📄 স্ত্রীরা স্বামীদের মাঝে কী চায়?
স্ত্রী হিসেবে একজন নারী তার স্বামী থেকে কী আশা করে? কোন কোন বৈশিষ্ট্য একজন পুরুষকে স্ত্রীর কাছে উত্তম স্বামী করে তোলে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয়েছিল ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভের অংশগ্রহণকারী বোনদের কাছে। এটা তাদের কাছে এজন্য জানতে চাওয়া হয়েছে যাতে পুরুষেরা দ্বীনদার নারীদের মনস্তত্ত্ব বুঝে নিজের অর্ধাঙ্গিনীর চাওয়া অনুসারে নিজেকে সেভাবে গুছিয়ে নিতে পারে। পুরুষদেরকে আমরা যখন এমন প্রশ্ন করেছিলাম তখন অধিকাংশই জানিয়েছিল যে, তাদের স্ত্রীদের মাঝে দ্বীনদারির পাশাপাশি আবেদনময়িতা, সৌন্দর্য, ডাকে সাড়া দেয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য দেখতে চায়। অর্থাৎ, পুরুষদের চাওয়া-পাওয়াটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জৈবিক ও শারীরবৃত্তীয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা গিয়েছে। তাদের উত্তর ও মন্তব্যগুলোতে তারা উত্তম স্বামীর বৈশিষ্ট্য বলতে গিয়ে বহুমুখী শব্দ ব্যবহার করেছে। অনেকে একাধিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন (অনুমান-নির্ভর) সংখ্যার ভিত্তিতে গুণগুলো সাজানো হয়েছে।
১. দ্বীনদারি, ২. সুন্নাতি লেবাস, ৩. দাড়ি, ৪. ব্যক্তিত্ব বা স্ট্রং পার্সোনালিটি, ৫. ইসলামী ইলম/জ্ঞান, ৬. ম্যাচুয়ারিটি, ৭. ছোট ছোট বিষয়ে কেয়ারিং, ৮. আখলাক, ৯. আর্থিক সচ্ছলতা, ১০. সুন্দর লেখনী বা দা'ওয়াতি মনোবল, ১১. সাহস, ১২. স্ত্রীর প্রতি গাইরাত, ১৩. উচ্চতা ও ফিটনেস, ১৪. বুদ্ধিমত্তা, ১৫. চেহারা, ১৬. পরিবার/স্ট্যাটাস, ১৭. তিলাওয়াত, ১৮. সৌন্দর্য, ১৯. বাচনভঙ্গি, ২০. সর্বদা হাসিমুখ, ২১. পশুপাখির প্রতি দরদ আছে এমন; ইত্যাদি।
* অধিকাংশ দ্বীনি নারীর বিয়ের উদ্দেশ্যই থাকে দ্বীন। কাজেই তারা দ্বীনের বুঝসম্পন্ন একজন পুরুষকেই নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। সে চায় তার স্বামী তাকে দ্বীনের শিক্ষা দেবে, সকল ফিতনা থেকে তাকে আগলে রাখবে, দ্বীনের দা'ওয়াতের কাজে এবং ঈমান ও আমলের পথে একে অপরের সাথি হবে। স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও পুরুষের এক বড় দায়িত্ব। স্ত্রীকে দ্বীন, আক্বীদা, পবিত্রতা, ইবাদাত, হারাম-হালাল, অধিকার, আখলাক প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে এবং সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহর আযাব থেকে রেহাই পেতে সহায়তা করবে। বিপদ-আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে。
