📄 ইদ্দত
ইদ্দত মানে গণনা। অর্থাৎ, তালাকের নির্ধারিত দিন গণনা করা। স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হলে বা তার স্বামীর মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য উক্ত নারীকে এক বাড়িতে অবস্থান করতে হয়, এ সময়ে সে অন্যত্র যেতে পারে না এবং অন্য কোথাও বিবাহ বসতে পারে না; এমনকি বিবাহের প্রস্তাবও গ্রহণ করতে পারে না। একেই ‘ইদ্দত’ বলে। ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় (১/৫৫২) বর্ণিত রয়েছে,
هِيَ انْتِظَارُ مُدَّةٍ مَعْلُومَةٍ يَلْزَمُ الْمَرْأَةَ بَعْدَ زَوَالِ النِّكَاحِ حَقِيقَةٌ أَوْ شُبْهَةَ الْمُتَأَكِدِ بِالدُّخُولِ أَوُ الْمَوْتِ كَذَا فِي شَرْحِ النُّقَايَةِ لِلْبُرْ جُنْدِي رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً نِكَاحًا جَابِرًا فَطَلَّقَهَا بَعْدَ الدُّخُولِ أَوْ بَعْدَ الْخَلْوَةِ الصَّحِيحَةِ كَانَ عَلَيْهَا الْعِدَّةُ
ইদ্দত হলো, স্বাভাবিক বিবাহ-বিচ্ছেদের পর বা খালওয়াতে সহীহার (তথা স্বামী-স্ত্রী সহবাসের নিকটবর্তী আচরণ বা নির্জনে বসবাসের) পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলা কর্তৃক শরী'আত নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা (অন্য কোথাও বিয়ে না বসা)। স্ত্রীর জন্য আবশ্যক হলো ইদ্দতের সময় তিনি অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। এই কারণে যে, স্বামী যদি ইদ্দতের সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে পুনরায় নিজের কাছে রাখার বা ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপোষণ করে, তাহলে সে রাখতে ও ফিরিয়ে আনতে পারবে। তবে ইদ্দতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে এই অধিকারটি বিলুপ্ত হবে।
উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি শুধু এক তালাক ও দুই তালাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিন তালাক দিয়ে ফেললে এই অধিকার আর থাকে না। এ ছাড়া, ফক্কিহদের মতে রাজঈ ও বায়িন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা ইদ্দত পালন করা অবস্থায় স্বামীর পক্ষ থেকে ভরণপোষণ ও খোরপোশ পাবে। এর বিপরীতে সহীহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ ও মুসনাদে আহমাদে ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায় অধিকাংশ সাহাবী (তাদের মাঝে অন্যতম হচ্ছেন উমার, ইবনে মাসউদ, যাইদ ইবনে সাবেত, আয়েশা) তাবেঈ ও ফক্কিহগণ তা গ্রহণ করেননি। বরং উক্ত হাদীসের বিপরীতে তারা ভিন্ন হাদীস ও সূরা তালাকের প্রথম আয়াত দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। তবে যে মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে বিধায় ইদ্দত পালন করছে এমন ইদ্দত অবস্থায় মহিলার ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর পরিবারের জন্য জরুরি নয়। [১৮]
আবু ইসহাক বলেন, كُنْتُ مَعَ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ الأَعْظَمِ وَمَعَنَا الشَّعْبِيُّ فَحَدَّثَ الشَّعْبِيُّ بِحَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَجْعَلْ لَهَا سُكْنَى وَلَا نَفَقَةً ثُمَّ أَخَذَ الأَسْوَدُ كَفَّا مِنْ حَصًى فَحَصَبَهُ بِهِ، فَقَالَ وَيْلَكَ تُحَدِّثُ بِمِثْلِ هَذَا قَالَ عُمَرُ لَا نَتْرُكُ كِتَابَ اللَّهِ وَ سُنَّةً نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ امْرَأَةٍ لَا نَدْرِي لَعَلَّهَا حَفِظَتْ أَوْ نَسِيَتْ لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ)
