📄 প্রথম রাতে করণীয়
বিয়ের পর প্রথম রাতটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য অনেক খাস। এই রাতটিই তাদের জীবনে অমলিন হয়ে থাকবে আজীবন। তাই রাতটি যাতে বিশেষ হয়ে থাকে সেই নিমিত্তে সেভাবেই একে সাজানোর পরিকল্পনা তো থাকবেই, পাশাপাশি বাসর রাতকে ঘিরে যেসকল সুন্নাহ ও আদবসমূহ রয়েছে সেগুলোও পালন করা বাঞ্ছনীয়।
* একত্র হয়ে কুশলাদি বিনিময় করা এবং একদম চুপচাপ না থেকে একে অপরের সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা উচিত। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে, এটি মুস্তাহাব। সে ক্ষেত্রে সালাতের সময় স্ত্রী স্বামীর পিছনে দাঁড়াবে। সাহাবাদের থেকে এই আমলটির প্রমাণ পাওয়া যায়। [১১]
* এক পেয়ালা দুধ থেকে প্রথমে স্বামী চুমুক দিয়ে পান করে স্ত্রীর হাতে দেবে, সেও সেখান থেকেই পান করবে। এটি একটি সুন্নাহ যা রাসূল থেকে প্রমাণিত। [১২]
* স্ত্রীর কপালে হাত রেখে বা মাথার সামনের দিকের চুলের গোছায় হাত দিয়ে স্বামী নিম্নের দু'আটি পড়বে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَ خَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِهَا وَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
স্ত্রীও এই দু'আটিই পড়বে এভাবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهُ عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهُ عَلَيْهِ
হে আল্লাহ, তার যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে আপনি নিহিত রেখেছেন তা আমি আপনার কাছে চাই এবং তার যত অকল্যাণ রয়েছে ও যত অকল্যাণ তার স্বভাবে আপনি নিহিত রেখেছেন তা থেকে আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই। [১৩]
* পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রথম রাতে স্ত্রীর সাথে কুশলাদি বিনিময় করেই কাটিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে নবদম্পতির মাঝে বোঝাপড়া ভালো হয়。
* সহবাসের পূর্বে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই অবশ্যই সহবাসের দু'আটি পাঠ করতে হবে-
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যে সন্তান দান করবেন তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন। [১৪]
* বাকিরাহ বা কুমারী নারী হলে স্বামী তার সাথে টানা ৭ দিন ৭ রাত কাটানো ও সাইয়্যেবা বা অকুমারী নারী হলে স্বামী তার সাথে টানা ৩ দিন ৩ রাত কাটানোর বিষয়ে হাদীসে এসেছে। [১৫]
* সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে সেটার জন্য প্রস্তুত করে নিতে হবে। এটি অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আল্লাহর রাসূল পশুর মতো সরাসরি সহবাস করে নিজের খায়েশাত মেটাতে বারণ করেছেন এবং স্পর্শ, চুম্বন ও উত্তেজনামূলক কথার মাধ্যমে স্ত্রীর কামভাব জাগিয়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছেন। [১৬]
টিকাঃ
[১১] মুসান্নাফে ইবনু আবী শাইবাহ- ৩/৪০২; মু'জামুল কাবীর, তাবরানী- ১/২০৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৬/১৯১ (সহীহ)
[১২] মুসনাদে আহমাদ- ১৮/৫৯৬, হাদীস- ২৭৪৬৩ (দারুল হাদীস: কায়রো, তাহকীক- হামযাহ আহমাদ যাইন); মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ৪/৫১, হাদীস- ৬১৫০; হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১৩] সুনানে আবু দাউদ ২/২৪৮, হাদীস- ২১৬০; সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৬১৭, হাদীস- ১৯১৮