* পুরুষদের জন্য ব্যক্তিত্ব অনেক দামি একটি বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ পদে পদে লজ্জিত হয়, আত্মসম্মানবোধ কমে যায়। এমন পুরুষদের স্ত্রী-সন্তানেরা বেহায়া ও বেয়াদব হয়ে যায়। পরিপক্কতা, বাচনভঙ্গি, আচরণ, সাহস, গাইরাত সবই এই ব্যক্তিত্বের অন্তর্গত বিষয়। স্ত্রীর দ্বীন, দেহ, যৌবন ও মর্যাদায় ঈর্ষাবান হওয়া এবং এসবে কোনোপ্রকার কলঙ্ক লাগতে না দেওয়া স্বামীর ওপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার। স্ত্রী চায় তার স্বামী কাপুরুষ হবে না; সাহসী প্রতিবাদী হবে। স্ত্রী বিপদে পড়লে পলায়ন না করে বিক্রমের সাথে রক্ষা করবে। স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদেরকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি স্বামী শত্রুর হাতে মারা পড়ে, তবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে。[১]
পক্ষান্তরে সন্দেহপ্রবণতা পুরুষদের জন্য একটি রোগের মতোই। অনেক পুরুষ স্ত্রীদেরকে কথায় কথায় সন্দেহ করে। এটি একদমই অনুচিত। স্ত্রীর প্রতি যতটুকু সম্ভব সুধারণা রাখতে হবে। এমনকি স্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের কোনো ম্যাসেজ তার অনুমতি ছাড়া দেখারও কোনো দরকার নেই। কারণ, অন্য কোনো নারীর সাথে তার ব্যক্তিগত কথাও থাকতে পারে। যদি স্ত্রী নিজে পূর্ব থেকেই অনুমতি দিয়ে রাখে তাহলে ভিন্ন কথা। তবে যদি প্রবল ধারণা হয় যে, স্ত্রী পরকীয়া বা সন্দেহমূলক কোনো কাজ করছে, তাহলে মুরুব্বী, আলেম ও বিচক্ষণ দ্বীনি ভাইদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে。
* একজন নারী চায় তার স্বামী তার কথা ভাববে, তার যত্ন নেবে, তার সাথে সাথে খুনসুটি করবে, স্ত্রীর সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে রাখবে, স্ত্রীর নিকট তার মাতৃ-আলয়ের প্রশংসা করবে ইত্যাদি। স্ত্রীকে খুশি রাখার অন্যতম একটি উপায় হলো তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। তাই সংসার কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সে কোনো কথা বললে তা মন দিয়ে শুনুন। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা কখনোই তার পরিবার বা প্রিয় মানুষদের সম্পর্কে কোনো রকম সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তাই স্ত্রীর সামনে আপনজনদের সম্পর্কে সমালোচনা করবেন না। সময়মতো তাকে তার বাবার বাড়িতে যাওয়া-আসা করতে দিন। স্ত্রী ভালো খাবার তৈরি করলে, সাজগোজ করলে বা কোনো ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করবে স্বামী। এমনকি স্ত্রীর হৃদয়কে লুটে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলাম সামান্য কৌশল করে মিথ্যা বলাকেও বৈধ করেছে। তবে যে মিথ্যা তার অধিকার হরণ করে ও তাকে ধোঁকা দেয়, সে মিথ্যা নয়। তার উপস্থিতিতে কখনো তৃতীয় ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া যাবে না। কোনো পুরোনো বন্ধু বা পরিচিত কেউ সামনে থাকলেও স্ত্রীর গুরুত্বের স্থানটা ঠিক রাখুন। স্ত্রীর প্রশংসা করতে হবে। স্ত্রীর সামনে অন্য কোনো নারী; যেমন: নিজের অন্য স্ত্রী, বন্ধুর স্ত্রী বা অন্য কোনো দ্বীনি বোনের প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফুল ও উপহার পছন্দ করে সবাই। স্ত্রীর মন জয় করতে মাঝে মাঝে তাকে ফুল ও ছোট ছোট উপহার দেয়া যেতে পারে। এতে সে খুশি হবে。