আমি আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদের সঙ্গে সেখানকার বড় মসজিদে বসা ছিলাম। শা'বীও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ফাতিমাহ বিনতু কায়স হতে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোশের সিদ্ধান্ত দেননি। তখন আসওয়াদ তার হাতে এক মুঠো কংকর নিয়ে শা'বীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, সর্বনাশ! তুমি এমন ধরনের হাদীস বর্ণনা করছ? (অথচ) উমার বলেছেন, আমরা আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী ﷺ-এর সুন্নাত এমন একজন মহিলার উক্তির কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা জানি না, সে স্মরণ রাখতে পেরেছে নাকি অথবা ভুলে গিয়েছে যে তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোশ রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করে দিও না এবং তারাও যেন ঘর থেকে বের না হয়। তবে তারা স্পষ্ট কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে ভিন্ন কথা।"[১৯]
হাদীসে উল্লেখিত পূর্ণ আয়াতটি হলো: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ تُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا )
হে নবী (বলো), তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে, তখন তাদের ইদ্দত অনুসারে তাদের তালাক দাও এবং ইদ্দত হিসাব করে রাখবে, তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দিয়ো না এবং তারাও বের হবে না। যদি না তারা কোনো স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমারেখাসমূহ অতিক্রম করে সে অবশ্যই তার নিজের ওপর জুলুম করে। তুমি জানো না, হয়তো সেটার পর আল্লাহ (ফিরে আসার) কোনো সমাধান দেখিয়ে দেবেন।[২০]
আয়াতটিতে ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে কী রকম ব্যবহার করতে হবে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদেশ করা হয়েছে যে, স্ত্রীদেরকে তাদের গৃহ থেকে যাতে বহিষ্কার করা না হয়। এখানে তাদের গৃহ বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যে পর্যন্ত তাদের বসবাসের হক পুরুষের দায়িত্বে থাকে, সেই পর্যন্ত গৃহে তাদের অধিকার আছে। তবে মহিলা কোনো ফাহেশা ও অশ্লীল (যিনা ও ব্যভিচারের) কাজে লিপ্ত হয়ে বের হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।
টিকাঃ
[১৮] সহীহ মুসলিম- ১৪৮০; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/২৬০; ফাতহুল কাদীর- ৩/৩৩৯; হাশিয়ায়ে ইবনে আবেদীন- ৩/৬৪০; মিরকাতুল মাফাতীহ- ৬/৪৪৭-৪৪৯; শারহুস সগীর- ১/৫২২; হাশিয়াতুদ দাসকী- ২/৫১৫; তুহফাতুল মুহতাজ-৮/২৫৯-২৬০: নিহায়াতুল মুহতাজ- ৭/১৫২-১৫৪; আল ইনসাফ (আল মুকনি ও শারহুল কবীরসহ)- ২৪/৩১২-৩১২
[১৯] সহীহ মুসলিম- ১৪৮০
[২০] সূরা তালাক- ১
📄 ইদ্দতের সময়কাল
◇ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা ঋতুস্রাব (মাসিক) থেকে পবিত্র হওয়ার পর তালাকপ্রাপ্তা হলে তার জন্য ইদ্দতের সময়কাল হলো, সে যে পবিত্রতায় আছে তা থেকে পূর্ণ তিন মাসিক (ঋতুস্রাব) শেষ হওয়া পর্যন্ত। অতএব তার তিন ঋতু শেষ হলে সে যথেচ্ছা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এই ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে অন্যত্র বিবাহ করা হারাম। কুরআনে এসেছে,
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ )
অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা মহিলাগণ নিজেরা তিন কুরু (অর্থাৎ তিন মাসিক ও ঋতুস্রাব) পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। [২১]
◇ নাবালেগা অথবা কোনো অসুস্থতার কারণে ঋতুস্রাব হয় না, এমন নারী তালাকপ্রাপ্তা হলে তার ইদ্দত হলো তিন মাস। এ সময়ের মধ্যে সে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে না。