[১৪] সহীহ বুখারী- ৬/১৪১, হাদীস- ১৪১; সহীহ মুসলিম- ২/১০২৮, হাদীস- ১৪৩
[১৫] সহীহ মুসলিম- ৩৪৪৭, ৩৪৪৮
[১৬] মুসনাদ আল ফিরদাউস- ২/৫৫
📄 স্ত্রীর স্তন চোষা বা চুমু খাওয়া
স্বামী-স্ত্রী মিলনের পূর্বে একে অপরকে বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীকে উত্তেজিত করে সহবাস করা ফকিহগণ মুস্তাহাব বলেছেন। যেমন: চুমু খেয়ে, স্তন মর্দন কিংবা তাতে চুমু খেয়ে অথবা চোষণের মাধ্যমে উত্তেজিত করা ইত্যাদি। এতে ৪ মাযহাবের সকল ইমাম একমত。
তবে লক্ষ রাখতে হবে, স্ত্রীর স্তনে যদি দুগ্ধ থেকে থাকে তাহলে স্বামীকে সতর্কতার সাথে চোষণ করতে হবে, যেন দুগ্ধ মুখে চলে না যায়। নতুবা চোষণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা, স্ত্রীর স্তনের দুগ্ধ পান করা একটি মারাত্মক গুনাহের কাজ。
কিন্তু যদি অধিক উত্তেজনাবশত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কেউ স্ত্রীর দুধ পান করেও ফেলে তবে স্ত্রী তার জন্যে হারাম হবে না, যেমনটা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। তবে এ কাজের জন্যে তাওবাহ করতে হবে। [১৭]
টিকাঃ
[১৭] সূরা বাক্বারাহ- ২২৩; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (পুরাতন নুসখা)- ১২/৩১০; ফতোয়ায়ে শামী- ১/৩১, ৪/৩৯৭; তাফসীরে মাযহারী- ১/৩৫৬; কেফায়াতুল মুফতী- ৫/১৬২; আযীযুল ফাতাওয়া- ৭৭০; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (নতুন নুসখা)- ৬/৩৪৬
📄 মিলনের সময় যোনিপথে আঙুল প্রবেশ করানোর বিধান
উলামায়ে কেরামদের একদল একে জায়েয বলেছেন এই শর্তে যে, যেন পায়ুপথে এমন করা না হয় এবং হায়েয ও নিফাসের সময়েও এমন করা যাবে না। তবে এটি মাকারিমে আখলাক পরিপন্থী একটি কাজ। [১৮]
টিকাঃ
[১৮] আল্লামা দিমইয়াত্বির হাশিয়াতু ইয়ানাতিত ত্বলিবীন- ৩/৩৮৮
📄 যোনি বা লিঙ্গ মুখ দিয়ে স্পর্শ করার বিধান
এই কাজটিকে অধিকাংশ আলেমগণই মাকরুহ বলেছেন। এ ছাড়াও এটি কুরআন-সুন্নাহ কিংবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসার থেকে প্রমাণিত সুষ্ঠু যৌনাচার নয়। যদিও হানাফী, হাম্বলী, শাফেয়ীদের একদল ও মালেকীদের একদল ফতোয়া দিয়েছেন যে, সহবাসের পূর্বে গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া জায়েয। কিন্তু গোপনাঙ্গ থেকে যদি তরল পদার্থ বের হয়ে আসে এবং তা মুখে চলে যায়, তাহলে গুনাহ হবে। তাই সহবাসের পর বা তরল পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার পর একে অপরের গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া জায়েয নেই。(১৯) এ ছাড়া স্ত্রী যদি এটি অপছন্দ করে, তাহলে তাকে জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। সর্বোপরি, এসব থেকে বিরত থাকাই পুরুষদের জন্য শ্রেয়।
টিকাঃ
[১৯] বাহরুর রায়েক- ৮/৩৫৪; মুহীতুল বুরহানী- ৮/১৩৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া- ৫/৩৭২; আহসানুল ফাতাওয়া- ৮/৪৫; নাজমুল ফাতাওয়া- ৩/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬৭; যাখীরাতুল ফাতাওয়া- ৭/৩২৯; আল ইনসাফ, মারদাউই ৮/৩৩; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; মাওয়াহিবুল জালিল- ৩/৪০৬; আল খিরাশি আলা মুখতাসারিল খালিল- ৩/১৬০; ইআনাতুত ত্বালিবীন- ৩/৩৪০