* একজন নারী চাইবে তার স্বামী আর্থিকভাবে সচ্ছল হোক। এটা তার নিরাপত্তা এবং এমন চাওয়াটা দূষণীয় নয়। সে চায় স্বামী তার স্ত্রীর যথাযথ ভরণ-পোষণ করবে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে নাছোড়বান্দা হবে, প্রয়োজনে সর্বদা পাশে থাকবে。
* পুরুষদের সৌন্দর্য, শারীরিক গঠন একজন নারীর জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও একজন পুরুষের উচিত নিজেকে পরিপাটি রাখা, চেহারা ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া। দিন শেষে একজন পুরুষ তো তার স্ত্রীরই সম্পদ। পারিবারিক শান্তির জন্য স্ত্রীর মনোরঞ্জন অপরিহার্য। রাসূল আপন স্ত্রীদের সঙ্গে বিনোদনমূলক আচরণ করেছেন যা আমরা হাদীস থেকে জানতে পারি。
◇ ঘরের কাজ ও সন্তান পরিচর্যায় স্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। সারাদিন কাজ করে এসে ঘরের কাজ করতে আপনার ইচ্ছা করবে না এটাই স্বাভাবিক। তবুও কিছু জিনিস তাকে এগিয়ে দিন, সাধারণ কাজগুলোতে একটু হাত লাগান। এটাই তার জন্য যথেষ্ট。
* স্ত্রীর নিকট সত্যবাদী হোন। কারণ, কোনো গৃহকর্ত্রী মিথ্যা বলা পছন্দ করেন না। তবে তার প্রশংসার ক্ষেত্রে বাঁধ রাখবেন না, যেহেতু সে ক্ষেত্রে কিছু মিথ্যা হলেও সমস্যা নেই。
টিকাঃ
[১] মিশকাতুল মাসাবীহ- ৩৫২৯; সুনানে আবু দাউদ- ৪৭৭২; সুনানে নাসাঈ- ৪০৯৫; সুনানে তিরমিযী- ১৪২১; মুসনাদে আহমাদ- ১৬৫২: হাদিসটির সনদ সহীহ।
📄 যে বিষয়গুলো স্ত্রীরা অপছন্দ করে
ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভে মোতাবেক নারীরা দায়িত্বহীনতা, স্ত্রীর প্রতি গুরুত্বহীনতা, সবকিছুকে মজার ছলে নেওয়া, বদমেজাজ, স্ত্রীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, স্ত্রীর পরিবারের প্রতি বিরূপ মানসিকতা, সাংসারিক বিভিন্ন কাজে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া, স্ত্রীর মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া, সাংসারিক সকল কাজ স্ত্রীকে দিয়েই করানো, স্ত্রীর প্রতি রোমান্টিক না হওয়া, নিজের স্ত্রীর সাথে অন্য নারীর তুলনা করা, সন্দেহপ্রবণতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলো একজন স্ত্রী তার স্বামীর মাঝে দেখতে চায় না।
এ ছাড়া আমরা সার্ভেটিতে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, সহবাসের সময় স্বামীর কোন কোন কাজ স্ত্রীরা অপছন্দ করে। এই প্রশ্নে বিবাহিতা বোনদের উত্তরগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত।