◇ স্ত্রীর বয়স যদি এত বেশি হয় যে তার মাসিক (ঋতুস্রাব) বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাহলে তারও ইদ্দত তিন মাস। এ সময়ের মধ্যে সে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে না。
◇ স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয় আর এমতাবস্থায় যদি সে তালাকপ্রাপ্তা হয়, তাহলে তার ইদ্দত হলো গর্ভের বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত। [২২]
উল্লেখ্য যে, গর্ভবতী স্ত্রীকে তালাক দিলে স্বামীর জন্য অপরিহার্য হলো, বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর যাবতীয় খরচ বহন করা যাতে বাচ্চার কোনো ক্ষতি না হয়। আর বাচ্চা প্রসব করার সাথে সাথে স্ত্রী তালাক হয়ে যায় এবং তার ভরণপোষণের দায়িত্ব আর স্বামীর ওপর থাকে না বিধায় ওই বাচ্চাকে দুধ পান করানো স্ত্রীর জন্য আবশ্যক নয়。
অতএব সেই পুরুষ তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে দুধ পান করাতে বললে সেই দুধ পান করানোর পূর্ণ সময়ের ভরণ-পোষণ ও তার থাকা-খাওয়া সহ সকল ব্যবস্থা উক্ত পুরুষের করে দিতে হবে। [২৩]
* স্বামী যদি তার স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাহলে তার ইদ্দত হলো ৪ মাস ১০ দিন। এ সময়ের মধ্যে সে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে না। [২৪]
◇ কোনো স্ত্রীর স্বামী যদি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। অর্থাৎ বহুদিন হলো স্বামীর কোনো খোঁজখবর নেই, বেঁচে আছে না মারা গিয়েছে তাও জানা যায় না; এমন নারী তার স্বামীর জন্য ৪ বছর অপেক্ষা করবে, এর মধ্যে যদি স্বামী মারা গেছে এমন কোনো সংবাদ না পাওয়া যায় তাহলে ৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর চাইলে সে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে。
উল্লেখ্য যে, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর স্ত্রী কত দিন অপেক্ষা করবে এই ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা -এর মতে ৯০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। [২৫] তবে এই মাসআলায় হানাফী মাযহাবের উলামায়ে মুতাআখখিরীন ইমাম মালেক -এর মাযহাবের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর সংবাদটি মুসলিম কাযীর নিকট গিয়ে স্ত্রী পেশ করবে। এবং তার সাধ্যানুযায়ী নিখোঁজ স্বামীকে তালাশ করার পর যদি খোঁজ না পায়, তাহলে কাযী স্ত্রীকে চার বছর অপেক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেবে। যদি এর মধ্যে ফিরে এসে যায়, তাহলে ভালো। আর যদি ফিরে না আসে, তাহলে কাযী তার স্বামীর মৃত্যুর হুকুম দেবে。
কেননা, উমার ফারুক বলেন, নিখোঁজ স্বামীর জন্য স্ত্রী চার বৎসর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। [২৬] এছাড়া উসমান, আলী এবং অনেক তাবেয়ী থেকেও অনুরূপ ফতওয়া রয়েছে। [২৭] অতঃপর স্ত্রী ইদ্দত পালন করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে。
স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহ করার পর যদি হঠাৎ প্রথম স্বামী ফিরে আসে, তাহলে উক্ত নারীর জন্য দ্বিতীয় স্বামীর নিকট থাকা জায়েয হবে না। কেননা প্রথম স্বামী ফিরে আসার কারণে দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হবার কারণে ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালন করার পর উক্ত মহিলা প্রথম স্বামীর স্ত্রী হবে। [২৮]
টিকাঃ
[২১] সূরা বাক্বারাহ- ২২৮
[২২] সূরা তালাক- ৪
[২৩] সূরা তালাক- ৬
[২৪] সূরা বাকারা- ২৩৪
[২৫] আল লুবাব ফি শারহিল কিতাব
[২৬] বাইহাক্বী, হাদীস- ১৫৩৪৫; আল মুহাল্লা- ৯/৩১৬
[২৭] মুহাল্লা- ১/৩২৪
