপ্লের পাশাপাশি মিলনের সময় পুরুষাঙ্গে অতিরিক্ত পিচ্ছিল পদার্থ মেখে নেয়া উচিত। সহবাসের জন্য কিছু লুব্রিকেন্ট কিনতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভ্যাসলিন, ভেষজ তেল (যেমন: অলিভ ওয়েল) ইত্যাদিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া সহবাসের পর যোনিপথে প্রদাহ কিংবা তলপেটে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে পেইন কিলার জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

সাধারণত প্রথম দিকে নারীরা বুঝতেই পারে না যে, সে কী করছে। এ কারণে বিষয়টাকে তেমন একটা উপভোগ করে না। সে শুধু স্বামীর চাহিদা পূরণ করে চলে। তবে একটা সময় তার জন্যও এই সময়গুলো উপভোগ্য হয়। তাই প্রাথমিক সময়গুলোতে স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া বা সাড়া না পেলে বিচলিত বা মনঃক্ষুণ্ণ হওয়া যাবে না। মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো কামজনিত উত্তেজনা (Orgasm) হতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লেগে যেতে পারে। তখন থেকেই মূলত নারীরা সহবাসের তৃপ্তি পেতে শুরু করে।

সব সময় চেষ্টা করতে হবে যেন স্ত্রী তৃপ্ত হয়। পূর্ব-অভিজ্ঞতাহীন কুমার পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম সহবাসে খুব অল্প সময়েই বীর্যপাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এটা স্বাভাবিক। তাই অযথা কোনো চিকিৎসা, ওষুধ, হারবাল ইত্যাদির শরণাপন্ন হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওইসব ভুয়া হয়ে থাকে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময়কাল বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কেগেল এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখার জন্য পেশি যেভাবে টেনে ধরা হয় সেভাবে ১০ সেকেন্ডের মতো ধরে রেখে দিনে ১০ বার এক্সারসাইজটি করতে হবে। এ ছাড়া শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে চর্বি কমানোও এর একটি সমাধান।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ

📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ


আমাদের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে আমরা ইসলামের বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলব। আল্লাহ আমাদের দৈহিক ও মানসিক বিফলের অবসান ঘটাতে প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যৌনমিলনের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আর সেসব মন্দ বিষয়াদির রয়েছে মারাত্মক কুপ্রভাব।

* পায়ুপথে সংগম
এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে, এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়ায়। যোনিপথে যেমন প্রাকৃতিকভাবে পিচ্ছিল পদার্থ উৎপন্ন হয় পায়ুপথের তেমনটা হয় না। এ ছাড়া পায়ুপথের চামড়ার আস্তরণটি যোনিপথের চেয়েও পাতলা। ফলে পায়ুপথে মিলনের সময় ত্বক ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু মলদ্বার দিয়েই শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে আসে তাই খুব সহজেই সেসব ক্ষতস্থানে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ব্যাপক। আবার এই একই কারণে যৌনবাহিত রোগ ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস, এইচআইভি, হার্পস ইত্যাদির মতো জঘন্য রোগগুলো হতে পারে। এই রোগগুলোর অধিকাংশই কোনো চিকিৎসা নেই。
* ওরাল সেক্স অনেক আলিমের মতে এটা মাকরুহ। এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে তাই এটাকে অনুৎসাহিত করা হয়। এইডস, গনোরিয়া, হার্পস ইত্যাদি এসটিডির পাশাপাশি ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গলায় ক্যান্সার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইট এর চিফ মেডিকেল অফিসার ওটিস ব্রাওলে。[১]

◇ হায়েয অবস্থায় যৌনমিলন হায়েযের সময়টা নারীদের জন্য কষ্টদায়ক। পুরুষদের উচিত স্ত্রীর হায়েযের সময়ে সবর করা। এই সময়টাতে নারীদের মেজাজ খিটখিটে থাকে তাই স্বাভাবিক কথাতেও রেগে যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে হায়েযের সময় যৌনমিলন তার দৈহিক কিংবা মানসিক কোনো অবস্থার জন্যই উত্তম নয়। এদিকে হায়েযের মাধ্যমে নারীদের শরীর থেকে অশুচি রক্ত বের হয়ে আসে। আর সেই রক্তের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণও ঘটতে পারে।

টিকাঃ
[১] https://www.webmd.com/sex-relationships/features/4-things-you-didnt-know-about-oral-sex#1

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 যৌনমিলনের উপকারিতা

📄 যৌনমিলনের উপকারিতা


* হরমোনাল সেক্রুয়েশনের কারণে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, রক্ত চলাচল ভালো থাকে, হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে。
* খিটখিটে মেজাজ কমে; শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক চাপ, হতাশা এবং উদ্বেগ দূর হয়。
* ক্যালরি বার্ন করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে。
* নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে。
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়。
* হৃদরোগের ঝুঁকি কমে。
* নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার ইচ্ছা বাড়ে。
* নিয়মিত সহবাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বীর্যপাতের সময়কাল বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়。
* তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ব্যথা উপশম হয়。
* ভাল ঘুম হয়。
* স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সাংসারিক জীবনে সুখ আসে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00