* অনেক দ্বীনদার পুরুষও হারামের প্রতি মোহগ্রস্ত। পূর্বের জাহিলিয়াতপূর্ণ জীবনের হাতছানি অনেকেই বিয়ের পরেও ভুলতে পারে না, এটাই প্রমাণিত হয় বোনদের উত্তর থেকে। জানা গিয়েছে, অনেকে তাদের স্ত্রীদেরকে হারাম বা অপছন্দনীয় কাজগুলো করতে জোর-জবরদস্তি করে। অধিকাংশই মুখমেহন (Oral Sex) এর কথা বলেছেন। এ ছাড়া জোর করে পায়ুপথে সহবাসের কথাও কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। কিছুসংখ্যক বোন হায়েয অবস্থায় উত্তেজনাবশত সহবাস হয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। এ সবই বর্জনীয় এবং গুনাহের কারণ হবে। এসব ক্ষেত্রে নিজের পাপের যেমন গুনাহ হয়, আরেকজনকে জোর করে হারাম কাজ করানোর গুনাহও নিজের কাঁধে আসে। তাই পুরুষদের এসব ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করা উচিত。
♦ প্রথমবার সহবাস করার সময় স্ত্রীর সার্বিক মানসিক দিক বিবেচনা না করা, সহবাসের সময় স্ত্রী ব্যথা পাচ্ছে কি না তা খেয়াল না রাখা এসব স্ত্রীদের কাছে অপছন্দনীয় এবং এর কুপ্রভাব দাম্পত্য জীবনে অনেকদিন ধরে টিকে থাকে।
◇ মানসিকভাবে উত্তেজিত না করেই সহবাস করা, বুক বা লজ্জাস্থানে সরাসরি হাত দেওয়া, শৃঙ্গার (Foreplay) করার ক্ষেত্রে সময় না দেয়া, নিজের চাহিদা শেষ হয়ে গেলেই কেটে পড়া এসব স্ত্রীদের কাছে অপছন্দনীয়। কামড় দেওয়া, খামচি দেয়া, পশুর মতো খুবলে খাওয়ার মতো আচরণ থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তবে ব্যক্তি ও উভয়ের মানসিক অবস্থার ভিত্তিতে চাহিদা ভিন্ন ধরনের হতে পারে।
◆ স্ত্রী সাংসারিক কাজের দরুন ক্লান্ত অবস্থায় থাকলে বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই মিলিত হওয়া, এমন আসনে মিলিত হওয়া যেটা তার অপ্রিয়-এসব বিষয়ও নারীরা অপছন্দ করে।
📄 প্রথম রাতে বরের প্রস্তুতি
আল্লাহর ভয়ে নিজের অন্তর ও চক্ষুকে সমস্ত গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রেখে একজন দ্বীনদার পুরুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকে একজন স্ত্রীর, যে হবে মুহস্বানাত, তাবৎ দুনিয়ার সবচেয়ে দামি সম্পদ। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন তার এই হাজারো জল্পনা-কল্পনাকে বাস্তবরূপ দান করেন। একটা সময় সেই শুভক্ষণের আবির্ভাব ঘটে তার জীবনে। তার জীবনের নব্য দিনটি বিশেষ একটা ক্ষণ হয়ে থাকে তার কাছে। এই দিনটি নিয়ে একজন পুরুষের থাকে হাজারো জল্পনা-কল্পনা। তার কল্পনাজুড়ে থাকে নানান রোমান্টিক মুহূর্তের গল্পঝুড়ি। কিন্তু এই রোমান্টিক সব কল্পনার ভিড়ে হারিয়ে যায় সেই দিনের জন্য বাস্তব প্রস্তুতিগুলো। আর এই প্রস্তুতিহীনতা বিশেষত প্রভাব ফেলে দম্পতির যৌনজীবনে। তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের ভালোভাবে, খোলামেলা জেনে নেওয়া উচিত।
* পড়াশোনা বিয়ের প্রথম রাত সম্পর্কে একজন পুরুষের যথেষ্ট ধারণা রাখা উচিত। বিষয়টা তাকে বুঝতে হবে যে, আজ নতুন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে সে। যা তার সম্পূর্ণ অজানা। অপ্রস্তুত অবস্থায় কোনো অজানার সম্মুখীন হওয়াটা অনেক বড় এক বোকামি। তাই এই সম্পর্কে সর্বপ্রথম যতদূর সম্ভব মাসআলাগত সকল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা বাঞ্ছনীয়। সেই সাথে যুগলবন্দি করতে হবে মেডিকেলজনিত বিষয়ও, যাতে প্রতীক্ষিত সেই দিনটি তার কাছে বৈদ্যুতিক ঝাটকা হয়ে না দাঁড়ায়。