[২৮] মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস- ১২৩২৫; বাইহাক্বী, হাদীস- ১৫৩৪৭, ১৫৩৪৮; আহসানুল ফতোয়া- ৫/৪৬৭; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া- ১৬/৩৪২; রাদ্দুল মুহতার- ৪/২৯৫-৯৬; হীলাতুন নাজিযাহ, আশরাফ আলী থানবী; শারহুল মিনহাজ আলা মুখতাসারিল খালিল- ২/৩৭৫; শারহুস সাগীর- ২/৬৯৪; হাশিয়ায়ে দাসুকী- ২/৪৭৯; মানারুস সাবীল- ২/৮৮
📄 ইসলামে হিলা/হিল্লার হুকুম
হিলা (حيلة) আরবী একটি শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ হলো- কৌশল অবলম্বন করা, কোনো উপায় গ্রহণ করা, জটিল কোনো স্থানে ছল-চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করা।
পরিভাষায় হিলা বলা হয়, যখন শরী'আতের কোনো বিষয়ে মানবজীবনে জটিলতা দেখা দেয় তখন শরী'আতসম্মত এমন কোনো উপায় অবলম্বন করা, যার দ্বারা শরী'আতের বিধান ঠিক থাকার সাথে সাথে মানুষ ওই জটিলতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। আরবী ভাষায় একে 'হিলা' বা 'হিল্লা' বলে।
তালাকের ক্ষেত্রে হিলা/হিল্লা বলা হয়, যখন কোনো স্বামী ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় অথবা রাগান্বিত হয়ে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অতঃপর পরবর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় সে তার তালাক দেয়া স্ত্রীকে নিজ অধীনে রাখতে চায়, অথচ ইসলামী আইনের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে তার নিকট ফিরিয়ে নেওয়ার যে উপায় রয়েছে, তাকে হিলা/হিল্লা বলা হয়। স্বামী স্ত্রীকে পূর্ণ তালাকের পর কেবল তখনই ফিরিয়ে নিতে পারবে যখন নিম্নের পাঁচটি কাজ সম্পাদিত হবে : (১) তিন মাস ইদ্দত অতিবাহিত করতে হবে; (২) অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ হতে হবে; (৩) দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শুধু নামেমাত্র বিবাহ হলে চলবে না; বরং তার সাথে যথারীতি সংসার ও সহবাস করতে হবে; (৪) দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তাকে তালাক প্রদান করবে এবং এ তালাকের জন্য পুনরায় তিন মাস ইদ্দত পালন করতে হবে; (৫) পুনরায় প্রথম স্বামীর সাথে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এমনটি হলে তা শরী'আত সমর্থন করে। যেমন আল্লাহ বলেন, فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ )
যদি সে (প্রথম স্বামী) তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তার জন্য এ স্ত্রী আর জায়েয নয় যতক্ষণ না সে নারী অন্য কোনো স্বামীর সাথে বিবাহ করে (এরপর বিচ্ছেদ হয়)। [২৯]
কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরী'আতের এই বিধানে অনেকেই ফাঁকফোকর খোঁজে। দেখা যায়, তিন তালাকের পরই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নানাভাবে হিলা নামের বাহানার আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। সেটা যেমন অশালীন, তেমনি শরী'আতের দৃষ্টিতে অবৈধ ও লা'নতযোগ্য কাজ।
হিলা বলতে মানুষের মাঝে একটা কুসংস্কার রয়েছে। আর তা হলো, হিলা/হিল্লা বলা হয় কোনো পুরুষ তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে এ শর্তে চুক্তি করা যে, বিয়ের পর সহবাস শেষে সেই নারীকে তালাক দিয়ে দেবে যাতে সে পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায় এবং সে তাকে পুনরায় বিবাহ করতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো পাগলের সাথেও বিয়ে করিয়ে বিনা সহবাসে তালাক দেওয়ার জন্যেও বাধ্য করা হয়ে থাকে। এ বিবাহ বাতিল ও অশুদ্ধ। এভাবে নারী তিন তালাক প্রদানকারী স্বামীর জন্য হালাল হয় না। বরং এমন গর্হিত কাজ করার কারণে হিলার সাথে যুক্ত সকলের ওপর আল্লাহর লা'নত পতিত হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَالْمُحَلَّلَةَ
(হিলা-বাহানার মাধ্যমে অন্যজনের জন্য স্ত্রী) হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহকারী, যার জন্য হালাল করা হয়েছে এবং যে হালাল হচ্ছে প্রত্যেকের ওপরই আল্লাহর লা'নত। [৩০]
টিকাঃ
[২৯] সূরা বাক্বারাহ- ২৩০
[৩০] সুনানে আবু দাউদ- ২০৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১৭৩৬৪
📄 তালাক বিষয়ক বিরাট মাসায়েল
মাসআলা-১ যদি খুলা তালাকে তিন তালাকের কথা উল্লেখ না থাকে, তাহলে খুলা তালাকের মাধ্যমে এক তালাকে বায়িন হবে। কেননা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ খুলাকে (স্বাভাবিক অবস্থায়) এক তালাকে বাইন সাব্যস্ত করেছেন। [৩১] আর এ অবস্থায় যদি স্বামী তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে চায়, তাহলে নতুন করে বিয়ে করে নিতে হবে। নতুন মোহর ধার্য করে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব ও কবুল করার মাধ্যমে নতুন করে বিয়ে করে নিলে তারা আবার একসাথে থাকতে পারবে। [৩২]
মাসআলা-২ তালাকের শর্তসমূহ হচ্ছে, (১) স্বামী কেবল নিজ স্ত্রীকেই তালাক দিতে পারবে। সুতরাং অন্যের স্ত্রীকে তালাক দিলে কিংবা বিয়ে হওয়ার পূর্বেই কোনো নারীকে অথবা হবু স্ত্রীকে তালাক দিলে তা তালাক হিসেবে বিবেচিত হবে না; (২) বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হতে হবে। সুতরাং কোনো শিশু ও কিশোরের তালাক গ্রহণযোগ্য হবে না; (৩) জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি হতে হবে; (৪) অস্পষ্ট ও ইশার-ইঙ্গিতমূলক তালাকের ক্ষেত্রে ইচ্ছা এবং নিয়ত থাকতে হবে; (৫) জাগ্রত থাকা, অর্থাৎ গভীর নিদ্রায় ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় মুখে তালাক উচ্চারণ করলে তা পতিত হবে না। [৩৩]
মাসআলা-৩ তালাকের শব্দ স্পষ্টও হতে পারে আবার অস্পষ্টও হতে পারে, যেকোনো শব্দেও হতে পারে, আবার উরুফে (সমাজে) প্রচলিত কথার মাধ্যমেও হতে পারে, ইচ্ছায়ও হতে পারে আবার ইচ্ছার বিরুদ্ধেও হতে পারে (অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতমূলক শব্দে তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হবে না)। এমনকি হাসি-ঠাট্টার ছলে বা রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক পতিত হয়ে যায়। [৩৪]
মাসআলা-৪ অধিকাংশ হানাফী উলামায়ে কেরামদের নিকট স্বেচ্ছায় মদ ও নাবীয পান করে নেশাগ্রস্ত ও মাতাল অবস্থায় তালাক দিলে তা পতিত হবে। এর সমর্থনে চার মাযহাবের ইমাম ও ফক্কিহদের থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও অনেক সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এমন বর্ণনা রয়েছে。
তবে উসমান, হানাফী মাযহাবের ইমাম কারাখী, ইমাম ত্বহাবী এবং কিছুসংখ্যক শাফেঈ ফক্কিহদের মতে, ইমাম আহমাদের একটি মতানুসারে এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়া সহ কতিপয় ফক্কিহদের নিকট এ অবস্থায় তালাক দিলে তা পতিত হবে না। অনুরূপভাবে বাক্শক্তিহীন কোনো মূক ও বোবা ব্যক্তি ইশারায় তালাক দিলেও তা পতিত হবে। [৩৫]
মাসআলা-৫ মেসেজ বা কোনো কিছুতে লিখে তালাক দিলে তালাক হয়ে যাবে। [৩৬]
মাসআলা-৬ কেউ বলল, তুমি তালাক ইন শা আল্লাহ। এতে তালাক পতিত হবে না। [৩৭] কারণ আল্লাহ কখনোই চান না যে কোনো দম্পতির মাঝে তালাক হয়ে যাক।
মাসআলা-৭
সুস্পষ্ট তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই। নিয়ত থাকা বা না থাকা যে কোনো অবস্থায় 'তালাক' শব্দ বলে ফেললে বা লিখে দিলেই তালাক হয়ে যায়। এমনকি নিজস্ব ভাষায় তালাকের সমার্থক বা প্রচলিত শব্দ বলে ফেললেও তালাক পতিত হবে। [৩৮]
রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়। অবশ্য কারও যদি প্রচণ্ড রাগের ফলে বেহুঁশ হওয়ার উপক্রম হয় আর এ অবস্থায় সে কী বলেছে তার কিছুই মনে না থাকে অর্থাৎ তার আকল, বুদ্ধি ও মস্তিষ্ক একদমই তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বদ্ধ পাগলের মতো হয়ে যায় (তবে এমনটি বিরল ঘটনা), তাহলে ওই অবস্থার তালাক কার্যকর হবে না। [৩৯]
মাসআলা-৮
হায়েয অবস্থায় এক তালাক বা তালাকে রাজঈ দিলে তা প্রত্যাহার করে পবিত্র অবস্থায় আবার তালাক দেওয়া উচিত। কেননা, হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া জায়েয নেই; তবে তা পতিত হয়ে যাবে। [৪০]
মাসআলা-৯
হাস্যরস বা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলেও তা পতিত হয়। অনেকের ধারণা- এটি তো দুষ্টুমিমাত্র, এতে কি আর তালাক হবে? অথচ এতেও তালাক হয়ে যাবে। হাদীসে এসেছে, ثَلَاثُ جَدُّهُنَّ جَدُّ، وَهَزْلُهُنَّ جَدُّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ
তিনটি বিষয় ঠাট্টার ছলে করলেও পতিত হয়ে যায়। বিবাহ, তালাক ও 'তালাকে রজঈ' ফেরত নেওয়া। [৪১]
মাসআলা-১০
কেউ আগে এক তালাক বলেছে এখন অবশিষ্ট আরও দুইটি তালাকের নিয়ত করে বলল, তোমাকে 'দুই তালাক'; তাহলে আগের এক তালাক ও বর্তমানের দুই তালাক মিলে তিন তালাকই পতিত হয়ে যায়। কিন্তু যদি সে ব্যক্তির নিয়ত পাক্কা থাকে যে, 'দুই তালাক' বলে দুইটি তালাক নয় বরং 'দ্বিতীয় তালাক' উদ্দেশ্য নিয়েছে, তাহলে তার নিয়ত অনুযায়ী দ্বিতীয় তালাকই গণ্য হবে। [৪২]
মাসআলা-১১ স্বামী যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে, 'যা চলে যা/বের হয়ে যা' অথবা এমন অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতমূলক শব্দ প্রয়োগ করে, সে ক্ষেত্রে স্বামী এই বাক্যে তালাকের নিয়ত না করলে তালাক হবে না; আর যদি তালাকের নিয়ত করে এ বাক্যসমূহ উচ্চারণ করে, তাহলে এতে এক তালাক পতিত হয়ে যাবে। [৪৩]
মাসআলা-১২ কেউ তার স্ত্রীকে বলল, 'তুই বায়িন তালাক', 'তোকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তালাকটি দিলাম', 'তোকে সবচেয়ে বড় তালাক দিলাম', 'তোকে শয়তানের তালাক দিলাম', 'তোকে বিদআত তালাক দিলাম', 'তোকে বড় পাহাড় সমতুল্য তালাক দিলাম', 'তোকে কঠিন তালাক দিলাম' ইত্যাদি-এতে করে স্বাভাবিক অবস্থায় এক তালাকে বায়িন হয়ে যাবে। আর যদি তিন তালাকের নিয়তে এ কথাগুলো বলে, তাহলে তিন তালাকই পতিত হবে। [৪৪]
মাসআলা-১৩ তালাককে শর্তযুক্ত করার পর তা থেকে রুজু করা (ফিরে আসা) যায় না। যেমন: তুমি যদি তোমার বাবার বাড়িতে ভবিষ্যতে যাও, তাহলে তুমি তিন তালাক! এ ক্ষেত্রে বাঁচার উপায় হলো, উক্ত স্ত্রীকে এক তালাক দিয়ে দেবে। তালাকপ্রাপ্তা হবার পর তিন হায়েয পরিমাণ ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত শেষে তাকে আবার নতুন মোহর ধার্য করে, দুইজন সাক্ষীর সামনে পুনরায় বিয়ে করে নেবে। এরপর বাবার বাড়িতে গেলেও আর কোনো তালাক পতিত হবে না। তবে স্বামী পরবর্তী সময়ের জন্য আর দুই তালাকের অধিকারী থাকবে। [৪৫]
মাসআলা-১৪ একসাথে একই মজলিসে তিন তালাক দেওয়া যদিও গুনাহের কাজ, তবে কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তি এমন করে ফেললে তিন তালাকই পতিত হবে। এরপর শরী'আতসম্মত হিলা ব্যতীত স্ত্রীর সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না। এ ব্যাপারে ৪ মাযহাবের সকল ইমাম ও সাহাবায়ে কেরামদের ইজমা রয়েছে। যদি এর বিপরীত কতিপয় আলেমদের বিচ্ছিন্ন মত পাওয়া যায়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। [৪৬]
