📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 মিলনের সময় যোনিপথে আঙুল প্রবেশ করানোর বিধান

📄 মিলনের সময় যোনিপথে আঙুল প্রবেশ করানোর বিধান


উলামায়ে কেরামদের একদল একে জায়েয বলেছেন এই শর্তে যে, যেন পায়ুপথে এমন করা না হয় এবং হায়েয ও নিফাসের সময়েও এমন করা যাবে না। তবে এটি মাকারিমে আখলাক পরিপন্থী একটি কাজ। [১৮]

টিকাঃ
[১৮] আল্লামা দিমইয়াত্বির হাশিয়াতু ইয়ানাতিত ত্বলিবীন- ৩/৩৮৮

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 যোনি বা লিঙ্গ মুখ দিয়ে স্পর্শ করার বিধান

📄 যোনি বা লিঙ্গ মুখ দিয়ে স্পর্শ করার বিধান


এই কাজটিকে অধিকাংশ আলেমগণই মাকরুহ বলেছেন। এ ছাড়াও এটি কুরআন-সুন্নাহ কিংবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসার থেকে প্রমাণিত সুষ্ঠু যৌনাচার নয়। যদিও হানাফী, হাম্বলী, শাফেয়ীদের একদল ও মালেকীদের একদল ফতোয়া দিয়েছেন যে, সহবাসের পূর্বে গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া জায়েয। কিন্তু গোপনাঙ্গ থেকে যদি তরল পদার্থ বের হয়ে আসে এবং তা মুখে চলে যায়, তাহলে গুনাহ হবে। তাই সহবাসের পর বা তরল পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার পর একে অপরের গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া জায়েয নেই。(১৯) এ ছাড়া স্ত্রী যদি এটি অপছন্দ করে, তাহলে তাকে জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। সর্বোপরি, এসব থেকে বিরত থাকাই পুরুষদের জন্য শ্রেয়।

টিকাঃ
[১৯] বাহরুর রায়েক- ৮/৩৫৪; মুহীতুল বুরহানী- ৮/১৩৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া- ৫/৩৭২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৮/৪৫; নাজমুল ফাতাওয়া- ৩/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬৭; যাখীরাতুল ফাতাওয়া- ৭/৩২৯; আল ইনসাফ, মারদাউই ৮/৩৩; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; আল খিরাশি আলা মুখতাসারিল খালিল- ৩/১৬০; ইআনাতুত ত্বালিবীন- ৩/৩৪০

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 জন্মনিরন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিধান

📄 জন্মনিরন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিধান


মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে-

* স্থায়ী পদ্ধতি যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজননক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন,

وهو محرم بالاتفاق স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।[২০]
* অস্থায়ী পদ্ধতি যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউই স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না। যেমন: আযল করা (সহবাসের চরম পুলকের মুহূর্তে স্ত্রীর যোনির বাইরে বীর্যপাত ঘটানো), Condom, Jelly, Cream, Foam, Douche ইত্যাদি ব্যবহার করা, পিল (Pill) খাওয়া, জরায়ুর মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া ইত্যাদি। অস্থায়ী পদ্ধতি কেবল নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে:

* দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া, যাতে প্রথম সন্তানের লালন- পালন, পরিচর্যা ঠিকমতো হয়。
* কোনো কারণে মা সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান না হলে。
* মহিলা অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপজ্জনক হলে。
* গর্ভধারণের কারণে দুধ শুকানোর দরুন পূর্বের বাচ্চার স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা হলে এবং দুধের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও না থাকলে。
* স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল হওয়ার কারণে পৃথক হওয়ার ইচ্ছা থাকলে。
* মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তারের মতানুযায়ী বাচ্চা নিলে মায়ের জীবননাশের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে。
* স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাসস্থান থেকে অনেক দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলে。
* দারুল হারবে (যেখানে কাফিরদের সাথে ইসলামী সশস্ত্র জিহাদ ফরয হয়ে গিয়েছে) বসবাসের কারণে নবাগত সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা হলে। অথবা এ ধরনের অন্য কোনো শরী'আহসিদ্ধ সমস্যা বা ওযরের কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয রয়েছে。

عن جابر قال كنا نعزل على عهد النبي فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم ينهنا

হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ -এর যুগে আযল (যা জন্মনিয়ন্ত্রণের পুরোনো ও অস্থায়ী পদ্ধতি) করতাম। এবং তাঁর কানে এই সংবাদ গেলেও তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। [২১]