* ভালোবাসা আস্বাদন
কুমারী নারীর যোনিপথ খুব সংকীর্ণ হয়ে থাকে। এ অবস্থায় সহবাসের সময় তাকে কিছুটা কষ্ট সহ্য করতে হয়। এ ব্যাপারে একজন পুরুষের ধারণা থাকা দরকার। প্রথম কিছুদিন সফলতা নাও আসতে পারে। এ কারণে যৌনমিলনের স্বাদও উপভোগ করা সম্ভব হয় না। বারবার ব্যর্থ হতে হতে একটা সময় সফল হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে পুরুষের উচিত সবর করা ও তার চাহিদা স্ত্রীর মাধ্যমে অন্য কোনোভাবে মিটিয়ে নেয়া। সেই সাথে নববধূর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে বোঝানো যে, এমন হওয়াটা স্বাভাবিক। তাকে তাগাদা দিতে হবে সেও যাতে স্বামীকে গ্রহণের ক্ষেত্রে সবরের সাথে সচেষ্ট থাকে। এ কারনেই কুমারী নারীকে ৭ দিন-রাত সময় দেওয়ার বিষয়ে হাদীসে এসেছে। আর অকুমারীদের ক্ষেত্রে সতীচ্ছেদের বিষয় নেই বলে ৩ দিন-রাত সময় দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।[২] পুরুষেরা এই সময়টাতে স্ত্রীর সাথে অন্যান্য যৌনোদ্দীপনামূলক ভালোবাসা আদান-প্রদান করেও যৌনসুখ উপভোগ করতে পারে এবং একে অপরকে আরও সহজ করে নিতে পারে। তবে এ বিষয়টা সবার ক্ষেত্রে নাও ঘটতে পারে, কারণ অনেক নারীর প্রথম দিনেই খুব সহজে সতীচ্ছেদ হয়ে যায়। এটা মূলত নারীর প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করে। তবে যাদের বেশি সময় লেগে যায় তাদেরও এখানে চিন্তিত হবার কোনো কারণ নেই। কেননা, কুমারীত্ব শেষ হবার পর থেকে এ সমস্যার সম্মুখীন আর হতে হয় না। সে তখন তার স্ত্রীর ভালোবাসা পরিপূর্ণভাবে আস্বাদন করতে পারে。
* স্ত্রীকে দিক-নির্দেশনা দেওয়া
একজন নারী তার নিজের শরীর সম্পর্কে নিজেই সবচেয়ে ভালো জানে। কীভাবে আগালে বিষয় টা সহজ হবে সেই দিক-নির্দেশনা তাই স্ত্রীর পক্ষ থেকেই কাম্য। তাই স্বামী তার থেকে জেনে নিতে পারে যে, কীভাবে আগালে সহজ হবে? এসব বিষয়ে লজ্জা না করে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে খোলামেলাভাবে আলোচনা করবে। এমন মুহূর্তে বারবার ব্যর্থ হওয়ার দরুন যাতে স্পৃহা না হারিয়ে যায় তাই একে অপরকে অন্যপন্থায় যৌনসুখ দিয়ে উৎসাহিত করে যেতে হবে।
📄 অন্তরঙ্গতা
দুনিয়ার জীবনে স্ত্রীকে ভালোবাসাও ইবাদাত-বিশেষ। তবে শর্ত হলো, ওই ভালোবাসা যেন স্বামীকে ইবাদাত-বন্দেগি থেকে ভুলিয়ে না রাখে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা গভীর হওয়া কাম্য। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রদশর্নের ব্যাপারে ইসলাম উৎসাহিত করে।
আশরাফ আলী থানভি বলেন, “মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি বৃদ্ধি পাওয়ার দ্বারা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়। কেননা সে জানে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে স্ত্রীর দায়-দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে। সে তা আদায় করতে বাধ্য। এই নিয়তে যখন সে তা আদায় করে তখন সওয়াবের অধিকারী হয়।”