ইবনে তাইমিয়া (যিনি এক তালাক হওয়ার প্রবক্তা) বলেন, একসাথে তিন তালাক দিলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে এবং তিন তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। এটা ইমাম মালেক, ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আহমাদের শেষ উক্তি এবং অধিকাংশ সাহাবা ও তাবেঈ থেকে বর্ণিত। [৪৭]
মাসআলা-১৫ আমাদের সমাজে দুইটি গর্হিত কাজ প্রায়ই করতে দেখা যায়। (১) কোনো তালাক ও খুলা ছাড়াই আরেকজনের শরী'আতসম্মত বৈধ স্ত্রীকে বিয়ে করা। (২) তালাকপ্রাপ্তা কিংবা বিধবাকে ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় বিয়ে করা। এই দুইটি গুনাহের কাজ আর এতে বিয়েও শুদ্ধ হয় না। [৪৮]
মাসআলা-১৬ কোনো ব্যক্তি যদি ভুলে, অনিচ্ছায় বা তালাকের মূল অর্থ না বুঝেই ইচ্ছাকৃতভাবে তার স্ত্রীকে তালাক দেয় অথবা অনিচ্ছায় নিজ স্ত্রীকে সুস্পষ্ট শব্দে তালাক দেয়, তাতেও তালাক হয়ে যাবে। [৪৯]
মাসআলা-১৭ অনেকে মনে করে শুধু 'তালাক' বললে তালাক হয় না, বরং তালাকের সঙ্গে 'বায়িন' শব্দও যোগ করা আবশ্যক। এটি ভুল ধারণা। শুধু তালাক শব্দ দ্বারাই তালাক হয়ে যায়। 'বায়িন' শব্দ যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। উপরন্তু এ শব্দের সংযোজনও নাজায়েজ। তবে কেউ যদি এক তালাক বায়িন বা দুই তালাক বায়িন দিয়ে দেয়, তাহলে সে মৌখিকভাবে রুজু করার (আবার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার) পথ বন্ধ করে দিলো। এ ক্ষেত্রে শুধু একটি পথই খোলা থাকে। তা হলো নতুনভাবে শরী'আতসম্মত পন্থায় বিবাহ দোহরানো (অর্থাৎ বিবাহ নবায়ন করা)। অথচ শুধু তালাক বললে এক তালাক বা দুই তালাক পর্যন্ত মৌখিক রুজুর (ফিরিয়ে আনার) পথ খোলা থাকে।
মাসআলা-১৮ অনেকের ধারণা, স্বামী তালাকের সময় কোনো সাক্ষী না রাখলে তালাক পতিত হয় না। এটাও মনগড়া মাসআলা। সাক্ষীর প্রয়োজন হয় বিবাহের সময়। তালাকের জন্য কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।
মাসআলা-১৯ অনেকের ধারণা, তালাকের শব্দ স্ত্রীর শুনতে হবে নচেৎ তালাক হবে না। এজন্য অনেকে বলে থাকে যে, 'স্বামী যখন তালাকের শব্দ উচ্চারণ করছিল তখন আমি কানে আঙুল দিয়ে রেখেছিলাম।' অথচ তালাকের শব্দ স্ত্রী না শুনলেও তালাক পতিত হবে। তাই কানে আঙুল দিয়ে লাভ নেই।
মাসআলা-২০ অনেকের ধারণা, তালাকনামায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ে স্বাক্ষর করা ছাড়া তালাক হয় না। অথচ ইসলামের বিধান হলো, যেহেতু তালাক বিবাহের মতো দ্বিপক্ষীয় কাজ নয়, বরং তালাক এক পক্ষ থেকেই পতিত হয়ে যায় আর তালাকের অধিকারী হচ্ছে পুরুষ, তাই তালাকনামায় স্বামী স্বাক্ষর করলেই তালাক হয়ে যায়; স্ত্রীর স্বাক্ষর জরুরি নয়।
টিকাঃ
[৩১] সুনানে দারা কুতনী- ৪০২৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা- ১৮৪৪৮; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ১৪৮৬৫
[৩২] ফতোয়ায়ে কাযীখান- ১/৪৭২; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া- ৩/৩৮০; বজলুল মাযহুদ- ৩/২৮৮; আওযাজুল মাসালিক- ১০/১০৯
[৩৩] মুসনাদে আহমাদ- ৬/১০০-১০১, ২৭৬; মুসতাদরাকে হাকেম- ২/৫৯, ১৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ৪/২৪; হাশিয়ায়ে ইবতে আবিদীন- ৩/২৩০, ২৩৫, ২৪৩; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/২৬৭, ৩৩৩; মুগনীল মুহতায- ৩/২৭৯; আস-শরহুল কাবীর- ২/৩৬৫; আল মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়া- ২৯/১৪-২০
[৩৪] সুনানে আবী দাউদ- ২১৯১, ২১৯৪; সুনানুত তিরমিযী- ১১৮৪; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২০৩৯; নসবুর রয়াহ, যাঈলায়ী- ৩/২১২; মুসান্নাফে আব্দুর রযযাক ৬/৪০৯, হাদীস- ১১৪১৫; আদ দিরায়াহ ফী তাখরিজিল হিদায়াহ- ২/৬৯; ফাতহুল বারী- ১/৩৯৩; হাশিয়া ইবনে আবিদীন- ৩/২৪৭; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ২/১৭৪-১৭৫; আল মুগনী- ৭/৩১৮-৩২৯; মুগনীল মুহতায- ৩/২৮০; হাশিয়াতুত দাসুর্কী- ২/৩৭৮-৩৮০