কিন্তু কনডম (Condom) ব্যবহার করা, Jelly, Cream, Foam ইত্যাদির ব্যবহার (এগুলো শুক্রাণুকে নিষিক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে), ডাউচ (Douche) ব্যবহার করা (অর্থাৎ পানির পিচকারী দিয়ে জরায়ু ধুয়ে ফেলা); জরায়ুর মুখ বন্ধ করে দেওয়া, পিল (Pill) খাওয়া, ইনজেকশন নেওয়া ইত্যাদি পদ্ধতিগুলো বিনা ওযরে অবলম্বন করা মাকরুহ। কেননা, এগুলোও আযলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে পিল এবং ইঞ্জেকশনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। পিল ও ইনজেকশন এ ক্ষেত্রে ব্যবহার শরী'আহর দৃষ্টিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। এ নিয়ে মেডিকেল বিষয়ক দারসে আলোচনা হবে, ইন শা আল্লাহ。
* গর্ভপাত ঘটানো (Abortion) এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের পুরাতন একটি পদ্ধতি। জন্মনিয়ন্ত্রণের (Contraceptives) উপায়- উপাদানের অনেক উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও আজ অবধি দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয়, তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবে না।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন, উম্মাতে মুসলিমার সকল ফক্কিহ এ ব্যাপারে একমত, (রূহ আসার পর) গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কারণ এটা ওয়াদ্‌ (সূক্ষ্মভাবে সমাধিত)-এর অন্তর্ভুক্ত。

এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, وَإِذَا الْمَوْءُ ودَةُ سُبِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ যখন (কিয়ামতের দিন) জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে... [২২]

টিকাঃ
[২০] উমদাতুল ক্বারী- ২/৭২
[২১] সহীহ বুখারী- ২৫০; সহীহ মুসলিম- ১৬০
[২২] সূরা তাকউইর ৮-৯; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া- ৪/২১৭

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 যেসকল কারণে জন্মনিরন্ত্রণ জায়েয নেই

📄 যেসকল কারণে জন্মনিরন্ত্রণ জায়েয নেই


নিম্নবর্ণিত কারণগুলো অস্থায়ীভাবেও জন্মনিয়ন্ত্রণ বৈধ হওয়ার ওজর হিসেবে ধর্তব্য হবে না: * পুরুষ বা নারী নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার জন্য। * কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার ভয়ে। যাতে পরবর্তী সময় এদের বিয়ে-শাদির ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। * গর্ভধারণ কষ্ট, প্রসববেদনা, নিফাস, দুধ পান করানো এবং বাচ্চার সেবা-যত্ন ইত্যাদি কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য। * গর্ভধারণ থেকে শুরু করে বাচ্চা বড় হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এর সেবা-যত্নের পিছনে কল্পনাতীত শ্রম দেওয়ার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য খিটখিটে মেজাজ থেকে বাঁচার জন্য। * অধিক সন্তান নেওয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করা। * অধিক সন্তান জন্ম নিলে তাদের ভরণ-পোষণে আর্থিক অভাব-অনটন, খাদ্য ও ভূমি- সম্পদ সংকট দেখা দেবে এই ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা।

উল্লিখিত কারণসমূহ সামনে রেখে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে নাজায়েয এবং হারাম। বিশেষ করে শেষের কারণটি ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস ও আদর্শের সাথে প্রকাশ্য এবং সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে এর ভয়াবহতা অনেক মারাত্মক।

কিন্তু আফসোসের বিষয়ে হলো, বর্তমানে এই কারণটিকে সামনে রেখেই অধিকাংশ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। অথচ আর্থিক দুর্বলতা ও সচ্ছলতা এবং রিযিকের ব্যবস্থা একমাত্র আল্লাহর হাতে নিয়ন্ত্রিত। আল্লাহ কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন,

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا) আর পৃথিবীতে বিচরণকারী সকলের রিযিক বা জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন। [২৩]

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ) তোমরা স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা কোরো না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দিই এবং তাদেরকেও। [২৪]

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْأً كَبِيرًا দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কোরো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও আমিই রিযিক দান করে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ [২৫]

উল্লিখিত আয়াতসমূহ দ্বারা যখন এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেকটি প্রাণীর জীবিকার ব্যবস্থা আল্লাহ নিজ দায়িত্বে নিয়ে রেখেছেন, তখন এই জীবিকার ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করা আল্লাহকে অযোগ্য ঘোষণা করার শামিল এবং এই আয়াতসমূহ অস্বীকার করার নামান্তর। তাই এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানকে ভেবে-চিন্তে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, দুনিয়ার সামান্য ভোগবিলাস, কষ্ট বা লোকলজ্জার ভয়ে আমরা যেন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান ও আখিরাতকে বরবাদ না করে দিই।

* আলোচনার সারসংক্ষেপ • স্থায়ীভাবে প্রজননক্ষমতা নষ্ট করা নাজায়েয এবং হারাম। তবে যদি জরায়ুতে এমন কোনো রোগ হয়, যার থেকে জরায়ু কেটে ফেলা ছাড়া আরোগ্য লাভ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে তা কেটে ফেলা জায়েয আছে。

■ অস্থায়ী পদ্ধতিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ মাকরুহ। তবে শরঈ ওজরবশত জায়েয।

[২৩] সূরা হুদ-৬ [২৪] সূরা আন'আম- ১৫১ [২৫] সূরা বনী ইসরাঈল- ৩১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00