ইসলামী শরী'আহ অনুযায়ী যদি পার্থিব কারণে মানুষ আল্লাহকে ও আখিরাতকে ভুলে যায়, তাহলে তা নিন্দনীয় ও অশুভ। তা না হলে সহায়-সম্পদের প্রাচুর্য নিন্দিত নয়। তাই তো ইসলাম সংসার-বিরাগী হওয়াকে সমর্থন করে না, ইসলাম এর অনুমতিও দেয় না। নিঃসন্দেহে একজন নেককার স্ত্রী দুনিয়ার সমগ্র সম্পদ থেকেও দামি। স্ত্রীকে ভালোবেসে কেউ যদি আখিরাতের পাথেয় গড়তে পারে তা তো অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাই স্ত্রীর মনোরঞ্জন করা ও তার আকর্ষণ ধরে রাখা প্রতিটি পুরুষের জন্য ইবাদাতেরই অন্তর্ভুক্ত।
* নিজের শরীরের খেয়াল রাখা যৌনতার সাথে শরীরের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। "ভালোবাসায় বান্দরকেও সুন্দর লাগে” এই ধরনের চিন্তাভাবনা বাদ দিতে হবে। নিজের শরীরের যত্ন নিয়ে নিজেকে স্ত্রীর সামনে আকর্ষণীয় করে রাখতে হবে। সুঠাম দেহ গড়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত হাত-পায়ের যত্ন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভালো সুগন্ধি ব্যবহার, চুলের যত্ন এসব স্ত্রীরা অত্যন্ত পছন্দ করে。
* চিরচেনা যৌন আচরণের বাইরে কিছু করা প্রত্যেক দম্পতির মাঝেই একান্ত পরিচিত কিছু যৌন আচরণ থাকে আর তারা সেগুলোতেই খুব অভ্যস্ত হয়ে যান। এই অভ্যস্ততা থেকে বের হয়ে মাঝে মাঝে একদম অন্য রকম কিছু আদর-সোহাগ করা যেতে পারে। এতে সম্পর্কে নতুনত্ব বজায় থাকে। নিজের স্বামীকে প্রেমিকের মতো আচরণ করতে দেখলে সকল স্ত্রীই খুশি হবে。
* নতুন কিছু করতে ভয় না পাওয়া স্ত্রীর সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে রোমাঞ্চকর হয়ে উঠুন। নতুন পদ্ধতি, নতুন ভঙ্গি, নতুন কৌশল চেষ্টা করে দেখতে মোটেও লজ্জা বা সংকোচ বোধ করবেন না। তবে অবশ্যই তা হালাল-হারামের গণ্ডির ভেতরে থেকে。
* সামান্য স্পর্শ ঘরের মধ্যে মাঝে মাঝে এমনিই তাকে স্পর্শ করুন। তাকে বুঝতে দিন যে, তাকে স্পর্শ না করে আপনি এক মুহূর্ত থাকতে পারেন না। রাস্তায় চলার সময় পাশে রাখুন, হাত ধরে রাখুন। তাকে বুঝতে দিন যে, আপনি তাকে হারাতে চান না। মাঝে মাঝে একসাথে সালাত আদায় করুন। সালাত শেষে তার কপালে চুমু দিন, তার আঙুলের কড়ায় তাসবীহ গুনুন। তাকে ভাবতে দিন যে, তার প্রতি আপনার ভালোবাসাটা আল্লাহর জন্য。
* উদ্দীপনামূলক কথায় ভালোবাসা প্রকাশ একান্ত মুহূর্তে স্ত্রীর প্রশংসা করতে হবে। তাকে বলতে হবে যে, তাকে নিয়ে আপনি কতটা সুখী বা তাকে কত তীব্রভাবে চান। এক মুহূর্ত তাকে ছাড়া থাকতে পারেন না। মাঝে মাঝে দুষ্টুমির ছলে কিছু কথা বলা যেতে পারে। এসবে স্ত্রীর একটা অন্য রকম আগ্রহ জন্মে স্বামীর প্রতি। কথা বলার সময় যেন আপনাকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়। কারণ, ভীরুগোছের কাউকে নারীরা ততটা পছন্দ করে না। তারা চায় এমন সঙ্গী যার প্রতি আস্থা রাখা যায়।