[৩৫] আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/১৭৪-১৭৫; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/২৬৭; মুখতাসারুত ত্বহাবী, পৃষ্ঠা- ১৯১, ২৮০; আল হিদায়া- ২/৫৩৬; আল মাবসূত্ব- ৬/১৭৬; শারহু ফাতহিল কাদীর- ৩/৪৮৯; আল বিনায়া- ৫, ২৭, ২৮; মুদাওয়ানাতুল কুবিরা- ৬/২৪; আল মুনতাক্কা, বাজী- ৪/১২৬; শারহুস সগীর (হাশিয়াতুস সাউই সহ)- ৩/৩৪৯; কিতাবুল উম্ম, শাফেঈ- ৫, ২৫৩, ২৭৬; রওযাতুত তুলেবীন- ৮/২৩; মুখতাসারুল মুযানী, পৃষ্ঠা- ১৯৪, ২০২: আল হাউই আল কাবীর- ১৩/১০৩, ১০৫; আল ওয়াসিত ফিল মাযহাব- ৫/৩৯০; আল মুগনী- ৮/২৫৫; আল ইনসাফ- ৮/৪৩৪; ই'লামুল মুয়াজিঈন- ৪/৩৯
[৩৬] হিদায়া- ২/৩৯৯-৪০০; রদ্দুল মুহতার- ৩/২৪৬; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম যাকারিয়া- ৪/৫৬
[৩৭] হিদায়া- ২/৩৮৯; তানভীরুল আবসার, তুমুরতাশী- ৩/৩৬৬; ইমদাদুল আহকাম- ২/৪১৬; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া- ১৩/১১৩; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম যাকারিয়া- ৪/৫৭
[৩৮] আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/১৭৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৪৭৭; ফাতোয়ায়ে তাতারখানিয়া- ৪/৪৬৩, নং-৬৬৭৮; রদ্দুল মুহতার- ৪/৫৩০
[৩৯] রদ্দুল মুহতার- ৩/২৪৪
[৪০] সহীহ বুখারী- ৫২৫১, সহীহ মুসলিম- ১৪৭১, আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/১৭৩; রদ্দুল মুহতার- ৩/২৩২ থেকে ২৩৪
[৪১] সুনানে আবু দাউদ- ২১৯৪; সুনানে তিরমিযী- ১১৮৪; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২০৩৯; রদ্দুল মুহতার- ৪/৪৩২
[৪২] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ- ১/৫৪৪, হাদীস- ১৮২০১; রদ্দুল মুহতার- ৪/৫২১; ফতোয়ায়ে কাযীখান ১/৪০৪; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৩৯০
[৪৩] বাদায়েউস সানায়ে- ৩/১১১; রদ্দুল মুহতার- ৪/৫২৯-৫৩৮, ৫৫১; বাহরুর রায়েক- ৩/৫২৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/৪৪২; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া- ১/৪৬৮; ফাতাওয়া কাসিমিয়া- ১৭/৭০৮
[৪৪] ফাতহুল কাদীর- ৪/১১৮; তানভীরুল আবসার পৃ. ১২৩; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ৩/১৮২
[৪৫] তাবঈনুল হাকায়েক- ৩/১১৮; রদ্দুল মুহতার- ৪/৬০৯; মাজমাউল আনহুর- ২/৬২
[৪৬] সূরা বাক্বারাহ- ২২৯; ফাতহুল বারী- ১/৫৮১, হাদীস- ৫২৬১, ১৩/২৬৬; উমদাতুল কারী- ২০/২৪, হাদীস- ৪৬২৫; সহীহ মুসলিম- ১৪৭২; শারহু মুখতাসারিত ত্বহাবী, জাসসাস- ৫/৬১; আল মাবসূত্ব, সারাখসী- ৬/৭৩; কানযুদ দাকায়েক, নাসাফী, পৃষ্ঠা- ২৭৫; আল বিনায়াহ- ৫/৩৫৪; তাকমিলায়ে ফাতহিল মুলহিম- ১/১১২ থেকে ১১৪; ই'লাউস সুনান- ৭/৭০৬ থেকে ৭১২; আহসানুল ফাতাওয়ার- ৫/ ২২২ থেকে ৩৭২; মাওয়াহিবুল জালীল- ৫/৩৩৫; আত তাজু ওয়াল ইকলীল, মাউওয়াক- ৪/৫৮; আল কাফী ফী ফিকহি আহলিল মাদীনাহ, ইবনু আব্দিল বার- ২/১০৪৬; হাশিয়াতুদ দাসুকী- ২/৩৬৪; রওযাতুত ত্বলেবীন- ৮/৭৯; শারহু মিনতাহাল ইরাদাত- ৩/৯৯; মাত্বালিবু উলিন নুহা- ৫/৩৭১; আল মুগনী- ৭/৪৩০; কাশশাফুল কিনা- ৫/২৪০
[৪৭] ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়াহ- ১৭/৮
[৪৮] ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াহ- ১/২৮০; বাদায়েউস সানায়ে- ২/৫৪৭; বাহরুর রায়েক- ৩/১০৮; রদ্দুল মুহতার- ৪/২৭৪, ৫/১৯৭; ফতোয়ায়ে কাযীখান- ১/৩৭৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ২/১১৮
[৪৯] রদ্দুল মুহতার- ৩/২৪১-২৪২